ভালবাসা

ভালবাসা
বাজার করে, বাসায় ফিরে সুরাইয়ার হাতে দিলাম। আমার স্ত্রী সব গুলো সবজি, মাছ ও মুরগী নিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো। টিভি চালু করে সোফায় হেলান দিয়ে বসলাম। মামাতো ভাই, তাঁর স্ত্রী আজ আসছে। আমাদের থেকে অনেক দূরেই, কুমিল্লা থেকে খাগড়াছড়ি আসলো। আমার শ্বশুরবাড়ি অবশ্যই কুমিল্লায়। মামাতো ভাই আমার বয়সী। বিয়েও একই বছরে করলাম। আমাদের কারোই বাচ্চা এখনো হয়নি।
আমার গলার শব্দ শুনে মামাতো ভাই এসে পাশে বসলো। আম্মার সাথে তাঁর বউ আমার বোনের বাড়ির দিকে গেছে। সে নিজেই বলতে বলতে পাশে বসলো। আমার ছোটো বোনকে চাচাতো ভাইয়ের কাছেই বিয়ে দিয়েছি। দু-ভাই বসে বসে গল্প করছি আর টিভি দেখছি। নানান কথা বলছি বসে বসে। ছোটোবেলায় কত দুষ্টামি করতাম। আমি, “রাজু একটু বস। চা আনতেছি।” সোফা ছেড়ে উঠে গিয়ে পানি গরম করতে দিলাম। পানি গরম করার হিটারে। ৫মিনিটেই চা বানিয়ে এসে বসে দু-ভাই চা খাচ্ছি। সুরাইয়া হয়তো রান্নাঘরে। একবার উঁকি দিয়ে দেখলাম। মাছ কেটে, মুরগী কাটছে। চুলায় তখনও হাঁড়িতে চাউল বসিয়ে দিয়েছে। দু’হাত যেনো দুর্গার মতো দশ হাতের কাজ করতেছে।
আমি চা বানিয়ে এনে দু-ভাই খাচ্ছি। রাজু কথার ভিতর বলে, “আচ্ছা তুই নিজে চা বানিয়ে আনলি! অথচ তোর বউ আছে ” তাঁর কথা শুনে একটু হাসি ফেলো। হাসি দিয়ে বললাম, “কি সমস্যা এতে? আমিতো মাঝে মাঝে রান্না করেও খাওয়াই। নিজের কাজ নিজেই করি। কাপড় পরিষ্কার করা, নিজের সব কিছু গুছিয়ে রাখা ” রাজু বলে, ” তাহলে তুই বিয়ে করলি কেনো? বউ থাকতে কেউ করে এইসব? ” “আসলে এতে ভালবাসা বাড়ে। একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখায়। অনেক ভালবাসি আমার সুরাইয়া’কে ” রাজু আমার কথা শুনে একটু নড়ে বসলো। আর বলে,” একবার ঘরের কিছু করলে স্ত্রী স্বামীকে সারাজীবন এই কাজ করায়। “
আমি খেয়াল করলাম, মাও চলে আসছে। সুরাইয়া ততক্ষণে রান্না ঘর থেকে বলে, “তোমাদের চা দিবো? একটু কাজ করতেছিলাম। দিতে পারিনি। ” আমি বললাম, “লাগবে না। তুমি তোমার কাজ করো ” আমি আাবার রাজুর সাথে কথা বলতেছি,” শুন তাহলে, স্ত্রীদের সম্মান দিলে এরা তোকে মাথায় রাখবে। শ্রদ্ধা করবে আরো বেশি। আমার শিক্ষাটা আমার বাবা দিয়েছিলো। ছোটোবেলা থেকে নিজের কাজ নিজে করতে শিখিয়েছে। মায়ের উপর নির্ভর না করতে বলতো। আমি তখন দেখতাম বাবাও মায়ের কাজে সহযোগী করতো। কখনো ঝগড়া করতে দেখি নাই ” রাজু বলে, “তোর বাবা যে বউয়ের কথা মতো চলতো। সবাই বলতো তখন। আমার বাবা শুনে নাই। তাই কেউ বলতে পারে নাই ” রাজুর কথা শুনে হাসি ফেলো খুব। বললাম, “তোর বাবাকে আমিও দেখছি মামির সাথে ঝগড়া করতে। আর সেই শিক্ষা তোকে দিয়েছে। মনে হয় তুই ভাবির সাথে ঝগড়া করস! “
রাজু, “ঝগড়া হলেও হউক। পুরুষ হয়ে নারীর কাজ করার মতো লোক আমি নই ” আমি বললাম, ” পুরুষ হলেই পুরুষ হওয়া যায় না। নারীর কষ্ট, জীবন সব বুঝতে হয়। আমরা যখন সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরে আসি। একটু শান্তি পাই। আর স্ত্রীরা কোথায় যেতে পারে না। ঘরের ভিতরই থাকে। আসলে পুরুষ তাঁরাই যারা নারীর মর্যাদা দেয়। তাদের সকল কিছু বুঝে ” রাজু আবার বলে, ” বউয়ের কথা শুনা পুরুষ হয় না। ” “পুরুষ তাঁরা, যারা তাদের স্ত্রীদের ভালবাসা পায়। যাক বাদ দে জীবনে সুখী হতে স্ত্রীদের ভালবাসা দরকার। দুজনের ভিতর একে অপরের প্রতি দায়িত্ব, সম্মান, সব থাকা দরকার। তবেই সুখী হওয়া যায়। কতটা ভালবাসা আমাদের দেখবি খেয়াল কর। ওইসব পুরুষত্ব চিন্তা বাদ দে। আমাদের সন্তানও আমাদের থেকে শিখবে। তাই ভেবে চিন্তা চলিস “
রাজু, “বুঝলাম ” দুজন আরো কথা বলতেছি নানান কথা। সুরাইয়া এসে আবারও চা দিয়ে গেলো। নাস্তা দিয়ে গেলো। আমি দেখছি কাজ করতে করতে ঘাম বের হচ্ছে। রাজু থাকায় আর, আদর করে জড়িয়ে ধরতে পারি নাই। একটু ভালবাসায় জড়িয়ে ধরলে, তাঁর সকল কষ্টই ভালবাসায় পরিণত হয়ে যেতো। ভালবাসায় সংসারে সুখ হয়, পুরুষত্বই বিদ্যমান স্ত্রীকে ভালবাসায়।
গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত