অনুভূতির অনুরণন

অনুভূতির অনুরণন

বৃষ্টির সময় জানালার গ্রিল ধরে দাড়িয়ে বাহিরের ঝুম বৃষ্টি দেখতে খুব ভাল লাগে।তার চেয়েও বেশী ভাল লাগে বৃষ্টির সময় এক ছাতার নীচে ঘেষাঘেষি করে হাঁটা

কাপলদের।পৃথিবীতে এর চেয়ে রোমান্টিক দৃশ্য মনে হয় আর দ্বিতীয়টা নেই।আমাদের বাসাটা পার্কের কাছে হওয়ায় এই দৃশ্য দেখার সুযোগটাও বেশ পাই আমি।

আকাশে বিদ্যুৎ চমকালেই বৃষ্টি দেখার লোভে গায়ে একটা মোটা শাল জড়িয়ে জানালার কাছে বসে পরি।।বৃষ্টির সময় জানালা দিয়ে আসা ঝির ঝির বাতাস আমার

শরীরকে গরম কালেও হীম শীতল করে দিয়ে যায় বলেই জানালার কাছে বসে বৃষ্টি দেখলে আমাকে গায়ে শাল জড়াতে হয়।
.
জানালায় বসে কাপলদের দেখতে দেখতে আমারো পাশের বাসার শ্যাম বর্নের ছেলেটার সাথে এক ছাতার নীচে বৃষ্টিতে হাঁটতে ইচ্ছে হয়।ছেলেটাও আমার মত বৃষ্টি

পাগল সম্ভবত….। তাই হয়তো সেও জানালার কাছে বসে বৃষ্টির সময়। আমি একবার ঐ কাপলদের দেখি আরেকবার শ্যামবর্নের ছেলেটাকে।ফ্ল্যাট বাসার বাতায়নে বসে

থাকা ছেলেটার চোখে যদি কখনো চোখ পড়ে যায় তাহলে আমি আমার হৃদমাঝারে

বৃষ্টির টুপ টাপ শব্দের ন্যায় শব্দ অনুভব করি।হেমন্তের শেষান্তে শীত চলে আসবে।তখনতো আর বৃষ্টি হবেনা।তাই ছেলেটাকে এই শরতেই নিজের মনের কথা জানাতে

হবে।এমনিতেও শরতেতো আর বর্ষার মত ঝুম বৃষ্টি হয়না।একদিন ছেলেটাকে ডাকলাম।কি জানি শুনলো কিনা!কোন সাড়া দিলনা।হয়তবা শুনেনি।কেন জানি আর

কোনদিন ডাকতে ইচ্ছে হলনা।আরেকদিন কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে দেখলাম সে দোকান থেকে বেরুচ্ছে।আমি হাত ইশারায় ডাকলাম।সে কাছে আসলো

ঠিকই কিন্তু কাছে আসার পর দেখলাম যে এটাতো সে না।কিন্তু পাঠক বিশ্বাস করুন ছেলেটা দেখতে ঠিক বাতায়নে বসে থাকা সেই ছেলেটার মতই যার সাথে আমার

এক ছাতার নীচে হাঁটতে ইচ্ছে হয়।লজ্জা পেয়ে আমি সরি বলে বাসায় ফিরে গেলাম।মোবাইলে টুং করে আওয়াজ হল।হাতে নিয়ে দেখি আননোন নাম্বার থেকে একটা

মেসেজ।

“ছেলেটা কি তোমার বয়ফ্রেন্ড?”
.
আমি মেসেজ না লিখে ডিরেক্ট কল দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম
-কে অাপনি?
ওপাশ থেকে একটা ভরাট গলার পুরুষালী কন্ঠ উত্তর দিল
-তুমি করে ডাক নইলে বলব না।
-অাচ্ছা বাবা…এবারতো বল তুমি কে?
-একটু দক্ষিনের জানালাটায় আসবে?বৃষ্টির সময় যেখানে সময় কাটাও।
-এখনতো বৃষ্টি নেই তাহলে ওখানটায় কেন যাব?
বরাবরতো আকাশ থেকে টুপ টাপ করে ঝড়ে পড়া সেই বৃষ্টি দেখতেই জানালায় আস যে বৃষ্টির জন্য তুমি অপেক্ষা করে থাক।আজ না হয় সেই বৃষ্টি দেখতেই এলে যে বৃষ্টি তোমার জন্য অপেক্ষা করে।
.
আমি ফোন কানে দৌড়ে জানালার কাছে গেলাম।গিয়ে দেখি পাশের ফ্ল্যাটের সেই ছেলেটা জানালায় বসা।তার কানে মুঠোফোন।আমি জিজ্ঞাসা করলাম
-তুমি কি আমাদের পাশের ফ্ল্যাট থেকে বলছ?
-হুম

-তুমিতোএকটা জলজ্যান্ত মানুষ।তাহলে নিজেকে বৃষ্টির সাথে তুলনা করলে কেন?
-কারন আমার নাম বাদল।বাদল মানে কি জানতো?
-হুম জানি।বৃষ্টি।আচ্ছা তুমি বুঝি খুব বৃষ্টি ভালবাস?
-হুম বাসিতো।তবে যে বৃষ্টি আকাশে থাকে সে বৃষ্টি নয়।
আমি খুব উৎসুক গলায় জিজ্ঞাসা করলাম
-আকাশ ছাড়াও বৃষ্টি অন্য কোথাও থাকে নাকি?
-হুম থাকেতো।আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে।
আমি তার কথা শুনে প্রান খোলা হাসিতে মত্ত হলাম আবার অবাকও হলাম এই ভেবে যে আমার নাম যে বৃষ্টি ছেলেটা সেটাও জানে।সে আমার হাসির ফাঁকেই বললো-

জানো,আমি রোজ বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করি শুধু তুমি জানালায় আসবে আর তোমায় দু চোখ ভরে দেখব বলে।আর সেজন্য আকাশ কাঁদলে আমার মন আনন্দে নেচে

উঠে আর আকাশ হাসলে আমার মন খারাপ হয় ভীষন।মাঝে মাঝে মনে হয় সারা বছর বর্ষা কেন থাকেনা?

ওহ আচ্ছা।কখন থেকে একা একাই বক বক করছি।বললে নাতো ছেলেটা কি তোমার বয়ফ্রেন্ড?
-বললে বিশ্বাস করবে কিনা জানিনা।ছেলেটাকে দূর থেকে দেখতে তোমার মত লাগছিল বলেই ডেকেছিলাম।আমি তোমার সাথে প্রবল বৃষ্টিতে এক ছাতার নীচে হাঁটতে চাই বাদল।
-তুমি চাইলে তাই হবে।কোন একদিন দুইজন বৃষ্টিমানব মানবী একটা ছাতার নীচে এক আকাশ বৃষ্টি থেকে নিজেদের গা বাচিয়ে হাঁটব।
.
সেদিন থেকেই বাদলের সাথে আমার ভাব শুরু হল।ওর সাথে ওদের বাগান বাড়ীতে দিনের অনেকটা সময় কাটাতে শুরু করলাম আমরা।ওদের বাগানবাড়ীতে মাটির

তৈরী একটা ঘর রয়েছে।মাটির তৈরী কিন্তু নিপুন কারুকার্য খচিত বাড়িটার চারপাশে কত গাছগাছালির যে ভিড়…………! শান্ত দুপুরে মৌমাছির শ শ শব্দে ডানা

ঝাপ্টানোর আওয়াজ প্রমান করে যে বাগানটাতে ফুলের সমারোহ একটু বেশীই।শত শত ফুল থেকে বাছাই করে একটা ফুল নিয়ে বাদল আমার খোপায় আঁটতে আঁটতে

জিজ্ঞাসা করে
-বৃষ্টি,একটা পুরু জীবন তোমার খোপায় ফুল এঁটে দেয়ার সুযোগ দিবে না?
আমি মুখে কিছু না বলে কেবল ওর চোখে গভীরভাবে চোখ রেখে মাথা ঝাঁকাই।আর তখনি ও একটা তৃপ্তির হাসি হাসে।
.
সারাবেলা চুটিয়ে প্রেম করে যখন দুপুর শেষে ক্লান্ত রবি মামা পশ্চিম আকাশে মুখ লুকোতো তখনি মনে হত যে আমাদের বাসায় ফিরতে হবে।
ওকে ছেড়ে বাসায় ফিরতে
কিছুতেই মন চাইতো না আমার।আর ওর কাছাকাছি যাওয়ার পর নিষ্ঠুর আকাশ আর বর্ষন ঝড়ায় নি।তাই আর একসাথে ছাতার নীচে হাঁটাও হয় নি।আকাশটার বোধ

হয় আমাদের প্রেম দেখে হিংসে হয়।নইলে এমনটা কেন করবে?আর বেচারা আকাশকেই বা দোষছি কেন?হেমন্ত চলে এসেছে।হেমন্তে বৃষ্টি আসাটা শুধু কঠিন বললে

ভুল হবে।কঠিন থেকেও কঠিনতর।
.
বাদলের কাছ থেকে বাসায় চলে আসার পর সময় যখন আর কিছুতেই কাটেনা তখনই বাচ্চা মেয়েদের মত মার্জিন টানা খাতায় রং পেন্সিল দিয়ে আকাশ আঁকি।সেখানে

বৃষ্টির ফোঁটা দেই।আর নীচে পিচ ঢালা রাস্তা এঁকে দেই।না,এখানেই থামি না আমি।রাস্তায় এক জোড়া কপোত কপোতীর ছবিও আঁকি আমি।যারা গা ঘেষাঘেষি করে এক

ছাতার নীচে হাঁটে।ছেলেটার পরনে থাকে ফোল্ডিং করা নীল জিন্স আর পাঞ্জাবী কর্লারের একটা নীল শার্ট।মেয়েটার গায়ে সাদা জর্জেট থ্রি পিস ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির

পানিতে ভিজে যাচ্ছে বলে ছেলেটা বেশীটা ছাত মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দেয়।
.
আমি ছবি আঁকি আর ছবির ছেলে মেয়েটার জায়গায় নিজেকে আর বাদলকে ভাবি।আনমনেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফুঁটে উঠে।

একটা সময় এসে আমরা দু পরিবারকে রাজী করিয়ে ফেললাম বিয়েতে।সেদিন দুজনে আনন্দে সারা শহর ঘুরে বেরিয়েছিলাম।কথা ছিল বাদলের বোন তার ননদের বিয়ে

শেষ করে বাদলদের বাসায় আসলেই বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হবে।আমি শুধু বাদলের বোন মিতা আপুর ননদের বিয়ের প্রহর গুনছিলাম।কিন্তু কে জানতো সেই বিয়েটাই

আমার জীবনে এত বড় কাল হয়ে দাড়াবে?
.
হঠাৎই দুপুর দুটোর দিকে বাদলের মা আমাকে মিতা আপুর শ্বশুড়বাড়ী যেতে বললেন।ওখানে গিয়ে শুনি যে,বরযাত্রী আসার সময় বরের গাড়ী একটা রডবাহী ট্রাকের

সাথে লেগে একটা রড বরের মাথা দিয়ে ঢুকে বেরিয়ে গেছে।মিতা আপুর শ্বশুড় শ্বাশুড়ী বাদলের বাবা মায়ের হাতে ধরে অনুরুধ করছেন যেন বাদলকে দিয়ে তারা

তাদের মেয়ের কলঙ্কটা ঘুঁচে দেয়।মিতা আপুর সুখের কথা ভেবে বাদলের বাবা মা বিয়েটা করাতে রাজী।বাদল নাকি কিছুতেই রাজী হচ্ছেনা।বার বার বলছে আমাকে

ছাড়া নাকি ওর জীবন দোযখ হয়ে যাবে।তাই আমাকে বাদলকে রাজী করানোর দায়িত্ব দেয়া হল।
.
একটা অন্ধকার রুমে বাদল বসেছিল।আমি ভাড় পায়ে ওর কাছে গিয়ে দাড়ালাম।নিজের চোখের পানি আড়াল করে ওকে বুঝালাম।ও বাচ্চা ছেলেদের মত কান্না

করছিল।কিছুতেই রাজী করাতে পারছিলাম না।
.
অনেক সময় নিয়ে বুঝানোর পর ও রাজী হল।ওকে বুঝিয়ে যখন

রুম থেকে বেরিয়ে আসছিলাম তখন মনে হচ্ছিলো আমার আত্নাটা বুঝি এই রুমে ফেলে যাচ্ছি আমি।নিজেকে সংবরন করতে না পেরে দরজা থেকে দৌড়ে এসে

বাদলকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম একবার।বাদল সাথে সাথে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।আমি ওর কান্নার শব্দ সহ্য করতে পারছিলাম না।দ্রুত ওকে ছেড়ে দিয়ে

এক দৌড়ে বাহিরে এসে গাড়ীতে বসলাম।বাদলও আমার পিছু পিছু দৌড়ে আসছিল কিন্তু ওর বাবা মা ওকে আটকে ফেলে। বাদল তখন বাচ্চাদের মত হাঁটু গেরে বসে

ঠোঁট ভেঙে কান্না করছিল।আমি ড্রাইভারকে গাড়ী ছাড়তে বললাম।
.
সেদিনের পর থেকে শুধু ভালবাসার মানে খোঁজেছি।উৎসুক মনটা বার বার জানতে চেয়েছে ভালবাসা কি ভোরে ফোঁটা জুঁই ফুলের ন্যায় সুগন্ধ ছড়ায় নাকি

সন্ধ্যামালতীর ডালপালা বেয়ে ধূ ধূ মরিচীকা নিয়ে আসে?প্রশ্নটার উত্তর খোঁজে পাইনি কখনো।দেখতে দেখতে বাদল হারানোর আটটা বছর পেরিয়ে গেছে।এই আট

বছরে কত বৃষ্টি আকাশে হয়েছে আমার চোখেও হয়েছে। কিন্তু বাদলটা আমার জীবনে থাকাকালীন একটা বৃষ্টিও হল না।বাদল তার বৌ নিয়ে লন্ডনে পারি জমিয়েছে।ও

ওর জীবনে সবই পেল।কিন্তু আমি শূন্যই রয়ে গেলাম।এক ছাতার নীচে থাকা কাপলগুলোর ঘেষাঘেষি করে হাঁটার দৃশ্যটাকে এখন বড্ড বেশী ন্যাকামি

মনে হয়।জানালাটার কাছে বসে বাদলদের জানালাটার দিকে তাকালে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠে।তবু কেন জানি বেহায়া মনটা ঐ জানালাটার দিকে তাকিয়ে থাকতে চায়।
.
এই যে দেখতে দেখতে একে একে আট বছর গত হল জীবন থেকে এই আটটা বর্ষার উলুধ্বনির অনুরনন সেই আমাদের কাছে থাকার সময়টার অভিশপ্ত তাপে হাওয়ায়

গুড়িয়ে গেছে।কিন্তু কষ্টটা গোঁড়োই নি।তখনকার দ্বাদশী কলঙ্কিনী যৌবন চেয়েছিল বেনারসীর আদলে প্রেমিক পুরুষের দেহ মনে প্রানে লেপ্টে থাকতে মাধবীলতার

মত।সকালের কুয়াশায় মাখামাখি হয়ে শুরু হবে দুজনার দিন।রাতের আলিঙ্গনে প্রেমের বীজ বপন করব প্রতিনিয়ত।স্বপ্ন ছিল সার্থক দাম্পত্য জীবনের বাঁধাহীন স্রোতে

ভরে উঠবে অন্তরের চোরাবালী।
.
সবার স্বপ্ন সত্যি হয়না বলেই হয়তো বিষাদ বাতাসে কোন বিষবাষ্পর নির্যাস লুকিয়ে ছিল যে কারনে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুনে দগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত।কাউকে

টানিও নি নিজের জীবনে।রুদ্র গোস্বামী বলেছেন একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের দুটো সম্পর্কই থাকতে পারে।ভালবাসার সম্পর্ক ও ভাল না বাসার সম্পর্ক।

ভালবাসার সম্পর্কতো একজনের সাথে হয়েছিলই তাই কাউকে বিয়ে করে ভাল না বাসার বৈবাহিক সম্পর্কে নিজেকে জড়াতে চাইনি।

মাঝে মাঝে মোড়ের দোকানটাতে বাদলের মত দেখতে ছেলেটাকে দেখে বাদল ভেবে থমকে উঠি।কিন্তু পরক্ষনেই মনে হয় যে ও বাদল নয়।
.
আজ দুপুর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।প্রথমে চারদিক
অন্ধকারে ছেয়ে গেল।তারপর মেঘ ভেদ করে সূর্যলোকের সে কি প্রখরতা……
মুহুর্তেই আবার অঝরে বর্ষন।এই মেঘ বৃষ্টি আর সূর্যলোকের মধ্যে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম।আমার জীবন পুরুটাই আলোকিত ছিল।শুধু মাঝখানে

বাদলটার জন্যই আমার আকাশে যত মেঘ।আজকের এই বৃষ্টিটা যেন আমাকে বলে দিচ্ছে দেখো আলোর মাঝেও আঁধার আসতে পার।আমি উন্মনা হয়ে আকাশকে

জিজ্ঞাসা করলাম”আচ্ছা আকাশ আলোর পরে যেমন মেঘ এসে সব আঁধার করে দিতে পারে তেমনি আবারোতো আলো এসে সেই মেঘ সরিয়ে সব আলোকিত করে তোলতে পারে,তাইনা?আকাশ যেন ফিসফিসিয়ে উত্তর দিল
-হ্যাঁ,দেখছনা আমার বুকেই মেঘ বৃষ্টির বাস আবার আমার বুকেই সূর্যের বাস।
.
আকাশের উত্তর শুনে কেন জানি মনে হচ্ছে আমার বাদল ফিরবে।আবার ফিরবে।কোন একদিন ফিরে এসে বলবে
-আরেকটাবার ভালবাসা যায়না বৃষ্টি?
আমি অভিমানে বলব
-কেন ভালবাসব?
ও দু হাতে অালতো করে অামার অধর ছুঁয়ে দিয়ে বলবে
-ঝুম বৃষ্টিতে এক ছাতার নীচে
গা ঘেষাঘেষি করে হাঁটার জন্য।
.
আমি ছল ছল চোখেও হেসে উঠব।পুনর্মিলনের সুখে ভরে উঠবে দুটি হৃদয়।কিন্তু কই?বাদলতো ফিরে না…..ওতো যেতে চায়নি।মহৎ হতে গিয়ে ওকে যেতে দিয়ে কি ভুল করলাম?বাদল কি আর আমার জীবনে ফেরার মত অবস্থানে নেই?
এসব ভাবতে ভাবতেই আকাশে আরেকবার প্রকটা আওয়াজে বিদ্যুত চমকে উঠলো।আমি চিরায়ত অভ্যাস অনুযায়ী জানালার পাশে গিয়ে বসলাম।বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে।হঠাতই দেখলাম বাদল একটা মেয়েকে নিয়ে
এক ছাতার নীচে ঘেষাঘেষি করে হাটছে।বুকটা একটা মোচড় দিয়ে উঠলো।পরক্ষনেই অামার ভুল ভাঙলো।এটা বাদল নয়।বাদলের মত দেখতে ছেলেটা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত