পদশব্দ

পদশব্দ

রোজ ভোরে সালমার ঘরে প্রজাপতি আসে। এক এক দিন এক এক রঙের। কখনো সাদা দেয়ালের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণটায় চুপচাপ বসে থাকে, কখনো ঘরময় উড়ে বেড়ায়। তখন সালমার ঘুম ভেঙে যায়। বালিশট বুকের তলে চেপে উপুড় হয়ে…
বারবিলাসিনী

বারবিলাসিনী

খুব পুরোনো একটি হোটেল, হোটেলের প্রতিটি দেয়ালে শ্যাওলা জমে কালচে রং ধারন করেছে, বিভিন্ন যায়গায় খসে পড়েছে চুন-সুরকি। বেশ নির্জন অার থমথমে চারপাশের পরিবেশ, অনেকটা ভূতুরেও বলা যায়। রিহান এই হোটেলেই উঠেছে, এরকম নির্জন যায়গা…
টানাপোড়েন

টানাপোড়েন

কুয়োকাটার জেলে আবুল হাশেমের করোটিতে যে-কোনো অবসরে একটি চমৎকার রঙিন মাছ সাদা পাখনা মেলে ভেসে বেড়ায়। ছাই রঙের শরীরে রূপালি বুটি–কী অপরূপ ভঙ্গি—মুখের দু’পাশে লাল রঙের দুটি দাঁড়া। তখন হাশেমের মাথায় সাগরের ঢেউ–ঢেউয়ের মাথায় মাছ।…
অপেক্ষা

অপেক্ষা

অনিমা ও রাজীবের প্রেমের কথা বেশি দিনের নয়। দূরখালি স্টেশনে অনিমার বাবা বদলি হয়ে এসেছে মাত্র ছ’মাস হলো। এর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। যেভাবে জমে উঠলে ভালোবাসার অতিরিক্ত আরো নানা ধরনের আসক্তির জন্ম হয় তেমন…
প্রেম সহজ না

প্রেম সহজ না

হাফিজের কবিতা (১৯৮৬) – (অনুবাদ কবিতা) এসো সাকি, এসো, রেখো না বসিয়ে হাতে হাতে দাও ভর্তি পেয়ালা ; আগে ভাবতাম প্রেম কী সহজ, আজ দেখি তাতে কী বিষম জ্বালা । খোঁপা থেকে মৃগনাভির সুরভি ভেসে…
কোথায়

কোথায়

হাফিজের কবিতা (১৯৮৬) – (অনুবাদ কবিতা) ওদিকে রয়েছে পুণ্যকর্ম এদিকে রয়েছি আমি দুরাচার ; চেয়ে দেখ, এই দুয়ের মধ্যে রচে ব্যবধান অকূলপাথার । মঠমন্দির নামাবলীভেখ ওতে মন নেই, ছেড়েছি ওসব; কোথা কোণার্ক, কোথা সদগুরু কোথায়…
ফুল ফুটুক না ফুটুক

ফুল ফুটুক না ফুটুক

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। শান-বাঁধানো ফুটপাথে পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে হাসছে। ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত। আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে তারপর খুলে – মৃত্যুর…
পদাতিক

পদাতিক

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া। চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ, গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে, তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য জীবনকে চায়…
চিরকুট

চিরকুট

শতকোটি প্রণামান্তে হুজুরে নিবেদন এই– মাপ করবেন খাজনা এ সন ছিটেফোঁটাও ধান নেই। মাঠেঘাটে কপাল ফাটে দৃষ্টি চলে যত দূর খাল শুক্‌নো বিল শুক্‌নো চোখের কোলে সমুদ্দুর। হাত পাতব কার কাছে কে গাঁয়ে সবার দশা…
একটু পা চালিয়ে ভাই

একটু পা চালিয়ে ভাই

লেনিনকে আমরা দাঁড় করিয়ে রেখেছি ধর্মতলায় ট্রামের গুমটির পাশে। আঁস্তাকুড়ের ভাত একদল খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে ডাস্টবিনে হাত চালিয়ে দিয়ে। লেনিন দেখছেন। গ্রামের এক লোক শহরে ডাক্তার দেখিয়ে সর্বস্বান্ত হতে এসেছিল তার আগেই তাকে সর্বস্বান্ত করে…
আরও গল্প