পাগল-পাগলির ভালোবাসা

পাগল-পাগলির ভালোবাসা

সিনেমা হলে পপকর্ন খেতে খেতে,,,,,

—–পপকর্ন দে,,,,! (শাক চুন্নি। আদর করে ডাকি। ভালো নাম মিতু)
—–না, দিব না। ইইইইই আমি কিনেছি তোরে দিব কেন,,,,,??? (আমি)
—–এই তুই এতো ছোট লোক কেন,,,,?
—–তোর চেয়ে ভালো আছি।
—–যা দূরে সর কিপটা চামার।
—–কি বললি আমাকে তুই,,,,??? শাক চুন্নি
—-খবরদার আমাকে শাক চুন্নি বললে,,,,, (রাগে গজ্ গজ্ করে)
—-তো কি মিস ওয়ার্ড বলবো,,,,,?? যেই না আমার চেহারা হুহ্
—-রাগাবি না বলে দিচ্ছি সাইকো
—–ইইইই,,,,,, কি করবি,,,,??? আমি কি তোরে ভয় পাই,,,,,,????
—-শেষ বার বললাম রাগাবি না। নইলে,,,,, (রাগে ফোঁস ফোঁস করে মনে হয় ছোবল দিবে)
—–যা পারলে কিছু করে দেখা।

বলতেই,,,,,,,শাক চুন্নি আমার মাথার চুল টানতে শুরু করলো। ঘুসি মারতে শুরু করলো। সাথে চড়। আমি কি ছেড়ে দেব নাকি,,,??? আমিও চুল টেনে দিলাম। লম্বা লম্বা চুল টানতে মজা বেশি হিহি মারামারি চলছে। এমন সময় তাকিয়ে দেখি হলের সবাই মুভি না দেখে পটলের মতো চোখ করে আমাদের দেখছে। যাক এই বারের মতো ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে আসলাম। বেশ অনেক দিন কথা হয় নি। মিতু আমার স্কুল ফ্রেন্ড। এখন আমরা ভার্সিটিতে এক সাথেই । যতোই ঝগড়া করি দু’জন কথা না বলে থাকতে পারি না। মেয়েটা সবার চেয়ে আলাদা আর আমাকে সবচেয়ে বেশি বোঝে। একটু পাগলি কিন্তু খুব ভালো। আমাকে মেরে ফোন করে খবর নিবে, “তোর লাগেনি তো,,,,???” ওকে ছাড়া এক দিনও থাকতে পারি না। সব মেয়ে ফ্রেন্ডরা বাড়ির কাজ করে দেয়। আর মহারানির সব বাড়ির কাজ আমাকে করতে হয়। এই তো গত বাড়ের কথা,,,,,,

—-আমার এসাইনমেন্ট কই,,,??? (মিতু)
—-তোর টা তুই জানিস। আমি কিভাবে জানবো,,,,,!!! (আমি)
—-তুই আমার টা করিস নি,,,,,???
—-না, কেন আমি তোর কাজ সবসময় করে দিব কেন,,,,,????

মিতু আমার দিকে অনেক টাইম রসো-গোল্লার মতো চোখে তাকিয়ে চলে গেলো। কিছু বললো না। এসাইনমেন্ট আমি ঠিকই দুইটা করেছি। আমার আর মিতুর কিন্তু বলিনি। পাগলিটাকে রাগাতে অনেক ভালো লাগে। অনেক সময় পর,,,,,,,

—–এসাইনমেন্ট কি জমা দেয়া শেষ, না দিবি,,,,??? (মিতু)
—–আমারটা তো সেই কখন জমা দেয়া শেষ।
—-আর আমারটা জমা দেস নাই,,,?
—-তোরটা তো আমি করিই নাই
—-ও,,,,, জমা দেয়া শেষ।

—-আমি কি বলি আর তুই কি বলিস,,,!! তোরটা তো আমি করিই নাই।
—-তাহলে তোর চোখ লাল কেন,,,,? সারা রাত ঘুমাস নি কেন,,,,??
—-না মানে ঘুম আসে নি।
—–আমি জানি তুই আমার এসাইনমেন্ট জমা দিয়ে দিছিস। সারা জেগে কমপ্লিট করেছিস না,,,??? এখনো চোখ লাল। বলে মিতু কেঁদে দিলো।
—-তুই কিভাবে বুঝলি,,,,??? (আমি অবাক হয়ে)
—-এই টুকু বুঝি তো তোর বেষ্ট ফ্রেন্ড (মিষ্টি হাসিতে) হুম সত্যিই এই পাগলির মতো করে কেউ আমাকে বোঝে না। চোখ দেখেই সব বুঝে যায়। কিছু দিন পর,,,,,

—-এই তুই ওই মেয়েটার সাথে কি করিস,,,??? (মিতু)
—-যাই করি তোর কি,,,,???
—-আমার কি মানে,,,??? আমার অনেক কিছু। ওর সাথে কথা বলবি না।
—-বললে কি করবি,,,,???
—-ঘুষি দিয়ে তোর নাক ফাটাবো
—-এই শাক চুন্নি দূরে যা
—-যাবো না। কি করবি,,,,???
—-তোকে পার্সেল করে শশুর বাড়ি পাঠিয়ে দেব।
—-ওই খানে কি তুই থাকবি,,,???? (মন খারাপ করে)
—-না না। আমি অনেক বছর তোর ঘুষি খেয়েছি আর না। তুই গেলে আমি বাঁচি। মিতু কিছু বললো না। ঝগড়া করলো না। চলে গেলো একবার পিছন ফিরে বললো না দারা তোর খবর আছে। মিতু কাঁদছে তাই পিছনে তাকায় নি। কারনটা অজানা। বেশ কিছু দিন পর,,,,,,,,,,

—-কি শুনলাম আমি,,,,!!! তোর নাকি বিয়ে,,,???? (আমি)
—-আমি গেলে তো তুই বাঁচিস তাই চলে যাব। (ভারি কন্ঠে) আমি চুপ। কেন জেন অনেক খারাপ লাগছে আমার। খুব কষ্ট হচ্ছে।
—-তুই কাঁদছিস কেন,,,,??? কান্না থামা নাহলে আমিও কেঁদে দিবো (মিতু)
—-তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি,,,? পারবি আমাকে ছাড়া থাকতে,,,,??
—-বিয়ে হলে তো যেতেই হবে।
—-না, তুই যাবি না। আমি যেতে দেব না
—-বিয়ের পর আসবো তো দেখা করতে। আমি আরো জোরে কাঁদতে শুরু করলাম।
—-শাক চুন্নি আমি না তোকে অনেক ভালোবাসি। তুই গেলে আমি মরে যাব । (আমি)
—-আজকে তো ঠিক করে নামটা বল।(মিতু)
—-মিতু, “আমি কি তোকে সারা জীবন আমার শাক চুন্নি বলে ডাকতে পারি,,?”

কোন শব্দ হলো না। অনেক উষ্ণতা অনুভব করছি। মিতু আমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদছে। আমি আমার শাক চুন্নিকে আমার করে পেয়েছি। অতঃপর আমার মন বলে উঠলো। হ্যাঁ আমি পাইলাম। আমি ইহাকে নিজের করে পাইলাম।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত