বাস্তবতা

বাস্তবতা

– রিয়া , কাল থেকে তুমি আর
অফিসে আসবে না।
— কেন স্যার ?
– তোমার ঐ পেট্রোল পোড়া মুখ
দেখে অনেকেই ভয় পায়।
অনেকে তোমার ব্যাপারে অভিযোগ করেছে।তোমার জন্য তো , তাদের
কে আমি ছাড়তে পাড়ি না।তাই
তোমাকে চাকরি ছাড়তে হবে।
কথা গুলো শুনে রিয়ার চোখে জল
এসে গেল।কাদঁতে কাদঁতে অফিস
থেকে বের হয়ে গেল রিয়া।
———
-রিয়া তোমার সাথে এক ছাদের
নিচে থাকা আর সম্ভব না।
— কেন কি করছি আমি?
– তোমাকে নিয়ে রাস্তায় বের
হতে পাড়ি না , লজ্জা লাগে।সবাই সুন্দর বৌ নিয়ে ঘুরে আর
আমি পোড়া মুখ বৌ নিয়ে ঘুরি।
তুমি তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও ,
প্রিজ ।
চাকরির
সাথে সংসারটা ভেঙ্গে গেল রিয়ার ।
———
– তোর মুখ না পোড়ে , যদি তুই
মারা যেতি সেদিন , তবে আর এই
দুঃদশা দেখতে হয় না আমার।
— মা তুমিও এ কথা বললা….
– তবে আর কি বলবো বল , চাকরি গেল ,
সংসারটা গেল।এখন কোথাও
তকে চাকরি দেয় না , আর
তকে কিভাবে আমি বিয়ে দেবো আবার

এমনেতেই টানাটানি সংসার কি করবো বল ( কান্না জড়িত
কথা গুলো বললো)
এখন তোর সামনে দুইটা পথ খুলা –
হয়তো এই মুখ
নিয়ে পথে পথে ভিক্ষা কর ,
নয়তো বিষ খেয়ে মর।
———
রাত গভীর , সবাই ঘুমিয়ে শুধু রিয়ার
চোখে ঘুম নেই।গভীর চিন্তায় মগ্ন
রিয়া , তার মায়ের
কথা গুলো চিন্তা করছে শুয়ে ।
ভিক্ষা তো সে করতে পাড়বে না , তবে তার ২য় পথটি বেছে নিতে হবে।
আস্তে করে ঘরের দরজা খুলে , বাড়ির
সামনের আম গাছে দড়ি নিয়ে গেল
রিয়া ।
গলায় যখন দড়ি প্যাচঁ লেগে গেল
রিয়া ছটফট করতে শুরু করলো , তখন সে অনুভব করলো তাকে বাচঁতে হবে।
মৃত্যু কখনই সম্যসার সমাধান
হতে পাড়ে না।
সে চেষ্টা করছে বাচাঁর , চিৎকার
করে কাউ কে ডাকতে । তার মুখে শুধু
একটাই কথা বাচাঁও বাচাঁও ….. – এই রিয়া কি হইছে তোমার , চিৎকার
করছো কেন?
— চোখ খুলে দেখে , রিয়ার
স্বামী তার পাশেই ।
বিছানা থেকে দৌড়ে ওঠে আয়নার
সামনে দাড়ায় রিয়া।না , তার মুখে তো কিছুই হয় নাই।তাহলে কি স্বপ্ন
ছিল ঐ টা….
ফজরের আযান শুনা যাচ্ছে ।
রিয়া নামাজ আদায় করে , আল্লাহর
কাছে দু হাত তুলে শুকরিয়া আদায়
করে , এবং ঐ রকম দুর্ঘটনা যাতে কারো জীবনে না ঘটে।
———
অফিসের জন্য রওনা হয় রিয়া আর তার
স্বামী , মনে এক অজানা ভয় নিয়ে।
সত্যি যদি স্বপ্নের
ঘটনা বাস্তবে হয় ,তবে কি হবে…..

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত