বাক-হীন মেয়েটি

বাক-হীন মেয়েটি

বিয়ে বাড়ি।
সবার মুখে হাসি, বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি আনন্দ করছে, গান বাজছে, বাজি ফাটছে, আর বড় রা ব্যস্ত বিয়ের নানান কাছে ।
আর বাড়ির মেয়েরা ব্যস্ত কনেকে মনের মত সাজাতে।
আর বাড়ির মহিলারা ব্যস্ত বর কে কিভাবে গাড়ি থেকে নামাবে সেই কাজে।
সবাই বেশ ব্যস্ত কারও কোন অভিযোগ নেই কোন কাজে।
মনের আনন্দে কাজ করছে সবাই।
বাড়ির একমাএ মেয়ের বিয়ে বলে কথা।
কারও কোন ক্লান্তি নেই।
বর এখনো আসে নি, তাই তো সবাই তাড়াহুড়া করছে সব কাজ বর আসার আগেই শেষ করার জন্য।
হঠাৎ বাইরে থেকে দৌড়ে কেউ একজন এসে বললো,
” বর এসেছে বর এসেছে ”
বাড়ির মেয়েরা ছুটে গেলো গাড়ির কাছে কেউ বা বরণডালা নিয়ে আবার কেউ বা ফুল নিয়ে আবার কেউ মিষ্টি কারও হাতে শরবত কারও হাতে কাচি।
বর ভাইয়ের থেকে কিছু টাকা নেওয়ার আয়োজনও করা হয়েছে।
আয়োজনের শেষ নেই, বাড়ির একমাএ মেয়ে এই টুকু আয়োজন না করলে লোকে কি বলবে? যদিও সৎ মায়ের সংসার তবুও সৎ মা নিজের মেয়েদের থেকেও বেশি ভালোবাসে এই মেয়েটাকে।
মেয়ের বাবা যখন প্রথম স্থী মারা যাওয়ার পর ২য় বার বিয়ে করে একমাএ উদ্দেশ্য ছিলো এই মেয়েটাই।
তাই অনেকেইটাই আপন করে নিয়েছে, কখনো সৎ মেয়ে বলে মনেই করে নি এই মহিলা।
গ্রামে বেশ সুনামও আছে ভালো মানুষ হিসাবে।
বিয়েটাও হয়ে গেলো হাসি মুখেই।
যাওয়ার সময় মেয়েটা কোন কথা বললো না, শুধু সবার দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেললো।
আচ্ছা বর যানে যে মেয়েটা বোবা?
হঠাৎই প্রশ্ন জাগে নীলের মনে।
হয়তো জানে নাহ্ জেনে কেউ বিয়ে করবে নাকি?
বাড়িটা ঘুরে ঘুরে এতোক্ষন দেখছিলো সবার কর্মকান্ড।
মেয়ে -জামাই চলে যাওয়ার পর নীল লক্ষ করলো মেয়েটার বাবা একা বসে আছে।
হয় তো মেয়েটাকে বিদায় দিয়ে মনটা মানতে চাইছে না।
উঠে রাস্তার দিকে গেলো মেয়েটার বাবা।
মেয়ের যাওয়ার রাস্তাতে তাকিয়ে রইলো।
কি যেন ভেবে আবার চলে আসলো।
বিয়েটা হলো নীলের পাশের বাসার এক গ্রাম সম্পর্কে চাচার মেয়ের।
গ্রামে রফিক চাচার বেশ সুনামও রয়েছে।
দাড়িতে হালকা পাপ ধরলেও শরীরটা বেশ টনটনে।
তিন কন্যার জনক রফিক উদ্দীন।
দুই মেয়ে ছোট একটার বয়স ১০ আরেকটার ১৪ হবে আর আজকে যার বিয়ে হলো এটা তার বড় মেয়ে। নাম নীলু।
বাক শক্তি নেই জন্ম থেকেই।
তবুও বাবা আর বিশেষ করে মায়ের মানে সৎ মায়ের জন্যই কলেজের গন্ডি পার করতে পেরেছে।
তাতেই ছেলেদের ভিড় পড়ে গেছে রফিক উদ্দীনের বাড়িতে।
মেয়েটার ইচ্ছা ছিলো অনেক লেখাপড়া করার তাই ছেলের বাবা আর ছেলেকে ডেকে মেয়ের ইচ্ছার কথা বলাতেই তারা রাজি হয়ে গেলে বিয়েটা হয়েই যায়।
কাটছে দিন।
মাসের শুরুতেই বিয়েটা হলো।
নীল বাসার ছাদেই বেশির ভাগ সময় কাটায়।
একদিন দেখলো একটা গাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে নীলু নামলো।
সাথে বর নেই। নীলুকেও বেশ উদাসিন মনে হলো।
মনে হয় রাতে পর রাত না ঘুমিয়েই কাটায় এমন একটা চেহারা বানিয়েছে।
রফিক উদ্দীন বাড়ির সদর দড়জাতেই বসে ছিলো মেয়েকে দেখো মুখে হাসি নিয়ে কাছে আসলো।
আশে পাশে তাকালো, হয়তো বরকে খুজলো।
-কি রে মা জামাই আসলো না? (রফিক)
মেয়ে মাথা নেড়ে না সূচক উওর দিলো।
উওর পেয়েই মেয়ের চিহারার দিকে তাকালো।
মুখটা বেশ মলিন হয়ে গেলো বাবার।
মেয়েকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলো।
এতোক্ষন নীল বাড়ির ছাদ থেকেই বাবা আর মেয়ের বিষয়টা লক্ষ করছিলো।
তাইলে কি নীলুকে ওরা তাড়িয়ে দিলো?
ওরা কি আগে জানতো না নীলুর বিষয়ে?
নাকি সব না জেনেই বিয়ে করেছিলো বাবার অর্থ আর মেয়ের রুপ দেখে?
নীল ভাবছো তার এতোগুলো ধারনার মধ্যে কোনটা ঠিক।
থাক ভেবে কাজ নেই পড়ে সব ঠিক শুনতে পারবো।
বলেই নিচে নেমে আসলো।
ডাইরিটা খুলে একটা ছোট কাগজ বের করলো।
একটা পৃষ্টার অর্ধেকটা লেখা।
এই কাগজটা পেয়েছে নীলুর জানালার পাশে।
হুমমমমমম এটা নীলুর হাতের লেখা।
নীল এনে যত্ন করে রেখে দিয়েছে।
বেশ সুন্দর আর প্রানজল ভাষাতে কয়েকটা লাইন লেখা।
প্রায় লাইন গুলোর অর্থ খোজার চেষ্টা করে নীল।
কিন্তু বুঝতে পারে না এই কয়েকটা লাইন দ্বারা নীলু কি বুঝাতে চেয়েছে।
বিকালে আবার পৃষ্টাটা নিয়ে বসলো অর্থ খোজার আশায়।
হঠাৎই মায়ের কণ্ঠে পাতাটা লুকিয়ে ফেললো।
পাশের ঘরে মা নিজে নিজে বলছে,
“ইশ রে কি লক্ষী মেয়ে টা, এমন মেয়ের সাথে কেউ এমন করে? আরে রাখবিই না তো নিয়ে গেলি কেন? কথা বলতে পারে না সেটা তো জানিস তাই না? আর না জানলেই বা কি হলো? এতো কম বয়সে এমন ঘর ভেঙ্গে গেলো?”
মায়ের কয়েকটা কথাতেই নীল সব বুঝে গেলো।
তার মানে নীলুকে ওরা আর রাখবে না।
নীলের কেমন যেন মনটা ভালো হয়ে গেলো মায়ের এইসব কথা শুনে।
নীলের খুব মন খারাপ হয়েছিলো, যেই নীলুর বিয়ে হয় আর আজকে নীলুকে ছেড়ে দিয়েছে বলে খুব ভালো লাগছে।
নীল একটু খুশি হয়েই নীলুদের বাড়িতে গেলো।
সবার মুখ মলিন।
মা কাদছে মেয়ের পাশে বসে।
নীলুর চোখে কোন জল নেই।
নীলের কেন যেন মনে হলো নীলু খুব খুশিই হয়েছে এতে।
আসল ঘটনাটা কি নীল জানে না এটা শুধু নীলের মনে হলো।
তবে নীলুর মুখ দেখে মনে হয় না যে নীলু দুখি।
তবে চোখের নিচে একটা কালো দাগ পড়ে গেছে।
চেহারাটাও ফ্যাকাসে।
নীলুর লেখা কয়েকটা লাইনের সেই পৃষ্টাটা এখন নীলের পকেটে।
নীল একবার ভাবছে,
যেয়ে অর্থ গুলো ভেঙ্গে নিবো নাকি?
আবার ভাবছে,
না না এখন সবাই কষ্টে কাতর এখন বলা ঠিক হবে না।
নীল নীলুর দিকে জিজ্ঞাসু চাহনিতে তাকালো।
এতেই হাতের ইশারাতে ডাকলো নীলকে।
নীলু কি আমার মনের কথা বুঝতে পারছে নাকি?
যাবো? গেলে আবার কেউ কিছু মনে করবে না তো?
নাহ্ নীলু নিজেই তো ডাকলো আমি কি ইচ্ছা করে যেতে চাইছি নাকি?
বিভিন্ন দু-টানায় পড়ে গেলো।
আস্তে আস্তে নীলুর কাছে গেলো।
সামনে দাড়াতেই হাতের ইশারে নীলু বললো,
কিছু বলবে?
নীল কোন কথা না বলেই পকেট থেকে কাগজটা বের করে নীলুর হাতে দিলো।
নীলু বেশ অবাক হলো কাগজটা দেখে।
আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো কোথাও কলম আছে নাকি।
দুরে একটা কলম দেখতে পেয়ে সেটা এনেই নিচে লেখে দিলো,
” এই কয়েক লাইনের অর্থটা কি? ”
নীলের ব্যবহারে নীলু একটু মৃদু হাসি দিলো।
তারপর নীলের হাত থেকে কলমটা নিয়ে নিচে লেখলো,
” এই কয়েক লাইনের অর্থ হলো, ” আমার সামনে যে ছেলেটা আছে সে একটা গরু ”
নীলু লেখাটা দেখে ভাবলো আরে এতো বড় লেখার মানে এই টুকু আর আমি এই টাই পারি নি এতো দিন?
মাথা চুলকাতে চুলকাতে বাড়ি আসলো।
তারপর ভালো করে ভাবলো,এতো লাইনের মানে একটা লাইন?
“আমার সামনে যে ছেলেটা আছে সে একটা গরু? ”
একটু ভাবতেই চমকে উঠলো।
আরে আরে আমিই তো ওর সামনে ছিলাম আর আমাকেই গরু বললো?
এই রে কি একটা বোকা বুনে গেলাম।
আমি ভাবলাম এইটা এই লেখার অর্থ।
নিজের ভুল বুঝতে পেরে একটু লজ্জা পেলো।
লেখাটা পড়লো কিন্তু এবারও বুঝলো না।
রাতে সুয়ে আছে মাথার উপর ফ্যানটা মিনিটে কয়বার ঘোরে?
আচ্ছা ফ্যানটা কেন ঘুরছে সে কি ক্লান্ত হয় না?
সব আজগুবি চিন্তা করছে সুয়ে সুয়ে।
যা কারও নজরে পড়ে না সেটা নীলের চোখে পড়বেই। তবে সেটা কাজের না।
এই যেমন,
পাখিরা খড়-কুটো দিয়ে কেন বাসা বাধে?
ঝড় এলেই তো সব শেষ! তার থেকে মানুষের মত ঘর বানাতে পারে না?
সারাদিন আজগুবি চিন্তার মাঝে নীলুও তিন চার বার চলে আসে কিন্তু কেন আসে জানে জানা নেই ওর।
চিৎ হয়ে থাকা থেকে উপুর হয়ে শুতেই ছোট বোনটা এসে বললো,
– ভাইয়া নীলু আপু দিলো।
একটা কাগজ বাড়িয়ে দিয়ে বললো।
নীল কোন কথা না বলেই হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিতেই ছোট বোন দৌড়ে চলে গেলো।
চোখ থেকে চশমাটা খুলে ভালো করে মুছে কাগজটা আলগা করে ধরলো চোখের সামনে।
” কি এতো খুশি কেন? আর হ্যাঁ ওই কাগজ টা কই পাইছো শুনি? আচ্ছা কথাগুলোর অর্থ পারলে না?
আচ্ছা তোমাকে সবাই ভালো ছাত্র বলে কেমনে, এই সামান্য কয়েকটা লাইনের মানে যে পারে না সে আবার ছাত্র নাকি?
উওর গুলো দিও পরের চিরকুটে অর্থ বলে দিবো।”
বেশ কয়েকবার পড়লো এমন ভাবে পড়লো যেন প্রেম পত্র পাইছে।
তার পর একটা ডাইরির বুক থেকে একটা পাতা কেড়ে নিলো বেশ যত্ন করে।
উওরে কি লেখবে ভাবছে।
“তোমার জানালার পাশ দিয়ে একদিন যাচ্ছি তখনি কাগজটা পেয়েছি আর যত্ন করে রেখেছি।
আর আমি পুথিগত বিদ্যার অধিকারী তোমার এই অাদ্ধ্যাতিক কথার মানে বুঝি নি। আর খুশিটা এক অজানা কারেনই। ”
লেখা শেষে কাগজটা ভালো করে ভাজ করে বোনকে ডাকলো।
নীলের ডাক পেয়েই ছুটে আসলো।
কাগজটা ধরিয়ে দিতেই দৌড় দিলো যেন আগে থেকেই দক্ষ।
কিছুক্ষন পর বোন একটা কাগজ দিয়ে আবার দৌড় দিলো।
খুলে দেখলো,
” খুশির অজানা কারনটা খুজে বের করো।
আর ওই কাগজের অর্থ হলো,
আমি এমন একটা নীল চাই, যা দুই হাতে ছড়ালেও ফুরোবে না।
এমন একটা আকাশ চাই যে আকাশ হবে নীলে নীলময়।
যে নীলে গাইবো আমি চিরদিন গান, যদিও আমি বাক-প্রতিবন্ধী তবুও আমি গাইতে চাই সেই নীলের সুরে কারন আমি তো নীলু। ”
লেখাটা পড়ে আগের কাগজের সাথে মিলালো বেশ মিলে যাচ্ছে।
এরি মধ্যে ছোট বোনটা বার বার উকি দিচ্ছে।
আর বার বার হাত চাটছে।
হাতের ইশারাতে ডাকলো,
– কালকে আবার আপু আচ্ছা?
নীলের কথা শুনে মায়া একটু মুখটা ভার করলো।
– কি রে আপু হাত চাটছিস কেন?
– যতবার নীলু আপুর কাছে যাচ্ছি মিষ্টি দিচ্ছে তাই খাচ্ছি চেটে চেটে।
নীল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বোনটার দিকে।
– মিষ্টি খাবি আপু?
মায়া মাথা নাড়ালো।
– কালকে বাজারে নিয়ে যাবো ইচ্ছা মত খাবি আচ্ছা? যা এবার ঘুমা আপু।
মায়ার মন ভালো হলো না।
নীল একটা কাগজে কিছু একটা লেখে বললো,
“যাহ্ আপু দিয়ে আয় আর বলবি ভাইয়া মিষ্টি খেতে চাইছে ”
মায়াকে খুব খুশি মনে হলো।
মায়ার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে দেখলো,
“কেন খুশি হইছি পরে বলি? আর কালকে দেখা করবে? ”
কাগজটা পরে মায়াকে মিষ্টি দিলো তখনি মায়া বললো,
– ভাইয়াও মিষ্টি খেতে চাইছে।
মায়ার কথা শুনে নীলুর ভ্রু কুচকে গেলো।
আরও কিছু দিলো।
মায়া বেশ খুশি সাথে একটা কাগজও।
তাতে লেখা,
” বিকাল ৪,টায় পুকুর পাড়ে ”
কাগজটা পড়া হতেই মায়ার দিকে তাকালো।
ছোট হাতে মিষ্টি এগিয়ে দিলো মায়া।
– তুই খা আপু।
– সত্যি?
– হুঃমমম সত্যি।
– তুমি খুব ভালো।
মায়া বেশ খুশি। দৌড়ে মায়ের কাছে গেলো।
বিকালে যখন গেলো সাথে একটা খাতা আর কলম নিয়ে গেলো।
কারন মেয়েটা কথা বলতে পারে না।
কথা হলো নাহ্ হলো পড়া পড়ি।
নীলের জন্য মেয়ে দেখছে আফাজ উদ্দীন।
কথাটা মায়ার মাধ্যেমে নীলের কানে গেলো।
মায়ের কাছে ঘুর ঘুর করলেই মা বুঝে নেয় নীল কিছু বলবে।
– বলবি কিছু?
– হুমমমমমম
– বল
– শুনলাম বাবা মেয়ে দেখছে?
– হুমঃম ছেলে বড় হলে সে তো করতেই হয়।
– মা একটা কথা বলবো?
– বল
– নীলুদের বাড়িতে একবার খবরটা পড়িবে নাকি?
ছেলের কথা শুনে মা কেমন যেন একটা অনুভুতিতে তাকালো।
– নীলু?
– কেন মা তুমিই তো বলো লক্ষী মেয়ে।
– তারা কি মানবে?
মায়ের ইতিবাচক উওর পেয়ে নীল বললো,
– খবরটা পড়ো তারপর নাহ্ দেখা যাবে।
– কিন্তু তোর বাবা? আচ্ছা দেখছি। এবার যা কাজ আছে অনেক।
বাবা রাজী হলো প্রথম বারেই ছেলে তার কিছুই চায় না এই ২৩ বছরে, আজকে চাইছে তা কি অপূর্ণ রাখা যায়?
একটু আমতা আমতা করলো রফিক উদ্দীন।
বিয়েটা সাদামাটা ভাবেই। কারন প্রথম বার তো বেশ খরচ হয়েছে এখনো কুলিয়ে উঠতে পারে নি।
বাসর ঘরে খাতা আর কলম নিয়ে প্রবেশ করলো নীল।
হাত থেকে খাতা আর কলম কেড়ে নিলো অনেকটাই।
লেখলো,
– এবার বলো সেইদিন খুশি হয়েছিলে কেন?
– এই দিনটার জন্য।
– সারাজীবন জীবন লেখতে পারবে?
– পারবো তো।
– তাইলে লেখো
– ভালোবাসতাম হয় তো, ভালোবাসি ভালোবাসবো।
.
………………………………………….সমাপ্ত………………………………………….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত