প্রেমে ব্যর্থতা

প্রেমে ব্যর্থতা

প্রেমে ব্যর্থ আজ সকলেই হচ্ছে।

খুব কম সংখ্যক মানুষই একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আসলে একটা সম্পর্ক বিচ্ছেদের পিছনে দুজনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবেই জরিত।

একজন প্রত্যক্ষভাবে অন্যজন পরোক্ষ ভাবে। আজকে আমার এই লেখায়,
কেনো একটা সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়?
আপনারা একটা সম্পর্ক কিভাবে টিকিয়ে রাখবেন?
কিভাবে সম্পর্কের স্থাপত্য শক্ত করে রাখতে হয়?
কিভাবে বিচ্ছেদের পর ডিপ্রেশন থেকে বের হতে পারবেন?
এসব বিষয় নিয়েই সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হবে।
.
কেন একটা সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়? তার পিছনের প্রথম কারণ, আমরা অধিকাংশ ছেলে বা মেয়ে একটা সম্পর্ক স্থাপন করি এক প্রকার ঝোক বা আবেগের মাধ্যমে এবং

সম্পর্কের শুরুটাও আবেগে চলে। আমরা একজনের সাথে সম্পর্কে যাওয়ার আগে তার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে সজাগ হই না।

যারা ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে সম্পর্কে জরাই তাদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের পরবর্তীতে যে সমস্যাগুলো হয় তা হলো, এই তুমি আমায় বললা না কেন তোমার এটা আছে বা ওঁটা নাই।

তোমার বাবা এমন, তোমার মা এমন? এখন কি হবে? আমাদের মেনে নিবে কিনা। এক প্রকারের শুদ্ধ শব্দে “খোটা ” বলে যেটাকে।আসলে অনেকেই এসব পছন্দ করে না।

আর আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল একজনকে সম্পূর্ণ না জেনে তার সাথে সম্পর্কে জরাই। দরকার হলে আপনি আরো সময় নিন। একটা ব্যাপার কি জানেন?

যে প্রাপ্য গ্রহণের আগে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় ব্যায় করে যাচাই করবেন, তার স্থায়ীত্ব অনেক দীর্ঘ হবে। এটা চিরন্তন বাস্তব। বাস্তবকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা আপনার নেই।

একটা ব্যপার মাথায় না রেখেই আপনারা রিলেশনে জরান। রিলেশনে জরানোর আগে অবশ্যই দেখবেন- আপনাদের দুজনের ফ্যামিলি অবস্থান কি, এক কিনা।

আর হ্যা, আত্মীয়দের ভিতরে কারো সাথে রিলেশনে জরাবেন না। শুধু শুধু সময় নষ্ট; শেষে মন ভেঙে দেবদাস হয়ে বসে থাকতে হবে।

আপনার মা বাবা দুজনের পছন্দের সাথে আপনার সে মানুষটির মিল আছে কিনা সেটা দেখবেন। এসব বিষয় যদি প্রাধান্য না দিন তাহলে সম্পর্ক পরবর্তী অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
.
একটা সম্পর্ক কিভাবে টিকিয়ে রাখতে হয়?
এটা সম্পর্ক পরবর্তী ধাপ। একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে যেগুলো ফলো করতে হবে,
কখনোই প্রিয় মানুষের সাথে মিথ্যা বলবেন না। মনে রাখবেন, মিথ্যা বলে হাঁসানোর চেয়ে সত্য বলে কাঁদানো অনেক শ্রেয়।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যেটাকে সেটা হলো “বিশ্বাস”। তার প্রতি সবমসময় বিশ্বাস রাখতে হবে।

আর কখনোই যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে তাহলে তার সাথে রাগ বা অভিমান বা সম্পর্ক বিচ্ছেদ না করে তাকে সারসরি জিজ্ঞাস করেন, কেন সে এমনটা করলো?

নিশ্চই তার পিছনে কোন কারণ আছে। আর হ্যা, আপনারও উচিৎ আপনার প্রিয় মানুষটির বিশ্বাসকে রক্ষা করা। সবসময় তার মঙ্গল কামনা করা।

কখনোই আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ তার সামনে করবেন না। অবশ্যই তার সামনে আপনার রাগ সমসময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

যখন খুব রাগ হবে ১০ সেকেন্ড দরকার পরলে নিজের জ্বিব কামড় দিয়ে ধরে রাখবেন। রাগ নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

ঝগড়া যত সম্ভব কম করবেন, কারণ একসময় ঝগড়ার মাঝে আপনার রাগের প্রকাশ ঘটে যেতে পারে। এবং তার ফলাফল খারাপ হবে।

ঝগরা করবেন, তবে ছোট ঝগড়া যে ঝগড়ায় ভালোবাসার স্পষ্ট প্রকাশ পাবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। কখনোই নিজেদের ভিতর ভুল বুঝাবুঝি হলে কেউ দূরে সরে থাকবেন না।

ভুল তার হলেও আপনাকে Sorry বলে হলেও সব সমাধান করতে হবে। তা না হলে দুজনই দূরে সরে থাকতে থাকতে অবহেলায় এই সম্পর্ক বিলীন হয়ে যাবে।

সম্পর্কে টিকিয়ে রাখতে এতোটুকুই যথেষ্ট।
.
কিভাবে সম্পর্কের স্থাপত্য শক্ত রাখবেন?
আপনি যতো ফ্রি সময়ে থাকবেন ততটুকু সময় তার পিছনে ব্যায় করুন। কাজের ফাকে ফাকে জেনে নিন তার খোজ-খবর। তার যা অপছন্দ সে সব আজই ত্যাগ করে ফেলুন।

হ্যা, এখনি। নিজে খাওয়ার আগে জেনে নিন সে খেলো কিনা। হয়তো সে আপনার অপেক্ষায় আছে। হয়তো সে ফোন কলের অপেক্ষায় আছে, তুমি খেয়ে নাও আমি খাচ্ছি।

মাঝে মাঝে আপনার সামর্থ্যের মধ্যে তাকে কিছু উপহার দিন। সেটা ৫০ টাকার একটা রিং ও হতে পারে আবার ৫০০ টাকার একটা ডল বা পুতুল ও হতে পারে।

আপনার দেয়া তুচ্ছ উপহারও তার কাছে অনেককিছু।
.
কিভবে বিচ্ছেদের পর ডিপ্রেশন থেকে বের হতে পারবেন?
এটা বিচ্ছেদ পরবর্তী ধাপ।
আপনাকে তার সম্পূর্ণ স্মৃতি মুছে ফেলতে হবে। তার সাথে মুছে ফেলতে হবে স্মার্টফোনের সব sad song, cold song আপনার ফোনে সব হাই ভিটের রিমিক্স গান রাখবেন।

আর গান শুনলে অবশ্যই আপনার মন রিল্যাক্স ফিল করবে। আর হ্যা, হতাশ এবং নিরুপায় হয়ে সিলিং ফ্যানে নিজের জীবণ দেয়ার কথা ভাববেন না।

মনে রাখবেন আত্মহত্যা হলো নিজের কাছে নিজের পরাজয়। আপনি তার কথা ভাবা বন্ধ করে দিন যদি ভাবতেই হয় তাহলে তার খারাপ দিকগুলো নিয়ে ভেবে ঘৃণা জন্মান।

যতসম্ভব বন্ধুদের সাথে সময় কাটান নয়তো কোন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। কারণ যতক্ষণ একা থাকবেন ততক্ষণই তার কথা মনে পরবে।
টিভি বা কোনকিছুর সামনে বসলে অবশ্যই রোমান্টিক মুভি দেখবেন না। এতে আপনার খারাপ লাগা আরো বেড়ে যাবে।
নিজেকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন। আর পরবর্তী সম্ভব হলে দেখে বুঝে রিলেশনে জরাবেন। যখন খুব খারাপ লাগবে পরিবারের সাহায্য নিবেন।

কারণ তাদের সাপোর্ট আপনার জন্য প্রয়োজন। পারলে মনের কথাগুলো যে গুরুত দিবে তার সাথে শেয়ার করে হালকা হয়ে নিয়েন
খুব খারাপ লাগলে কাঁদতে পারেন উচ্চস্বরে, কাঁদার পর নিজেকে হালকা লাগবে।

গল্পের বিষয়:
শিক্ষনীয় গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত