কল্পনায় বাস্তব

কল্পনায় বাস্তব

পুরো রাস্তা জুড়ে পানি জমে আছে,বুড়ি গংঙার পানি আর বৃষ্টির পানি মিলে মিসে একাকার, আমি পানি ভেঙে হাটছি, হাটার কোনো উদ্যেশ্য নেই,উদ্যেশ্যহীন হাটার মাঝে আনন্দ আছে, হঠাত্‍ আমার ফোনটা বেজে উঠল, আমি ফোন রিসিভ করতেই ওপাস থেকে বলে উঠল, হ্যালো তুহিন, তুই কই ?

খালা আমি রাস্তায়, কেনো ? জলদি বাসায় আয়, কেনো ? আগে আয়,তারপর বলছি,আচ্ছা,আসতেছি, দুপুর ২টা, আমি যাচ্ছি মাজেদা খালার বাসায়, গুড়িগুড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাটছি হঠাত চোখে পড়ল ntv তে এক বাড়ির মালিক জলাবদ্ধতা নিয়ে সাক্ষাতকার দিচ্ছে, অথচ তার বাড়িটি দেখে যে কেউ বলতে পারবে তার বাড়িটি রাস্তা দখল করে করেছে, এই হলো অবস্থা, আমি খালা বাসায় গিয়ে দেখি খালা লম্বা একটা লিষ্টি হাতে নিয়ে বসে আছে, আয় তুহিন, কেনো আসতে বলেছ খালা ? শোন,তোর খালুজান আর আমি গ্রামে যাবো, ত্রান দিবো, এই হলো তার লিষ্ট, বাহ, ভালোত, তোর একটা কাজ করতে হবে, কি কাজ খালা?

তুই একজন টিভি সাংবাদিক নিয়ে যাবি, কেনো খালা ? আরে বুঝিসনা কেনো, আমরা শাড়ি লুঙি এগুলো দিব আর টিভিতে দেখাবেনা, তাই কি হয়, ও আচ্ছা, শোন, বলো খালা, তুই এখনি পল ওয়েল মার্কেটে যা, গিয়ে তোর খালুজানের জন্য পনেরো হাজার টাকার মদ্ধে একটা পান্জাবী কিনে আন,পান্জাবী দিয়ে কি হবে খালা ? আরে গাঁধা যেদিন রিলিফ দিবো, সেদিন এই পান্জাবীটা তোর খালুজান পরবে, খালা হেসে দিয়ে বল্ল, আমি গাউছিয়া থেকে দুইটা শাড়ি কিনেছি বুঝলি, তুই বলত, টিভিতে দেখাবে সোবাহান চৌধুরী এবং মিসেস সোবাহান চৌধুরী আজ গাংনি গ্রামে রিলিফ দিয়েছেন, কেমন হবে বলতো ?

দারুন হবে খালা, কিন্তু সাংবাদিক তো এখন পাওয়া যাবেনা খালা কেনো, তোমাদের মত লোক দেখানো অনেক ধনী লোক আছে এই শহরে, তারা আগে ভাগেই সাংবাদিক বুকিং দিয়ে ফেলেছে, খালা খেপে গিয়ে আমাকে ধমক দিয়ে বল্ল, শোন,তুই কালকের মদ্ধে একজন টিভি সাংবাদিক জোগার করে আনবি, আর এই নে, এই পনেরো হাজার টাকা রাখ, তোর খালুজানের জন্য একটা অপয়েট কালারের পান্জাবী আনবি, আমার শাড়ির সাথে কালার ম্যাচিং।

আমি খালার বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি, বিকেল৫টা, আমি কমলাপুর রেলস্টেশন বস্তিতে গেলাম, সেখানে ময়না নামের একটি মেয়ে থাকে,বয়স
৭বা ৮বছর হবে,ময়নাদের ঘরটা কয়েক দিন আগে ঝরে ভেঙে গিয়েছে,আমি ময়নার বাবার হাতে পনেরো হাজার টাকা দিয়ে চলে আসলাম,ময়নার সাথে কথা হয়নি,ময়না ঘুমাচ্ছে, দরিদ্র লোক গুলো যতক্ষন ঘুমিয়ে থাকে,ততোক্ষন নিশ্চিন্তে থাকে,যতক্ষন যেগে থাকে,ততোক্ষন তারা পৃথিবীর ভয়ংকর রুপ দেখে তারা।

আমি হাটতে হাটতে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এসে দাড়িয়েছি, খুধা লেগেছে,কিছু খেতে হবে,আমি হোটেল ইয়ামিনিতে ঢুকলাম, বিরিয়ানি খাচ্ছি, খাশির বিরিয়ানি, প্রতি প্লেট একশ চল্লিশ টাকা, আমার সামনের টেবিলে এক বাকা আর মেয়ে বসে খিচুরি খাচ্ছে, মেয়েটির ডান হাত নেই, বাবা খাইয়ে দিচ্ছে, মেয়েটির কাছে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, কিগো সু কন্যা, পাবেকি এমন আদর অন্য কাহারো কাছে, যে এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসে, তোমায় ভালোবেসে, বলবো ? না থাক, পরে আকার ইপটিজিং মামলা খেতে হবে, মেয়েটি কালো, কিন্তু চোখ দুটো অদ্ভুদ সুন্দর, কালো মেয়েদের সৌন্দর্য্য সুধু মাত্র উপন্যাসেই খুজে পাওয়া যায়, বাস্তবে এরা ল্যহীন, বিয়ের জন্য সব ছেলেরাই সুন্দর মেয়ে খোঁজে, আমি বিরায়ানি খেয়ে হোটেল থেকে বেড়িয়ে এসে পান খাচ্ছি, দাড়িয়ে আছি মেয়েটির চোখ দুটো আরেক বার দেখবো বলে, মেয়েটিকে নিয়ে একটা গল্প লিখবো এই ফেসবুক জগত্‍ এ, গল্প লিখার জন্য মেয়েদের চোখ হচ্ছে ভয়ংকর উপাদান।

গল্পের বিষয়:
অন্যান্য

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত