নিগার

নিগার

দু’বছরের বিবাহিত জীবনে প্রমানিত হলো আরনী জীবনে কখনো মা হতে পারবে না।

জীবনের সমস্ত স্বপ্ন গুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।বেচে থাকার আনন্দ টুকু যেন ম্লান হয়ে গেল তার।

কী করবে অরনী বুঝে ওঠার আগেই অরনীর জীবনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল তার শ্বশুরালয়।একমাত্র ছেলের বংশ রক্ষার তাগিদে তারা অরনীকে আর

আসিফের জীবনে থাকতে দিবে না।


আসিফ অরনীকে ভালবেসে বিয়ে করেছিল।অরনীর গায়ের রঙ শ্যামলা বলে আসিফের বাবা- মা অরনীকে পুত্রবধূ রূপে গ্রহণ করতে সম্মত ছিলেন না।

তারপরও আসিফ তার যথা সাধ্য মতো কাঠ-খড় পুঁড়িয়ে বাবা-মাকে রাজী করিয়ে অরনীকে জীবন সঙ্গী করে নিতে সমর্থ হয়েছিল।


আসিফ আর অরনীর বৈবাহিক জীবনে ছিল না কোনো দ্বন্দ্ব,কলহ কিংবা চাওয়া পাওয়ার আধিক্য।প্রগাঢ় ভালবাসায় দু’ জনার জীবন কাটছিল বেশ।


কিন্তু অরনীর বন্ধাত্বের সংবাদ আসিফের বাবা-মায়ের জন্য ছিল অনেকটাই সুখকর।অরনীকে আসিফের জীবন থেকে বিদায় করার রাস্তাটা যেন তাদের

জন্য অনেকটা প্রসস্থ হয়ে গেল।অরনীকে ডিভোর্স দিয়ে আসিফকে পুনরায় বিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত তারা জানিয়ে দিলেন।ওদিকে অরনীর আর্তনাদ আর

আসিফের নিঁখাদ ভালোবাসায় অরনী দ্বিতীয় বারের মতো ঠাঁই করে নিল আসিফের জীবনে।


এরই মধ্যে কাটলো বেশ কয়েকটি বছর। অরনী মেধাবী ছাত্রী ছিল বিধায় পড়াশোনা শেষ করে খুব সহজেই একটা ভালো চাকুরীতে ঢুকে পড়লো।আসিফ

আর অরনী দু’জনার সিদ্ধান্তে একটা কন্যা সন্তান দত্তক নিয়ে ছিল দুবছর আগেই।অরনী তার জীবনে অপূর্ণতা নিয়ে কখনো কোনো ক্ষোভ প্রকাশ করলে

বিপরীতে আসিফ অরনীকে সান্ত্বনা জুগিয়েছে।


আসিফ গত এক বছর যাবত বিভিন্ন শারিরীক সমস্যায় ভুগছে।একটার পর একটা সমস্যা লেগেই আছে।মারাক্তক কিছু না হলেও সমস্যার কারন আর

প্রতিকার মিলছেনা কিছুতেই।চোখের সমস্যা যেন তার মধ্যে প্রধান।দুমাস অন্তর অন্তর ল্যান্সের পাওয়ার বেড়েই চলেছে।অনেক পরীক্ষার পরও কিছুই ধরা

পড়ছে না।অবশেষে অসিফ অরনী এবার সিদ্ধান্ত নিল দেশের বাইরে যাওয়ার।


ভারতের চেন্নাইয়ের একটা নামকরা চক্ষু হাসপাতালে আসিফের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো।ডাক্তার আসিফের দেশেকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুলো গ্রহণ

করলেন না।পুনরায় বিভিন্ন পরীক্ষা করালেন।দুদিন বাদে পরীক্ষার ফলাফল গুলো জানানো হবে।এই ফাঁকে আসিফ আর অরনী বেশ সুন্দর সময় কাটালো।

বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ালো।মূহুর্তেই ভুলে গেল তাদের ভারতে আসার কারন।


সেদিন টি ছিল বুধবার।আসিফ অরনী রিপোর্ট আনার জন্য হাসপাতালে গেলো।তারা দুজনই আশার আলো নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলো।ডাক্তার

আসিফের সমস্ত রাপোর্ট স্টাডী করে জানালেল।আসিফের দুটো চোখই দেখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে।কিছু দিনের মধ্যই আসিফের পৃথিবী হয়ে

যাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন।


সেদিন ডাক্তারের কথায় আসিফের চাইতে বেশী কষ্ট পেয়েছিল অরনী।


অবশেষে ডাক্তারের কথাই সত্যি হল।


কিন্তু অরনী আজও আসিফের জীবনটা আলো করে রেখেছে।আজও অরনী আসিফের জীবনে পথ নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।আসলে একেই বলে সত্যিকারের

ভালবাসা।আসিফ যেমন অরনীর দুর্বল মূহুর্তে অরনীর শক্তি জুগিয়েছিল আজ অরনী তেমনিভাবে আসিফের প্রতিটি মূহুর্তের শক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে।যা

আসিফের জীবনে আলোক শক্তি রূপে কাজ করে যাচ্ছে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত