ছলনাময়ী

ছলনাময়ী

আজ যেই গল্পটি লিখবো এটি আমার দেখা ভালো একজন মানুষ এক বড় ভাই এর গল্প। বড় ভাইটির ছদ্মনাম নীল।

এবং তাদের প্রেম কাহিনী, তাদের প্রেমটা শুরু হয়েছিল ২০১০ এর দিকে যখন নীল গ্রাম থেকে শহরে একটা ভালো কলেজ এ চ্যান্চ পাই। সে কলেজ এর হোস্টেল এই উঠে পরে। নীল ভালো ছাত্র ছিল যার কারণে ক্লাসে সবার প্রিয় হয়ে উঠে। একটা মেয়েছিল যার নাম নেহা, সেও ভালো ছাত্রী ছিল। তবুও কেন জানি নীলকে টপকাতে পারতো না। নীল এর রোল নং সবসময় ১ থেকে যেত। নীল সবার সাথে ভালোভাবে কথা বলতো না। কেমন জানি মনমরা হয়ে থাকতো। প্রতিদিন কলেজ এ যেত মনযোগ দিয়ে স্যার এর লেকচার শুনতো আবার কলেজ শেষে হোস্টেল এ এসে পড়তো। এভাবে নীল এর শহরের জীবন যাত্রা শুরু হয়। নেহা বেশ ভালোভাবে নীলকে লক্ষ্য করে এবং তার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে যায় নীল তার ফ্রেন্ডশীপ এক্সেপ্ট করে। শুরু হয় তাদের বন্ধুত্ব এভাবে কিছুদিন যায়। এরি মাঝে তাদের প্রথম বছর চলে যায়। বরাবরের মতোই নীল এবারো প্রথম হয়। নেহা এরি মাঝে নীলকে প্রপোজাল দেয় প্রেম এর। নীল রাজি হয় না। নেহা কিছুতেই ছারে না, নীল এর অনেক কিয়ার করে, নীল কখন কী করে, খাইছে কিনা ঠিকমতো ঘুমাইছে কিনা এইসব কিয়ার দেখে নীল নেহার প্রতি দূর্বল হয়ে পরে। একসময় নেহার প্রোপজালে রাজি হয়ে যায়। তখন থেকে শুরু হয় তাদের প্রেমকাহিনী। নেহা কখনোই নীলকে ভালোবাসতো না। শুধু নীলকে কীভাবে টপকানো যায় সেই রকম ধান্দা আকতো। নীল এর করা নোটগুলো নেহা নিয়ে পড়তো। নীল রাত জেগে প্যাক্টিকেল করতো এগুলো নেহা নিত। নীল কখনো বুঝতো না নেহা এক ছলনাময়ী নারী। নীল এর মাঝে কয়একটা টিউশনি করায় সে টাকা দিয়ে দুজন ঘুরে বেরায়। এর মাঝে নীলের অনেকটা পরিবর্তন এসে পড়ে। ঠিক মতো পড়ালেখা করে না। শুধু নেহার কথা ভাবে। নেহাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন বুনে ফেলে নীল। নীল আর নেহা দুজনয় সারাদিন ঘুরাঘুরি করে বেরায় ঠিক মতো কলেজ করে না। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর তাদের ট্যাস্ট পরিক্ষা চলে আসে।

নীল ভালো করেই জানে তার রেজাল্ট বরাবরের মতো এবারো ভালো হবে। কিন্তু ট্যাস্ট পরিক্ষার রেজাল্ট দেখে নীল কেন কলেজ এর স্যার সহ নীল এর সহপাঠীরাও ওবাগ। কেননা যে ছেলের রোল নং ১ থেকে কখনো ২ হয়নাই। আর সেই ছেলেই কিনা আজকে ২ সাবজেক্ট রেফার্ড খাইছে। নীল অনেকটা বেঙ্গে পড়লেও তার সহপাঠীরা কখনো তাকে বেঙ্গে পরতে দেয় নাই। কিন্তু নেহা তার রেফার্ড খাওয়াতে যেন আরো খুশি হয়ে পরছে। নীল নেহার কাছে গেলে নেহা ইগনর করতে শুরু করে। নীল নেহাকে ছারা কিছুই বুঝে না। সবসময় নেহার পিছনে ঘুরতে থাকে। নেহা তাকে যেন চিনেই না এমন ভাবে কথা বলে। নীল পড়াশুনা একদম ছেরে দেয়। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করে না। কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেছে। এভাবে কিছুদিন চলার পর কলেজ একটি স্যার লক্ষ করে নীল কলেজ এ আসতাছে না। ঠিকমতো পড়াশুনাও করতাছে না। সেদিন বিকালে নীল এর সাথে সেই স্যার এর দেখা হয়।

স্যার- নীল এই নীল
নীল- জ্যি স্যার
স্যার- তা এমন অবস্থা কেন? আর কলেজ এ আসতাছো না কেন? সামনে তো ফাইনাল ইয়ার। আর তুমি তো ২ বিষয় রেফার্ড খাইছো।
নীল কোন কথা বলে না। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।

স্যার- দেখ এখনো সময় আছে ভালো ভাবে পড়ালেখ কর। তোমার ফরম ফিলাপ এর ব্যাবস্থা আমি করে দিব আগের মতো আবার কলেজ এ আসো।

আমি জানি তুমি নেহাকে ভালোবাস কিন্তু দেখ নেহা অনেক বড়লোক ঘরের সন্তান তারা কখনো ভালোবাসা বুঝে না তারা শুধু টাকা চিনে। এতোদিন নেহা তোমার সাথে অভিনয় করেছে। তোমার দেওয়া নোটগুলো ফলো করে আজ নেহা পাশ করে গেছে।
নীল জ্যি স্যার বলে চলে আসে। নীল আগের মতো আর পড়ায় মন বসাতে পারে না। তবুও পড়ার চেষ্টা করে। এরই মাঝে নীল এর ফাইনাল ইয়ার পরিক্ষা চলে আসলো। নীল পরিক্ষা দিল। কিন্তু রেজাল্ট খারাপ আসলো, আবারো একটি সাবজেক্ট রেফার্ড খেল। কিন্তু নেহা পাশ করে বের হয়ে গেল কলেজ থেকে।

নীল নেহাকে কলেজ এ দেখে নেহার কাছে গেল,
নেহা নীলকে বল্ল আমি জানতাম তুমি রেফার্ড খাবা। তার জন্য আমি তোমার কাছ থেকে চলে গেছি। আর তুমি কখনো কিছু করতে পারবে না তাও জানি। তোমরা গ্রামের ছেলেরা তোমাদের গ্রামেই মানায় শহরে না। আর আমার বিয়ে ঠিক হয়েগেছে আমার হবু জামাই এর অনেক টাকা আছে। সে কী করে জান সে একজন ব্যাবসাহি। তা তো তুমি কখনো জানবা না, তার থেকে ভালো গ্রামে গিয়ে একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেল। আচ্ছা আমি যায়।

নীল নেহার কথাগুলো শুনছিল আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল এই ভাবে কাকে আমি ভালোবেসেছিলাম। জার জন্য আমার জীবন নষ্ট করে ফেলেছিলাম। চোখ মুছতে মুছতে সেই কলেজ থেকে বের হয়ে এসেছিল নীল। নীল প্রতিদি নেশা করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরায়। আজ নেহার বিয়ে সেই টাকারও স্বামীর সাথে। নীল সারা রাত নেশা করে রাস্তায় পরে থাকে।

সেই স্যার কোন কাজে রাস্তাদিয়ে হাটছিল এরই মাঝে রাস্তার মাঝে নীলকে পড়ে থাকতে দেখে নীলকে তুলে বাসায় নিয়ে যায়। নীলকে সুস্থ করে। নীলকে বুঝায় মানুষের জীবন সবসময় এক থাকে না। মানুষের জীবন অতীত বা ভবিষ্যৎ বলে কিচ্ছু নেই সব হলো বর্তমান। তোমার বর্তমান ভালো না হলে ভবিষ্যৎ কেমনে ভালো হবে। তুমি আবার কলেজ এ যাও আর পারলে কিছু করো।

হ্যা নীল সেদিন স্যারের সেই কথা শুনেছিল। সেই স্যার নীলকে কিছু টাকা দেয় দেয়। কিছু করার জন্য নীল সেই টাকায় ছোট একটা ব্যাবসার প্রতিষ্ঠান দেয়। সেই থেকে নীলকে আর পিছাতে হয় নাই। নীল আজকে দেশের নাম করা একটি প্রতিষ্ঠান এর মালিক। দেশের নাম করা কয়েকটি ব্যাবসাহির মধ্যে নিলও একজন। আজ আর নেহার কথা মনে হয় না নীলের। এই ভেবে অতীত মানেই মরিচীকা যা সবসময় নষ্ট।
আর নেহার স্বামী সিয়ার ব্যাবসায় হারে আজ পথে বসেছে। নেহাও আজ রাস্তায় ঘুরে একটি চাকরির খুজে। অবশেষে একটি পত্রিকায় চাকরির বিঙ্গাপন দেখে সেই অফিসে যায়। অফিসে বসে আছে এমডির অপেক্ষায় নেহা দেখতে পেল নীল আসতাছে। নীলকে দেখে নেহা অবাগ হয়ে তাকিয়ে আছে নীল এর দিকে। নীল না দেখেয় চলে যায়। নেহা সেই অফিসের এক কর্মকর্তাকে জিগায় যে গেল তার নাম কী? এবং সে কে? কর্মকর্তাটি বল্ল এই আনাদের অফিসের এমডি এবং তার নাম নীল। নেহা সেই কর্মকর্তাকে বলে আপনাদের বসের নাম্বারটা কী একটু দেওয়া যাবে। কর্মকর্তাটি বলে সরি ম্যাম অপরিচিত কাউকে বসের নাম্বার দেওয়া যাবে না। নেহা কাঁদতে কাঁদতে অফিস থেকে বের হয়ে গেল।
ভালোবাসা কখনো টাকা দিয়ে হয় না। ভালোবাসা দুটি হৃদয়ে হয় যা কখনো বিক্রি বা ক্রয় করা যায় না।
আর আপনার নিজের ব্যাক্তিত্ব কখনো টাকা দিয়ে বিক্রি করে দিবেন না।

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত