অন্যরকম মজনুনামা

অন্যরকম মজনুনামা

-তোর নাগরের পরিচয় দে।নাইলে তোর একদিন কি আজকে আমার একদিন।বেশ্যা চরিত্রহীন মেয়েমানুষ কখনো আমার বউ হইতে পারে না।

সিরাজ গর্জে উঠে।রেবতী নিঃশব্দে কাঁদছে।
সে ঝাপসা হয়ে যাওয়া চোখের পাতা ওড়নার খুট দিয়ে মুছছে ।নরম স্বরে প্রায় শোনা যায় না এমন করে বলছে—তুমি যে রকম ভাবতেছো সেরকম না।আমি কোনো অন্যায় করি নাই…সিরাজ আরো রেগে উঠে।

হঠাৎ সে রেবতীর চেয়ারে একটা প্রচন্ড গতিতে লাথি মারে ।পুরোনো কাঠের চেয়ারটা ক্যাঁচক্যাঁচ করে প্রতিবাদ জানায়।

রেবতী উল্টে পড়ে যাবার আগে দেয়াল ধরে উঠে দাড়ায়।
সিরাজ এই সুযোগ কাজে লাগায়।রেবতীর বিশাল চুলের রাজ্যে হাত ডুবিয়ে তাকে হিড়হিড় করে টেনে আনে জানলার কাছে।

একহাতে চুল খামছে ধরে অন্যহাতে নিচের রাস্তার পাশে শিরীষগাছের বেঁদিটায় বসা লোকটাকে নির্দেশ করে,

-ওই দ্যাখ তোর আশিকি রে।বিয়ের আগে তোর একটা অ্যাফেয়ার আছিল আমি মেনে নিছি।কিন্তু তুই আমার সাথে প্রতারণা করছস।

রেবতী কিছু বলে না।চোখ থেকে পানি পড়েই চলেছে ।সিরাজ রেবতীর মুঠো ভর্তি চুল আরো জোরে ঝাকিয়ে বলে,উত্তর দে কইলাম চুপ করে থাকবি না।তোদের মত সুন্দরী মাইয়া গো মায়ার খেলা আমার জানা আছে।
রেবতীর ভেতর থেকে যেনো অতিকষ্টে বের হয়ে আসে—এই,এই লোক রে আমি চিনি না।

সিরাজের কালো মুখ অসম্ভব রাগের ফলে বেগুনি হয়ে উঠে।জগৎ সংসারের সমস্ত লজিক ভুলে গিয়ে সে জোরসে রেবতীর মাথাটা জানলার রডে ঠুঁকে দেয়।একটু বেশিই জোরসে হয়ে যায় ব্যাপারটা।

সে আর্তনাদ করে —আব্বু গো!
মাথা দুহাতে চেপে ধরে দেয়াল ঘেঁষে বসে পড়ে রেবতী।
সিরাজ অট্টহাস্য করে বলতে থাকে,

-কারে ডাকিস?তোর বাপ তো শালা বেজন্মা আরেক মেয়ে বিয়ে কইরা ইন্ডিয়া পলাইছে।আমারে সেদিন বড়মামা সব বলছে।হেঃহেঃ!

রেবতীর মনের ভিতর পাঁক খায়-এসব জগন্য মিথ্যা কথা।আমার আব্বুর মত ভালোমানুষ আর একটিও নেই ।

রেবতীর মাথার কষ্টটা গিয়ে সেখানে যেনো জ্বলে উঠে আব্বুর মুখটা।সুপুরুষ,মায়াবী একটা মুখ।পৃথিবীর সব মেয়ের কাছেই বাবাদের চেহারা মায়াবী মনেহয়।এমনকি প্রেমিক কিংবা স্বামীর চেয়েও।

রেবতীর লম্বা চওড়া ভালো মানুষ আব্বু।মা বলতেন,লম্বা লোকদের বুদ্ধি কম হয়।
রেবতীর বয়স তখন পাঁচ কি ছয়।আব্বু অফিসে যাবার সময় সে রোজ কাঁদতো।তার ভয় হত যদি আব্বু একবার গেলে আর ফিরে না আসে!

আব্বু প্রথমে হাসি হাসি মুখ করে তাকে একটা চুমু দিতেন।রেবতী কেঁদেই চলতো।আব্বুও হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে দ্বিগুন স্বরে নাঁকি কান্না দিতেন—অ্যাঁ অ্যাঁ,আমার আম্মু গো।আপিসে না গেলে আমার আম্মুটাকে খাওয়াবো কি!অ্যাঁ অ্যাঁ আম্মুর জন্য একটা টুকটুকে জামাই পুতুল আনবো আজকে ।
আব্বুর কান্না দেখে রেবতী ফিক করে হেসে দিত।উম্,বড়মানুষরাও তবে কাঁদে!

মা বিরক্ত হয়ে আব্বুকে বলতেন—অফিসের লেট হচ্ছে না তোমার?আর অভিনয় করতে হবে না।আমাকে বিয়ে না করে যাত্রাদলে নাম লেখালে পারতে।

রাতে বাবা অফিস থেকে ফিরে যখন দেখতেন রেবতী ঘুমিয়ে পড়েছে তখন মাকে জিগ্যেস করতেন—রেবু খেয়েছে?
মা কপট রাগ দেখিয়ে বলতেন—তোমার মেয়ে সাঁঝের বেলা ঘুমিয়ে পড়ে।আমার রান্না হবার বার দেয় নাকি?
বাবা সেদিন আর খেতেন না।

কখনো কখনো মা রেবুকে জোর করে তুলে দিতেন,বাবা বলতেন, আহ করছো কি!মেয়েটার কাঁচা ঘুম ভাঙিয়ে দিলে,পরে ঘুম না আসলে ওর,তোমার খবর আছে!

মহা উৎসাহে পিতা তার ঢুলুঢুলু চোখের পুত্রীকে নিয়ে তখন মজা করে ভাত খেতেন।

একদিন অফিসে না গিয়ে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়েছিলেন আব্বু রেবতীকে নিয়ে।চিনেখোলার মেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন ওকে।

আব্বুর কাঁধের উপর বসে আছে ছোট্ট রেবতী।আহ্,কি খুশি!মুখভর্তি হাসি তার।
নাগরদোলায় চেপেছে বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে।নামার সময় যদি পড়ে যায়!তারপর পুতুল নাচ,মৃত্যুকূপের খেলা আবার হাওয়াই মিঠাই আর লেমনচুস খেয়ে মুখ রঙিন করে ফেলা।

একরাশ খেলনা নিয়ে আব্বুর কাঁধে চড়ে বাসায় ফিরেছিল রেবতী।আম্মু তো রেগে আগুন—কি আক্কেল তোমার!যাবার সময় একটু বলেও গেলে না।আমার তো হার্টফেল করার মত অবস্হা !করো তো কেরানির চাকরি,বুদ্ধিসুদ্ধি আর হবে কোথায়?

আব্বুকে কত্ত কথা শুনতে হয়েছিল সেদিন।আর ঘাড়ে বুকে খুব ব্যথা উঠেছিল শুধু ওর কারনেই।পুরোটা পথ আব্বু ওকে একবারওরাস্তায় হাটায় নি।

সেই ভালো মানুষ বাবাটাকে একদিন পালিয়ে যেতে হয়।অফিসের বসকে খুনের দায়ে।লোকটা চূড়ান্ত লেভেলের ঘুষখোর।

আব্বুর সাথে বনিবনা হতো না।আর বস পাবলিকটার শত্রুও কম ছিলো না।কিন্তু সমস্ত প্রমাণ এমনভাবে খাড়া করানো হয় যেন সব সন্দেহের তীর আব্বুর দিকে যায়।

আব্বু বড়মামাকে কেঁদে বলেছিলেন,

-মিয়া ভাই আপনে তো সাক্ষী আছেন বিকালে আমি ক্লাবেই ছিলাম না!
বড়মামা আফসোস করে বললেন,

-আমার একজনের কথায় কিছু হবি না বাদল।তুমিই নিজের বিপদ ডেকে আনছো।সরকারী চাকরি করবা ঘুষ খাবা না তা হয় না।তোমার সহকর্মিরা বেশ ভালোভাবে ফাঁস দিল তোমারে।এখন একটাই উপায় পালাও।গো টু ইন্ডিয়া।বাকীটা আমি ব্যবস্থা করবানি।

আব্বুকে বড়মামা সীমান্ত পার করে দেয়।একদম নিরুদ্দেশ।

কিছুদিন আগে বড়মামা রেবতীকে বলেছিল,তোর বাপে আত্নহত্যা করছে।রেবতী বিশ্বাস করে নি।বড়মামা মাকে হাত করে তাদের বাড়িটাও বেঁচে দেয়।

একজন আবেগী মেয়ে যে কিনা বাপের বুকে লেপ্টে না থেকে ঘুমাতে পারে না সে যখন বুঝতে পারে তার বাবা খুনের আসামী,হয়তো আর কখনো ফিরে আসবে না।তখন কত রাত যে তাকে বাপের স্মৃতি মোছার জন্য বিনিদ্র থেকে চোখের পানি ফেলে হাল্কা হতে হয়,তা খোদাও বোধহয় জানেন না।

রেবতীর প্রেম,বাবাকে হারানোর বেদনা এসব নিয়ে একটা উপন্যাস লিখে ফেলা যায় চাইলে।কিন্তু আমাদের সময় কই পড়ার?যান্ত্রিক পাঠকদের জন্য তাই ঘটনাটি দ্রুত শেষ করছি—

হ্যা,বাবাকে প্রচন্ড ভালোবাসতো বলেই রেবতী রজতের প্রেমে পড়েছিল।রজতের চোখ মুখের একটা অংশ আর কোঁকড়ানো চুল বাবার সঙ্গে বেশ মিলে যেত।

রজতও রেবতীকে ভালোবেসেছিল একবারে মজনুর মতন।তবে হিন্দু ছেলের সঙ্গে তো রেবতীর বিয়ে হবার নয়।বড়মামা গোঁড়া মুসলিম ।

চিটাগাং এর ক্ষমতাবান মানুষ তিনি ।রেবতীকে এনে বিয়ে দিলেন তারই খোশামোদকারী সিরাজের সাথে ।রজতকে বড়মামার লোকজন প্রচুর মেরেছিল ।প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।রজতেরও দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়।হয়তো জীবিকার সন্ধানে।

রেবতী আর সিরাজের বয়েসের পার্থক্য ১৮বছরেরও বেশি।সিরাজকে বিয়ের দিন দেখে রেবতীর মুখে অদ্ভূত মলিন এক হাসি ফুটে উঠেছিল। তার আব্বু সিরাজের চেয়ে মাত্র ৪বছরের বড়!সিরাজের মাথায় বিশাল টাক আর আব্বুর ছিল ঝাকড়া চুল।রেবতী যেন দিব্য চোখে দেখতে পেয়েছিল,আব্বুটা এখনও যুবকের মতনই আছেন।কত হবে আর বয়স বিয়াল্লিশ। বড় অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন তার ভালো মানুষ আব্বুটা।
রেবতী ভয়ে আছে।তার গা কাঁপছে,আবার আনন্দও হচ্ছে।সিরাজ রাত ১০-১১টার আগে ফেরে না।এমনিতেই আজ তাকে খুব মেরেছিল সিরাজ ।তবুও সে রজতের নাম বলেনি।রজতকে সিরাজ দেখে নি।বললেই বিশ্বাস করতো।এবং

—ভদ্রপাড়া বিধায় সিরাজ লোকটাকে কিছু বলছে না আজ ৩দিন ধরে।কিন্তু কতক্ষন চুপ থাকবে খোদা মালুম।
নীচের হাউজিং এর রাস্তার পাশের শিরীষগাছটার বাধাঁনো বেদিটায় হেলান দিয়ে আছে আধপাগলা মানুষটা।ময়লা,শতছিন্ন পোশাক।চটের বিছানা খুঁজে পেতে নিয়েছে কোথ্ থেকে যেনো।রেবতীর বুক ফেঁটে যাচ্ছে।কিন্তু মানুষটার মঙ্গলের জন্যই তাকে আপ্রাণ না চেনার ভান করতে হচ্ছে ।
মামা জানতে পারলে—সিরাজ ও নিশ্চয় তাকে তালাক দেবে।
সকাল হতে বোধহয় কিছু খায় নি আধপাগলটা।

রেবতী শেষবারের মতন তার মুখটা দেখে নেয় আয়নাতে,হাল্কা সাজে,চোখের নীচের কালোদাগ আর টর্চারের জখম লুকানোর জন্য গাঢ় পাউডারের আস্তরণ দিতে দিতে রেবতীর কথাগুলি মনে ভাসে-

প্রেমিক প্রেমিকার সম্পর্ক,স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এসব বড্ড রঙমাখা এই পৃথিবীতে।মোহ আর মায়ায় গড়া।এসব গুঁটি পোকা থেকে শুঁয়োপোকা হবার মতন মায়াজাল ছিড়ে রঙিন পাখনায় বাতাসে ভেসে যায় দিশাহীন অনন্তপথে।আলগা করে রাখলে উড়ে যায়,বেশি আগলে রাখলে মরে যায়।
রেবতী দেহে গয়না চড়ায়,বিয়ের শাড়িটা পড়ে নেয়।
তারপর চুপিচুপি সিড়ি দিয়ে নেমে পড়ে।
রাত ৯টার মতো বাজে।

লোকটা ছেঁড়া চটে বসে একমনে চেয়ে আছে জানলার দিকে।রেবতী এসে তার ময়লা হাত ধরে,নরম স্বরে বলে,

-চলো,খাবে চলো।

লোকটা অবাক হয়ে রেবতীর দিকে তাকায়।উঠে।সিড়ি ভাঙ্গতে থাকে এমন অনায়াসে যেন তার কথা ছিল আজ সে রেবতীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবে।

রেবতী কাঁদতে কাঁদতে বলছে—আমি জানি তুমি পাগল হও নি।কেন মিছে অভিনয় করছো ।এখানে কেউ তোমাকে চেনে না।

লোকটা দাঁড়ি গোঁফের জঙ্গল থেকে হাসছে কি?বোঝা যাচ্ছে না।
সিরাজ তখন ক্লাবের ছায়ান্ধকারে ড্রিংকসে মগ্ন।পাশে তার দোস্ত সুজন ব্যাপারী।
হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠে।দেখে হাউজিংএর দারোয়ান কল করেছে-
-হ্যালো,হ্যা সার,একটু আগে ম্যাডাম রাস্তার পাশের পাগলটা রে বাসায় ঢুকাইলো দেখলাম।আপনে তরাতরি আইসা পড়েন।
সিরাজ রাগের চোটে দারোয়ানটাকে একটা কুৎসিত গালি দিয়ে উঠে।তারপর ব্যাপারীর দিকে চেয়ে বলে,
-দোস্ত তুই সত্যি কথাই বলছিলি সকালে—এ নিশ্চয় সেই পাগলা রোমিও,যে ব্যাটা রেবতীর বিয়ার পরে শোকে পাগল হয়ে যায়।

সুজনব্যাপারীর বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে তার বানানো গল্পটা শেষ পর্যন্ত কোনো বাস্তবতার কাছাকাছি চলে গেছে।ব্যাপারীর আজ মনের আশঁ মিটবে তাহলে।প্রতিশোধ নেয়া হয়ে যাবে ।অনেক চেষ্টা করেছিল রেবতী ভাবীর সাথে খানিক পস্টি নস্টি করতে।ভাবী বড্ড ক্যাঁচাল।সেই সুযোগ দেয় নি।সুজন উৎসাহ দিয়ে বলে,
-দোস্ত তয় শুনছি ভাবী বিয়ার আগে ব্যাটারে পাত্তা দেয় নাই ।এহন নিশ্চয় পুরানা প্রেম জাগছে মনে।এসব মেয়েলোক রে উরাধূরা মাইর দিলে পরে পরকীয়ার ভূত পলায়।
-আরে শালা রেবতী রে আমি মারার সময় কম মারি নাকি।পুরানা প্রেম জাগে ক্যামনে?দে ,মাল টা দে।
সুজন একটা প্যাকেট এগিয়ে দেয়। সিরাজ হোন্ডা ছোটায় ৮০কিমি বেগে।
-ইস্,চেহারার কি হাল করেছো তুমি।
রেবতী বলে। খুব খারাপ লাগছে তার।
আধপাগলা লোকটা বলে,
-বনে বাদাড়ে ঘুরতে হয় রে।হ্যা রে,তুই যে আমারে ওর শার্ট পড়তে দিলি,রাগ করবে না?
রেবতী চোখের পানি মুছে বলে,
-এটা পুরানো শার্ট,সমস্যা নাই ।কয়দিন গোসল করো নাই তুমি?হাতমুখ সাবান মেখে ধুইয়ে দিলাম তারপরো তোমাকে কালো দেখাচ্ছে তুমি না একসময় আমার চেয়ে ফর্সা ছিলা!
লোকটা হেসে দেয়।
রেবতী বলে,হাইসো না।এখন খাও।

লোকটা দেখে তার সামনে টেবিলে কত্ত খাবার সাজিয়ে রাখা।কিন্তু তার তো খেতে ইচ্ছে করছে না।সে বলে,

-মা একটু আসবি কাছে ।আমার এই বুকটাতে যে অনেক জ্বালা মা।তোরে কতকাল দেখি না।পুলিশের ভয়ে আমি আসতে পারি নাই।কিন্তু এখন পুলিশ রে ভয় পাই না,তুই আমার বুকে আয় মা।
রেবতীর বুক ফেঁটে যাচ্ছে ।সে বলে,
-না তুমি আগে ভাত খাও।
লোকটা হঠাৎ তার কাছে আসে।হাটু গেড়ে বসে ছোট্টবেলার মতন রেবতীর দুহাত ধরে,

-মা রে তোর গলার কাছে এইটা কিসের দাগ?জামাই কি তোরে মারে?
রেবতী আর পারে না।বসে পড়ে বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠে।
দরজা ঝাট করে খুলে যায়।সিরাজ দেখে তার অতি সুন্দরী বউ পাগলটার বুকে মাথা দিয়ে কাঁদছে।মাতাল সিরাজ রিভলবারটা বের করে প্যাকেট খুলে।তারপর—এক ফায়ারেই মানুষটা লুটিয়ে পড়ে,মাথা এফোঁড় ওফোঁড় হয়।
-নাগর রে লইয়া মজা লুটতাছস শালী***আবার আমার জামাও দিছে,উরে উরে।মাইরি—
রেবতী নির্নিমেষ চেয়ে থাকে সিরাজের মুখের দিকে…

একযুগের জমানো স্নেহ দিতে আসা তিনদিনের ক্ষুধার্ত পিতা পরপারে চলে যায় ভাত না খেয়েই ।কিন্তু তাতে কি,তার অতি আদরের রেবুকে যে শেষবারের মতন ছুঁতে পেরেছেন,ছোট্টবে
লার মতন একটু বুকে নিতে পেরেছেন—

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত