ভালোবাসা

ভালোবাসা
১৪ বছর বয়সে প্রথম প্রেমে পরেছিলাম। প্রেমে পরেছিলাম নিজেরই এক কাজিনের যে কিনা আমার চেয়ে ১১ বছরের বড়। হয়ত তখন ভালোবাসার মানে টা বুঝতাম না। কিন্তু কেন যেনো তাকে দেখলেই অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠতো। মন ভালো হয়ে যেতো। বন্ধুর মতন সে আমাকে আগলে রাখত। সময় দিত। আমি যে তাকে ভালোবাসি হয়তো সে তা বুঝতে পেরেছিল। আর তাই আমাকে প্রতি নিয়তই বুঝাতো যে এগুলি আবেগ ছাড়া আর কিছুই না। আমি হাল ছেড়ে দেইনি। একাই ভালোবেসে যেতে লাগলাম। এভাবেই সময় কাটতে লাগল। যখন ১৮ তে পা দিলাম। তখন তাকে মনের কথা বলেই দিলাম। বলেছিলাম ভালোবাসি ভালোবাসি তোমাকে। সে সেদিন খুব হেসেছিল।
হাসি থামিয়ে কাছে বসিয়ে মাথায় হাত রেখে বলেছিল,  তুমি এখনো অনেক ছোট, ভালোবাসা বুঝার বয়স তোমার হয়নি। আর আমি তাকেই বিয়ে করবো যাকে পরিবার বলবে। প্রেমের বিয়ে আমি বিলিভ করিনা। যখন বড় হবে আবেগ কেটে যাবে। আমাকেও ভুলে যাবে। আর আমি চাই প্রতিষ্টিত কাউকে বিয়ে করতে। আমার স্ত্রী যে হবে সে রুপবতী না হলেও গুনবতী আর প্রতিষ্টিত হতে হবে। বড় লোক হতে হবে।” কথা গুলি শুনে সেদিন আর কিছুই বলিনি, চলে এসেছিলাম। এরপর আর কখনোই তার সামনে যাইনি। এর কয়েক বছর পরেই খবর পেয়েছিলাম সে পালিয়ে বিয়ে করেছে। যেই মেয়েকে বিয়ে করেছে মেয়ে তার চেয়ে বয়সে বড় কিন্তু নামকরা ডাক্তার আর বেশ বড় ঘরের। শুনে কষ্ট পাইনি। ভালোবাসা কমে যায়নি। তার সাথে এর পর আর কখনোই দেখা হয়নি। কিন্তু এমন কোনো দিন ছিল না যেদিন আমি একবার হলেও তাকে স্মরণ করিনি।
এক তরফা ভালোবাসা কেনো এত তীব্র ছিল আমি জানিনা। কিন্তু অন্য কাউকে ভালো বাসতে পারিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জেদ চেপে বসে। মনকে শক্ত করে ক্যারিয়ার গড়ার পণ করি। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাই। আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই হয়তো সফল হতে পেরেছিলাম। যখন সফল হলাম তখন তার সামনে গিয়ে দাড়াই। নিজ থেকেই দেখা করতে সেই বাড়িটায় যেখানে শৈশবে প্রথম ভালোবাসার মায়ায় জড়িয়ে ছিলাম। বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটা অনেক বেশি মায়াবী। বুঝতে বাকী রইলো না মেয়েটা আমার কাজিনেরই। মেয়েটাকে আদর করতেই দেখলাম আমার সেই প্রথম ভালোবাসার মানুষটি এগিয়ে আসছে। চিনতে কষ্ট হলো না। তবে চেহারার সেই জৌলস আর নেই। নেই সেই আকর্ষনীয় ভাব। চোখের দিকে তাকাতেই আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,
– তুমি তানহা না? আমি হেসে এগিয়ে গিয়ে বললাম,
– হ্যা আমি তানহা।
– অনেক বড় হয়ে গেছো, কত বছর পর তোমাকে দেখলাম।
– ১৪ বছর পর।
– হুম তো কেমন আছো
– ভালো।
– তোমাকে নিয়ে তো অনেক গর্ব হয় তানহা তুমি যোগাযোগ না রাখলেও আমি কিন্তু তোমার খোজ নিয়েছি৷ শুনলাম দেশের বাইরে থেকে এসেছো। প্রতিষ্ঠিত হয়েছ।
– হুম কিন্তু তোমাকে পাইনি। সেই দিক থেকে আমি ব্যর্থ।
– এর মানে কি তানহা তুমি এখনো?
– হ্যা এখনো তোমাকেই ভালোবাসি।
১৪ বছর আগে হয়তো ভালবাসা কি বুঝিনি। হয়তো তোমার অবহেলা ও বুঝিনি। কিন্তু ভালবাসা মেকি ছিল না। আজও দূরে থেকেও না দেখেও এক তরফা ভাবে ভালো বেসে গিয়েছি। জানি এর কোনো ফিউচার নেই তবু ভালোবেসে গেছি তোমাকে প্রমাণ করে দিলাম এটা আমার আবেগ ছিল না যা বয়সের সাথে কেটে যাবে। আমার বাবার টাকা নেই সে জন্য আমাকে ভালোবাসো নি নাকি আমি ছোট প্রতিষ্ঠিত ছিলাম না এই জন্য?
– তানহা আমি আসলে ভাবতাম তুমি মজার ছলে ঐসব বলতে!
– যাই হোক বাদ দাও। তুমি কেমন আছো তোমার ডাক্তার স্ত্রী কোথায়?
– তানহা উপহাস করছো?
– উপহাস কেনো করবো।
– কারন আমার স্ত্রী অনেক আগেই আমাকে ছেড়ে ২য় বিয়ে করে নিয়েছে।
– তুমি তাহলে মেয়েকে নিয়ে থাকো?
– হ্যা মেয়ে ছাড়া আমার কেউ নেই। বড় লোক বাবার সুন্দরী মেয়ে দেখে প্রতিষ্ঠিত বলে না ভেবেই বিয়ে করে যে ভুল আমি করেছিলাম তার প্রায়শ্চিত্ত করছি। সেদিন তোমার ভালোবাসা যদি একবার বুঝতে পারতাম তাহলে আজ আমার দিনটা হয়ত এমন হতো না। আমায় মাফ কর।
– ঠিকাছে করলাম। আমি সেদিন আর কোনো কথাই বলিনি। চলে এসেছিলাম। কিছু ভালোবাসা একতরফাই থাকুক। তবু ভালোবাসা বেচে থাকুক।
গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত