উপহার

উপহার

ফুলদিয়ে গেলে মেয়ে! এরে রাখিব কেমন ছলে, এরে মালায় পরিলে জ্বালা গলে শৃঙ্খল হযে দোলে। এরে ধরিতে ছুঁইতে করে এ যে, ভোরের শিশির ফোঁটা এ যে, খনেক জীবন ধরে। এরে, পাইয়া কপাল পোড়া, কাঁদিয়া জনম…
আগমনী

আগমনী

আজ তুমি আসিবে যে মেয়ে, সেই ডোবা পুকুরের পানা পুকুরের, কলমীলতার জাল দিয়ে ঘেরা পানি- সেই সে পানিতে নেয়ে। মনে যদি হয় কলমী ফুলের কতকটা রঙ লইও অধরে মেখে, ঠোটেতে মাখিও আর একটুকু হাসি লাল…
অনুরোধ

অনুরোধ

ছিপ ছিপে তার পাতলা গঠন, রাঙা যে টুকটুক সোনা রূপায় ঝলমল দেখলে তাহার মুখ। সেই মেয়েটি বলল মোরে দিয়ে একখান খাতা, সেই মেয়েটি বলল মোরে দিয়ে একখান খাতা, লিখো কবি ইহার মাঝে যখন খুশী যা…
কিশোরের প্রতি

কিশোরের প্রতি

যৌবনের সুরাপাত্র গরল-মদির ঢালো নি অধরে তব, ধরা মোহিনীর উর্দ্ধফণা মায়া-ভুজঙ্গিনী আসেনি তোমার কাম্য উরসের পথটুকু চিনি’, চুমিয়া-চুমিয়া তব হৃদয়ের মধু বিষবহ্নি ঢালেনিক’ বাসনার বধু অন্তরের পান পাত্রে তব; অম্লান আনন্দ তব, আপ্লুত উৎসব, অশ্রুহীন…
কবি

কবি

ভ্রমরীর মতো চুপে সৃজনের ছায়াধূপে ঘুরে মরে মন আমি নিদালির আঁখি, নেশাখোর চোখের স্বপনে! নিরালায় সুর সাথি, বাঁধি মোর মানসীর বেণী, মানুষ দেখে নি মোরে কোনোদিন, আমারে চেনে নি! কোনো ভিড় কোনোদিন দাঁড়ায় নি মোর…
ওগো দরদিয়া

ওগো দরদিয়া

-ওগো দরদিয়া তোমারে ভুলিবে সবে, যাবে সবে তোমারে ত্যজিয়া; ধরণীর পসরায় তোমারে পাবে না কেহ দিনান্তেও খুঁজে কে জানে রহিবে কোথা নিশিভারে নেশাখোর আঁখি তব বুজে! -হয়তো সিন্ধুর পারে শ্বেতশঙ্খ ঝিনুকের পাশে তোমার কঙ্কালখানা শুয়ে…
একদিন খুঁজেছিনু যারে

একদিন খুঁজেছিনু যারে

একদিন খুঁজেছিনু যারে বকের পাখার ভিড়ে বাদলের গোধূলি-আঁধারে, মালতীলতার বনে, কদমের তলে, নিঝুম ঘুমের ঘাটে-কেয়াফুল, শেফালীর দলে! -যাহারে খুজিয়াছিনু মাঠে মাঠে শরতের ভোরে হেমন্তের হিম ঘাসে যাহারে খুজিয়াছিনু ঝরঝর কামিনীর ব্যথার শিয়রে যার লাগি ছুটে…
আলেয়া

আলেয়া

প্রান্তরের পারে তব তিমিরের খেয়া নীরবে যেতেছে দুলে নিদালি আলেয়া! -হেথা, গৃহবাতায়নে নিভে গেছে প্রদীপের শিখা, ঘোমটায় আঁখি ঘেরি রাত্রি-কুমারিকা চুপে চুপে চলিতেছে বনপথ ধরি! আকাশের বুকে বুকে কাহাদের মেঘের গাগরী ডুবে যায় ধীরে ধীরে…
আমি কবি– সেই কবি

আমি কবি– সেই কবি

আমি কবি– সেই কবি– আকাশে কাতর আঁখি তুলি হেরি ঝরা পালকের ছবি! আন্‌মনা আমি চেয়ে থাকি দূর হিঙুল-মেঘের পানে! মৌন নীলের ইশারায় কোন্ কামনা জাগিছে প্রাণে! বুকের বাদল উথলি উঠিছে কোন্ কাজরীর গানে! দাদুরী-কাঁদানো শাঙন-দরিয়া…
অস্তচাঁদে

অস্তচাঁদে

ভালোবাসিয়াছি আমি অস্তচাঁদ, -ক্লান্ত শেষপ্রহরের শশী! -অঘোর ঘুমের ঘোরে ঢলে যবে কালো নদী-ঢেউয়ের কলসী, নিঝ্ঝুম বিছানার পরে মেঘবৌ’র খোঁপাখসা জোছনাফুল চুপে চুপে ঝরে,- চেয়ে থাকি চোখ তুলে’-যেন মোর পলাতকা প্রিয়া মেঘের ঘোমটা তুলে’ প্রেত-চাঁদে সচকিতে…
আরও গল্প