রাক্ষুসে খিদে

রাক্ষুসে খিদে

রাত্রি খিদেয় ছটফট করছে। একেবারে রাক্ষুসে খিদে। অথচ রাতে পেটভরে খেলো, দুইমাস ধরে সব লজ্জার মাথা খেয়ে প্লেটভরে ভাত নিয়ে খাচ্ছে সে।

বিয়ের প্রথম প্রথম, কয় মাস লজ্জায় খুব অল্প খেতো,কিন্তু তবুও তখন তেমন করে খিদে লাগতো না। কিন্তু আজ চারঘণ্টাও হয়নি,ভীষণ খিদে পেয়ে গেলো ।

ছয়মাস হলো তাদের বিয়ের। দশটায় খেয়েছে তারা। কাজ সেরে কিছুক্ষণ টিভি দেখে, সাড়ে এগারোটায় শুতে এলো। বারোটা বাজতেই শাহেদের নাক ডাকা

শুরু। রাত্রির কোনোভাবেই ঘুম আসছেনা। প্রথমত, শাহেদের নাক ডাকা। ঘুমে কিছুতেই মনোনিবেশ করতে পারছেনা সে। তারপর, রাত একটা হতেই

পেটের ভেতর খিদে জানান দিচ্ছে। মাত্র চারমাসে পড়েছে,পেটের বাচ্চাটার। এখনই এমন খিদেয় অস্থির হচ্ছে সে,বাকি আরো পাঁচমাসের বেশি সময়,সে

কিভাবে কাটাবে !

অবশ্য প্রতিদিন ঘুম না আসলে সে ফ্রুটস কিছু খেয়ে নেয়। শ্বাশুড়ি নিয়ম করে,তার আর শাহেদের জন্য হাতে দিয়ে দেন। শাহেদ প্রায়ই খায়না,রাত্রি খেয়ে

নেয়,আর খিদেও লাগেনা তার। কিন্তু আজ তিনি সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন,রাত্রিরও চেয়ে আনতে লজ্জা লেগেছে। এদিকে, শাহেদকেও ডেকে তার কাঁচা ঘুম

ভাঙাতে ইচ্ছে করছেনা। কি সুন্দর মুখ হা করে বাচ্চাদের মতো ঘুমুচ্ছে সে!মৃদু মৃদু নাকও ডাকছে। শাহেদ প্রতিবার দুপুরে ঘুমালে, উঠে জানতে চায়,

-এ্যাই রাত্রি, এখন কি আমি ঘুমে নাক ডেকেছিলাম?

-হ্যাঁ।

-তাহলে ঠিক আছে,ফ্রেশ ঘুম দিয়েছি। এখন বাকি দিন ঝরঝরা লাগবে।

-নাক ডাকা মানে ফ্রেশ ঘুম!? আমি তো শুনেছি অন্যকিছু…

-অন্যকিছু কি?

-শোয়ার সমস্যা, বেশি শারীরিক ওজন,শ্বাসের সমস্যা, সিগারেট ,আরো কতো কি!

-ধুর,আমার এসব কোনো সমস্যা নেই। আমার কাছে নাক ডেকে ঘুম হলো,আরামের নিশ্চিন্ত, ফ্রেশ একটি ঘুম,বুঝলে?

-হুম,বুঝলাম।

রাত্রি এপাশ ওপাশ করে,না,ঘুম আসছেনা।তবে খিদের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে বমি আসবে মনে হচ্ছে।

সে দৌড়ে বাথরুমে যায়। তার আসা যাওয়া কুটুর কাটুর শব্দে শাহেদের আরামের ফ্রেশ নাক ডাকা ঘুম ভেঙে যায়।

-কি হলো?ঘুম চোখে জানতে চায় সে।

-বাথরুম গিয়েছি।

-আচ্ছা, এবার ঘুমাও।

-ঘুম আসছেনা।

-আবার কি হলো!

-খিদে লেগেছে,খিদের ছুটে বমি আসছে।

-কি বলো!? আগে বলবেনা!!

কিছু খাওনি কেনো?

-কি খাবো, রুমে কিছু নাই। ফ্রুটের ঝুড়ি মায়ের রুমে,আজ দিতে ভুলে গেছেন মনে হয়।

-নিয়ে আসো এখন।

-লজ্জা লাগে।

-আচ্ছা, আমি নিয়ে আসছি,তুমি বসো।

-না ফ্রুটস খেতে মন চায়না। মিষ্টি কিছু খেলে বমি আরো বেশি আসবে মনে হচ্ছে।

-কি খাবে?

-ঝাল কিছু।

-আছে কিছু ঘরে?

-না।

-তাহলে আসো রান্নাঘরে যায়।

-এখন!?

-তাতে কি..

-মায়ের ঘুম ভাঙলে?

-বলবো, তার পুত্রধনের খিদে পেয়েছে,তাই অসুস্থ পুত্রবধূকে দিয়ে খানা বানাচ্ছে,হাহা..

-হুম, বলো।

-আচ্ছা আসো।

-আচ্ছা চলো,খিদেয় আর থাকা যাচ্ছেনা।

শাহেদ ফ্রিজ থেকে ডিম,কাঁচামরিচ, ধনেপাতা বের করে,পেঁয়াজ সহ কুটে ডিম ভেঙে মিক্সড করে।

-মরিচ একটু বেশি করে দিও,রাত্রি বলে।

-দুইটা দিলামতো।

-না,আরো দুইটি দাও,খুব ঝাল খেতে মন চায়।

-আচ্ছা,দিচ্ছি।

রাত্রি কড়াইয়ে তেল গরম করতে দেয়, আর শাহেদ মিক্সডটা ডেলে ঢাকনা দেয়।রান্না হয়ে গেলে,দুই পিস পাউরুটি দিয়ে রাত্রি আরাম করে ডিমভাজা খায়।

-তুমিও একপিস খাও শাহেদ,অনেক মজা হয়েছে।

-না বাপু,কিছু খেলে ভরা পেটে আবার ঘুম আসবেনা,। আর যা মরিচ দিলাম, আমি মরে যাবো।

-আর আমার খালি পেটে ঘুম আসছিলোনা।

মন খারাপ করে,রাত্রি বলে।

-কারণ,আমাদের বেবি’র খিদে পেয়েছিলো,বুঝছো? এটা স্বাভাবিক,মন খারাপের বা লজ্জার কিছু নেই।

এবার আসো,ঘুমাই।

শাহেদ, রাত্রিকে গভীর মমতায় হাত ধরে রুমে নিয়ে যায়। আর রাত্রিকে জড়িয়ে ধরে সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ে সে । শাহেদের নাক ডাকা শুরু হয়নি

বলে,আর পেটভরা খাবার থাকায় রাত্রি তৃপ্তির সাথে চোখবন্ধ করে। সাথে সাথে তারও চোখজুড়ে ঘুম এসে যায়।ঘুমের ঘোরে রাত্রি’র ঠোঁটে সুন্দর একটুকরো

হাসি ফুটে উঠে। নিশ্চয়ই সে সুখের আর ভালোবাসার একটি স্বপ্ন দেখছে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত