রেশমি চুড়ি

রেশমি চুড়ি

বিকেলে রাস্তা দিয়ে হাটতেছি কানে ইয়ারফোন পরোন্ত বিকেলের অপরুপ দৃশ্য সাথে মিনার ভাইর গান আহ কি সুন্দর মুহূর্ত ভোলার মতো নাহ।

হঠাৎ আমার পায়ের সাথে কি যেন আটকে যায়। ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখি একটা প্যাকেট তার ভিতরে কিছু একটা আছে। মনের মধ্যে কৌতহল জাগলো এই প্যাকেট এর ভিতরে কি আছে দেখবো। যেই ভাবা সেই কাজ প্যাকেট টা তুলে নেই এবং প্যাকেট টা খুলি তার মধ্যে এক মুঠো চুড়ি চুড়ি গুলো দেখে মনের মধ্যে একটা আলাদা ভাবে ঝাকুনি দিয়ে উঠল। চুড়ি গুলো এতো পরিচিত মনে হচ্ছে কেন এই চুড়ি গুলো কি আমি আগে কখোনো দেখছি নাহ মনে পড়ছে নাহ। কিসের জন্য মনে হলো চুড়ি গুলো আমার সাথে নিয়ে যাই তাই চুড়ি গুলো সযত্নে প্যাকেট টার মধ্যে ভরে আমার সাথে নিয়ে যাই। আপনাদের আমার পরিচয় দিতে দিতে বাসার দিকে যাওয়া যাক।

আমি রাফসান ইসলাম সাইদুল। এবার অনার্স ৩ বর্ষের ছাত্র একে বারে নিরিবিলি একটা মানুষ। কোনো বন্ধু নেই সুধু বাস্তব লাইফে। ভার্চুয়াল লাইফে আমার বন্ধুর অভাব নেই। কারন এফ বিতে কিছু লেখালেখির কাজ করে থাকি এতে অনেকেই আমার লেখা পড়ে বন্ধু হতপ আসে আমিও তাদের ফিড়িয়ে দিতে পারি নাহ বানিয়ে নেই বন্ধু। বাস্তব লাইফে যেই মেয়েদের দেখলেই হাটু কাপে আর ভার্চুয়াল লাইফে প্রাই ভাগই মেয়ে বন্ধু। একটা কথা বলতে তো ভুলেই গেছি এরি মধ্যে ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে একটা মেয়ের কবিতার প্রেমে পড়ে যাই। আজ এখানেই থাক বাসায় চলে এসেছি নিজের রুমে এসে চুড়ি গুলো একটা বক্স এর মধ্য রেখে দেই। কিছুটা সময় পড়ালেখা করে চলে যাই ভার্চুয়াল জগতে যেখানে আছে আমার জীবনের প্রথম লাভ এবং এটাই শেষ। আপনাদের বিশ্বাস হবে কিনা যানি নাহ আজ পর্যন্ত আমি তেকে দেখি নি।

তার নাম হলো (মেঘলা রহমান মিম) এফবিতেও এই নাম দেওয়া। সেই রকোম ভাবে কবিতা লিখে আমি যখোন তার কবিতা পড়ি হাড়িয়ে যাই অদুর দেশে নিজের অজান্তেই। আপনারাও দেখেন তার কবিতার কিছু লাইন।

তোমার কষ্ট অনেক হলে আমায় কিছু দিও,
আমার কিছু সুখ আছে আপন ভেবে নিও,
তোমার আকাশ #মেঘলা হলে আমায় খবর দিও,
বৃষ্টি হয়ে ঝরবো আমি আপন করে নিও।

ওর সাথে আমার পরিচয় হয় ওর একটা কবিতায় আমি কমেন্ট করে ছিলাম

“আপনার কবিতা গুলো এতো সুন্দরর হয় কেন?? এতো সুন্দরর করে কবিতা লিখেন কি ভাবে আমাকে একটু বলবেন।”

তার পরে আর কিছু বলি নি কমেন্টের রিপ্লাই ও আসে নি আসছিলো একটা রিকুয়েস্ট। আর সেইটা ছিলো মিম এর। প্রথমে দেখে অবাক হই তা পর ভাবি এটা সাভাবিক ব্যাপার রিকুয়েস্ট দিতেই পারে একসেপ্ট করি আর কিছু করি নি এমনকি একটা মেসেজ ও দেই নিহ।

তার পর পরিক্ষার কারনে ১ মাস ফেবু তে আসতে পারি নি এবং কোনো গল্প ও লেখতে পারি নি। পরিক্ষা শেষে যখোন ফেবুতে ঢুকি আমি অবাক হবো না কি করবো ভাবতে পারতে ছি নাহ।

মিম এর আইডি থেকে ৩০০+ মেসেজ আমি মেসেজ গুলা পড়ি আর নিজে নিজেই হাসির রাজ্যে হারিয়ে গেছি।

১ম মেসেজ ছিলো:-আজ ৭ দিন হয়ে গেলো রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করছেন একটা হ্যালো পর্যন্ত পাঠান নি। আপনি এতো কিপ্টা কেনো?? একটা হায়/হ্যালো দিলে কি মহা ভারত অসুদ্ধ হয়ে যেতো

আর শেষ মেসেজ টা ছিলো:-আজ একমাস হলো একটা বার আমার ম্যাসেজ এর একটাও রিপ্লাই পাই নি এতো ভাব নিয়ে চলেন কি ভাবে আর এই এক মাসে একটাও গল্প দেন নি কেন??

আমি ওর মেসেজ গুলা দেখে সাথে সাথে রিপ্লাই দিলাম। দুঃখিত আমার পরিক্ষার কারনে এই ১ মাস ফেবুতে আসতে পারি নিহ আর আপনার মেসেজ এর রিপ্লাই দিতে পারি নি সরি
সাথে সাথে মিম এর আইটি থেকে একটা মেসেজ এলো

:-it’s ok আজ থেকে আবার গল্প লিখবেন আপনার গল্প গুলা অনেক মিস করছি!!

আমি:-আমার গল্প গুলা(একটু অবাক হয়ে কারন আজ পর্যন্ত কেউ এই কথা বলেনি)

মিম:-জি আপনার গল্প ই! আপনাকে রিকুয়েস্ট দেওয়ার আগে থেকেই আপনার গল্প আমি পড়ি কখোনো রিকুয়েস্ট দেই নি যদি একসেপ্ট না করেন।যখোন দেখলাম আপনি আমার লেখা কবিতায় কমেন্ট করছেন তখোন সৎ সাহস নিয়ে রিকুয়েস্ট টা দিয়েই ফেলি।তার পর তো আপনি যানেন ই।

আমি:-ওহ তাই। এভাবেই আমাদের পরিচয় হয় দুজনার পরিচয় যানা হয়

আমি আমার ঠিকানা মিথ্যে বলেছিলাম। আর মিম যে ঠিকানা দিয়েছিলো সেইটা কি সত্যি ছিলো নাহ মিথ্যে সেটা এখোনো যানতে পারি নি। ওর সাথে কথা বলতে বলতে আমি ওর মায়ায় জরিয়ে পড়ি। আমিও বুজতে পারি মিম ও আমায় ভালবেসে ফেলেছে। প্রায় ১ বছর আমাদের ফেবুতে কথা হয়। এর মধ্যে আমাদের ফোন নাম্বার ও দেওয়া নেওয়া হয়ে যায়।

একদিন আমি মিম কে প্রপোজ করি আর মিম ও রাজি হয়ে যায়।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ফেবুতে লগইন করি। আর মিম এর স্ট্যাটাস দেখে চোখ কপালে উঠে যায়। কিছু চুড়ির ছবি আর ফিলিং সো সেড দেওয়া।

লেখা ছিলো প্রায় ৬ মাস খুজার পরে এই চুড়ি গুলো আজকে পেয়েছি কিন্তু চুড়ি গুলো হয়তো আমার কপালে ছিলো নাহ। রাস্তায় হারিয়ে যায়। তখোন আমার কুড়িয়ে পাওয়া চুড়ি গুলোর কথা মনে পড়ে চুড়ি গুলো হাতপ নিয়ে মিলিয়ে দেখি একই চুড়ি এটা কি ভাবে সম্ভব।তার মানে কি মিম আমাদের এলাকায় আছে কিছুই মাথায় ঢুকছে নাহ সাথে সাথে মিম কে ফোন

দিলাম।

আমি:- মিম তুমি এখোন কোথায় আছো??

মিম:-হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

আমি:-আমার দরকার আছে বলো তুমি এখোন কোথায় আছো? নিজের এলাকায় নাকি অন্য জায়গায়।

মিম:-তোমাকে তো বলতে ভুলেগেছি আব্বুর কাজের জন্য আমাদের রাজশাহী চলে আসতে হয়েছে।আজ ই আসছি।

আমি:-আচ্ছা জানু আমি তোমার সাথে কালকে দেখা করতে যাব রাজশাহী তে আমি রাতেই গাড়িতে উঠবো কাল বিকালে তোমার সাথে দেখা করবো?(মনে মনে আমি হাসতে ছি কারন আমার বাসা রাজশাহী তেই ওকে চমকিয়ে দিবার জন্য এই নাটক)

মিম:-কি বলো তুমি এখানে এসে কোথায় থাকবে??

আমি:-আরে তুমি চিন্তা করো নাহ আমার এক বন্ধুর বাসা আছে।

আরো টুকি টাকি কথা বলে ফোন টা কেটে দিলাম। মিম কখোনো ফেবুতে তার নিজের ছবি দেয় নি।আমিও কখোনো আমার ছবি দেই নি। কথা বলা শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ি সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাংগে আমাদের পাশের বাসায় নতুন ভাড়াটিয়াদের আজ দুপুরে আমাদের বাসায় দাওয়াত দিতে যেতে বলছে। আমিও চলে যাই তাদের বাসায় কলিং বেল বাজাতেই একটা মেয়ে দরজা খেলে দেয়।

আমি:-আন্টি বাসায় আছে?

মেয়ে:-আপনি কে?

আমি:-আমি আপনার বাসের বাসায় থাকি। আন্টির সাথে একটু কথা ছিল।

মেয়ে:-ওহ আম্মু ভিতরে আছে বলেই চলে গেল।

মেয়েটা কিন্তু অনেক মায়াবি ছিলো কিন্তু। তার চেহারার মধ্যে বিসন্নতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। এতে তার সৌন্দর্য টা ঢাকা পরে গেছে।

আন্টিরর সাথে কথা বলে চলে আসি বাসায়।

নিজের মনের মধ্যে অনেক আনন্দ হচ্ছে যাকে না দেখে ভালবেসেছি তাকে দেখতে পাব। মনের মধ্যে তুফান উঠছে। সে দেখতে কেমন হবে। লম্বা হবে নাহ খাটো। মোটা হনে না চিকন। বিভিন্ন ধরনের চিন্তা মাথার মধ্যে। বেশি কিছু না ভেবে চলে যাই ভার্সিটি তে ওখানে বন্ধু দের সাথে কিছু সময় আড্ডা দিয়ে দুপুরে চলে আসি বাসায়। কলিং বেল বাজাই একটু পর একটা মেয়ে দরজা খুলে দেয়। মেয়েটা ছিল নতুন প্রতিবেশীর মেয়ে একটা হলুদ ড্রেস পড়ে ছিলো তখোন ওকে দেখে যেকোনো ছেলে ক্রাশ খাবে। অনেক সুন্দর লাগতে ছিলো। আমি ও দিকে খেয়াল দিলাম নাহ আমার তো মিম আছে ওই আমার সব ওকে ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারি নাহ।

কোনো রকোম চলে গেল দুপুর টা। এর মধ্যে মিমের সাথে অনেক বার কথা হয়। বিকেল যতো ঘনিয়ে আসছে আমার হার্ট বিট ততো বাড়তে থাকে কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারতেছি নাহ। মিম কে একটা নদীর পাশে থাকতে বলি। আমিও আমার ফলভারেট কার্লার। একেবারে ছিম্পাল কার্লার সাদা। সাদা রং টা আমার কাছে অনেক প্রিয়। তাই একটা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে রওনা হই আর সাথে করে পড়ে পাওয়া সেই চুড়ি গুলোও নেই। আজ সেই দিন যেইটার জন্য অপেক্ষা করছি ১ টা বছর। নদীর কাছে যতোই আসতেছি ততোই হার্ট বিট বাড়তে ছে মনে হচ্ছে আমার হার্ট টা ছিড়ে যাবে। মিম কি আমাকে পছোন্দ করবে? ওকে কি আমার ভালো লাগবে? ভাপতে ভাগতে চলে আশি নির্দিষ্ট জায়গায় ওখানে দেখি আগে থেকেই একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। ওই কি মিম? ওর কাছে গিয়ে মিম বলে ডাক দেই আর ওই মেয়েটা পিছন ফিরে তাকায় আমি তো সক্ট্র খেলাম একি এতো আমাদের নতুন প্রতিবেশির মেয়ে টা তা হলে কি ওই মিম।

আমার যেই অবস্তা মিমের ও একই অবস্তা হা করে তাকিয়ে আছে। দুজনে একসাথে বল উঠলাম তুমি

(অবাক হয়ে)

আমি:-তুমি ই কি মিম?তুমিই কি আমার সপ্নের রানি?

মিম:-আমার ই তো একই প্রশ্ন তুমি ই কি

ওকে কিছু বলতে না দিয়ে হাতের চুড়ি গুলো ওর সামনে ধরে হাটু গেরে
আমার জীবনে ভালবাসা শব্দটার কোন অর্থই ছিল নাহ। ভালবাসা কি আমি তা যানতাম নাহ। একটা সময় বাচার সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।

আর ঠিক সেই সময় তুমি এলে আমার জীবনে। তুমি শিখিয়েছ আমাকে কী ভাবে জীবনকে ভালবাসতে হয়, তুমি কে? তুমি দেখতে কেমন এগুলোর কিছু না যেনে নিজের অযান্তেই কখোন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি, আর যখন বুজতে পারলাম তখন অনেক পথ অতিক্রম করে ফেলেছি, এ পথ থেকে আমি আর ফিরে যেতে পারবো না, আমি যানি না এ পথ শেষ হবে কোথায়, শুধু যানি আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই বুজতে পারি নাহ, কিছু ভাবতেই পারি নাহ, আমি তোমাকে খুব ভালবাসি। বলে থামতে দেরি নেই মিম আমার বুকের সাথে মিশে গেছে আর কান্না কন্ঠে বলে আমিও যে তোমাকে নিজের জীবনের চাইতেও ভালবেসে ফেলেছি।
শুরু হয় একটা প্রকৃত ভালবাসার যে ভালবাসায়য় খুজে না রুপ টাকা শুধু একটু সুখ খুজে। এই ভালবাসা আজীবন টিকে থাকে যতো বিপদ ই আসুক না কেন টিকে থাকবে আমাদের ভালবাসা।

………………………………………………………সমাপ্ত…………………………………………………..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত