ধর্ষণ,ধর্ষক ও আমরা

ধর্ষণ,ধর্ষক ও আমরা

আমাদের এই ডিজিটাল বাংলাদেশের ২০১৭ সালের মানুষের কাছে ধর্ষণ একটা পরিচিত শব্দ। কিন্তু মানুষের চোখে এখন ডিজিটালতার হাতছানি। ধর্ষণ নিয়ে ভাবার
মতো ইচ্ছা বা আগ্রহ তাদের মধ্যে নাই। তাদের মাথায় সারাক্ষণ ঘুরপাক খায় কিভাবে ভুরি ভুরি টাকা জমানো যাবে। আর এই ডিজিটাল টাকাওয়ালা মানুষদের ভীরে
এখনও মুক্ত বাতাস গ্রহন করে যাচ্ছে হাজারো ধর্ষক। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না আমাদের সরকার। তাহলে কি
এটাই ছিল আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের পূর্বশর্ত…??

ধর্ষণ খুব ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া অনেক প্রখর। যখন একটা মেয়ে ধর্ষিত হয় তখন সমাজের মানুষ তাকে ঘৃণা করে। তাকে ধর্ষিতা নামক নতুন নাম দেয়।তখন কি আমাদের সমাজ ভুলে যায় যে তাদের ঘরেও মা- বোন আছে। আজকে যেই বোনটাকে আমরা ধর্ষিতা অপবাদ দিচ্ছি সেই বোনের জায়গায় তো আমার বোনও থাকতে পারতো। যদি আমাদের মাথায় আমাদের মা- বোনের চিন্তা থাকতো তাহলে হয়তো ঐ ধর্ষিত মেয়েটাকে আমরা ধর্ষিতা অপবাদ না দিয়ে তার পাশে দাঁড়াতাম। কিন্তু আমরা তাঁর পাশে না দাড়িয়ে উল্টো তার ওপর অপবাদ তুলে দেই। যার পরিণতি হয় একজন ধর্ষিতার মৃত্যু। সে যখন এসব চাপ আর নিতে না পারে তখন এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর মানুষগুলোকে সে বিদায় জানাতে বাধ্য হয়। আর তার এই মৃত্যুর জন্য শুধু ধর্ষক দায়ী নয়, আমাদের সমাজের প্রত্যেক মানুষ দায়ী। কেননা আমরা তাকে বাঁচতে দেই নি…!!

“হে ধর্ষক” তোমরা কি তোমাদের মা-বোনের কথা একবার মন থেকে চিন্তা করেছ.? যদি একবার মন খুলে চিন্তা করতে তাহলে তুমি একটা নিরীহ বোনকে ধর্ষণ করতে
পারতে না। তোমাদের যৌনলালসা পূরনের জন্য তুমি আজ একজন নিরীহ বোনের জীবন নিয়ে খেলা করছ.। তোমার কি মাথায় মগজ আর কপালের নিচে চোখ ছিল না..??

তোমার চোখ কি একবারও ঐ বেশ্যা পল্লিতে যায় নি.?? তোমার যৌনলালসা পূরন করতে তো ঐ বেশ্যা পল্লি ই যথেষ্ঠ ছিল। বিনিময়ে তারা কিছু টাকা নিতো। কিন্তু
তবুও একটা বোনের জীবন নষ্ট হতো না। নষ্ট হতো না আমাদের মায়ের জাতির ইজ্জত। কিন্তু তুমি ঐ বেশ্যা পল্লিতে নজর না দিয়ে নজর দিয়েছো একটা নিরীহ
বোনের ওপর.। যার পরিনতি একজন বোনের মৃত্যু…!!!

“হে ধর্ষিতা” আমি জানি পুরুষ জাতিদের তোমরা ঘৃণা করো। কিন্তু সব পুরুষ কিন্তু এক রকম না..!! প্রথমে আমি তোমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারণ আমি পুরুষ জাতিদেরই একজন। হয়তো আমার মতো একজন পুরুষের কারণেই আজ তুমি আমাদের মাঝে বেঁচে নেই.। আর যারা বেঁচে আছে তারা হয়তো সর্বক্ষণ নরক যন্ত্রণা ভুগ করছে। তোমাদের আর কি বলব.?? তোমাদের শুধু একটা কথা বলি…
তোমরা যদি ধর্মীয় জীবন বিধান মেনে চলতে তাহলে হয়তো তোমারা ধর্ষণের হাত থেকে অনেকটা বেঁচে যেতে..!! আর তোমাদের ধর্ষিত হওয়ার পেছনের মূল কারণ
হলো তোমাদের পোশাক..। আমি মনে করি, যদি বাংলাদেশের নারীরা তাদের পোশাকে পরিবর্তন এনে ধর্মীয় রীতিতে জীবন পরিচালনা করে তাহলে মোট
ধর্ষনের গড় অনেকটা কমে আসবে….

“হে প্রেমিক-প্রমিকা” হয়তো কথা গুলো শুনে তোমাদের খারাপ লাগবে তবুও আমি বলতে বাধ্য….!! বর্তমানে দেখা যায় আমাদের দেশের বিভিন্ন পার্কে প্রতিনিয়ত
প্রেমিক-প্রেমিকার আগমন ঘটছে..!! এই যে বোন আপনাকে বলছি…. নতুন নতুন প্রেম করছেন তো তাই পাখনা গজিয়েছে। পার্কে যান প্রেমিকের সাথে প্রেম করতে।
আপনি কি একবার চিন্তা করেছেন আপনার পূর্ববর্তী ধর্ষিতা বোনদের কথা। তারাও আপনার মতোই পার্কে আসতো প্রেম করতে। কিন্তু তাদের প্রেমের ইতি
ঘটিয়েছে ধর্ষন নামক নির্মমতা। আপনার ক্ষেত্রেও যে তা ঘটবে না তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে.?? হে বোন তোমার শরীরে যৌনলালসা থাকতেই পারে। তাই বলে
কি ভালোবাসার নাম করে লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়া। আপনার বাবা-মাকে বললেই তো ভালো একটা পাত্র দেখে আপনাকে বিয়ে দিতে দিতো। কিন্তু লিটনের
ফ্ল্যাটে গিয়ে আপনি যেই পাপকাজটা করেছেন তার পাপের ফসল যখন আপনার ভিতরে বেড়ে ওঠতে থাকে তখন আপনার ঐ ভালোবাসার মানুষ কোথায় থাকে..?? অবশ্য ততক্ষণে হয়তো সে আপনার মতো এমন আরেকটা বোনকে নিয়ে পার্কের কিনারে বসে প্রেম করছে। তখন আপনার সামনে ২ টা পথ খুলা থাকে। (১) আত্মহত্যা করা,,

(২)
ভিতরে বেড়ে ওঠা নিষ্পাপ প্রাণটাকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হত্যা করা..। কি দোষ ছিল ঐ নিষ্পাপ প্রাণটার..?? আপনারা ভালোবেসে লিটনের ফ্ল্যাটে
গিয়ে পাপ করছিলেন কিন্তু সেই পাপের মাসুল দিতে হয় একটা নিষ্পাপ ফেরেশতার মতো প্রাণকে। ক্ষনিকের আনন্দ নিতে গিয়ে হয়তো জীবনে বেঁচে থাকার আনন্দটাই
হারিয়ে ফেলেন। আসলে যেই প্রেমিক আপনাকে বলবে লিটনের ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য সেই প্রেমিক তো আপনাকে ভালোবাসে নি,, ভালোবেসেছে আপনার ঐ
কোমল দেহটাকে। তাই বিয়ের আগে যৌনলালসাকে দাফন করেন…
আমাদের দেশ নাকি স্বাধীন। আমরা নাকি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক..!! এই কথাগুলো কি আদৌ সত্য..??
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে ৫ বছরে বোনকে ধর্ষন করা হতো না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে আমাদের মায়ের জাতিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হতো না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রসাশন ব্যবস্থা গ্রহন করতো..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে আমাদের মায়ের জাতির ক্ষত বিক্ষত লাশ চা বাগানে পাওয়া যেতো না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে এতদিনে লিটনের ফ্ল্যাটে তালা ঝুলতো..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে হারিয়ে যাওয়া
বোনটার লাশের শরীরে হায়েনাদের আঁচরের দাগ থাকতো না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে আমাদের বোনের লাশ ফ্যানের মধ্যে ঝুলতো না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে আমাদের দেশে আমাদের বোনদের জীবনের নিরাপত্তা থাকতো..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে নর্দমায় নবজাতক শিশুর লাশ পাওয়া যেত না..
>> যদি আমরা স্বাধীন থাকতাম তাহলে কয়েকদিন পর পর কেন নদীতে আমাদের বোনের / ভাইয়ের লাশ ভেসে ওঠে..??
তাহলে কি ৩০ লক্ষ ভাইয়ের বুকের তাজা রক্ত এবং ২ লক্ষ বোনের ইজ্জত সবই আজ বৃথা…??
এখন আপনারা কি বলবেন.?? আমরা কি স্বাধীন জাতি..??
প্রশ্নটা আপনার কাছেই রইলো_____??
আরে যারা ধর্ষন করে তারা তো মানুষ না। তারা মানুষখেকো জানোয়ার। আমরা কুকুরকে সাধারণত নিকৃষ্ট বলে মনে করি। কিন্তু আমাদের সমাজের মানুষখেকো
জানোয়ার গুলা তার থেকেও নিকৃষ্ঠ। কুকুরেরও তার সন্তানের প্রতি একটা স্বাভাবিক মায়া থাকে। কিন্তু একজন ধর্ষকের তা থাকে না। আমার মনে হয় একটা ৭
দিনে কিছু না খাওয়া ক্ষুধার্থ শকুনকে যদি একজন ধর্ষনকারীর শরীরের তাজা গোস্ত দেওয়া হয় তাহলে সেই ক্ষুধার্থ শকুনটা ক্ষুধা নিয়ে মুক্ত আকাশে ডানা মেলবে তবুও এই ধর্ষকের গোস্তা খাবে না…!! অচথ সৃষ্টিকর্তা নাকি আমরা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরী করেছিল……
একটা কথা মনে রাখবেন মেয়েদের মধ্যে ঘুমিয়ে আছে আমাদের মায়ের জাতি। চলুন সবাই ধর্ষনকে না বলি।
মায়ের জাতিকে সম্মান করতে শিখি…!!

গল্পের বিষয়:
শিক্ষনীয় গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত