মেসের একাকী জীবন

মেসের একাকী জীবন

……এখানে প্রতিদিন দেখা যায় ফ্লোরের ডাস্টবিনে একগাদা ভাত
ফেলে রাখা! আমি দুদিন ভাত ফেলে দিয়েছিলাম। নষ্ট হয়ে
গিয়েছিল বলে! এখানে রাতের ভাত জল দিয়ে রাখলেও সকাল
আটটা বাজতে না বাজতেই নষ্ট হয়ে যায়!
.
দুএকদিন তো এমন সিচুয়েশন আসেই যে ভাত বেচে যায় আর
বেচে যাওয়া মানেই নষ্ট! বাড়িতে থাকতে ইচ্ছে করে ভাত
প্লেটে নিয়ে খেতাম না, তরকারি দিয়ে মেখে নষ্ট করতাম! ভাত
নষ্ট করে মায়ের হাতের অন্য টেস্টি ফুড খেতাম! আর এখন
আমি একটা ভাতও প্লেটে রাখিনা! সব খেয়ে নিই!
.
আর যেদিন দেখি ভাতটা একটু বিকেল বিকেল আনা হয় ভুল ক্রমে
সন্ধ্যা আটটার এক মিনিট পার হয় খেতে ভাত ঘামা ঘামা হয়ে যায়!
.
বাড়িতে ভাত নষ্ট করে দিতে পারলে আমার খুব মজা হত! আমি
অন্য খাবার পেট পূর্ণ করে গলাধঃকরণ করতে পারতাম যদিও মা
বকবক শুরু করত, ভাত নষ্ট করতে হয়না বলে উপদেশ বাণী
ছাড়ত!
.
এখন কেউ আর উপদেশ বাণী আমাকে দেয়না! কেউ বলেও
না- ভাত নষ্ট করনা প্লিজ। কত লোকে এই ভাত খেতে পায়না!
.
বরং এখন আমি নিজেই ভাত নষ্ট হলে খুব কষ্ট পাই। ভাত যাতে
কোনোভাবেইঈ নষ্ট হতে না পারে সেজন্ন সর্বদা তটস্থ
থাকি। কারণ এবেলা যদি ভাত খারাপ হয়ে যায় আমার এখন না খেয়েই
কাটাতে হয় সেবেলা!
.
.
ডাস্টবিনে ভাত দেখতে পেলেই খুব মন খারাপ হয়। বারবার মনে
হয় ইশ এখানে ডাস্টবিনে ভাত ফেলা ওখানে কেউ না খেয়ে
থেকে রাত পার করা!!!
.
প্রতিনিয়ত ডাস্টবিনে বড় বড় স্লাইস রুটি, পচে যাওয়া কলা পড়ে
থাকে। বাবা মাকে ছেড়ে থাকা মেয়েগুলার মনেই থাকে না
খাওয়ার কথা! ফলাফল পচে যাওয়া!
.
এখানে ছাদে কাপড় মেলে দিলে দরদী মা বা মায়ের মত কেউ
দায়ী হয়ে তুলে আনেনা। ফলাফল বৃষ্টি হলে শুকনো কাপড়
পুনরায় সিক্ত হয়ে যাওয়া!
.
রোজ তোয়ালে ফেলে ভুল করে বাথরুমে গোসল
করতে যাওয়া মেয়েটা আর চিৎকার করতে পারেনা মা গামছা দাও,
গামছা দাও বলে!!
.
অনেক দায়িত্ববান এখন মেয়েগুলা! কেউ গামছা ছাড়া ভুল করেও
কখনওই বাথরুমে প্রবেশ করেনা আর!!
কেউ আর চশমা ছাড়া কিছুতেই ছয়তলা থেকে নেমে গিয়ে
রাস্তায় দাঁড়িয়ে উপরে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে না-
আমি চশমা রেখে আসছি। পাঠায় দাও!!

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত