শেষ চিঠি ২

শেষ চিঠি ২

ক্লাস শেষ করে ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে রাস্তা ধরে মেইন গেটের দিকে যাচ্ছিলাম,,
পেছন থেকে জান্নাতুল এর ডাক শুনতে পেলাম,,
এই মিরন একটু দারাও কথা আছে,,

১ম বর্ষের রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকে ডিপার্টমেন্ট এর মেধাবি ছাত্র নামে আমি পরিচিতো,,,,প্রয়োজন ছারা তেমন কারো সাথে কথা বলি না,,আর মেয়ে মানুষ সে তো প্রশ্নই আসে না,,
জান্নাতুল কে ডিপার্টমেন্ট এর ফ্রাস্ট বিউটি নামেই সবাই চেনে,,বড়লোক বাবার আদুরে কন্য হচ্ছে জান্নাতুল,,,

জ্বি কিছু বলবে,?
হ্যা বলবো,চলো ঐখানটাই বসি একটু,,
না,আজ সময় নাই আমার,বাড়িতে যেতে হবে তারা তারি,,,
ওহ,,তোমার নাম্বারটা দিবা,,,
সরি,,
কেনো,সরি কেনো,,
ইয়ে মানে,,
মানে মানে করছো কেনো,,দিতে মন না চাইলে দিতে হবে না,,,তবুও মানে মানে করে ভনিতা করতে হবে না,,,
মেয়েটা একটু রেগে গেলো আমার কথা শুনে,,
আসলে বিষয়টা যে কিভাবে বলি তোমাকে,,
আমার কেনো ফোন নাই,তাই নাম্বার দিতে পারছি না,,
কথাটা শোনার সাথে সাথে যেনো জান্নাতুল আকাশ থেকে পরলো,,

কি বলো এইসব,এ যুগে ফোন ছারা কে আছে আমাকে দেখাও তো,,
কে আছে কে নাই সেটা জানি না,তবে আমার কোনো ফোন নাই,
ডিপার্টমেন্ট এর মেধাবি ছাত্র তাই বলে তোমার এত অহংকার, এত অহংকার ভালো না,,অহংকার পতনের মুল মনে রেখো,,

রাগে গজ গজ করতে করতে মেয়েটা চলে যাই,,
আমার মনটা খুব ই খারাপ হয়ে যায়,,কিভাবে যে বোঝাবো মেয়েটাকে আমার কোনো ফোন নাই,,,
না জেনে মেয়েটা কত কথা শুনিয়ে গেলো,,আমার দুর্বলতা হয়তো সে জানে না তাই এমন মনতব্য করে গেলো,,
যাক যে যা ভাবে ভাবুক,,আমার দিক থেকে আমি ঠিক আছি এটাই সত্য,,

সেদিনের মত বাসাই চলে আসি,,দুপুরের পর থেকে সন্ধা পর্যন্ত বাবার সাথে গাছ কাটা কাজ করি,,,কাজ করা দোষের কিছু না,,দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলে কত কিছুই না করতে হয়,,অনেকে অনেক কথা বলে তবে আমি কিছু মনে করি না,,শরিলটা খারাপ হওয়াই তারা তারি ঘুমিয়ে পরি ঐদিন,,রাতে খুব জ্বর আসে,,,

শরিলে জ্বর নিয়েই
পরের দিন ক্লাসে যায়,,
লাইবেরীতে বসে বসে অংক করছিলাম হঠাৎ জান্নাতুল পাশে এসে বসে,,,

সরি মিরন,,
সরি বলছো কেনো,,
আসলে কাল তোমার সাথে ঐ ব্যবহার করাটা ঠিক হয়নি,,
আরে সরি বলার কিছুই নাই,যা সত্যি তাই বলছো,,আমি তো অহংকারীই তাই তোমার বলাটা ঠিক আছে,,
দেখ মিরন তুমি কিন্ত এখন আমাকে অপমান করছো,,আমি আসলে তোমার বিষয়ে কিছু জানতাম না তাই অমন করছি,,যখন ইভান এর কাছ থেকে তোমার বিষয়টা জানলাম তখন নিজের উপর খুব ঘৃনা হচ্ছিলো,,,
দয়া করে মাফ করে দাও আমাই,,
আরে পাগলি কি আজে বাজে কথা বলছো,,তুমি তো আর জেনে কিছু বলো নাই,,

চলো বাহিরে যায় ঝাল মুরি খেতে আজ আর অংক করতে হবে না,,,
ঠিক আছে চলো,,

মিরন তোমাকে একটা কথা বলবো যদি কিছু মনে না করো,,
আরে মনে করার কি আছে, বলো সমস্যা নাই,,,
মানে তোমার জন্য একটা ফোন কিনেছি যদি নিতে তুমি খুব খুশি হতাম,,,
আর ইউ ম্যাড?
কি?
তোমার থেকে ফোন নিবো ভাবলা কেমন করে তুমি,,
না মানে দেখো আমরা তো বন্ধু তাই ফোন দিতে তো ভাবার কিছুই নাই বন্ধু হয়ে বন্ধুকে তো গিফট করতেই পারি,,
সরি,,আমি তোমার এই গিফট নিতে পারছি না,,থাকো আমি চললাম,,,
জান্নাতুল এর মুখটা ছোটো হয়ে যায়,,মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়,,

আজ আর বাবার সাথে কাজে গেলাম না,,মনটা ও ভালো না শরিলটা ও ভালো না,,,
রাতে খাওয়া দাওয়া করে পড়া শেষ করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবছি,,,
কি আজব মেয়ে কার থেকে কি শুনছে, সরি বলতে এসেছে,,আবার আমাকে ফোন গিফট দিবে,,পাগলি কোথাকার,,
তবে মেয়েটা অনেক ভালো,,অনেকটা ছেলে মানুষি স্বভাবের,,
বড় লোকের কোনো হাভ ভাব তার মাঝে নেই,,
বন্ধু হিসেবে এমন মেয়েই পার্ফেক্ট,

কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নাই,,,সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙে,,ফ্রেশ হয়ে ক্যাম্পাসের দিকে যায়,,,
ক্লাসে কোনো মন ছিলো না তাই একটা ক্লাস করেই বকুল গাছের নিচে এসে বসে ছিলাম,,
কিছুক্ষণ পরেই জান্নাতুল ও আসলো,,,এসেই বকবক শুরু করে দিয়েছে,,,,
মিরন আজ থেকে আমি আর ফোন ব্যবহার করবো না,,,
কেনো,,?
তুমি ফোন ব্যবহার করো না তাই আমিও করবো না,,,
এই মেয়ে তুমি কি পাগলি নাকি,,
হ্যা আমি পাগলিই,,
আজব ব্যপার,আমার সাথে তোমার সাধ কি,,
কিছুই না,,
তাহলে,,
তাহলে কি,,আমি আর ফোন ব্যবহার করবো না,,,
মিরন যদি কিছু মনে না করোএকটা কাজ করবা?
কি,?
আচ্ছা আমার যদি চিঠি বিনিময় করি কেমন হয় বলোতো,,
আজব তোমার সাথে চিঠি বিনিময় করতে যাবো কেনো?
আমরা বন্ধু,চিঠি বিনিময় করতেই পারি,,
ঠিক আছে,, কিন্তু এই যুগে চিঠি বিনিময়,,কেমনে কি?
মানুষ কি ভাববে,,,
কে কি ভাববে জানি না, তবে আমি তুমি ছারা আর কেউ জানবে না,,আমি আবার আগের যুগে ফিরে যেতে চাই,,, ওকে ঠিক আছে,,
ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়ে দুজনেই বাসাই চলে যায়,,
রাতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবছি,,
কি থেকে কি হতে যাচ্ছে আল্লাহই জানে,,,মেয়েটার প্রতি কেমন যেনো একটা আসক্ত হয়ে যাচ্ছি,,,
কেনই বা মেয়েটা আমার প্রতি এত আসক্ত,,,
আমি তো তার মত ধনের দুলাল না,,
আরে ধুর আজে বাজে কি ভাবছি,,আমরা তো শুধু বন্ধু,তাই অন্য কিছু ভাবার প্রশ্নই আসে না,,

পরের দিন ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে জান্নাতুল ডাক দেয়,,
এই মিরন দারাও,,
কাছে এসে একটা রঙিন খাম ধরিয়ে দেয়,,বুঝলাম হয়তো ভিতরে চিঠি আছে,,,
উত্তরের অপেক্ষাই থাকলাম বলেই জান্নাতুল চলে যায়,,
আমিও হাসতে হাসতে বাসাই চলে যায়,,,
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খামটা খুলে চিঠিটা পড়তে শুরু করলাম,

প্রীয় বালক,,
হয়তো তুমি খুবই আশচর্য্য হচ্ছো যে এই মডার্ন যুগে আমার মাথায় চিঠির ভাবনা কি ভাবে এলো,,সেটা যেভাবেই আসুক না কেনো শুনতে হবে না,,
তবে হ্যা আমরা যত দিন বাচবো ঠিক তত দিন চিঠি বিনিময় করবো,,
হ্যা আমি কিন্তু একটু পাগলি টাইপের মেয়ে তুমি আবার সত্যি সত্যি পাগলি বলে গন্য করো না,,
আমার কিন্তু খুবই মজা লাগছে চিঠির বিষয়টা নিয়ে,,
তোমার কেমন লাগছে,কাল চিঠিতে জানিও,
ইতি তোমার উওরের অপেক্ষমান পাগলি,,

চিঠিটা পড়ে একা একা খুব হেসেছিলাম,,
প্রতি উত্তরে আমিও চিঠি লিখতে শুরু করলাম,,,

প্রীয় পাগলি,,
আমিও খুব মজা পাচ্ছি, এই যুগে যে আমরা এমন একটা উটভব কাজ করছি,, তবে সব কিছুর ক্রেডিট তোমারই,
আর হ্যা কথা দিতে পারছি না সারা জীবন তোমার সাথে চিঠি বিনিময় করতে পারবো নাকি,,,,
তবে চেষ্টা করবো তোমার সাথে যোগাযোগ রাখার,,জানিয়ো তুমি কি করবে,,,
ইতি তোমার বালক,,,

পরের দিন ক্যাম্পাসে গিয়ে চুপি চুপি ঠিঠিটা জান্নাতুল এর হাতে দিলাম,,
চিঠিটা নিয়ে জান্নাতুল বাসাই চলে যায়,,,,
রাস্তা দিয়ে হাটছি আর ভাবছি কি দিয়ে কি হচ্ছে,,তবে বিষয় গুলা নিয়ে আমি খুবই মজা পাচ্ছি,,
পরের দিন জান্নাতুল আরেকটি চিঠি দেয়,,
এভাবেই প্রতিনিয়তই আমাদের চিঠি বিনিময় হতে থাকে,,

দুজনাই অনেকটা আসক্ত হয়ে পরেছি চিঠি নিয়ে,,,
এক সময় আবেগে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কটা ভালোবাসাই রুপ নেয়,,চলতে থাকে আমাদের সেই প্রচলিত প্রথা পত্রমিতালীর প্রেম আলাপ,,,
দেখতে দেখতে অনেক টা সময় পেরিয়ে যায়,,,আর ফাইনাল পরিক্ষা ও এগিয়ে আসে,,,
একদিন ও দুজন চিঠি লেখা ছারা থাকতে পারতাম না,,
পরিক্ষা চলছে,আমাদের পত্রমিতালী ও চলছে,,,
পরিক্ষা শেষ,মনটা খুব খারাপ হয়তো আমাদের আর যোগাযোগ না ও হতে পারে,,,পরের দিন দেখা করার কথা আমাদের,

পরের দিন ক্যাম্পাসে আমি অপেক্ষা করছি কখন আসবে জান্নাতুল,,,
সেই সকাল থেকে দাড়িয়ে অাছি,,সকাল গরিয়ে দুপুর,দুপুর গরিয়ে সন্ধা,,তবুও জান্নাতুল ের দেখা পেলাম না,,,
শেষ চিঠির উত্তর আর নেওয়া হলো না,,,
পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি হঠাৎ করেই পরিক্ষার শেষের দিন জান্নাতুল তার বাবার সাথে কানাডা চলে যায়,পরে আর ফিরে আসেনি,,,
দেখতে দেখতে কত দিন হয়ে গেলো এখনো অপেক্ষা করি সেই শেষ চিঠির উওর এর জন্য,,,
তুমি হবে কি আমার,,,

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত