ব্লাক স্যাডো

ব্লাক স্যাডো

কলেজে একশো বছর পূর্ণের উদযাপন হচ্ছে।কিছুটা পরিপাটি করে সাজানো চারিপাশ।দেখতে বেশ লাগছে।
বাংলার প্রপুলার গায়কেরা একে একে স্টেজে এসে গান করছে।গানে মেতে আছে হাজারো দর্শক।সেই দর্শকদের মাঝে একজন রফি।খুব মনযোগ সহকারে গান শুনতে ব্যস্ত।

গানের একপর্যায়ে জেমস স্টেজ থেকে নেমে জায়গা করে দিলো নিধী নামে মেয়েটিকে।
বেশিরভাগ দর্শকের নজর তখন মেয়ের শরীরে।কেউ কেউ বাজে মন্তব্য ছুড়ে মারছে।
একধেনে চেয়ে রইলো শুধু রফি।চোখ ফেরানো বড় দায়।
নিধী গান শুরু করলো।
“কি জ্বালা দিয়া গেলা মোরে,নয়নের কাজল পরানের বন্ধুরে।
না দেখিলে পরান পোড়ে!!”
মিষ্টি কণ্ঠ।রূপের সাথে যেন কণ্ঠেও আগুন ঝরে।
নিধীর তাক লাগিয়ে দেওয়া সুরে রফি সত্যি জ্বালা অনুভব করলো।
জ্বালা মেটাতে ডাকলো সুমিত’কে:
– মেয়েটার নাম কি?
– কোন মেয়ে?
– মাত্র যে গান গাইলো।
– নিধী।
– ঢাকা থেকে আসছে?
– না,আমাদের এখানে বাড়ি।এই কলেজের ছাত্রী।অনার্স সার্ড ইয়ার।
– একটা পার্সোনাল কথা বলবো,কথাদে অন্য কেউ জানবে না।
– বলেন।
– মেয়ে পটায় কিভাবে?
– নিধী’কে পটাতে চাচ্ছেন?
– কিছুটা।
– আশা ছেড়ে দেন বস্।এই মেয়ে পটানো অসম্ভব প্রায়।
– কেন?
– অনেক ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ফেল হয়ে গেছে।আপনি সাধারণ!
– ফেল হয়েছে কেন?
– সে প্রেম করবে না।
– ওপ্স,ওরে পটানোর কোন উপায় কি নাই?
– আমি চেষ্টা করছি,আপনিও করতে পারেন।এরচেয়ে ভালো উপায় আমার জানা নেই।
– বাদ দে।এখন যা যা বলি মন দিয়ে শোন।
– বলেন।

ঘুটঘুটে অন্ধকার গ্রাস করে আছে।শুরু হয়েছে হইহুল্লোড়।
অসহ্য রকমের সেই চিল্লাচিল্লি থামাতে রফি মাইক হাতে বললো,’সাইলেন্ট প্লিজ।আপনাদের ডিস্টার্ব করার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।খমা আপনারা করেন অথবা না করেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না।তবে যেটা বলতে আমি স্টেজে উঠেছি সেটা বলে ছাড়বো।
কিছুক্ষণ আগে আপনাদের মাঝে নিধী নামে এক মেয়ে গান করে গেছে।অসম্ভব সুন্দর তাঁর কণ্ঠ।রূপ অবশ্য কম নয়।সৃষ্টিকর্তা যেন কোন কমতি রাখেনি এই মেয়ের মাঝে।অদ্ভুত বিষয়,আমি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছি।খুব ভালোভাবে পড়েছি।যে কারোরই পড়ার কথা।আমি তাতে বাধা দিচ্ছিনা।তবে নিজের মনের ভাব প্রকাশের জন্য বলছি i love you Nidhi. I love you so much.’
নিধী হতভম্ব।চুপচাপ বসে ঘটে যাওয়া কর্মকাণ্ড গুলো দেখছে।
বালিকার নীরবতা দেখে রফি স্টেজ থেকে নেমে কাছে এগিয়ে গেলো।তারপর হাঁটু গেরে সামনে বসে বললো,
“কিছু কথা মুহূর্তে মনে হয়।
সেই কথা না বললে,
তোমার মতন রূপসী পাবো কোথায়!!
তুমি যদি বুঝে থাকো,
আমার মুখের কথা।
হাতটা ধরে বুকে টেনে,
নাও গো প্রিয়তমা।”
এবার সহ্যের বাহিরে চলে গেছে।নিধী রেগে উঠে দাঁড়িয়ে ঠাসস করে রফি’র গালে চর বসিয়ে দিলো।
রফি হাসছে।কিছু সময় কিছু ব্যাপার হাসতে বাধ্য করে।
ঠিক তার একটু পর বুম করে আওয়াজ হলো।আকাশে বড় বড় অক্ষরে ভেসে উঠলো “Nidhi,I love you.”
এবার নিধী রফি’র হাত থেকে মাইক কেড়ে নিলো।দর্শকেরা খুব মনযোগ সহকারে দেখছে।
নিধী বললো,’এমন প্রপোজ আমি ডিজার্ভ করি।এবং প্রপোজ করা মানুষটা ডিজার্ভ করে নরম হাতের থাপ্পড়।অনেকের মনে আমায় নিয়ে হাজার স্বপ্ন আছে।তাই আপনাদের সুযোগ করে দিয়ে বলছি যে যে মনের কথা বলতে চান সামনে এসে বলতে পারেন।থাপ্পড়ের ফ্রি সার্ভিস দিচ্ছি।’
রফি অপমান বোধ করলো।কন্সার্টজুড়ে নীরবতার কালো ছায়া কুড়ে খেয়েছে।
এরমধ্যে সুমিত মাইকে জানিয়ে দিলো “বস্,আপনি দমে আছে কিন্তু আমি পারছি না।আপনার সম্মানের ক্ষেত্রে আজ থেমে গেলাম।তবে খেলাটা মাত্র শুরু ছিলো।

শুক্রবার দিন।সরকারি ছুটি।
মাহাবুব সাহেব সকাল সকাল পুকুরে নামলেন গোসল সেরে নিতে।
ভাগ্যক্রমে তিন সিরি নামার পর পায়ের সাথে কিছু একটা বাঁধলো।রহস্য উধ্যারে সে ডুব দিয়ে হতভম্ব।
কারো মৃত দেহ।
লোক জড় করে মাহাবুব সাহেব দেহটি উপড়ে তুললেন।
কোন এক অল্প বয়সী নারীর লাশ।
অনেকটা সময় পানির স্পর্শে থাকায় দেহ একপ্রকার সাদা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।দেহে কাপড় নেই।কিছু দাগ দেখে আন্দাজ করা যায় রেপ করে পাথর বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
ঘণ্টা খানেকের মধ্য খবর ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে ছুটে আসি নিধী।
অদ্ভুত বিষয় লাশটা আর কারো নয়,নিধীর ছোট বোন দ্বিপার।
তদন্ত করে লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য পাঠানো হয়।
অপর দিকে নিধী কান্না ভেঙে পড়েছে।তাঁর কান্নায় ছেয়ে যায় পুরো শহর।
পাথর নিশ্চুপ অবস্থায় স্বাভাবিক দেখায়।নিজে ক্ষত বিক্ষত হয়ে ধূলিসাৎ হলে যে কারো কাছে খটকা লাগে।

অন্ধকার রুম।একে একে সিগারেট জ্বলছে।পুড়ছে হৃতপিন্ড।সেদিকে রফি’র খেয়াল নেই।কিভাবে নিজেকে শান্ত করা যায় এই নিয়ে ভেবে চলেছে সে।
এমন সময় হঠাৎ রুম আলোকিত হয়ে গেলো।আচমকা চোখে আলো পড়ায় রফি চোখ মিটমিট করে তাকাচ্ছে।
স্থানীয় থানার দারগা রফি’র সামনে এসে বললো,’থানায় যেতে হবে।’
রফি সিগারেটে টান দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,’কেন?’
– আপনার নামে এরেস্ট ওয়ারেন্ট আছে।
– আমার অপরাধ?
– দ্বিপা নামে এক মেয়ের রেপ এবং খুন।
– কেস কি নিধী নামের কেউ করেছে?
– হ্যা।
– প্রমাণ হিসাবে কী পেশ করা হয়েছে?
– কিছুদিন আগে আপনার ভাই সুমিত স্টেজে হুমকি দিয়ে ছিলো।এরেস্ট করার জন্য কি এটা যথেষ্ট নয়?
– সুমিত জেলে?
– সাথে রাফসান ও জাহিদ নামে দু’জনকেও এরেস্ট করা হয়েছে।
– ঠিক আছে,চলেন।
দারোগা পাশে থাকা কনেস্টবল’কে উদ্দেশ্য করে বললো,’হ্যান্ডকাফ পড়াও।’
কনেস্টবল নিশ্চুপ।
মাটির দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো,’স্যার ওনার হাতে হ্যান্ডকাফ পড়ানোর ক্ষমতা আমার নেই।ডিউটি না থাকলে কখনো আমি এই কেসে আসতাম না।’
দারোগা চোখ গরম করে জিজ্ঞাসা করলো,’,কেন!ও কি?মন্ত্রী-মিনিস্টার নাকি এদের কাছে কেউ?আপনি ভয় পেলে ডিউটি ছেড়ে বাসায় গিয়ে রেস্ট নিতে পারেন।’
কনেস্টবলের মুখ শুকিয়ে গেলো।
উঁচু লেভেলের কারো সাথে তর্ক সুখনীয় নয়।
কনেস্টবল অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,’স্যার প্রতি মাসে আমরা যে পাঁচ কোটি করে উর্বি টাকা পাচ্ছি তা পুরোপুরি ইনি বহন করেন।’,
দারোগা কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো।

ওসি সাহেব চেয়ারে বসে।সামনে নিধী এবং তাঁর মা।জেলের ভেতর রফি অনেকক্ষণ যাবত ওসি ও নিধীর কথাবার্তা খেয়াল করছে।
একপর্যায়ে ওসি সাহেব বললেন,’অহেতুক কেস করে আপনি আমাদের হয়রানি করছেন।পোস্ট মর্টাম রিপোর্ট অনুযায়ী শুক্রবার রাত এগারো বারোটার মধ্যে দ্বিপা’কে রেপ করে খুন করা হয়।আশ্চর্য বিষয় রফি ও তাঁর দলবল তখন ক্লাবে ছিলো।সিসি ক্যামেরা ফুটেজ আমাদের কাছে আছে।ভিকটিম অন্যকেউ।খুব শিঘ্রই আমরা তাকে বা তাদের ধরে ফেলবো।’
নিধী নিশ্বাস ছেড়ে জিজ্ঞাসা করলো,’আপনিও এই গুণ্ডার সাথে মিশে?’
ওসি সাহেব ভেবে পেলেন না,কি বলা উচিত।
উত্তর না পেয়ে নিধী আবার বললো,’তিন দিনের মধ্যে আমার বোনের খুনিকে না পেলে আমি এসপি স্যারের কাছে আপবার নামে কম্পেলেন জানাতে বাধ্য হবো।আপাতত ওদের ছেড়ে দিতে পারেন।আশাকরি যা করবেন সবার মঙ্গলের জন্য করবেন।এখন আসি,খোদাহাফেজ।’
রফি চেচিয়ে বললো,’তিন দিন না ম্যাডাম কাল সকালের মধ্যে আপনি আপনার বোনের খুনিকে পেয়ে যাবেন।’
নিধী রফি’র কাছে গিয়ে বললো,’এতো কিসের কনফিডেন্ট?’
– সেটা না হয় গোপন থাক।
– আচ্ছা,এমন কি হতে পারেনা?খুন আপনি করেছেন আর এখন অন্য কাউকে টাকা দিয়ে তাঁর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন?
– রেপের মতন নূন্যতম কাজ রফি করেনা।
– তাহলে কি করেন আপনি?
– দেখতে চান?
– হ্যা।
– এদিকে আসেন।
– কেন?
– আসতে বলছি।
– ওকে।
নিধী কাছে এগিয়ে গেলো।একদম জেলের কাছে।
রফি নাগাল পেয়েই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো।
তারপর দরজার ফাঁকা দিয়ে স্পর্শ পেলো দুটি ঠোঁট।
নিধীর মা বাহিরে দাঁড়িয়ে বললেন,’এত সময় লাগছে কেন মামনি?’
দু-মিনিট পর মিষ্টি স্পর্শ থেকে মুক্তি পেয়ে নিধী জবাব দিলো,’আসছি।

শহরের সবচেয়ে বড় ক্লাব ‘মাল্টি প্লেস’।সেই ক্লাবে একমাত্র পরিচালক সিয়াম।ড্রাগ,অস্ত্র,মেয়ে,জুয়া,ভাড়া করা কিলার সব পাওয়া যায় এই ক্লাবে।প্রয়োজন শুধু টাকা।
মাল্টি প্লেস ক্লাবের বাহিরটা দেখতে যেমন সুন্দর ভেতরটায় তেমনই কালো অন্ধকার ঘুটঘুট করছে।
রাত তখন এগারোটা পঁচিশ।
রফি বাইক থেকে নেমে ক্লাবে দুটি তিন টাকা দামের পটকা ছুড়ে মারলো।
তাতে কাজ হয়েছে।
মৌমাছির চাকে ঢিল মারলে যেমন মৌমাছি ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় ক্লাব থেকে তেমন শ’য়ে শ’য়ে লোক বেড়িয়ে আসছে।
রফি দাঁড়িয়ে খুব মনযোগ সহকারে দেখছে ব্যাপারটা।এমন কর্মকাণ্ড সচরাচর দেখা যায় না।
রফি’র অন্যদিকে দৃঢ় মনযোগ দেখে কালো ব্লেজার পড়া এক কিলার পিস্তল বের করে শুট করতে গেলো।অমনি লুটিয়ে পড়লো মাটির বুকে।
হতভম্ব হয়ে সিয়াম ও তাঁর দলবল এগিয়ে আসছে।মনে তাদের একটাই প্রশ্ন,কিভাবে সম্ভব?
এমন সময় সিয়ামের সাথে থাকা কিলার গুলো একসাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
এবার সিয়াম আতংকিত।
ভূতুরে ব্যাপারস্যাপার।
যা ইচ্ছা তাই ঘটে চলেছে।বিশজন কিভাবে একসাথে মরতে পারে?
ভয় কাটাতে সিয়াম রেড এলার্ট বাজালো।
ক্লাব থেকে বের হতে শুরু করেছে মাস্টার্স কিলার’রা।কিন্তু রফি এতে কোন ভ্রুক্ষেপ করলো না।তাকিয়ে শুধু দেখছে।এটাও তাকে একপ্রকার বিনোদন দিচ্ছে।
প্রতিটা কিলারের হাতে M-007 কেউ কেউ বা আবার xx-20 নিয়ে বের হচ্ছে।পরিস্থিতি
টা আদৌ বসে থাকার মতন নয়।
কিন্তু রফি মাথা ঠান্ডা রেখে চেয়ে আছে একদৃষ্টিতে।
তারপর শুরু,
গাছের আড়াল থেকে ধাই-ধাই দুটো লাঞ্চার বুলেট ছুটে এলো।তাতে যথেষ্ট।ক্লাব সহ উড়ে গেছে কয়েকশত কিলার।অক্ষত থাকার কিলার গুলো সিয়ামের দিকে পিস্ত তাক করে বললো,’এই মুহূর্তে আমাদের জান বাঁচানো অতি জরুরি।কে হামলা করছে জানিনা তবে শিওর সে খুবই ব্রিলিয়ান্ট।আপনি ধরা দিয়ে দেন।আমরা আপনায় তাদের কাছে দিয়ে স্যালেন্ডার করবো।’
সিয়াম হাত তুলে মনে মনে বললো,’টাকায় পোষা কুকুরও নিজ জানের ভয়ে মনিবের ওপর ঘেউঘেউ করে।’

দু-বার কলিংবেল চাপতে এক মহিলা দরজা খুলে দিলো।
প্রথম দেখে রফি বুঝে গেলো ইনি নিধীর মা।থানায় একবার দেখা হয়েছিলো।
রফি তাকে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,’নিধী কোথায় আন্টি?’
মহিলা নরম সুরে জবাব দিলেন,’ঘুমাচ্ছে।’
রফি মাথা নিচু করে বললো,’আপনার মেয়ের খুনি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে।কালো ব্লেজার পড়া।আপনি চাইলে নিজ হাতে শাস্তি দিতে পারেন।আমার লোকজন আপনায় সাহায্য করবে।আমি কি নিধীর সাথে গিয়ে কথা বলতে পারি?’
মহিলার সাদা বর্নের মুখ রক্তাক্ত লাল হয়ে গেছে।চোখে আগুন টগবগ করছে।
রফি হেসে আবার বললো,’রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক।প্রতিটা মা এই পরিস্থিতিতে রেগে যাবে।আপনার মনে কি চলছে আমি বুঝতে পারছি।আপনি বাহিরে গিয়ে সুমিতকে চাকু দিতে বলেন।তারপর নিজ হাতে মেয়ের হত্যাকারীকে মেরে ফেলেন।পুলিশের ব্যাপার আমি সামলে নিবো।তবে একটা কথা,ছেলেটা কেন আপনার মেয়ের হত্যা করলো জানতে চাইবেন না?’
মহিলা জানার ইচ্ছা সূচক দৃষ্টিতে তাকালো।
রফি বললো,’ছেলেটার নাম সিয়াম।দ্বিপা সিয়ামের ভাইয়ের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সাতদিন আগে ছেড়ে দেয়।এত বড় প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে সেদিন রাতে সিয়ামের ভাই আন্তহত্যা করে।
ভাইয়ের মৃত্যুর কারণ খুজতে সিয়াম ব্যকুল হয়ে পড়ে।তারপর একপর্যায় জানতে পারে দ্বিপার কথা।আপনি কি বুঝতে পারছেন আন্টি?’
মহিলা বললেন,’তুমি উপড়ে যাও,নিধী আছে।আমি সিয়ামের সাথে আলাদাভাবে কথা বলবো।’
রফি ইশারায় বেস্ট অফ লাক জানিয়ে নিধীর তরে রওনা হলো।

বাচ্চাদের মতন জড়সড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে নিধী।চুল গুলো এলোমেলো।
ঘুমের আবেশে মুখ দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।
রফি নিধী’র কাছে গিয়ে আলতো ভাবে গাল ছুঁয়ে দিলো।
প্রিয় মানুষ’কে দূর থেকে দেখার মাঝে যেমন ভালবাসা বিদ্যমান,স্পর্শ তেমন সে ভালবাসার অলংকার।
নারী অলংকারহীন অপূর্ণ।
নিধী উঠে বসে বড় বড় চোখ করে রফি’র দিকে তাকিয়ে আছে।মস্তিষ্ক এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
– এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
– আপনি কি সত্যি?
– কেন?
– স্বপ্ন দেখছি নাতো?
– না।
– আম্মু কোথায়?আপনায় আমার রুমে আসার পারমিশন দিছে কে?
– সেগুলো অনেক কথা।
– বলেন।
– পরে।
– তাহলে এখনই বেরিয়ে যান।
– যদি না বের হই?
– ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।
– নিধী।
– হুম।
– ভালবাসি তোমায়।
– হাহাহা,সে অনেকে বাসে।
– কিন্তু তুমিও যে আমায় ভালবাসো।
– ওহ্,রিয়েলি!
– না হলে সেদিন থানায় কিস করার পর আমার ওপর এক্সন নিলে না কেন?
– আপনায় কিছু বললে আমায়ই পস্তাতে হতো।
– তুমি অন্য কাউকে ভালবাসো?
– না।
– হ্যা।
– ক্লাস সিক্সে থাকতে বাসতে,নাইনের এক ছেলেকে।
– মানে?
– গালিব নাম মনে পড়ে?
– সকাল সকাল কী যা তা বলছেন।
– তোমায় দেখার পর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।তোমার সম্পর্কে জানার ইচ্ছা আমায় ব্যকুল করে তোলে।পরে খোজ নেই।জানতে পারি তুমি সেই নিধী,ক্যান্টিনে মোটাসোটা যে প্রপোজ করেছিলো।ভেবে পাচ্ছিনা কিভাবে এত চিকোন হয়ে গেলে।সেদিনের কথা কি তোমার ওপর প্রভাব ফেলেছিলো?
– হুহ্,আপনি আমায় সাড়া স্কুলের সামনের অপমান করেছিলেন।পরে স্কুল ছেড়ে এখানে চলে আসি।নিজের প্রতি যত্নশীল হই।সত্যিকার অর্থে রূপহীন নারী সমাজে অবহেলার পাত্রী হয়ে থাকে।প্রথমের বিষয় দেখেন আর এখকার বিষয় দেখেন।আমি আপনায় প্রপোজ করেছিলাম,আপনি আমার প্রপোজ করেছেন।
– আমায় ক্ষমা করে দেওয়া যায় না?
– না।
– প্লিজ।
– না।
– প্লিজ।
– কান ধরেন।
– ধরছি।
– উঠ বস করেন।
– করতেই হবে?
– হুম।
রফি কান ধরে উঠ বস করতে শুরু করলো।
মনে ক্লান্তি।নিধী একপর্যায়ে রফি’কে থামিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো,’দেখতে খারাপ হয়ে গেলে আবার ছেড়ে যাবা নাতো?’
রফি শান্ত গলায় জবাব দিলো,’ধুর পাগলী।জন্মজন্মান্তরে এই চার হাত এক থাকবে।’
নিধীর ঠোঁটে মিষ্টি হাসি।এমন উত্তর আশা করছিলো সে।
অনেক্ষণ যাবত দুজন দুজনের বাহুবদ্ধ হয়ে আছে।কারোরই ছাড়া ইচ্ছা নেই।মায়াবী প্রাশান্তি উভয়ের মাঝে।
নিধী ছোট্ট করে জিজ্ঞাসা করলো,’এই তুমি এখন কি জব করো?’
বাক্যটা শুনে রফি হাসছে।
জবাবে আজ পর্যন্ত সকলে এই একটা উত্তর পেয়েছে।যার মধ্যে বিদ্যমান শয়তানি হাসি।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য · গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত