ঢোল বাদক

ঢোল বাদক

অনেক দিন পর পুরান প্রেমিকার সাথে দেখা। আরও মিষ্টি হয়েছে দেখতে।  আমার কর্কশ গলার স্বর ওর বাচ্চাদের মত আদুরে কণ্ঠের কাছে খুব বেমানান। ওর বরও কোন দিক দিয়ে কম নাই। মাথা ভরা চূল, মুখে হালকা দাঁড়ি, চোখে মুখে আধুনিকতার ছাপ। দুজনি আসলো গল্প করতে।

আপনার কথা সাবিনার কাছে অনেক শুনেছি ( বরটা বলল)

আমি কিছুটা লজ্জা পেলাম। কত সব করেছি অগুলো যদি বলে দেয়। কিছুক্ষণ ভেবে জিজ্ঞেস করলাম

কি বলে ও?

আপনে নাকি একবার ওর সাথে রাগ করে অনেক গুলো ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলেন। ব্যপারটা কি ছিল। আমার আপনার মুখ থেকে জানতে ইচ্ছা হয়।

আমার অন্তর আতঙ্কে ভরে উঠল। গা হাতপা আবার পুরানো লক্ষ্যে কেঁপে কেঁপে উঠল। এখন অনেক সময় পার হয়ে গেছে। বলে ফেলি যেগুলো বলার নয়। একটা সিগারেট ধরালাম তারপর বলা শুরু করলাম-

আমি তখন কেবল এইট এ পড়ি। সবাই বিজ্ঞান বিভাগ পাওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছে। পড়ালেখার খুব চাপ। পড়ি আর সব পড়া ভুলি। মাথায় কিছুতে ঢুকে না পড়া। সব বন্ধুরা কিভাবে যেন ভালো রেজাল্ট করা শুরু করেছে। আর আমি শুধু পিছাতে থাকি। বাবা মা আমার ব্রেন বাড়ানোর জন্য উঠে পরে লেগেছে। আমি খাটি গরুর দুধ একদম খেতে পারতাম না। ভীষণ গন্ধ লাগত। সেটাই নাকি খেতে হবে দিনে তিন বার। কি বিশ্রী ব্যপার। প্রথম প্রথম কিছু হল না। ব্রেনটা মনে হয় কাজ করা শুরু করে ছিল। তিন দিনে পড়ার সিলেবাস অনেক দূর শেষ করে ফেলি। কিন্তু কিন্তু তিন দিন পর খুব কাশি শুরু হয়। তবু কিন্তু দুধ খাওয়া থামে নাই। গলা দিয়ে কফ বেড় হতেই থাকে। বাবা মা পারা প্রতিবেশী সবাই বলে এগুলো কিছু না, কফ বেড় হতে হতে একসময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কফ আর শেষ হয় না। কফ ফেলতে ফেলতে আমি একদিন রাতে পড়ালেখা ছেড়ে ঘুমাতে যাই। ঘুম পুরোটা চলে আসার কিছুক্ষণ বাকি সেই সময় মনে হল টেবিলে এক গ্লাস দুধ আছে। ওটা পান করে ঘুমাতে হবে। না হলে সকালে শাস্তি হিসেবে আরও দুই গ্লাস দুধ খেতে হবে। পান করলাম এবং শুয়ে পরলাম। কখন ঘুমিয়ে পরেছি খেয়াল নাই। হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে যায় মায়ের অসহায় কান্নার শব্দ শুনে। তিব্র একটা যন্ত্রণায় সমস্ত শরীর জ্বলে যাচ্ছে আমার। অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। নাক-মুখ সব কফে ঢাকা। বাবা  বুকে চাপ দিচ্ছে, মা শুধু কান্না করে যাচ্ছে। আমি ভাবলাম এটা তাহলে সমাপ্ত, জীবনের সমাপ্ত কিন্তু আজরাইল তুমি কই? অদ্ভুত বিষয় আজরাইলকে দেখছি না দেখছি একজন ঢোল বাদক কে। যে কিনা মনের আনন্দে ঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে। ঢোলের তিব্র শব্দ সহ্য করতে না পেরে পাহার ভাঙা কঠিন শক্তিতে একবার নিঃশ্বাস নেই।

আপনে এগুলো কি বলছেন? আমি না জিজ্ঞেস করলাম অত গুলো ওষুধ কেন খেলেন রাগ করে।

হাঁ ঐ কথাতে আসছি। মৃত্যু যন্ত্রণা আমাকে ভীষণ পাগল করে তুলে। আমি তখন থেকে একটা ওষুধ খুঁজে যাচ্ছিলাম। যেটা কিনা আগে মাথা অবশ করবে, সমস্ত ব্যথার অনুভূতি নিঃশেষ করে দিবে তারপর কিছু বুঝে উঠার আগে মৃত্যু হবে। আমি সেটা পেয়ে বসি। তখন সাবিনার সাথে আমার ভীষণ প্রেম। কিন্তু আমি তো মৃত্যু ব্যথার ভয়ে ব্যপরয়া। কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এক দিকে প্রেম অন্য দিকে ভয়। সেই সময় আপনার সাথে ওর বাবা মা বিয়ে ঠিক করে ফেলে। আমি তো কেবল অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে। কিভাবে বিয়ে করি। কিছু বুঝে উঠার আগেই ওষুধ গুলো খেয়ে ফেলি। সাবিনা ভীষণ রাগ করে আমার উপর। চলে যায় আপনার কাছে

হাঁ হাঁ হাঁ হাঁ। আপনি খুব সুন্দর গল্প বানাতে পারেন। ওষুধ গুলো খেলেন তবু মরলেন না?? হাঁহাঁ।

না ভাই আমার ক্যাকুলেশনে ভুল ছিল। ওষুধের মিক্সারে সমস্যা ছিল। তবে হাসির বিষয় আবারও আমাকে সেই ঢোল বাদকের বাদ্য শুনতে হয়েছিল। হা হাঁ হাঁ।

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত