*ভালোবাসা এবং সন্দেহ*

*ভালোবাসা এবং সন্দেহ*

ফাতেমা : এই ওঠো নামাজ পরবে কখন। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর তোমার তো আজ তাড়াতাড়ি অফিসে যাওয়ার কথা।
ফাহিম:আর একটু প্লিজ।
ফাতেমা: না! আর একটু ও না।
,
ফাহিম চোখ খুলে দেখলো ফাতেমা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। যেনো এখনই না উঠলে আস্ত গিলে ফেলবে। তাই তাড়াতাড়ি উঠে মুখ ধুয়ে বাড়ান্দায় দাড়িয়ে ভাবতে লাগলো আজ ২ টা বছর ধরে পাগলিটা সুখে দুখে একটা মুহুর্তও তার আড়াল হয় নি। সব সময় ছায়া সঙ্গি হয়ে তার পাশে রয়েছে। বিয়েটা যদিও পারিবারিক ভাবে হয়েছে। কিন্তু ভালোবাসাটা মজবুত আর শক্ত পোক্ত
,
,
ফাহিম তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে দুজন এক সাথে নামাজ পরে নিলো। তারপর ই ফাতেমা চলে গেলো রান্না ঘরে। ফাহিম ডাক দিয়ে বললো এককাপ চা দিয়ে যেতে। কিছুক্ষন পরেই ফাতেমা মিষ্টি হাসি সহ এক কাপ চা নিয়ে হাজির। চা দিয়েই বললো তুমি খাও আমি রান্নাটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলছি। ফাহিম চায়ে মুখ লাগিয়েই ভাবলো আজ ২ টা বছর মেয়েটা একটা আবদার ও করেনি।তাছাড়া আমার যা বেতন তা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এর বাইরে বেশি কিছু কিনার সামর্থ্য খুবই সামান্য।(এই বেতনের মধ্যেই গ্রামে মা-বাবাকে টাকা পাঠাচ্ছে আর ছোট ভাইটাকে কলেজে পড়াচ্ছে। কষ্ট হলেও সংসারটা ভালোই চলছে। মা বাবাকে অবশ্য ঢাকা নিয়ে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু ওনারা গ্রামের বাড়িই থাকবে বলেছে। তাই আর জোর করেনি সে।)
,
,
চা খেয়ে কিছুক্ষন পরেই নাস্তা করে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা করে। তার পূর্বে ফাহিম ফাতেমার ললাটে আলতো করে ঠোট টা লাগিয়ে সালাম দিয়ে অফিসের দিকে রওনা হলো। ফাতেমা বাড়ান্দায় গিয়ে ফাহিমের চলার পথে তাকিয়ে রইলো। ফাহিম ও ২-৪ বার পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো। ফাতেমা আবার কেন যেনো তাড়াতাড়ি ঘরে এসে ফাহিমকে ফোন করলো। ফাহিম ফোনটা ধরে বললো।
,
ফাহিম :হ্যালো।
ফাতেমা: কথা ছিলো।
ফাহিম: কি কি বাজার আনতে হবে বলো।
ফাতেমা : বেশি বুঝ প্রতিদিন বাজার এর কথা বলি দেখে এখনও কি বাজার আনার কথা বলবো নাকি।
ফাহিম: তাহলে কি? বলো
ফাতেমা: আর কিন্তু এক মাস বাকি আজ থেকে।
ফাহিম: কি একমাস?
ফাতেমা: তুমি ভেবে নিও
এটা বলেই লাইনটা কেটে দিলো সে।
ফাহিম ভাবতে লাগলে আর একমাস পরে কি,,,
,
অফিসে যেয়েও ভাবতে লাগলো কি একমাস পর। তারপর কেলেন্ডার এর দিকে তাকালো এক মাস হিসেব করে দেখলো ১৯ আগস্ট। তার মানে ওই দিন তো ফাতেমার জন্ম দিন।
,
২ বছরের বিয়েতে জন্ম দিনে তোমন কিছু দিতে পারেনি সে। পাগলিটার আচার খুব পছন্দের তাই আচার কিনে নিয়ে যেতো স্পেশাল দিন গুলোতে।
হয়তো এতটুকুতেই ফাতেমা অনেক খুশি ছিলো। কারন এর বাইরে তার কোন চাওয়াই ছিলো না। কিন্তু এবার কিছু দিবে বলে ঠিক করলো,,,,,,,,,,,
.
.
অফিস শেষ করে বিকেল প্রায় শেষ এমন সময় বাসায় ফিরলো। বাসায় ফিরেই আদরের বউটাকে জড়িয়ে ধরলো। ফাতেমা তার নাকটা টেনে ধরে বললো হয়েছে আর আদর দেখাতে হবে না। এবার যাও গোসল করে খাবার টেবিলে আসো।
,
,
দুজন এক সাথে বসে খাবার খাওয়ার পরে বাড়ান্দায় বসে গল্প করতে করতে দিনের বাকি সময় টা কাটিয়ে দিলো।
,
,
রাতে ঘুমানোর সময় ফাহিম বললো কাল থেকে কয়েক দিন বাসায় ফিরতে রাত হবে। দুপুরবেলার খাবার টা তুমি খেয়ে নিও। ফাতেমা জানতে চাইলো কেন? ফাহিম বললো অফিসে কাজের চাপ অনেক। ফাতেমা আর কিছু না বলো ফাহিমের বুকটাকে তার বালিশ বানিয়ে ফাহিম কে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো।
,
,
আবার সকালে প্রতিদিনকার রুটিন অনুযায়ী চা, নাস্তা, একটু আদর আর ভালোবাসা তারপর বারান্দয় দাড়িয়ে চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত তাকিয়ে থাকা। কিন্তু আজ ফাতেমা লক্ষ করলো ফাহিম একটু হেটেই পিছন দিকে চলে আসছে। ফাতেমা ভাবলো হয়তে বাসায় কিছু ফেলে গিয়েছে তাই হয়তো ফিরে আসছে। ফাতেমা ডাক দিতে যাবে এমন সময় দেখলো ফাহিম পাশের অন্য গলি দিয়ে চলে গেলো ।সে ভাবলো হয়তে এখানে কাজ আছে তাই এখান দিয়ে গিয়েছে । তাই সে আর দাড়িয়ে না থেকে রুমে এসে ঘরের কাজে মন দিলো।
,
,
ফাহিম আসলো রাত ৯ টায়। দেখে মনে হলো সারা দিন অনেক কাজ করে এসেছে। একে বারে ক্লান্ত দেখাচ্ছে। আজ লক্ষ করলে ফাহিম তাকে কিছু না বলেই কাপড় চেন্জ করে গোসল করে খাবার টেবিলে বসলো। ফাতেমা ভাবলো হয়তো আর অনেক ক্লান্ত তাই এমন টা হয়েছে। যাই হোক প্রতিদিনের মতো রাতে কিছুক্ষন দুজন গল্পগুজব করে ঘুমাতে চলে গেলো।
,
,
এই ভাবেই দিন গুলো চলছিলো। কিন্তু ফাতেমা লক্ষ করলো আজকাল ফাহিম প্রতিদিনই রাত করে বাড়ি আসে। আর যাওয়ার সময় প্রতিদিন ঔ নতুন গলিটা দিয়ে যায়। কিন্তু কেন? এই উত্তর টা তার জানা নেই। ইচ্ছে করছিলো ফাহিমের কাছে জানবে কিন্তু সাহস পায় নি। এই ভাবে দিন চলছিলো। ফাহিম খুব রাত করে বাসায় ফিরতো বলে ফাতোমার মনের খটকা টা সন্দেহে পরিনত হলো। কারন ফাহিম প্রথম বলেছিলো কয়েক দিন ফিরতে লেইট হবে। কিন্তু আজ দেখছে প্রতিদিনই লেইট করে ফিরছে।
,
,
একদিন ফাহিম রাতে অফিস করে বাসায় এসে গোসল করতে ডুকলো এমন সময় তার মোবাইলে ফোন আসলো। ফাতেমা ফোনটা হাতে নিয়ে গোসলখানার কাছে গিয়ে বললো তোমার ফোন আসছে। ফাহিম বললো তুমি ধরে কথা বলে দেখো কে ফোন করেছে না হলে রেখে দাও।সে মোবাইলের দিকে লক্ষ করে দেখলো সুমনা ফোন করেছে। তার মানে ফাহিমের অফিসের কলিগ সুমনা। হয়তো কোন কাজে ফোন করেছে। তাই ফাতেমা আর ফোনটা ধরলো না। কিন্তু ফোনটা হাত থেকে রাখতে যাবে এমন সময় দেখে সুমনার মেসেজ।সে মেসেজ টা সিন করে দেখলো তাতে লেখা আছে – কাল সকাল ১০ টার সময় চলে এসো-। ফাতেমা মেসেজ টা পড়ে অবাক হয়ে গেলো। আর সন্দেহ টা তার মনে পাকা পোক্ত ভাবে স্থান নিলো। বাড়ান্দয় গিয়ে ভাবলো তাহলে কি সুমনার সাথে ফাহিমের,,,,,,,,,
ছি: ছি: কি ভাবছে সে। এমন টা নাও হতে পারে। কিন্তু সে হঠাৎ ভাবলো, ফাহিম আজকাল অনেক রাত করে বাসায় আসছে এবং যে নতুন গলিটা দিয়ে প্রতিদিন অফিসে যায় ওটার মাথায় ই তো সুমনার বাসা। তার মানে তার সন্দেহ সত্য হতে যাচ্ছে। কিন্তু সে কোন ভাবেই এটা মেনে নিতে পারছে না। ফাতেমার মনে হলো তার মাথার চারো পাশে পৃথিবীটা ভন ভন করে ঘুরছে। সে আর কিছু ভাবতে পারছে না। হঠাৎ ফাহিমরে ডাক।
ফাহিম : কই গো, আসো আমার খুব খিদা লাগছে।
ফাতেমা : আমি আজ খাবো না। ভাত, তরকারি টেবিলে রাখা আছে তুমি খেয়ে নাও।
,
কিছুক্ষন পরেই ফাতেমার কাছে আসলো ফাহিম।
ফাহিম : কি হয়েছে তোমার? শরীর খারাপ করলো নাকি।
ফাতেমা : ভালো লাগছে না। তুমি খেয়ে নাও।
,
ফাহিম আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো।
ফাতেমা ভাবতে লাগলো আর ২ দিন পরেই তার জন্মদিন কিন্তু ফাহিম এটা জানে বলে মনে হয় না। কারন অন্য বছর গুলোতে এই দিনটায় কি করবে তারা আগেই ঠিক করে নিতো। কিন্তু আজকাল তার মাঝে এমন কিছুই লক্ষ করা যাচ্ছে না। ভুলে গিয়েছে হয়তে। কারন সে তো এখন নতুন করে তার পৃথিবী সাজাচ্ছে। এই রকম নানা চিন্তা নিয়ে ফাতেমার নির্ঘুম রাত কাটলো। সকাল বেলা অপেক্ষা করতে লাগলো কখন ১০ টা বাজে।
,
আজ ফাতেমা ফাহিমের পিছু নিবে বলে ঠিক করলো। ফাতেমা দেখলো ফাহিম কে আজ খুশি খুশি লাগছে অথচ তার মন যন্ত্রনায় ভরে যাচ্ছে।প্রায় ৯:৩০ এ সে ফাতেমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেড়িয়ে পরলো। ফাতেমা ও তাড়াতাড়ি একটা বোরকা পরে বেড়িয়ে পড়লো। ফাহিমের পিছু করতে করতে সে দেখলো ফাহিম একটা বাড়ির নিচে গিয়ে দাড়ালো। ফাতেমা বাড়িটার দিকে তাকিয়ে ভালো করে দেখলো এটা তো সুমনার বাড়ি। তার মনটা কেপে উঠলো। ফাহিমের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে কাকে যেন ফোন দিলো।তার কিছুক্ষন পরই সুমনা নেমে আসলো।
,
ফাতেমা আর দাড়িয়ে থাকতে পারলো না। সুমনার প্রতিটি পদচারণ ফাতেমার মনে যেয়ে আঘাত করছে। কিছুক্ষন পর তারা দুজন একটা রিকসায় উঠলো। ফাতেমা আর দেখতে পারছে না সে তার দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে কাঁদতে লাগলো। আর ভাবলো তাহলে কি আমি মানুষ চিনতে ভুল করে ফেললাম। আর এক মুহুর্ত ও দাড়িয়ে না থেকে সে বাসায় চলে আসলো।
,
,
প্রায় দুপুর এর দিকে ফাহিম বাসায় আসলো। বাসার সামনে এসে কলিং বেল চাপবে এমন সময় দেখলো বাসা তালা মারা। সে ভাবলো হয়তো কোন কাজে ফাতেমা বাহিরে গিয়েছে একটু পরেই হয়তো চলে আসবে। তার কাছে বাসার আরএকটা চাবি ছিলো এটা দিয়ে সে রুমে ডুকলো। রুমে ডুকে বিছানায় শরীর টা এলিয়ে দিতেই কিছুক্ষন এর মধ্যেই তার ঘুম চলে আসলো।
,
,
ঘুম থেকে উঠে দেখে প্রায় ৪ টা বেজে গেলো। কিন্তু ঘরে ফাতেমার উপস্থিতি সে টের পেলো না। সে তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে ডুকলো, দেখলো ফাতেমা নেই। মনের ভিতর টা ছেৎ করে উঠলো।
সাথে সাথে ফাতেমার নাম্বারে কল করলো। ফোন ও বন্ধ দেখাচ্ছে। সারা ঘর ভালো করে খুজে দেখলো কিন্তু কোথাও পেলো না।
,
খোজাখুজি শেষে খাটে বসবে এমন সময় দেখলো খাটের পাশের টেবিলটায় একটা চিঠি আর তার পাশেই ফাতেমার ফোনটা । ফাহিম চিঠিটা পড়েতে শুরু করলো।
,
,
আচ্ছা সুমনার সাথে তোমার সম্পর্ক চলছে এটা আমায় বললে কি হতো। আমি চলে আসতাম তোমাদের মাঝখান থেকে। তাহলেই তো প্রতিদিন তোমার আর রাত করে বাসায় ফিরতে হতো না।আমাকে লুকিয়ে রিকসায় চড়তে হতো না । তবে তুমি আমার বিশ্বাস টা ভেঙ্গে ঠিক করোনি। যাই হোক নতুন সংসার সাজিয়ে সুখি হও এই কামনাই করি। আমি আর তোমাদের মাঝে থাকবো না। অনেক দুরে চলে যাচ্ছি আমাকে আর খোজার চেষ্টা করো না। ভালো থেকো, সুখি হও। আসসালামু আলাইকুম।
,
,
ফাহিমের দু চোখ বেয়ে পানি ঝরতে শুরু করলো। সাথে সাথে ফাতেমার বাবার কাছে ফোন করলো। কিন্তু ফাতেমার মা ধরলো। তিনি বললো বাবা তোমাদের মাঝে কি কোন ঝগড়া হয়েছে। ফাতেমা ঘন্টা খানেক আগে বাসায় এসে রুমের দড়জা লাগিয়ে হাউ মাউ করে কাঁদছে। ফাহিম আর কিছু না বলে ফোনটা কেটে দিয়ে সুমনার কাছে ফোন দিলো।
,
,
আর ঐ দিকে ফাতেমা কাল রাত থেকে কিছু মুখে দেয়নি। ক্লান্ত গায়ে ভেজা চোখে, মন ভাঙ্গার ক্লান্তি আর বুক ভরা যন্ত্রনা নিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়ছে সে নিজেই জানে না। হঠাৎ দড়জার প্রবল ডাক্কা শুনে তার ঘুম ভাঙ্গলো। উঠে দড়জা খুলতে যাবে এমন সময় দেখলো প্রায় রাত ৯ টা বেজে গিয়েছে।
,
দড়জা খুলতেই মা বললো সেই কখন এসে দড়জা বন্ধ করে শুয়ে আছিস আর এই দিক থেকে একটু পর পর আমরা ডাকছি শুনতে পাচ্ছিস না। ডায়নিং রুমে গিয়ে দেখ কে এসেছে।
ফাতেমা ভাবলো হয়তো ফাহিম এসেছে। কিন্তু ওকে তো একা থাকতেই দিয়ে আসলাম কি চায় ও।
কিন্তু ডায়নিং এ গিয়ে দেখলো সুমনা বসে আছে। সুমনাকে দেখেই তার মনটা রাগে ক্ষোভে মনটা ফুলে উঠলো।
,
,
ফাতেমা: আপনি? কি চাই এখানে?
সুমনা: আমার কিছু চাইনা। তোমার জন্য এটা নিয়ে আসলাম।
সুমনা ফাতেমার দিকে একটা রঙ্গিন কাগজে মোড়ানে প্যাকেট দিলো।
ফাতেমা: এটা কি?
সুমনা : আমি চলে গেলে আপনি খুলে দেখবেন।
ফাতেমা: আমার এসব লাগবে না আপনি নিয়ে যান।
সুমনা: এটা আপনার ই, আমার নয়। আর আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই।
ফাতেমা: আপনার কথা শোনার সময় আমার নেই।
সুমনা: সময় না থাকলেও শুনতে হবে। আপনি শুধু শুধু ফাহিম ভাইকে সন্দেহ করছেন। আজ আমরা রিকসায় চড়ে কোথায় গিয়েছি জানেন আপনার জন্য এটা আনতে।আর ফাহিম ভাই একমাস ধরে রাত করে বাসায় আসছে কেন জানেন? আপনার এটা কেনার জন্য তাকে ২৭ দিন ওভার টাইমে কাজ করতে হয়েছে।
। আর ওনি প্রতিদিন আমার বাসার সামনে দিয়ে কেন অফিসে যেতো জানেন। কারন ওখান দিয়ে আমাদের অফিসে একটু তাড়াতাড়ি হেটে যাওয়া যায়। তই ওনি প্রতিদিনই হেটে অফিসে যেয়ে ওনার গাড়ি ভাড়াটা বাঁচিয়েছে আপনার এটা কেনার জন্য। আর আপনি এই মানুষটাকে সন্দেহ করছেন। এটা আপনার করা ঠিক হয়নি।
,
,
এই দিকে কথা গুলো শুনে ফাতেমার দুচোখ জলে ভরে যাচ্ছে। ফাতেমা রঙ্গিন পেকেট টা খুলে দেখলো একটা সোনার হাড়। তার পাশেই কাগজে লেখা (তোমার জন্মদিন এর উপহার। ফাহিম।)
,
,
ফাতেমা জানতে চাইলো ফাহিম কোথায়। সুমনা বললো নিচে দাড়িয়ে আছে। আপনার অপেক্ষাই করছে। দাঁড়ান এটাও নিয়ে যান।
ফাতেমা: কি এটা।
সুমনা: আমার বিয়ের কার্ড। ছেলে আমেরিকা থাকে। বিয়ের পর ওখানেই চলে যাবো। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
ফাতেমা কার্ডটা হাতে নিয়ে কান্না জড়া কন্ঠে অবশ্যই বলে ফাহিমের কাছে যাওয়ার জন্য ছুটে গেলো। গিয়ে দেখলো বাড়ি দেয়ালের পাশেই দাড়িয়ে আছে। ফাতেমা লক্ষ করলো তার চোখের নিচে কালো দাগ পরে গেছে এই ১মাসের হার ভাঙ্গা পরিশ্রমে। ফাতেমা কোন কথা না বলেই ফাহিমকে জড়িয়ে ধরে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো। আর বলতে লাগলো আমায় মাফ করে দাও। আমি তোমায় ভুল বুঝেছি। ফাহিম আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। ফাতেমা বললো এটার কি দরকার ছিলো আমার তো শুধু তোমাকেই চাই।
ফাহিম : বিয়ের পর থেকে তোমায় একটা কিছুও দিতে পারিনি। তাই ওই দিন তুমি যখন বললে আর ১মাস। ওই দিন ই ভেবে রেখেছি তোমায় এটা দিবো। ওহ আরেকটা ও আছে।
ফাতেমা: আবার কি?
ফাহিম :বুক থেকে মাথাটা উঠাও দেখাচ্ছি।
ফাতেমা: উফ আবার কি বাকি আছে।
ফাহিম: এই প্যাকেট টা দেওয়া হয়নি।
ফাতেমা প্যাকেট টা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো এটার ভিতর একটা বড় আচার এর প্যাকেট। ফাতেমা মুচকি হেসে আবার ফাহিমকে জড়িয়ে ধরলো।
[ বি: দ্র: – এই রকম সন্দেহের কারনে ভালোবাসার সম্পর্ক গুলো নষ্ট হতে দিবেন না। সন্দেহ গুলোকে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে দিবেন না। আবার সন্দেহ গুলোকে ভুল হিসেবে ধরে নিয়ে সম্পর্ক গুলো নষ্ট করে দিবেন না। সন্দেহে পরে কিছু করার পূর্বে দুজন দুজনের সাথে আলোচলা করে নেওয়াই উত্তম। সব ভালোবাসার বন্ধন গুলো অমর হউক। ]

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত