দাদার কীর্তি

দাদার কীর্তি

না, দাদা, তোমার বিয়েটা না হলেই নয়। অভ্ৰভেদী গাম্ভীর্য রক্ষা করিবার জন্য দাদা টেবিলের উপর পা তুলিয়া দিয়া চেয়ারের উপর আড় হইয়া বসিলেন। চক্ষু অর্ধমুদ্রিত করিয়া বলিলেন, হুঁঃ, নিজের চরকায় তেল দে। আমি বলিলাম, তেল…
অষ্টম সৰ্গ

অষ্টম সৰ্গ

সেদিন সন্ধ্যার আকাশে দ্রুত সঞ্চরমাণ মেঘের দল শিপ্রার বিষর্ষিকীত বক্ষে ধূমল ছায়া ফেলিয়া চলিয়াছিল। বৃষ্টি পড়িতেছে না বটে, কিন্তু পশ্চিম হইতে খর আদ্ৰ বায়ু বহিতেছে–শীঘ্রই বৃষ্টি নামিবে। ছিন্ন ধাবমান মেঘের আড়ালে পঞ্চমীর চন্দ্ৰকলা মাঝে মাঝে…
অমিতাভ

অমিতাভ

যত অসম্ভব কথাই বলি না কেন, যদি একজন বড় পণ্ডিতের নাম সেই সঙ্গে জুড়িয়া দিতে পারি, তবে আর কথাটা কেহ অবিশ্বাস করে না। আমি যদি বলি, আজ রাত্ৰিতে অন্ধকার পথে একেলা আসিতে আসিতে একটা ভূত…
স্মৃতি মুক্তি

স্মৃতি মুক্তি

আমার মনে হচ্ছে, আমি পাগল হওয়ার পর্যায়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। থেকে থেকে খালি আজগুবি কল্পনা মাথায় আসে। এই যেমন ধরুন, আপনি একটা গামলায় বসে ধ্যান করছেন একমনে, হঠাৎ কেউ এসে যদি একবালতি টাটকা গরমজল ঢেলে দেয়!…
দ্বিতীয় বিবাহ

দ্বিতীয় বিবাহ

নীলিমা আর আমার বিয়ে হয়েছে চার বছর প্রায়। আমরা তখন মাত্র ইন্টারমিডিয়েটের ২য় বর্ষে পড়ি। কলেজে কেমন করে যেন একজন আরেকজন কে ভালবেসে ফেলি। আবেগের সংসারে দুজন মানুষ খুব শান্তিতে বসবাস করা শুরু করি। ইন্টার…
পাতাগুলি

পাতাগুলি

পাতাগুলি উল্টেপাল্টে নিজেকে দেখায় যখনই বাতাস এসে নাড়া দিয়ে যায় বৃক্ষের বাড়িতে অশ্বত্থের পাতা এক্ষুনি সবুজ, কিন্তু পরক্ষণে সাদা। হাক্লান্ত দৌড়চ্ছে গাড়ি, মস্ত একটা ফিতে খুব দ্রুত গুটিয়ে তুলছে কেউ, রোদ্দুরে ঝিমোচ্ছে শক্ত লালমাটির ঢেউ…
তোমার জন্য ভাবি না

তোমার জন্য ভাবি না

তুমি তোমার ছেলেকে অহোরাত্রি অসংখ্য মিথ্যার বিষ গলিয়েছ। শৈশবে সে হাসেনি, কেননা সমবয়সীদের সে শত্রু বলে জানত। যৌবনে সে নারীকে ভালবাসেনি, কেননা নারীকে সে নরক বলে জানে। ধীরে-ধীরে সেই অকালবার্ধক্যের দিকে সে এখন এগিয়ে যাচ্ছে,…
তা নইলে

তা নইলে

কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি, তা নইলে পৃথিবী চলতে-চলতে একদিন চলবে না। আকাশে ঘনিয়ে আসবে ঘোর অন্ধকার, তোর ঘরে-বাইরে কেউ কথা বলবে না। দরজায় লাগানো ছিল তালা, বেলকুঁড়ির মালা পড়ে ছিল রজ্জুর সমান। লুণ্ঠন করেছ…
খুকুর জন্য

খুকুর জন্য

যার যেখানে জায়গা, যেন সেইখানে সে থাকে। যা মনে রাখবার, যেন রাখে নিতান্ত সেইটুকু। খুকু, ঘরে একটা জানলা চাই, বাইরে একটা মাঠ। উঠোনে একটিইমাত্র কাঠ- গোলাপের চারা আস্তেসুস্থে বড় হোক, কিচ্ছু নেই তাড়া। একদিন সকালে…
কিছু-বা কল্পনা

কিছু-বা কল্পনা

প্রত্যেকটা প্রসাদ কিছু শূন্যতা রচনা করে যায়, আলোকিত মঞ্চের পিছনে থাকে অন্ধকার, ট্রেন চলে যাবার পরে প্ল্যাটফর্মটা আবার খাঁখাঁ করতে থাকে, নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খোলা জানালায় চক্ষু রাখে মালবাবুর বউ, এই ছোট্ট শহর…
আরও গল্প