অসমাপ্ত প্রেম

অসমাপ্ত প্রেম

বর্তমান সমায়ে প্রেম হচ্ছে এমন একটা জিনিস যেটা অনেক কিশোর কিশোরীর মনে বয়ে আনছে এক অন্য রকম অনুভুতি।। প্রেম ভালোবাসা মানছে না ধনী গরিব মানছে না জাত পাত।। প্রেম ভালোবাসা থেমে থাকতেছে না।। প্রেমের মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক সুখ সাধনা কষ্ট বেদনা। প্রেমে শুধু অানন্দ বা সুখ থাকে না। থাকে কষ্ট বেদনা ও চোখের জল। প্রেম যেমন মানুষের মাঝে সব ভেদাভেদ ভুলে দেয় তেমনি সমাজে ধনী গরিবের মধ্যে যে ভেদাভেদ রয়েছে তা কিছুটা হলেও দুর হচ্ছে।। আমরা অনেক প্রেমের কাহীনি শুনেছি। ইতিহাসের পাতায় সেই প্রেম কাহীনি গুলো অমর হয়ে আছে।। শিরি ফরহাত,, লাইলি মজনু এবং আরো অনেকে যারা প্রেম ভালোবাসায় মগ্ন হয়ে নিজের জিবন হারিয়েছে।। এবং অনেকে প্রেমে ব্যার্থ হয়ে দেবদাস হয়ে চোখের জলে জিবন শেষ করছে। তবু প্রেম ভালোবাসা থেমে থাকে না প্রেম ভালোবাসা তাদের নিয়মেই চলতেছে, যতদিন পৃথিবী থাকবে ততো দিন প্রেম ভালোবাসা থাকবে। ভালোবাসা একটা অনুভুতি যেটা একবার কারো মনে ডুগলে আর বেড়াতে চায় না।। যাই হোক আসল কথায় আসি। যে গল্পটা লিখতে চাইতেছি সেটা দুজন দুরন্ত বালক বালিকার প্রেম কাহীনি। তাদের প্রেম সফল হবে কিনা জানিনা,, তাদের মাঝ পথের কিছু স্বল্প ঘটনা নিয়ে এই গল্পের শুরু।।।
.
১৪ বছরের এক দুরুন্ত বালক নাম হলো তরু। সে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ে।। সে স্কুলে এবং বাড়িতে সবসমায় বন্ধুদের সাথে হাসি ঠাট্টা সয়তানি করে বেরায়।। সে ওরকম করলেও নিয়মিত স্কুলে যেতো।। পড়াশুনায় একেবারে বেশি ভালো না এক কথায় মোটামুটি।। সে লেখা পড়া আর খেলাধুলা নিয়েই ব্যাস্ত থাকত। প্রেম ভালোবাসা সে মোটেও পছন্দ করতো না । তরুর স্কুল হলো তিন তলা ভবন। তরুর ক্লাস রুম হলো দোতলার একেবারে কর্নারের রুম। তাদের সামনের রুমটা সপ্তম শ্রেনীর।

একদিন হঠাৎ টিফিনের পড় তরু ও তার বন্ধু শিশির তাদের ক্লাস রুমের সামনে বসে গল্প করতেছে। তরু দেখতে পেলো সপ্তম শ্রেনীর একটি মেয়ে তার দিকে দেখতেছে। তরু মনে করলো হয়তো এমনি তাকাইছে। তরু ওদিকে মন না দিয়ে শিশিরের সাথে গল্প করতেছে। কিছুক্ষন পর তরু আবার দেখলো সেই মেয়েটি তার দিকে দেখছে। তরু ভাবলো মেয়েটিকে তো আমি চিনি না জানিনা কেন ও আমার দিকে তাকাচ্ছে। তখন তরু শিশিরকে নিয়ে তাদের রুমে গিয়ে বসলো। আর শিশিরকে বললো ভাই আমরা যে বসে গল্প করলাম সপ্তম শ্রেনীর একটা মেয়ে কেন জানি বার বার আমার দিকে দেখতেছে। শিশির বললো কোন মেয়ে? নাম কি তার? তরু বললো আমি কি জানি তার নাম কি। তখন তরু আর শিশির আবার ওখানে গিয়ে বসলো এবার দুজনেই দেখলো মেয়েটা তরুর দিকে দেখতেছে। তখন শিশির বললো হ্যা ভাই সত্যি মেয়েটা তোর দিকে দেখতেছে। পরে তরু সপ্তম শ্রেনীর একজন জিগ্যেস করলো মেয়েটার নাম বললো লতা।। মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর নামের সাথে বেশ মিল যেমনি টানা টানা চোখ আর লম্বা লম্বা সিলকি চুল। দেখতে যেন স্বপ্নের রাজকুমারি। তারপর স্কুল ছুটি হলে তরু বাড়ি চলে আসে এবং রাতে পড়া পরে বিছানায় শুয়ে মেয়েটির কথা ভাবতে থাকে। কেন দেখলো সে আমাকে আমাকে কি ও ভালোবাসে। নানান ধরনের কথা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পরলো।

পরের দিন যথারীতি সে স্কুলে গেলো। তরু আবার দেখলো লতা তার দিকে দেখতেছে আর হাসতেছে। সেদিন যতবার তরুর লতার সামনে দিয়ে গেছে ঠিক ততোবাড়ি লতা তরুকে দেখে হেসেছে তরু বাড়ি এসে রাতে শুয়ে আবার সেই কথা গুলো ভাবতেছে। তরুর মনে অন্য রকম একটা অনুভুতি আসলো।।। লতাকে তার খুব পছন্দ হলো লতার হাসি যেন তার মন কেরে নিলো। তরু জানে না কেন লতাকে এত ভালো লাগতেছে কারন প্রেম ভালোবাসা বোঝার মত তাদের একজনের ও বয়স হয়নি। পরের দিন স্কুলে গিয়ে দেখলো লতা আবার তার দিকে দেখতেছে আর হাসতেছে এবার তরু ও লতাকে দেখে হাসলো।
.
এভাবে ১০ দিন কেটে গেলো তরু মনেহয় এখন শুধু লতাকে নিয়ে যতো রকমের ভাবনা। তাকে তার অনেক ভালো লেগেছে অথচ যে তরু প্রেম ভালোবাসাকে পছন্দ করতো না সে আজ প্রেমে পরেছে এটা ভেবে তার কেমন লাগতে লাগলো। তরু রাতে লতাকে নিয়ে অনেক রকমের স্বপ্ন দেখে তার সাথে প্রেম করবে তাকে নিয়ে একসাথে থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তার মাথায় এটা আসেনি যে লতা হিন্দু আর সে মুসলিম। এটা তাদের সমাজ কখনোই মানবে না কারন তাদের জাত আলাদা। কিন্তু তরু সেটা তোয়াক্কা করলো না। তার একটাই কথা লতাকে আমার চাই মানে চাই। লতার প্রতি তার এই রকম ভাবনা গুলো আবেগ না ভালোবাসা সে কিছুই জানে না।

তরু রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখলো লতার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে আর তরু শুধু হা করে দেখতেছে। আর দেখবেই না কেন কারন লতাকে তো তরু এখনো বলেনি যে আমি তোকে ভালোবাসি।। হঠাৎ স্বপ্ন ভেংগে গেলো তরু ঝাপিয়ে বিছিনা থেকে ওঠে বসলো তার শরিল ঘেমে ক্লান্ত হয়ে গেছে এক গ্লাস পানি খেয়ে তরু ভাবতে লাগলো আমি লতাকে হারাতে চাই না। আমি ওকে বলব যে আমি ওকে লাভ করি ওকে ছাড়া বাঁচবো না।। এই কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো। পরের দিন তরু স্কুলে গিয়ে শিশিরকে বললো ভাই আমি লতাকে ভালো বেসে ফেলছি আমি ওকে চাই please তুই আমার জন্য কিছু কর। ওকে ভালোবাসি এটা বলার সাহস যে আমার নেই। শিশির তখন অন্য একজনকে বললো তুমি লতাকে গিয়ে বলো তো তরু তোমাকে ভালোবাসে ছেলেটা লতাকে গিয়ে বললো,কিন্তু লতা কোন কিছুই বললো না।।।। কে যানে লতা কেন দেখেছিলো তরুকে হয়তো লতা তরুকে দেখে এমনি হেসেছে।।

তখন থেকে লতা তরুকে দেখা পেলেই হাসে আর তরু দিনে কবার লতাকে দেখেছে আর লতা তরুকে দেখেছে সেগুলা রাতে করে ডাইরীতে লিখে রাখতো। তরু লতার জন্য একটা সুন্দর দামি কলম কিনেছিলো তবে দেওয়ার মত তার সাহস হয়নি। এভাবে চলতে চলতে জিনিষ টা যেন বাড়াবাড়ি হয়ে গেলো লতা মনে করলো তরু তাকে ডিষ্টার্ব করতেছে। এবং কি লতা তরুকে সেন্ডেল দিয়ে মারতে চাইলো। তরুর মাথা খারাপ হয়ে গেলো সে লতাকে গালি দিলো। আর লতা স্কুলের টিচারকে বলে দিলো যে তরু আমায় ডিষ্টার্ব করে। পরের দিন তরুকে স্যার ডেকে নিয়ে অনেক মারলো তরুর হাত লাল হয়ে ফুলে গেছে। তরুর মাথায় যেন পাহার ধসে পরলো লতাকে নিয়ে দেখা সব স্বপ্ন যেন একনিমিশেই শেষ হয়ে গেলো।। তরুর মনে লতাকে নিয়ে ঘৃনা আসতে শুরু করলো তরু আর লতার দিকে তাকায় না আর হাসেও না যেন সে লতাকে চিনে না এভাবে কেটে গেলো ১বছর তরু JSC পরিক্ষা দিয়ে পাস করলো ভালো নাম্বার ও পেলো।
.
তরু নবম শ্রেনীতে উঠলো আর লতা অষ্টম শ্রেনীতে। তরু লতাকে ভালোবাসে না। হঠাৎ তার দেখা পেলে মাথা নিচু করে থাকতো।। এভাবেই কেটে গেলো আরো একটি বছর।। তরু দশম শ্রেনীতে আর লতা JSC পাস করে নবম শ্রেনিতে। তরুর মনে লতাকে নিয়ে কেন জানি অাবার সেই ভালোবাসার অনুভুতি আসতে লাগলো। আর লতাও কেন জানি তরুর দিকে দেখতো। সামনে ssc পরিক্ষার্থীদের বিদায় ও ষষ্ঠ শ্রেনীর নবিনদের বরনের জন্য স্কুলে অনুষ্টানের আয়োজন করলো। অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকে তরু লতার দিকে দেখতেছে। লতা ও তার বান্ধুবিরা একটা ক্লাসে বসে আছে তরু সাহস করে লতার কাছে গিয়ে সবাইকে পার্টি স্ফেরে সবার তায়ে দিলো এবং লতার মুখে গায়ে দিয়ে লতার রাত উঠিয়ে দিয়ে ওখান থেকে চলে আসলো।

তারপর লতার ফটো তোলার জন্য তরু পাগলের মত এখান থেকে ওখানে গেলো কিন্তু ফটো তুলতেই লতা সরে যেতো কারন সে টের পেয়েছিলো। তারপর তরু লতাকে গিয়ে বললো একটা ছবি তুলি বললো না বলে ঘুরে দারালো পিছনের ছবিটা উঠলো।।। কিছুদিন পর স্কুলের পিকনিক নিয়ে সবাই ব্যাস্ত হয়ে গেলো সবাই যাবে তরুও টাকা দিছে কিন্তু লতা এখনো দেয়নি। তরুর মাথা খারাপ হয়ে গেলো লতা যদি না যায় সে ও যাবে না। তরু লতার বাড়ির রাস্তায় দারিয়ে থাকতো তাকে টাকা দেওয়ার জন্য যেন সে পিকনিক যায়। কিন্তু সাহস পেলো না। পরে তরু দেখলো লতা টাকা দিছে তরুর মনে অনেক অনন্দ হতে লাগলো। পিকনিকের দিন সবাই এসে আগে মাঠে দারিয়ে আছে তরু নিল শার্ট নিল প্যান্ট আর নিল জোতা পরে দারিয়ে দেখলো তার স্বপ্নের পরী লতা আসতেছে। তাকে অনেক সুন্দর লাগতেছে। সবাই বাসে উঠলো তরু ভুল লতাদের বাসে ওঠে but লতাকে দেখে আবার নেমে আসে।। পিকনিক গিয়েছিলো স্বপ্নপুরী ওখানে গিয়ে তরু আর লতাকে দেখতে পায়নি । তখন তরু, শিশির,ভুমি,ও কনা একসাথে ঘুড়তে লাগলো। আর তরু শুধু চারদিকে লতাকে খুজতেছে। তখন কনা তরুকে বললো কি খুজতেছিস। তখন শিশির কনাকে বললো তোর খালাকে মানে লতাকে খুজতেছে। আসলে লতা কনার মায়ের চাচাতো বোন। কনা বললো কেন আমার খালাকে খুজতেছিস শিশির বললো তরু তোর খালাকে ভালো বাসে। তরু কনাকে বললো তোর খালার দেখা পেলে আমার সাশে ঘুড়তে বলিস তো। খুজতে খুজতে তরু লতার দেখা পেলো কনাকে বললো ওই যে তোর খালা ওকে ডাক তো একটু। কনা লতাকে ডাকলো । লতাকে দেখে তরুর মন খুশিতে ভরে গেলো। লতাকে তরু বললো ম্যাডাম একটা সেলফি তুলি তরু সরে দারালো। তারপর তরু সবার জন্য আইস্ক্রিম নিলো ২৫০টাকা দিয়ে। লতা আইস্ক্রিম খেলো। তারপর লতা তরুদের সাথে আসতে চাইছিলো কিন্তু তার বান্ধুবি শ্যামলি আসতে দেয় নাই।। ওখান থেকে লতা চলে গেলো তার পর আর তাদের দেখা হয়নি। কনা বললো খালার জন্য কিছু নিয়ে দে তরু মালা আর ব্রাসলাইট ৬০০টাকা দিয়ে কিনে কনাকে দিলো লতাকে দেওয়ার জন্য। একেবারে খাওয়ার সমায় দেখলো লতা খাইতেছে আর তরুকে স্যার ডালের ভারা দিয়ে বললো সবাইকে ডাল দে। তরু শুধু লতা যেখানে খেতে বসেছে ওখানেই ঘুড়তেছে লতাকে কথার বলার জন্য। তরু শ্যামলিকে ডাল দিলো তারপর লতাকে ইচ্ছে করেই অনেক গুলা ডাল দিলো। লতা শ্যামলিকে বললো আমি কি ডাল চাইছি তরুর কাছ থেকে ও ইচ্ছে করেই দিলো। তরু ওখানেই ঘুড়াঘুড়ি করলো লতার খাওয়া হয়ে গেলো সবাই প্লেট নিয়ে যাচ্ছে তরু লতাকে বললো প্লেট নিয়ে যা। লতা তরুকে বললো তুমি নিয়ে যাও। তরু বললো তোমার পার্স আর জিনিসগুলা আমায় দাও। লতা তখন তরুকে দিলো। প্লেট রেখে এসে ওগুলা নিয়ে তরুকে thanks দিলো তরু বললো ভাল।। তারপর তরু খাবে বাট তার মোবাইল সেলফি স্টিক ব্লুটুত হেডফোন কাকে দিবে তরু সাহস করে লতাকে গিয়ে দিলো আর বললো এগুলা রাখ খাওয়ার পর দিস।। তারপর তরু লতার দেখা পায়নি একেবারে গাড়িতে আছে আর তরু তার গাড়িতে লতা তরুকে ওগুলা দেওয়ার জন্য ডাকলো বাট তরু শুনতে পায় না।। তখন তাদের বাংলা টিচার তরুকে বলে তোকে ডাকতেছে তরু লতাকে বলে স্কুলে গিয়ে দেইস। লতার গাড়ি আগে যায় তরু ভাবে লতা হয়তো বাড়ি চলে গেছে বাট লতা যায় নি ও দারিয়ে আছে। তরু গাড়ি থেকে নামতেই লতা বললো মোর বাপ বুঝি রাগ করবে না বলে সব দিয়ে দিলো বাট কি যেন দেয়নি তরু লতার হাত টেনে ধরে । লতার তরুর দিকে দেখছে আর লতা তার দিকে। এভাবে কিছুক্ষন থাকার পর ওটা দিয়ে লতা বাড়ি চলে যায়। তারপর স্কুলে তরু লতাকে কথা বলার জন্য সামনে যায় বাট সাহস পায় না। এভাবে মাসটা চলে গেলো।

তারপরের মাসের নাম হলো মার্চ মাস। ২৬মার্চ হলো মহান স্বাধীনতা দিবস। এই উপলক্ষে ক্রিয়া প্রোতিযোগিতার আয়োজন করেছে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। পাশের প্রাইমারি স্বুলে হবে। সেজন্য সবাই প্রস্তুত হওয়ার জন্য খেলতেছে । তরু তার ক্লাস থেকে বের হয়ে লতাকে দেখলো আর লতাও তাকে দেখলো। তরু বাড়ান্ডা থেকে ঝাপ দেওয়ার সমায় তার পায়ে লাগে। ২৬ তারিখ সবাই গেছে। তরু গিয়ে লতাকে দেখতে পেলো। তরু বাড়ি থেকে ঠিক করে এসেছে আজ লতাকে প্রপোজ করবে। সে লতাকে প্রপোজ করার জন্য ঘুড়তেছে বাট সুজোগ পাইনি। পরে দেখলো লতা বাড়ি যাচ্ছে তরু সাইকেল নিয়ে তার পিছু পিছু গিয়ে লতাকে বললো কেমন আছো। বললো ভালো।। তরু লতাকে বললো তোকে একটা কথা বলতে চাই অনেকদিন থেকে। লতা বললো বলো। তরু বললো আমি তোকে ভালোবাসি।। লতা বললো কাল ৯টায় স্কুল আসবি। এইে বলে সে চলে যায়। তরু খুশিতে নাচতে শুরু করে। নাচার কারন হলো অনেকদিনের আশা পুরুন হতে চললো।। কিন্তু পরের দিন স্কুল বন্ধ ছিলো। তরু যায়নি কিন্তু লতা এসেছে শিশির লতাকে দেখতে পেয়ে তরুকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। লতা তরুকে বলে এটা সম্ভব না। তরু বলে চেষ্টা করলে সব সম্ভব। এই বলে সে চলে যায়। তারপর থেকে চিঠি দেওয়া শুরু হয়। তরু পাথরে I Love You লিখে দিতে চাইলো কিন্তু লতা নিলো না তরু লতার সামনে ফেলে দিলো পাথর টা পরে লতার বান্ধুবি লতাকে দেয়। লতা পরে কাগজে লিখে দেয় No ভাই। তখন রায়হান কাগজে লিখে দেয় please ভাই বলো না। তারপর থেকে শুরু হয় রায়হানের হাতে চিঠি দেওয়া আর লতাও দিতো। তরু একদিন চিঠিতে তার নাম্বার লিখে দেয়। লতা বাড়িতে গিয়ে তরুকে মিসকল দেয়। তরু বুঝতে পায় লতা ফোন দিছে। সে বাজারে গিয়ে ফোনে টাকা রিচার্জ দিয়ে লতার সাথে কথা বলে। এরপর থেকে প্রতিদিন দুজন কথা বলে। তারপর লতা একদিন ফোন দিয়ে বললো সিম লগাবে তরু সিম দিলো। তারপর একদিন তরু কোচিং করছে লতার বোন ফোন দিয়ে বললো একটা ফোন লাগবে তখন ভাংগা ফোনটাই দিলো আর লতাকে কি যেন বললো তরু কিন্তু লতা শুনতে পায়নি । লতা খালার বাড়ি থেকে তরুর সাথে কথা বলে। খালার বাড়ি থেকে এসে তরুকে বলে ফোনটা নিয়ে যা তরু বলে তোর কাছে রাখ। কিছুক্ষন পর লতা বলে আপু বলতেছে একটা ভালো ফোন হলে ভালো হতো।। তরু বলে আচ্ছা নতুন দিব। তরু ও শিশির সৈয়দপুর থেকে ফোন কিনে আনে পরের দিন লতাকে দিতে যায়। লতার হাতে ফোন দিলো তখন লতা চলে যাচ্ছে। তরু টেনে ধরে জরিয়ে ধরে। লতা ভয় পেয়েছিলো। কিছুক্ষন থাকার পর লতা তরুকে বললো ছেড়ে দে। তখন তরু ছেড়ে দেয়।তখন লতা চলে যায়। তারপর থেকে প্রতিদিন তাদের কথা হয়।।
.
একদিন তরু লতাকে ফোন দিয়ে বললো তোকে খুব দেখতে মন চাছে লতা বলে দেখবি তা আয়। তখন তরু লতার বাড়ির পিছনে গিয়ে লতার সাথে দেখা করে আর জরিয়ে ধরে। কে যেন বের হয়েছিলো পিছনে তখন তরু পালিয়ে আসে। তারপর একদিন লতা ফোন দিয়ে বলছে ফোন হারিয়ে গেছে । আর কথা হবে না তখন তরু অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। কারন তাদের যোগাযোগ হয়নি একদিন তরু তার বোনের ফোন দিয়ে লতার বাবার ফোনে ফোন দেয় লতা রিসিভ করে। তরু বলে কাল রাস্তায় যাব ফোন দিতে। পরের দিন ফোন দিতে গেলে লতা বলে নিব না। তখন তরু তার বইয়ে ফোন দিয়ে চলে আসে। তারপর থেকে প্রতিদিন তাদের কথা হয়। তারা আরো কয়েকবার দেখা করে। তরু প্রতিদিন সন্ধায় লতাকে দেখতে চায় কারন লতা উলু উলু দেয়। তারপর লতার সাথে আবার তরু দেখা করতে যায় আর তরু লতাকে জরিয়ে ধরে ।। কথা হয় হাসাহাসি হয়। একদিন লতার আপু ফোন দিয়ে বললো একটা ফোন লাগবে । তখন তরু একটা ফোন নিয়ে পিছনে যায় লতা বের হয় লতাকে জরিয়ে ধরে ।। তারপর চলে আসে।। লতা ওই ফোনটাও হারিয়ে ফেলে তখন তরু আরো একটা ফোন দেয়। তরু পুজাতে দেখা করতে চায় বাট দেখা করা হয় না।। তারপর লতার বাবাকে তরুর বন্ধু ফোন দিয়ে বলে দেয় আপনার মেয়ে মুসলিমের সাথে প্রেম করে । লতার বাবা লতাকে বলে তুই কি তরু কে চিনিস। লতা চমকে গিয়ে বলে না। আবার বলে তুই নাকি তরুকে ভালোবাসিস।। তারসাথে প্রতিদিন কথা বলিস। লতা বলে না বাবা আমি কাউকে ভালোবাসি না।লতার বাবা বলে তাহলে একটা ছেলে যে ফোন দিয়ে বললো মুসলিমকে লাভ করিস।। লতা চুপ করে থাকলো। লতার জিবনে ঝড় নেমে আসলো। লতা যে তরুকে তার নিজের জিবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসে। সে জানতো তরু মুসলিম তবুও সে তাকে খুব ভালোবেসে ফেলছে। লতা তরুকে ফোন দিয়ে বললো বাবা সবকিছু জেনে গেছে আর হয়তো কথা হবে না। তরু বলে না সোনা একথা বলিও না। তোর বাবা কি বলে বলুক স্বিকার করবে না।। লতা বলে মরে যাব তবু না। তরু বলে তোকে না পেলে মরে যাব লতা বলে তোকে ছাড়া বাঁচব না। লতা বলে বাই সুজোগ পেলে রাতে খবর দিবো বাড়িতে কি হচ্ছে। এই বলে ফোন বন্ধ করে রাখলো।। তরুর জিবনে যেন এক বড় এসে তার জিবনটা তছ নছ করে দিলো। তরুর চোখ দিয়ে জল পরতেছে আর সে বিছানায় মাথা রেখে কাঁদতেছে। তার পরের দিন সকালে লতার বাড়িতে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়েছে
লতার মা শোনা মাত্রই লতার সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করে। সবসমায় গালি গালাজ করতে থাকে লতার স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। লতা তার বাড়িতে অপরাধী হয়ে যায়। সবাই তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে থাকে। তবে শত কষ্টের মধ্যে ও লতা তরুর সাথে কথা বলা চালিয়ে যায়।
.
প্রত্যেকটাদিন লতাকে সকাল থেকে রাত পর্যুন্ত তাকে বকা খেতে হয়।লতার বাবা গুনিকের কাছে গিয়ে জল পরা, তাবিজ এবং আরো অনেক কিছু যেগুলা সমাজের কুসংস্কার ওগুলা গুনিকের কাছ থেকে এনে লতাকে জোর করে খাইয়ে দেয়। খাওয়া মাত্রই লতার মাথা কেমন করতে ধরে। সে তরুকে ফোন দিয়ে বলে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জলপরা খাওয়ালো হয়তো মরেই যাব। তরুর বলতেছে কোন শক্তি তোকে আর আমাকে আলাদা করতে পারবে না খোদা আছে। এতকিছু কুসংস্কার কার্য সম্পন্ন করেও লতার মন থেকে তরুকে ভোলাতে পারে না। লতার বাবা তরুকে বাজারে দেখে চোখ মুখ কেমন কেমন করে দেখে তরু ভয় পেয়ে বাড়ি চলে আসে। যখন সবকিছু করেও লতার মন থেকে তরুকে ভোলাতে পারলো না। তখন তার বাবা সিদ্ধান্ত নিলো লতা তার নানার বাড়িতে রেখে আসবে। এই ভেবে যে তাদের যোগাযোগ আর দেখা না হলে তার মন থেকে ভোলা সম্ভব হবে। তরুর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০কিলোমিটার দুরে লতার নানার বাড়ি।। লতা তরুকে ফোন দিয়ে বলে আমায় রেখে আসবে। লতা বলে তুমি যাবে তোকে না দেখে আমি বাঁচতে পারব না। কিন্তু লতা অসহায় হয়ে তরুকে বলে আমায় কাল রেখে আসবে এই বলে ফোন কেটে দেয়। তরুর তখন ssc পরিক্ষার জন্য মডেল টেষ্ট পরিক্ষা চলছিলো পরিক্ষা দিতে স্কুলে গেছে হঠাৎ লতার ফোন আসলো আমাকে বাবা রেখে আসতেছে তরু দৌরে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসে। দেখতে পায় লতা তার বাবার সাথে স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাইতেছে। তরুর মনটা ভেংগে গেলো । সে কি করবে কিছু ভেবে পাইতেছে না। বিকাল বেলা লতা ফোন দিয়ে বলে আমি এখনি আসলাম নানার বাড়িতে। তরু বলে খাওয়া করে ফোন দিও। তাদের মাঝে ১০ দিন ভালো কথা চলছিলো। ১১ দিন পর লতার বাবা তার নানার বাড়িতে তাকে দেখতে যায়। লতা তার বাবার সাথে আসার জন্য কাঁদে কিন্তু তার বাবা নিয়ে আসে না। লতা তরুকে ফোন দিয়ে সবকিছুই বলে। পরে তরু লতাকে বলে আর কিছুদিন থাকো আমি স্কুল থেকে বের হয়ে গেলে তোর বাবা নিয়ে আসবে। তারপরে ১৫দিন পর লতার মা যায় কিন্তু তাও লতার বাড়ি আসা হয় না। এভাবে ১মাস কেটে গেলো তরুর পরিক্ষার আর ১মাস বাকি আছে। সে লতার বাড়ির পাশেই প্রাইভেট পরে। আর লতার বাড়ির সামনে দিয়েই প্রাইভেট যায়। পরে আরো ১০ দিন পর লতার বাবা তাকে বাড়ি আনতে যায়। লতা সাথে সাথে তরুকে ফোন দিয়ে বলে সোনা আমি আসতেছি। তরু খুশি হয়ে বলে আমি তোর অপেক্ষায় আছি। বিকাল বেলা তরু লতার বাড়ির পাশে প্রাইভেট পরতেছে লতা বাড়িতে এসে টিউবলের পাড় থেকে তরুকে দেখতে পায় সে প্রাইভেট পরতেছে। তার মনটা ভরে যায় আর ভরবেই না কেন কারন সে তার মনের মানুষটাকে সেই কত দিন পর দেখতেছে।।
তরু বাড়ি আসলো লতা তাকে ফোন দিয়ে বললো আজ তোমায় দেখেছি কিন্তু তরু লতাকে দেখা পায় নাই।।পরের দিন তরু লতাকে দেখতে পায়। এবং এভাবে ১০দিন চলার পর লতার বাবা টের পায় যে তরু তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যায় লতাকে দেখার জন্য।।

পরের দিন তরুকে লতার বাবা আটকিয়ে বলে এদিক দিয়ে আর আসবি না।। তরু কিন্তু তাকে একেবারে ভালো করে দেখেনি দুর থেকে দেখেছে।। তবে তাদের প্রতিদিন কথা হয়। তরুর পরিক্ষা শুরু হয়েছে লতাকে স্কুল আসতে দেয় না।। কিছুদিন পর valentine day তরু লতাকে ফুল দেওয়ার প্লান করে। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি valentine day লতা তরুর জন্য উপহার নিয়েছে তরুও ফুল নিয়েছে। দিনের বেলা দেওয়ার সুজোগ পাইনি। কিন্তু রাতে ফুল আর উপহার নিয়ে তরু লতার ঘরের জানালার কাছে যায়। লতা জানালা খোলার আগে তরুকে একজন দেখে ফেলে তরু জানালায় ফুলটা রেখে কোন মত দৌরে পালে আসে।।। পরে লতা ফুলটা নেয়। তরুর ভাগ্যে লতাকে দেখার মত সুজোগ হয়নি। কিছুদিন পর লতা তার বোনের হাতে উপহারটা তরুকে দেয়।। তার পর থেকে তাদের মাঝে কথা বলা চলতেছে।
তরুর ssc পরিক্ষা তো শেষ হলো এখন লতাকে স্কুল আসতে দিবে লতার বাবা বলেছে। লতা নানার বাড়ি যাওয়া থেকে আর স্কুল যেতে পারে নাই।। পরিক্ষা ও দিতে পারে নাই। আর ১০ দিন পর স্কুল আসতেছে তরুকে আগেই ফোন দিয়ে বলছে আজ যাবো। তরু সাইকেলে করে তাদের রাস্তায় যায় । এবং লতার দেখা পায়। তাকে মন ভরে দেখে কথা বলে চলে আসে।

তরুর রেজাল্ট বের হলো ভালো নাম্বার পেয়েছে। লতা দশম শ্রেনীতে উঠেছে। তাদের ভালোবাসা দিন দিন গভির হচ্ছে। তরু কলেজে ভর্তি হয়েছে। তারা ঠিক করেছে তারা সারাজিবন এক সাথে থাকবে। বিয়ে করে সুখের সংসার করবে। তাদের মাজে প্রতিদিন ঝগড়া ঝাটি হয়ে থাকে। তবে কেউ কাউকে কখনো ছেড়ে যেতে চায় না ঝগড়ার মাঝে তারা প্রেম করে।। একজন একজনকে ছাড়া কিছু বোঝে না।। তাদের ভাগ্যে এখন কি আছে সেটা এক মাত্র খোদা যানে।। ।।

খোদা কি তাদের দুজনকে এক করবে।। তাদের ধর্ম যে আলাদা সমাজ কি মানবে তাদের।। সমাজের বাইরে থেকে কেউ বাস করতে পারে না।।। তাদের টা কি ভালবাসা না আবেগ সেটা জানা বড় মুশকিল।। তাদের ভালোবাসার তরি অথই সমুদ্রে ভালোই চলতেছে। তরু তার প্রানের প্রান লতার সাথে কথা না বলে থাকতেই পারে না। তেমনি লতাও তরুর সাথে কথা না বললে বাড়িতে সবার ওপর রাগ ঝাড়ে। একটা কথা আমরা জানি একজনের ওপর রাগ হয়ে থাকলে অন্য জন যদি ভালো কথা বলে তবুও কথাটা খারাপ লাগে। যা হোক তরু লতার সাথে কথা বলবে দেখি সবসমায় ফোন হাতে নিয়ে বেরায়। কারন লতা যদি তরুকে sms দিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে রিপেলে না পায় তার মাথা খারাপ হয়ে যায়। এবং পরে তরু sms দিলে ঝগড়া লাগে দেয়। আসলে লতা একটু হালালি দুলালি মানুষ। আর হবেই না কেন বড়লোকের এক মাত্র আদরের মেয়ে। আর এদিকে তরু তো মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।।। সমায় যতো যাচ্ছে তাদের ভালোবাসা যেন সুপার গুলোর মতো জোরা লাগতেছে। তরু সকাল বেলা ঘুমের মধ্যেই আছে আর এ দিকে লতা sms দিলো, কি কর সোনা? তরু তো ঘুমাইছে টের পাইনি। লতার আবার একটা ফাকা sms দিলো তবুও তরুর ঘুম ভাংলো না। লতা তো রেগে গিয়ে ঝাল মরিচের মত হয়ে আছে। কিছুক্ষন পর তরুর ঘুম ভাংলো। দেখলো দুইটা sms তরু ভাবতেছে ওরে বাবা লতা যে কি করবে আমায় খোদাই জানে। তখন একটা sms দিলো সোনা কি কর? লতা sms টা পরে চুপ করে রইলো। তরু তো টের পেয়েছে তার সোনা পাখি তার ওপর রেগে আছে। সে আর একটা sms দিলো। আমার মিষ্টি বউটা কি করতেছে? লতা sms পরে আবার চুপ করে রইলো। তরু তখন লতাকে bye দিলো। তরু জানে bye দেওয়ার কিছুক্ষনপর লতার sms আসবে। ভাবতে না ভাবতেই লতার sms আসলো। লেখা ছিলো কতো জনের সাথে মেচেছ করলি যে আমায় সমায় দেওয়ার মত সমায় তোর নেই। তরু দিলো সোনা সত্যি ঘুমাইছিলাম। রাগ করিস না আর ওরকম হবে না। লতা বললো আমি সব বুঝি কলেজে গিয়ে বদলে গেছিস। সেখানে কত সুন্দর সুন্দর মেয়ে। ওদের সাথে কথা বলতে বলতে সমায় শেষ, আমায় আবার কখন সমায় দিবি। ফেসবুকে যা ওরা তোকে ডাকতেছে। তরুর মনটা খারাপ হয়ে গেলো যাকে সে এত লাভ করে সে কিনা ওরকম করে বললো। তরু মেচেছ দিলো সোনা সত্যি আমি তোর সাথে ছাড়া কারো সাথে কথা বলি না। তুই যে আমার সব আমার জিবন মরন।। লতা বললো আমি তোর ফোন ঘুরে দিব। ওটা রেখে কি করব। যেজন্য রাখব সেটা তো হয় না। আমায় তো কথা বলার তোর সমায় হয় না। লতা মনে মনে অনেক অভিমান করেছে। তরু বললো না সোনা আর এরকম হবে না তো বলছি। লতা বললো না আমি কাল ফোন দিয়ে দিব। তরু রাগ হয়ে বললো আচ্ছা দিও। লতা রেগে গিয়ে বললো দিবোই তো সকাল ৯টায়। তরু বললো ঠিক আছে কাল আমি যাব bye লতা ফোন বন্ধ করে রাখলো। তরুর খুব কষ্ট হইছিলো ভাবছিলো লতাকে রাগ দেখিয়ে কথা বলাটা ঠিক হয়নি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে। পরের দিন সকালে লতা মেচেছ দিয়ে বললো আসিও ফোনটা দিব আলা। তখন তরু বললো ঠিক আছে যাব।তরু দোকান থেকে একটা ব্লেড কিনে আনলো কারন সে তার প্রানের প্রান লতার সামনে হাত কেটে প্রমান দিবে যে সে তাকে ছাড়া কাউকে লাভ না । তরু সাইকেলে করে স্কুলে গেলো লতা তো আগেই এসেছে। তরু মেচেছ দিলো তুই কই স্কুলের পিছনে আয় আমি এসেছি লতা এসে বললো তুই সত্যি এসেছিস। লতা মনে করেছিলো তরু আসবে না। তখন তরু বললো সত্যি ফোন ঘুরে দিয়ে সম্পর্ক শেষ করবি। লতা বললো জানিনা। তখন তরু বললো তোকে সমায় দেওয়ার জন্য সবসমায় ফোন হাতে নিয়ে থাকি সোনা। তখন লতা বললো আর ওরকম করবি না কথা দে। কথা দিলাম মরার আগে পর্যুন্ত ওরকম করব না। লতা বললো মরার কথা মুখে আনবি না। তখন তরু ববললো তোকে আজ প্রমান দিব তোকে কতটা ভালোবাসি। পকেট থেকে ব্লেড বের করে বললো হাত কাটব তখন লতা বললো না পাগলামি করিস না। তরু বললো কাটব।বলার সাথে সাথে হাত কাটে লতা তরুর হাত ধরে ফেলে।বেশি কাটা যায়নি ১ইন্চির মত গেছে।তখন লতা ব্লেড কেরে নেওয়ার সমায় লতা আংগুল কাটা গিয়ে রক্ত বেরাতে শুরু করে। লতা তা দেখে লতার হাত ধরে আংগুল মুখে নিয়ে রক্ত চুসে খেতে শুরু করে। লতা তরুর দিকে দেখছে আর হাসছে। অনেক্ষন চুসলো যখন রক্ত বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায় তখন আংগুল বের করে দেয়। লতা বলে তোকে ছাঁড়া আমি বাঁচব না। তরু বললো ঝগড়া করার সমায় করিস এবার করলে সত্যি মরে যাব।। তখন লতা দৌরে গিয়ে তরুকে জরিয়ে ধরে বলে জান তুমি আমার সব।। আর ঝগড়া করব না লক্ষি সোনা ছেলে এবার বাড়ি যাও।। তরু বললো আমার বউটাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছেই করতেছে না। মন চাচ্ছে সারাদিন জরিয়ে ধরে থাকি। লতা বললো যাও তো কেউ দেখবে আর দেখলে বাবাকে বলে দিলে সমস্যা হবে। তরু বললো হলে হবে তাতে কি। লতা বললো যাও ক্লাশ বসবে। তখন তরু চলে আসে। তরুর মন এত ভালো হয় যায় যা বলার ভাষা নেই। তরু নাচতে নাচতে বাড়ি যায়। বাড়ি গিয়ে হাতটা ডিটল দিয়ে কাটা যাওয়া স্থান পরিস্কারকরে। তার পর রাতে শুয়ে লতার কথা ভাবতে শুরু করে। নিজে নিজে বলে ছবিতে যেরকম হয় আজ সেটা আমার জিবনে ঘটে গেলো। আমি লতার রক্ত খেয়েছি ওকেই ভালোবাসব। ওকেই বিয়ে করব কি হবে হবে।। জিবন চলে গেলেও ওকে বিয়ে করব। এগুলা ভাবতে ভাতে সে ঘুমিয়ে পরে।।

পরের দিন তরু ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে লতার ফোনে মেচেছ দেয়। কিন্তু তখন তার ফোন বন্ধ কারন সে এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি। তরু লতার মেচেছের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আর লতাকে নিয়ে ভাবতে থাকে, তাকে বিয়ে করবে দুজনের একটা ছোট সংসার হবে।।। তরু ও লতা আগেই ঠিক করে রাখে তাদের বিয়ে হলে যদি বাচ্চা হয় মেয়ে হলে তার নাম রাখবে রিমঝিম। তাই তরু মাঝে মাঝে লতাকে রিমঝিমের মা বলেও ডাকে। এগুলা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ লতার মেচেছ আসলো। আজ দেখি আমার রিমঝিমের বাবাটা আমার আগেই ঘুম থেকে উঠেছে। তরু মেচেছ দিলো হ্যা উঠেছি কারন তোর কথা খুব মনে পরতেছে। তোকে অনেক সমায় দিতে চাই সোনা। আমি বুঝি রিপেলে না পেলে বা মেচেছ না করলে মাথা কেমন করে।। লতা বললো এতদিনে আমার বরটা আমার কষ্টো টা বুঝেছে। তরু বলে বারে আমি তোর কষ্টো বুঝবো না তো কে বুঝবে শুনি। তখন লতা বললো কে আবার আমার রিমঝিমের বাবা।।। তরু বলে আমাদের এখনো বিয়েই হয়নি আর রিমঝিমের বাবা বণে ডাকতেছো।। লতা বলে খোদা চাইলে আমাদের বিয়ে হবে সোনা। আর আমাদের বেবির নাম রিমঝিম রাখব। তারা দুজনে আররো অনেক কথা বলে। তারপর তরু কলেজ যায় আর লতা স্কুল যায়।। কলেজ থেকে এসে আবার লতার সাথে তরুর কথা হয়।। এরকম ভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো। একদিন বিকালে লতা বললো সোনা তোর মাকে বলিস তো আমি হিন্দুয়ানি মেয়েটাকে বিয়ে করব কি বলে তোর মা। তরু বলে আচ্ছা সোনা বলতেছি।। তরু রাতে পড়া পরে তার মায়ের সাথে টিভি দেখতেছে আর মায়ের সাথে কথা বলতেছে তরু কথায় কথায় তার মাকে বলে মা আমি হিন্দুয়ানি মেয়েটাকে বিয়ে করব। তরুর মা বলে ও যে আমার কাকার বেটি হয় আর ও তো হিন্দু।ওকে খালা বলে ডাকবি। তখন তরু বলে ও অনেক সুন্দর। বিয়ে করলে ওকেই করব আর কাউকে না। তরুর মা শুধু হাসলো কিছু বললো না। পরের দিন তরু লতাকে বললো সোনা মাকে বলছি। মা বললো ও তোর খালা হয় খালা বলে ডাকবি। লতা বললো ঠিক তো আমি তোর খালা হই ভাগিনা আমায় খালা বলে ডাকবি।।। তরুর রাগ হয়ে বলে তুই আমার বউ তোকে বউ বলে ডাকব।।। লতা বলে ঠিক আছে আমার স্বামি। তারপর লতা বলে সোনা সামনের ১ আমার মডেল্ট টেষ্ট পরিক্ষা। মানে লতা তো দশম শ্রেনীতে পরের মেট্টিক পরিক্ষার আগে টেষ্ট পরিক্ষা। আবার বলে রাতে মেচেছ করা হবে না মায়ের সাথে থাকতে হবে তো। তরু বলে ঠিকআছে আমারো ১তারিকে কলেজের ১ম পর্ব পরিক্ষা। পড়া পরো সোনা।। আরো কিছু কথা বলে দুজনে পরতে বসে। লতার পরিক্ষা শুরু হলো দুইটা পরিক্ষা হলো লতা তরুকে মেচেছ দিয়ে বললো সোনা তুমি স্কুল আসিও তো তোমায় খুব দেখতে মন চাছে। তরু বলে আজকেই যাব আলা। এই বলে তরু সাইকেল নিয়ে লতাকে দেখতে যায়। লতা তরুর জন্য বাইরে দারিয়ে থাকে। তরু লতার কাছে গিয়ে দেখে চলে আসে।। তারপরের দিন তরুর পরিক্ষা শুরু হয়। পরিক্ষা দিয়ে লতার সাথে সারা বিকাল টা মেচেছ করে। এভাবে দুজনেরি পরিক্ষা শেষ হলো লতা মডেল টেষ্ট পরিক্ষায় ভালো নাম্বার পেলো তরুও পায়।। পরিক্ষা তো শেষ তরু আবার লতার সাথে মন ভরে কথা বলতে শুরু করে। রাতে মেচেছ না করলে দুজনের ঘুমে আসে না।। তাদের মাঝে প্রতিদিন কম বেশি ঝগড়া হয়।। ঝগড়ার মাঝে যেন তারা প্রেম করে।। তরু লতাকে যেমন ভালো বাসে তেমনি লতাও তরুকে ততোটা ভালবাসে। তরু একদিন রাতে ভাবতেছে লতার সাথে কি আমার বিয়ে হবে। সমাজ কি আমাদের মানবে। কি জানি ভাগ্যে কি আছে। তাদের মাঝে যোগাযোগ প্রতিদিন হয়।। লতার আর কিছুদিন পর ” এস এস সি ” পরিক্ষা । তাই তরু লতাকে সবসমায় পড়া পরতে বলে। লতা মন দিয়ে পড়াশুনা করে।। এভাবে চলতে চলতে পরিক্ষার সমায় এসেই গেলো। আর ১দিন পর পরিক্ষা। লতা তরুকে মেচেছ দিয়ে বলে সোনা কাল তুমি পরিক্ষার হলে যাবা।তোমায় খুব দেখতে মন চাছে। তোমায় অনেক মিস করতেছি। তরু বলে সোনা আমি অবশ্যই কাল যাব। আমার বউ পরিক্ষা দিবে আর আমি যাব না এটা হতেই পারে না। পড়া পড়ো তো কাল তো পরিক্ষা অাছে। তখন লতা বলে বাই সোনা কাল দেখা হবে। রাতে তরু তারাতারি ঘুমায় কারন সে তো কাল লতার সাথে যাবে। আর প্রথম দিন তো তারাতারি যেতেই হবে। পরের দিন সকালে তরু ঘুম থেকে ওঠে লতাকে মেচেছ দিয়ে বলে আমি রেডি হইতেছি। তখন লতা বলে আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।। তরু পরিক্ষার ওখানে গেলো। কিন্তু লতার বাবা লতার সাথে গেছে। তার বাবা তরুকে দেখতে পেয়ে লতাকে পরিক্ষার হলে রেখে এসে বাইরে দারিয়ে থাকলো তরু আর লতাকে দেখতে পেলো না। এদিকে লতার মন খারাপ হয়েছে তার প্রিয় মানুষটির দেখা পেলো না। তখন তরু বাড়ি চলে আসে। পরিক্ষা শেষ হলে লতার বাবা লতাকে নিয়ে বাড়ি আসে। তারপর লতাকে বলে তরু কেন গেছে ওখানে। লতা বলে জানিনা বাবা। বলে তোদের যোগাযোগ হয়তো এখনো হয়। এবং আরো অনেক বকা দেয়। বিকালে তরু লতাকে মেচেছ দিয়ে বলে সোনা পরিক্ষা কেমন হলো লতা বলে ভালো হইছে। জান বাবা বলতেছে তোর আর আমার এখনো যোগাযোগ হয়। তখন তরু বলে বাদ দাও তো পড়া পড়ো তোমায় ভালো রেজাল্ট করতে হবে তো। লতা বলে হ্যা সোনা বাই। পরের দিন লতা পরিক্ষা দিতে যাবে তারা ছয়জন মিলে একটা অটোতে যায়। তরু লতাকে দেখার জন্য বাজারে গিয়ে দারিয়ে রইলো কিছুক্ষন পর লতার অটো আসলো তরু লতাকে মন ভরে দেখলো লতাও তাকে দেখলো তারপর তরু বাড়ি চলে আসলো। বিকালে তাদের কথা হয়। এভাবে চলতে চলতে পরিক্ষা শেষ হলো।এবং পরিক্ষার রেজাল্ট ও বের হলো লতা ভালো নাম্বার পেয়ে পাশ করলো। লতার বাবা তার মাকে বললো। তোর মেয়ে এখনো মুসলিমের ছেলেটাকেই লাভ করে। এভাবে চললে হয়তো ওরা পালিয়ে বিয়ে করবে। তার আগেই কিছু একটা করতে হবে। লতার আর ওর বোনের একসাথে বিয়ে দিব। লতার মা বলে ভালো সমোন্দো দেখো ঠিকে কলছো কিছু করার আগেই বিয়ে দিতে হবে। নাহরে সমাজে আমরা মুখ দেখাতে পারব না। লতার বাবা লতাকে বললো তোর বিয়ে দিব। পরশুদিন পাত্র পক্ষের লোক আসবে দেখতে। লতার মাথায় যেন পাহার ধসে পরলো। সে তারাতারি ফোন চালু করে তরুকে ফোন দিয়ে বললো বাবা বিয়ে ঠিক করেছে পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে পরশু দিন। আমি কি করব তুমি বলো। তরুর মাথা খারাপ হয়ে গেলো সে বললো টেনশন করিও না সোনা বিয়ে আমাদের হবে খোদা আছে। বলে আসুক পাত্র পক্ষের লোক আমরা বিয়ের আগেই পালিয়ে যাব।। লতা বলে হ্যা সোনা আমরা পালাবো তোকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। তুই আমার জিবন। তখন ফোন কেটে দিয়ে দুজনে কাঁদতে শুরু করে। তাদের এতদিনের সম্পর্ক কি এক নিমিশেই শেষ হবে। পাত্র পক্ষের লোক আসলো বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করলো। আর এদিকে তরু ও লতার জিবনে ঝড় নেমে আসলো প্রতিটা রাতেই যেন চোখের জলে বালিশ ভিজেতা লাগলো। তারা ঠিক করলো বিয়েরর আগের দিন পালাবে।। তরু এদিকে টাকা পয়শা জোগার করতে শুরু করলো। লতা ও তার বোনের একসাথে বিয়ে বলে বিশাল ধুম করে বিয়ে বাড়ির আয়োজন করতেছে তাদের বড়ো খুলিতে বিশাল প্যান্ডেল বানাইতেছে। এগুলা দেখে তরুর চোকে জল এসে গেলো সে ভাবলো আমি কি লতাকে পাবো। এগুলা ভাবতে ভাবতে বাড়ি চলে গেলো রাতে তাদের কথা হয়। আর ১দিনপর পর বিয়ে আর তরু ও লতা আজকেই পালাবে ঠিক করেছে তরু এদিকে সব রেডি করলো লতাও রেডি। কিন্তু কেমন করে যেন লতার বাবা টের পেলো যে তরু ও লতা আজ পালাবে তাই তিনি লতাকে ঘড়ে তালা দিয়ে রাখলো। তরু লতাকে ফোন দিয়ে বললো সোনা তুমি আসো আমি আছি দারিয়ে। তখন লতা বলে জান আমাদের বিয়ে হবে না। বাবা টের পেয়েছে আর আমাকে ঘরে তালা দিয়ে রেখেছে কিভাবে বের হবো কাঁদতেছি তোমায় এত ভালো বাসলাম তবুও তোমার হতে পারলাম না । তখন তরুর চোখ দিয়ে ঝড় ঝড় করে জল পরতে শুরু করলো। তরু লতাকে বললো আমার কি হবে? আমি যে তোকে ছাড়া বাচতে পারব না। আমি মরব। লতা বলে না। এ কাজ করবা না। তোমার জিবন নতুন করে সাজাবে। তখন তরু বলে জিবনটা একজনের ছিলো সে সাজাতে চাইছিলো বাট সে আর আমার হলো না।। এখন আমার ভাগ্যে মরা ছাড়া আর কিছুই নেই।। এই বলে ফোন কেটে দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি যায়। আর ও দিকে লতা পাগলের মত কাঁদতে থাকে।। আর তরু মরার জন্য ঘড়ের দরজা বন্ধ করে দিয়ে ফাঁসের দরি টাংলো। এবং শেষবারের মত লতাকে ফোন দিয়ে বললো সোনা বিদায় ভালো থেক পড়োকালে তোর জন্য অপেক্ষায় থাকব I LOVE YOU সোনা। লতা বলে না না তুমি আমায় ছেড়ে যেতে পারো না। তরু ফোন কেটে দিয়ে তার ফোনে লতার ছবিটা মনভরে দেখে একটা চুমু দিয়ে ফাঁসের দরিতে ঝুলিয়ে পৃথিবী থেকে অনেক দুরে চলে যায়। কিছুক্ষন পর তরুর বাবা মা ঘড়ের দরজা ভেংগে ফেলে ওপরে তাকিয়ে দেখে তাদের আদরের সন্তানের লাশ ঝুলে আছে তার বাবা মা কেঁদে কেঁদে অঙ্গান হয়ে যায়। তরু ফাস টেংগে আত্যহত্যা করেছে এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। লতার বান্ধুবি তাকে ফোন দিয়ে বলে তোর তরু আত্যহত্যা করেছে। কথাটা শোনা মাত্রই লতার চোখ দিয়ে জল পরতে না পরতেই সে অঙ্গান হয়ে যায়…………..।।

—————-সমাপ্ত—————-

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত