কল্পনাংকিতা

বাসায় চরম অশান্তি। রিফিক সায়েন্স এর ছাত্র। অথচ শিল্প কলায় পড়তে চায়। বাবা-মা, ভাই-বোন থেকে শুরু করে পারা প্রতিবেশী তাকে অনেক করে বুঝান শুরু করে যে শিল্প কলায় কোন ভাত নাই। কিন্তু রফিক নাছরবান্দা সে শিল্প কলাতেই পরবে। তাকে আর কেউ আটকাতে পারে নাই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সে চারুকলা নিয়ে পড়া শুরু করল।ভার্সিটির অদূরে একটি ম্যস। একটি আলাদা রুম যেটা কিনা নিজের মত সাজানো যাবে। খাওয়া দাওয়া হয় ঝুপরিতে। এভাবে ভার্সিটি জীবন শুরু হয়।

প্রথম দিন ক্লাসের। বুকটা অপরিচিত একটা আনন্দে ভরে উঠে। প্রথম দিন ক্লাস নেন বিখ্যত আঁকিয়ে জয়নাল স্যর। ক্লাসে মাস্টারপিস নিয়ে বুঝালেন। মাস্টারপিস শিল্প সত্তার সম্পূর্ণ প্রকাশ। এর উপর কোন শিল্প নাই ব্যক্তি সত্তার।

রফিকের চোখ ঝলসে উঠল দিবা সপ্নের। সেও একটা মাস্টারপিস তৈরি করবে যেটা তার সম্পূর্ণ শিল্প সত্তার প্রকাশ ঘটাবে।
ক্লাস চলছে। খুব ভাল লাগছে রফিকের। শিল্প হচ্ছে সাধিনতা সেই পুরটাই উপভোগ করছে রফিক। । একদিন স্যর তাদের একটা ট্যুরে পাঠান। স্থান সমুদ্র সৈকত।

সেখানে সে সমুদ্রের ছবি আঁকছিল। এমন সময় একটি মেয়ে এসে তার আঁকা দেখছিল। কিছুক্ষণ পর মেয়েটা কথা বলে উঠল- আপনার আঁকা তো খুভ সুন্দর। রফিক আকাআকি তে এতো নিমগ্ন ছিল যে সে চমকে উঠল। ধের শালা বলে একটা গালি দিল। মেয়েটা গালি শুনে লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। তার চেহারা আরও সুন্দর দেখাচ্ছিল। মেয়াটা পুনরায় বলল আপনার আঁকা খুভ সুন্দর। এবার রফিক হেসে উঠল। তারপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল মেয়েটার দিকে। তারপর তারা খলামেলা আলোচনা করল। রফিক তার পরিচয় দিল। আর মেয়েটা বলল তার নাম কল্পনা সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পড়ে।

তাদের এই হঠাৎ পরিচয় প্রণয়ে রুপ নিল। যখনি দুজন সময় পায় ফয়েজ লেকে ঘুরতে পায়। লোকের আড়াল হলে চুমু খায়। প্রচণ্ড প্রেম তাদের। মেঘনার তলের মত গভির।

একদিন কল্পনার ভীষণ অসুখ হল। খুভ জ্বর । ডাক্তার অনেক চেষ্টা করল। কিছুতেই কিছু হয় না। কল্পনার মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়। অদিকে রফিক তার সবটুকু আবেগ দিয়ে একটি মাস্টারপিস তৈরি করল। সেটার নাম দিল কল্পনাংকিতা। ছবিতে কপ্লনার মুখ। ও সেটা কপ্লনার বাবা মা’র কাছে দিয়ে দিল। বাবা মা সেটা কপ্লনার ঘরে টাঙ্গিয়ে দিল। এর পর একটা অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল। মধ্য রাতে কল্পনার ঘর খুভ সুগন্ধে ভরে উঠত। কল্পনা সেই সুঘন্ধে জেগে উঠে ছবিটির কাছে যেত। ও যতবার ছবির কাছে যেত ছবির খানিক অংশ আকাশে মিলিয়ে যেত। এভাবে সাত দিন কাটে। কল্পনাংকিতা সম্পূর্ণ আকাশে মিলিয়ে গেল। জেগে উঠল কল্পনা নতুন জীবন নিয়ে।

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত