পথের সাথী

পথের সাথী

গতকাল যখন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলাম……বাসের ডবোল সিটের সি -২,, সিঙ্গেল সিটে জানালার পাশেই বসছিলাম, তখন একটা সুন্দরী মেয়েকে বাসে উঠতে দেখলাম,আমার পাশ ঘেঁষে পিছনের সিটে বসতে গেল।
.
ইশ্ এই মেয়েটা যদি আমার পাশে বসতো তাহলে দূরের পথ দূর বলে মনে হতোনা। গল্প করতে করতেই যাওয়া যেতো….., তখন পিছন থেকে কেউ একজন স্বজোড়ে আমার কাদে একটা ঘুষি কি তাপ্পর দিচ্ছিলো বুঝতে পারিনি
.
-এই মিয়া আপনি বহেড়া না কি ? এতক্ষণ ধরে ডাকছি কথা কানে যায়না ?
-জ্বী -হ্যাঁ- ইয়ে-মানে -বুঝতে- শুনতে পারিনি- আবার বলেন।
-দেখো ছেলেটার অবস্থা. কানে হেডফোন গুঁজে আমার কথা শুনতে চাইছে, ইচ্ছে করছে একটা ঘুষি দিয়ে নাক মুখ ফাঁটিয়ে দেই।
.
টিকটিকির মত চোখ দুইটা দেখে মনে হল সুন্দরী আমার উপর ক্ষেপে গেছে। তার ফিসফিসানি শুনে আমিও এবার রেগে মেগে চোখ দুইটা ফুটবলের মত করে বলতে লাগলাম।
.
-হ্ হ্যালো কি বলছেন ফিস ফিস করে ? কানে হেড ফোন থাকলেও প্লে লিস্টে এখনো গান চালু করিনি।
-উরি বাপরে এ তো জাতে মাথাল হলেও তালে ঠিক আছে!
-কি বললেন ?
-না আপনায় কে কি বলবে? আমার মাথায় একটাই ঘাড় আছে, দুইটা হলে সাহস করে কিছু বলতাম।
-আপনি আমার চোখ দেখে কি বুঝতে পারছেন না যে আপনার উপর প্রচন্ড রকম রেগে আছি?
.
-ও মা আপনার চোখ আছে ? কই দেখতে পাচ্ছিনা তো!
-এই যে দিলারা বেগম আমার সাথে ইয়ার্কি করছেন নাকি ?
-ইয়ার্কি না সত্যি বলছি আপনার চোখ থাকলেইতো আপনার চোখ দেখতে পাবো,আর দেখলেই তো বুঝবো যে আপনার চোখ আমার উপর রেগে আছে।
– কি বলে এই মেয়েটা,? আমার নাকি চোখ দেখা যাচ্ছে না, তার মানে আমার চোখ নেই? তাহলে ওর মতো সুন্দরীকে আমি দেখছি কি করে? ক্রাশ গিলে যাচ্ছি কি করে ? আর এতোটা পথ পেড়িয়ে এলাম কি করে ?আমি বড় ধরণের চিন্তায় পরে গেলাম, মেয়েটা যা বলছে তা সত্যি নাকি?
.
-কি ভাবছেন?
-সত্যি আমার চোখ দেখতে পাচ্ছেন না?
-আরে হাবা সরি- বাবা আপনিতো আস্ত একটা হাব্লু! দিন দুপুরে এমন কালো চশমা পরে থাকলে আপনার চোখ কেউ দেখতে পাবে না বুঝলেন!
.
সুন্দরীর কথা শুনে আমার ভিতরের মানুষটা যেনো প্রাণ ফিরে পেলো।সাথে সাথে চশমাটা খুলে নিলাম, সুন্দরী ভাব নিতে পারে তাই থ্যাংকস না দিয়ে নিজেই ভাব নিয়ে বললাম।
.
-তো ডাকছিলেন কেন সেটা বলেন!
-ইয়ে মানে আপনার পাশের সিটে বসা যাবে ? কেউ আছে এখানে?
-না
-মানে বসতে দিবেন না ?
-আরে…” না ”মানে -> বসার মত অন্য কেউ নেই, আপনি বসতে পারেন।
অকে থ্যাংকস বলেই সুন্দরী বসে গেল আমার পাশের সিটে।
.
যাইহোক, এবার আমার সাধনা তুক্কু ইচ্ছেটুকু পূরণ হলো মনে হচ্ছে,তবে পেছনে এতো সিট থাকতে সুন্দরী আমার পাশে বসতে আসলো কেন? তবে কি সে আমার মতো আমার উপর ক্রাশ গিলছে ? যাইহোক আমার মত ক্যাবলার এমন একটা গফ জুটলে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি মনে হতো ,, ভাবতেই যে কতো আনন্দ হচ্ছিলো,তা আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা ,খুশিতে তো আমার মন বেলুনের মত ফুলে আকাশে উড়তে চাইছিল, তাই বেশ কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম….
.
-পেছনে তো আরো দুইটা সিট বাকী আছে সেখানে বসলেন না কেন?
-হ্যাঁ বসছিলাম তো কিন্তু,,, পাশে বসে থাকা মধ্যে বয়সি লোকটার মুখ থেকে কেমন বাংলা মদের গন্ধ আসছিল , আর এর পাশের সিটের ছেলেটাকে দেখে কেমন মাস্তান মাস্তান মনে হচ্ছিল ,বাসে আর কোনো সিট খালি নেই,শেষ ভরসা হিসেবে আপনার পাশের সিটটাই পারে আমায় গন্তব্যে পৌঁছাতে
.
যাইহোক, মদখোর বা মাস্তান টাইপ স্বভাব কোনোটাই আমার মধ্যে নেই।। তবে আমিতো সিগারেট খোর সেটা বুঝতে পারলে সুন্দরী নিশ্চিত আমায়ও ছেড়ে চলে যাবে । বাস যেহেতু সিলেট যাচ্ছে সুন্দরীও তো সেখানেই যাবে তাই আর সিনেমার মতো কায়দা করে.. কোথায় যাচ্ছেন নাম কি আজিবাজি লুতুপুতু মার্কা কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। আর নিজে তেকে আমি অমুক-তমুক বলার প্রয়োজনও মনে করলামনা, তবে সুন্দরীর কথার বিপরীতে মায়ের একটা কথা মনে পরে গেলো,,,, মা সেদিন বলছিলেন, তোর বয়স হয়েছে বড়ও হইছিস তাও তোর চেহারা থেকে বাচ্ছা বাচ্ছা ভাব গেলোনা। মুখের দিকে থাকালে কেমন বাচ্ছাদের মত লাগে,,
.
তাহলে কি সুন্দরী আমায় ছোট ভাই বা বাচ্ছা মানুষ ভেবেই আমার পাশে বসছে? ধুর সে যাই ভাবার ভাবুক তাতে কি আসে যায় ! চেহারায় কি আসে যায়? প্রেম বা ক্রাশের জন্য মনটাই যতেষ্ট, সে ছোট হোক কিংবা বড়। তবে এই মেয়েটার গলায় ডিগ্রি ১ম বর্ষের পরিচয়পত্র বলে দিলো সে আমার ৩বছর জুনিয়র।তাই আর দ্বিত্বীয় বারের মত মায়ের সেই কথা মাথায় আনলাম না ।একটু পর সুন্দরী বলে উঠলো
.
-উফ্ খুব গরম লাগছে আমায় একটু জানালার পাশে বসতে দিবেন প্লিজ ?
.
সুন্দরীর নাদুসনুদুস চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল কোনো এক ধনীর দুলালী হবে হয়তো , নন এসি বাসে চরতে হয়তো একটু অসুবিধা হচ্ছে, তাই কথা না বাড়িয়ে বসতে দিলাম।
একটু পর….. বাদামওয়ালার কাছ থেকে কিছু বাদাম কিনে, অর্ধেক আমায় দিলো আর অর্ধেক সে নিলো । বাসে উঠার আগে একটা পানির বোতল কিনছিলাম, যাইহোক বাদাম খাওয়া শেষে আর পানির জন্য কোথাও নামতে হবেনা…. মেয়েটি এমন দ্রুত ভাবে বাদাম ছিলে মুখে দিচ্ছিল,, ওর বাদাম খাওয়া দেখে মনে হচ্ছিল সারাদিন কিছু খায়নি বোধহয়! তাই অমন টপাটপ বাদাম সাবার করে ফেলছে,, একটু পর মেয়েটি বলল
.
-আপনার পানির বোতলটা একটু দেন না খুব তৃষ্ণা পাইছে।
-হুম নেন
বোতলের মুখটা খুলেই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি পাণ করতে থাকলো, যাক বাবা এবার আমার কি হবে? তৃষ্ণা পেলে পানি পাবো কোথায়, অর্ধেক পানি খেয়ে আবার বোতল আমায় ফেরত দিলো ,,,, এখন এই বোতলের বাকী পানিগুলা দিয়ে আমি কি করবো ? ,, মেয়েটি কলেজ পড়ুয়া,, দেখতে যেমন অপ্সরীদের মতো তেমনটাই স্মার্ট ,তবে কাণ্ডজ্ঞানহীনদের মত এমন করলো কেন ? হয়তো একটু বেশি তেষ্টা পেয়েছিল তাই অতো কিছু চিন্তা না করেই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খেয়ে ফেলছে, যাইহোক সে তো মানুষ’ই, তাই সেই পানি অনায়েসে পাণ করতে আমার আর কোনো অসুবিধা হলনা।
.
আমিও বোতলের মুখে- মুখ লাগিয়ে পানি পাণ করতে লাগলাম, পানি খাওয়া শেষে দেখলাম,, মেয়েটা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে, যেনো ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী দেখতেছে ।
.
-এই যে এমন ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন ?
-হা হা হা হা
-ওরে মা এখানে হাসির কি হলো, আমায় কি দেখতে জুকারদের মতো লাগছে ?
-আসলে তা না
-তাহলে আসলটা কি সেটা বলেন !
-আপনার ঠোটে লিপস্টিক লেগে আছে.. হা হা হা
-কি আশ্চর্য, এ কি করে সম্ভব ? আমি বরাবরই ভদ্র ও ভালো ছেলে, আর আমি তো এতক্ষণ আপনার পাশেই বসেছিলাম, আমার কিন্তু মেজাজ বিগ্রে গেলে খবর আছে, এমন ফাইজলামি করবেনা বলে দিলাম!
-বিশ্বাস না হলে বোতলের মুখে দেখেন
.
আমি বোতলের দিকে চেয়ে হতবাক হয়ে গেলাম. .তাইতো, তবে সেই লিপস্টিক যে তার ঠোট থেকে লেগেছে সেটা বুঝতে ভুল হলনা,
.
সুন্দরী বলে উঠলো দাঁড়ান আমি মুছে দিচ্ছে। তখনও বুঝছিলাম না, সে কি মুছতে চাইছে, আমার ঠোট না বোতলের মুখ,বুঝে উঠার আগেই সে তার বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে আমার ঠোটে লাগা লিপস্টিক গুলা মুছে দিলো, তখন একটু বিব্রতকর অবস্থায় পরে গেলাম, তাও এমন রোমাঞ্চকর মুহূর্তে অন্যদিকে চেয়ে রইলাম।
.
মেয়েটার অনেক প্যারা সহ্য করছি, বাসে আমার অনেক ঘুম পাচ্ছিলো, সিটে পিঠ হেলিয়ে দিতেই কখন যে চোখে ঘুম চলে আসলো বুঝতে পারিনি। হঠাৎ কারো সর্দির নাক ডাকা শব্দ শুনতে পেলাম, চোখ খুলেই দেখলাম ওর নাক চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। কি ব্যাপার ওর আবার কি হলো ?
-কি হইছে আপনার।?
-দেখেন না ওই পাশের সিটের পিচ্ছি ছেলেটা সিগারেট ফুঁকেছে ওরে বললাম সিগারেটের ধোয়ায় আমার প্রব্লেম হচ্ছে সে বলে আপনার সমস্যা হলে আপনি গাড়ি থেকে নেমে যান। কেমন বেয়াদব ছেলে বয়সে আমি ওর বড় হবো তাও এমন বলতে পারলো ।
.
সাথে সাথে আমি কন্ডাকটরকে ডেকে বললাম
-ড্রাইবারকে বলো এখানে গাড়ি থামাতে
-কেন ভাই।?
-যা বলছি তাই করো… যাও গিয়ে গাড়ি থামাতে বলো ।
গাড়ি থামতেই আবার কন্ডাকটরকে বললাম, ওই যে সিগারেট ফুঁকছে সেই ছেলেটারে গাড়ি থেকে নামিয়ে দাও এটা পাব্লিক বাস ।
-কেন ভাই ?
-যা বলছি তাই করো না হলে অকে আমি দুইটা চর দিয়ে ঘার ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিবো।
.
কন্ডাক্টরের কথায় সে নামতে চাইছিলো না। তখন আমি উঠে গিয়ে বললাম,,
.
-এই ছেলে… মেয়েটাকে তুই কি বলছিস ?
ভালো চাস তো ক্ষমা চেয়ে নে, প্রথমে সে ক্ষমা চাইতে চাইছিলোনা. বাসে থাকা অন্যরাও আমায় সাপোর্ট দিচ্ছিল, একসময় সেও ক্ষমা চেয়ে নিলো। তারপর তাকে আমি হাতে ধরে গাড়ি থেকে মধ্য রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে বললাম, আমাদের অসুবিধা হচ্ছে তাই তুই অন্য গাড়িতেই আসবি,আর হ্যাঁ মেয়েদের সম্মান করতে শিখবি! এই বলে ড্রাইবারকে গাড়ি ছাড়তে বললাম।
.
আমি আমার সিটে এসে বসতেই সে আবার এমন ভাবে কান্না শুরো করলো যেনো আবারও এমন কোনো ঘটনা ঘটে গেছে।
-কি হলো আপনি আবার কাঁদছেন।?
-টিস্যু আছে ? আমার সর্দি আর চোখের জল মুছবো
-টিস্যু ছিলোনা. কি আর করা আমি আমার পকেট থেকে রুমাল বাহির করে ওর হাতে দিলাম।
.
এবার সে রুমালে তার সব টুকু সর্দি আর চোখের জল মুছে দিয়ে বলতে লাগলো ?
-ওই ছেলেটা সিগারেট টানছিলো বলে আপনি অকে মাস্তানের মতো বাস থেকে নামিয়ে দিলেন, এখন আপনাকে বাস থেকে কে নামাবে ?
-কি বলছেন এইসব ?
.
সে আমার সিগারেটের প্যাকেটটা দেখিয়ে বললো এইটা কি ?
হায় আল্লাহ্ সিট ছেড়ে উঠার সময় পকেট থেকে পরে গিয়েছিল মনে হয়, এবার ধরা পরে গেলাম, তবে সে ছেলেটা কেবল সিগারেট টানছিলো বলেই তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেই নি, তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করছিলো বলেই তাকে নামিয়ে দিয়েছিলাম, এই কথাটা তারে আমি কি করে বুঝাই।
.
তবে কথায় আছে না, যার জন্য করবে চুরি সেই ডাকবে চুর, এই মুহুর্তে এই কথাটা যথার্ত যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে।
.
-আপনাকে কত্ত ভালো ভাবছিলাম, কিন্তু আপনিও ওদের দলে, এই কথাটা বলে সে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো
-কাঁদবেন না প্লিজ ..বলে আমি ওর মাথায় হাত দিতে চাইলাম, অম্নিতেই হাতে একটা তাপ্পর দিয়ে বলল।
-আমি কাঁদবো! তাতে আপনার কি ? বলে রুমাল দিয়ে হুস হুস করে নাক মুছতে লাগলো।
-হায় আল্লাহ্ একটু রক্ষা করো মাবুদ
.
এর পর ওর পাশে অপরাধীর মত চুপ করে বসে ছিলাম, যেনো পুলিশের ভ্যানে বসে আছি, আর আমার পাশে থানার ও’সি সাহেবা বসে আছেন, ধুর বাবা সিগারেটের প্যাকেটটাই যত্ত সব নষ্টের গুরা,,, দিলো সব ধূলিস্বাত করে…. , সে বাহিরের দিকে তাকিয়ে বাসের গতিবেগে কেমন করে গাছপালা, নদী ,ঘর ,বাড়িগুলা পেছনে চলে যাচ্ছে সেটা দেখছিলো, আর আমি ভাবছি ক্রমশই আমাদের গন্তব্যের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি,জানালা ছেদ করে আসা এলোপাথাড়ি বাতাস গুলা ওর এলো চুলে খেলা করছিলো, কয়েকটা চুল এসে আমার চুখ মুখ স্পর্শ করছিলো, কি অপূর্ব তার চুলের সুগন্ধ, তখন আমার ইচ্ছেগুলা তার প্রতিটা শ্বাস প্রশ্বাসের গন্ধ নিতে চাইছিলো, ইচ্ছে গুলা ক্ষণিকের জন্য কেমন জানি বেসামাল হয়ে যাচ্ছিলো। মনখোলে ভালোলাগার কথা গুলা বলতে চাইছিলাম কিন্ত তার আগেই গন্তব্য এসে পৌছে গেলাম, এবার ঘরে ফেরার পালা, মন চাইছিল না তাকে ছেড়ে আসতে ।
.
তখন ওর চোখে বিষণ্ণতার ছায়া দেখতে পেলাম ,তবে কি সেও আমায় ছেড়ে যেতে চাইছেনা ? আজকের পর থেকে কি আমাদের আর কখনো দেখা হবেনা ? ইচ্ছে ছিলো আরো অনেকটা অজানা পথা এক সাথেই পাড়ি দেই! কিন্তু সে যে আজ চলে যাবে! তাহলে কি সেও আর কখনো আমায় মনে রাখবেনা ? তখন ওর জিজ্ঞাসু চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছিলো সেও আমায় কিছু বলতে চাইছে । তখন সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসা একটা কথা মনে পরে গেলো -> মেয়েদের বুক ফাটে তাও মুখ ফুঁটেনা < কথাটা যদি সত্য হয় তাহলে সে আমায় কিছু বলতে চাইবেনা তাই যা করার আমাকেই করতে হবে!
.
হুট করে বলে উঠলাম
.
-ফোনটা হাতেই ছিলো এখন খুঁজে পাচ্ছিনা , মনে হয় বাসে কোথাও পরে গেছে।
-সে তখন বলল, চলেন বাসে গিয়ে দেখি,
বাসে গিয়ে খুঁজা খুঁজি করেও ফোনটা পেলাম না ।
-আচ্ছা আপনার ফোন নাম্বার বলেন কল দিয়ে দেকি কেউকি রিসিভড করে
-০১৭…………
-হ্ রিং হচ্ছে,কিন্তু কেউ তো রিসিভড করছেনাতো
.
মেয়েটি তখনও বুঝতে পারছিলোনা তার সাথে কি হচ্ছে ,,,
.
-ফোনটা তো আমার পকেটে সাইলেন্ট মুডে আছে (মনে মনে) বললাম
সে আবারও কল দিলো….রিং হচ্ছে তাকে কিছু না বলেই আমি সামনের দিকে হাটা শুরো করলাম, একটু দূরে এসে পকেট থেকে ফোনটা বের করে রিসিভড করলাম।
-ভালো থেকো…., আসছি
-আমার সাথে এমন করলেন কেন ?
-প্রথম ভালোলাগার মানুষটাকে হারাতে চাইনি, তাই এমন করলাম। হ্যাঁ নামটা কিন্ত জানা হয়নি! বাসায় গিয়ে কল দিবো, এই বলে ফোনের লাইনটা কেটে দিলাম। পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম
.
আমার সেই রুমালটা হাতে নিয়ে টিটিকির ন্যায় আমার দিকে তাকিয়ে আছে । আমি একটু হেসে আবারো সামনের দিকে হাটা শুরো করলাম..।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত