নিঝুম রাত

নিঝুম রাত

নিঝুম রাত,,আকাশে অগনিত তারার ঝিলমিল খেলা, তার মাঝে ছোট একটি চাঁদ নিজেকে বিলিয়ে দিতে আপ্রান চেষ্টা করছে,,,ঝিঝি পোকারাও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে,,,চুপি চুপি নির্মল বাতাস জানালার পর্দা ভেদ করে উষ্ণ দুটি দেহ ভিজিয়ে দিতে ব্যকুল,,,,
নিচে দুই মানব মানবি মেতে উঠেছে প্রেম লিলায়,,,

আমার আর ঐশীর দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী আজ,,,

এই জীবন মনে আছে কী তোমার?
কী মনে থাকবে,,?
আরে আমাদের প্রেমটা কিভাবে হয়েছিলো,,
ওহ,,হ্যা,,মনে থাকবে না কেনো,,এটা কি ভোলার মত কিছু,,,
একটু বলোতো কিভাবে আমাদের প্রেমটা হয়েছিলো?

১৩/০৩/২০১০
ভার্সিটি তে ভর্তি হতে গিয়ে এক অপ্সরী এর সাথে দেখা,
ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হতে অনেকেই এসেছে,,কেউ কাউকে চিনি না,সবাই অপরিচিত,,,,ভর্তির পেপারস নিয়ে দৌড়া দৌরি করছিলাম,,
হঠাৎ অপ্সরীর দিকে তাকাতেই চোখটা আটকে গেলো,,,কি মায়াবি চেহারা,,হরিণের মত চোখ,গোলাপী ঠোট,,নীল ড্রেসে নীল পরীর মত লাগছিলো,,
মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছিলো মন খারাপে ভুগছে,,যে কোনো মুহুর্তে হয়তো তার মনের আকাশে বৃষ্টি নামবে,,,
মন খারাপের কারনে মেয়েটির চল লাল টুক টুকে হয়েছিলো,,
সুন্দরি মেয়ে দেখলে যা হয় আর কি,,
ভাব নিতে নিতে এগিয়ে গেলাম,,

ও হ্যালো, কোনো সমস্যা?
জ্বি আমাকে বলছেন,,খুব নিচু স্বরে মেয়েটি উত্তর দিলো,,
জ্বি হ্যা, আপনাকেই বলছি,,
না কোনো সমস্যা নেই তো,,
না,আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনার মন খারাপ,,
জ্বি, মানে আমি ভর্তির পেপারস গুলা কিভাবে ফিলাপ করবো বুঝতেছি না,,আর কোথায় জমা দিতে হবে সেটাও জানি না,,,
ওহ,,এটা কোনো সমস্যা হলো নাকি,,আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি,,আমি থাকতে কেনো চিন্তা করবেন না,,
আমার কথা শুনে মেয়েটা যেনো হাফ ছেরে বাচলো,

আমার পেপারস এর সাথে মেয়েটির পেপারস ফিলাপ করে অফিসে জমা দিয়ে ভর্তিটা কনফার্ম করলাম,,

চলে আসতে যাবে এমন সময় মেয়েটা পিছন থেকে ডাক দিলো,,
এইযে শুনছেন?
জ্বি বলুন,,
ধন্যবাদ,
আরে ধন্যবাদ দেওয়ার কি আছে,,,একই ডিপার্টমেন্ট,তার উপরে ক্লাসমেট,বন্ধু তো বন্ধুর সাহয্য করবেই,,
না,,তার পরেও আপনি না থাকলে যে কি হতো,,
আরে বাদ দিন তো,,
বাই দ্যা বাই, আপনার নামটা এখনো জানা হয়নি?
ওহ হ্যা,আমার নাম অায়নাল হক জীবন,আপনার?(নামটা কিন্তু আমি পেপারস ফিলাপ করার সময় দেখে নিয়ে ছিলাম,তার পরেও জিগাস করলাম)
রুকসি জেসমিন ঐশী,,সবাই এশী নামেই ডাকে,,
ওহ,আচ্ছা,আমি কি নামে ডাকবো তাহলে,,
হাসতে হাসতে মেয়েটি বললো আপনার যেটা ভালো মনে হয়,,
তাহলে ঐশী নামেই ডাকি,,
ওকে ঠিক আছে,,

আচ্ছা চলুন বাহিরে যাই, ঝাল মুরি খেতে খেতে কথা বলি,,
আচ্ছা চলুন,,

বাহিরে ঝাল মুরি খেতে খেতে আরো অনেক কথা হলো,,
দুপুরের পর বিদায় দিয়ে বাসায় চলে আসলাম,,কি বোকামি কাজটা করলাম ফোন নাম্বারটা ও নিয়ে আসি নাই,,

যাই হোক আফসোছ করে কোনো লাভ নাই,,, অন্য কোনো দিন দেখা যাবে,,,

পরের দিন অরিয়েন্টেশন ক্লাস ছিলো,,সকাল সকাল গিয়ে প্রথম ব্রেঞ্চে বসলাম,,,
তো শুরু হয়ে গেছে বকবকানি স্যারদের,,
নবিনদের মাঝ থেকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য কেউ নাম দিলো না,শেষ মেস আমি উঠি গিয়ে বক্তব্য শুরু করলাম,,ভালোই সারা পাচ্ছিলাম,,
অনুষ্ঠান শেষে বাহিরে দাড়িয়ে আছি,,,
হঠাৎ ঐ মেয়ে মানে ঐশী এসে সামনে দাড়ালো ,,,
বাহ,আপনি তো অনেক ভালো বক্তব্য দেন,,
তাই নাকি,,আপনি তাহলে এই ভাঙা গলার বক্তব্য শুনছিলেন,,
কি যে বলেন,ভাঙা গলা হবে কেনো,,আপনি অনেক সুন্দর করে কথা বলেন,,
আপনার কথা বলার স্টাইল,বাচন ভজ্ঞি সব কিছুই আকর্ষনিয়,,,
অসংখ্য ধন্যবাদ,,,
আচ্ছা চলেন সামনের দিকে আগানো যাক,,
ঠিক আছে চলুন,,

দুজনেই খুব ধির গতিতে হাটছিলাম,,মাঝে মাঝে মেয়েটির মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম আর রুপ সুধা পান করছিলাম,,,প্রায় গেইটের কাছে চলে এসেছি,,হঠাৎ মেয়েটি বলে উঠলো,
আপনি কি এখনই বাসাই চলে যাবেন?
হ্যা.কিন্তু কেনো?
না মানে এমনিতেই,,
আরে বলেন সমস্যা নাই,আমরা আমরাইতো,,
মানে আমি একটু শহরে যাবো,কিছু কেনাকাটা ছিলো যদি আপনি যেতেন আমার সাথে?
ওহহহ,,আচ্ছা ঠিক আছে চলুন,,

একটা রিক্সায় চরেছি দুজন,,
মাত্র দু দিনের পরিচয়,তার উপর এত সুন্দর চেহারার মেয়ে আমার পাশে আটোসাটো হয়ে বসে আছে,
ভাবতেই মনটা নেচে উঠছে,,
কেনা কাটা শেষ,চলে আসবো ঠিক এমন সময় কি মনে করে যেনো মেয়েটার থেকে তার ফোন নাম্বার চাইলাম,,
কি যেনো একটু ভাবলো মেয়েটা, তার পর নাম্বারটা দিয়ে দিলো,,,

আমি বাসাই চলে এসেছি,,,রাতে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় গিয়ে ভাবছি,,ফোন দিবো,কি দিবোনা,,
মনের কাছে কেমন যেনো লাগলেও ষষ্ট ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছিলো আরে পাগলা ফোন টা করেই দেখ কি হয়,,
সব চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে ফোন দিলাম,,,,

হ্যালো,আসসালামুয়ালাইকুম,
ওয়ালাইকুমআসসালাম,,
আপনি জীবন তাই না,,
হ্যা ঠিক তাই,কিন্তু আপনি কিভাবে জানলেন,,?
কারন আমার নাম্বার আব্বু,আম্মু আপু দুলাভাই ছারা আর কেউ জানে না,,
কেউ যখন জানে না তখন কোন ভরসাই নাম্বারটা আমাকে দিলেন,,যদি নাম্বারটা ফ্লাস করে দেয় আমি,,,
আরে আপনি অনেক ভালো ছেলে এই কাজ কখনো করবেন না এই বিশ্বাস আছে আমার,,
এত বিশ্বাস কোথা থেকে পেলেন শুনি,,
মানুষ দেখলেই বোঝা যায়,,,
তাই,কি এমন দেখলেন,?
অনেক কিছু,,
ভালো,,
হুমমম ভালো,,
কথা বলতে বলতে ফেসবুক আইড টা ও নেওয়া হয়ে গেছে,,
অনেক রাত হয়ে গেছে তবুও কথা চলছে আমাদের,,
বাব্বাহ মেয়ে মানুষের ধৈর্য শক্তি খুব,,এর সাথে কথা না বললে বুঝতে পারতাম না,,
আচ্ছা অনেক রাত হয়ে গিয়েছে,,কাল ক্যাম্পাসে গিয়ে কথা বলবো,,এখন রাখি,,বাই,,গুড নাইট,,
গুড নাইট,,,

যথাযত পরের দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে হাজির হলাম,,তবে একটু লেটে,,
দেখি ঐশী আগে থেকেই এসে হাজির,,মুখ ভার করে দাড়িয়ে আছে,,
এইযে এতক্ষনে আপনার আসার সময় হলো,,
আর বলবেন না,সকালে জাগতে পারি নাই তাই দেরী হয়ে গেলো আসতে,,সরি, আপনি মনে হয় অনেক ক্ষন এসে অপেক্ষা করছেন,,
হুমমম,অনেক ক্ষন,,
অাচ্ছা চলুন কোথাও বসি একটু,,
ডিপার্টমেন্ট এর সামনে সান বাধানো লিচু গাছ তলায় বসলাম,,
দুজনেই গল্পে মজে গিয়েছি,,,আস্তে আস্তে আপনি থেকে তুমিতে রুপান্তর হয়েছি,,,
দুজনে অনেকটাই ফ্রি হয়ে গেছি,,
সেদিনের মত আড্ডাটা শেষ করে বাসাই চলে আসি,,
আগামি কাল ঐশীর বার্থ ডে,,তবে ঐশী আমাকে বলে নাই,,ওর আইডি কার্ড থেকে দেখেছি আমি,,
প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত কথা বলে,,ঘুমিয়ে যায়,,
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবনাই পরে যায় কিভাবে ঐশী কে উইশ করবো,,শেষ পর্যন্ত একটা কেক আর একটা গোলাপ নিয়ে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়,,দেখি ঐশি দাড়িয়ে আছে,,
হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ,,
কার বার্থ ডে,আর কাকে উইশ করছো,,
আজ তোমার বার্থ ডে মনে নাই,,
ওহহ,সরি ভুলেই গিয়েছিলাম আমি,,আচ্ছা তুমি জানলে কেমন করে আজ আমার বার্থডে,,
তোমার আই কার্ড থেকে জেনেছি,,,
মেয়েটি রিতি মত আশ্চর্য হয়ে গেছে আমার কান্ড কারখানা দেখে,,,
তার হাতে গোলাপটা তুলে দিলাম,
অনেক অনেক অনেক খুশি হয়েছিলো মেয়েটা,,
কেক কাটা শেষ করে দুজনাই সারাদিন রিক্সা করে ঘুরে দিন টা কাটিয়ে ছিলাম,,দিনটা যে এত আনন্দময় হবে আমি কখনো ভাবতেই পারি নাই,,,
আস্তে আস্তে আমাদের সম্পর্কটা আরো গারো হতে লাগলো,,,
একসময় বন্ধুত্বের সম্পর্কটা প্রমোশন নিয়ে ভালোবাসায় রুপ নেয়,,
দেখতে দেখতে অনার্স শেষ হয় যায়,,সম্পর্কের কথাটা ওলরেডি দুজনার বাড়িতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে,,
তারাও সম্মিত দিয়েছে,,আর সম্মিত দিবেই না বা কেনো,,,
পরিবারের দিক থেকে দুজনাই সমান ছিলাম,,আর সব থেকে বড় কথা আমরা নিজেরাই ভালো মন্দ বুঝতে শিখেছি,,,
তবে বাসা থেকে বলে দিয়েছে দুজনাই এম.বি.এ শেষ করে বিয়ে করতে,,
আমারা দুজনা তাতেই রাজি ছিলাম,,,
অনার্স শেষ করেই আমি একটা ছোটো ছোটখাটো চাকরি শুরি করি পাশা পাশি এম.বি.এ করছি,,
এম.বি.এ এর রেসাল্ট বের হওয়ার সাথে সাথে আমার প্রমোশন হয়ে জুনিয়র পদে উন্নীত হয়,,,

আমাদের যেদিন ১ম দেখা হয় ঐ তারিখটা ঠিক রেখে
১৩/০৩/২০১৬
তারিখে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন করা হয়,,
তার পর শুরু হয় আমাদের নতুন জীবন,,নতুন ভাবে পথ চলা,,
এভাবেই দেখতে দেখতে আমাদের দুটি বছর পূর্ন হয়,,
এবং আজ আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী,,,

বাব্বাহ তুমি এত কিছু কিভাবে মনে রেখেছো,,
বুঝতে হবে গো,,,আমি যে তোমায় আমার জীবনের চেয়ে ও বেশী ভালোবাসি তাই, সব কিছুই ভালোবাসায় লিপিবদ্ধ করে রেখেছি,,,
আর ভালোবাসাটা এবং বাধন আমাদের চিরো জীবন থাকবে,,,

নিঃশ্বেস হবে না এ বাধন,
যে বাধনে জরিয়েছি তোমায়,
নিরুপম আমি নির্মল আমি,,
পাশাপাশি রেখো গো আমায়,,
তবুও বার বার তোমায় ভালোবাসতে চাই।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত