প্রেম তুমি

প্রেম তুমি

—শুভ জন্মদিন!!

ভার্সিটি ক্যাম্পাসে যেতেই আনিকা উপরোক্ত কথাটি বলে উঠল!
–জন্মদিন তো কাল ছিল,
–হ্যা, কাল তো খোঁজে পাইনি আপনাকে, মোবাইলও বন্ধ ছিল।
–হ্যা, এসব উইস তেমন পছন্দ করিনা,
–কেন? সবাই তো এটাই চায়, যে তার জন্মদিনে সবাই উইস করুক।
–আমি সবার মত না!
–ওহ, তা ট্রিট দেবেন না!
–ট্রিট, তা কি খাবেন?
–আপনি বলুন!
–ট্রিট যেহেতু আমি দেব, সেহেতু খাওয়াটা আপনিই পছন্দ করুণ?
–তাহলে ফুচকা খাওয়া যাক!
–কাউকে প্রথম ট্রিট দিচ্ছি,তাও আবার ফুচকা!
–জানেন না,মেয়েরা ফুচকা বেশি পছন্দ করে?
–নিজের পছন্দটাই জানি না!আর মেয়েদের জানব কিভাবে!
–আপনি কেমন পুরুষ?
–যেমনটা থাকার কথা!
–চুপ, এবার চলেন?

ফুচকার দোকানে গিয়েই বসে পড়লাম চেয়ারে…
–মামা, দুই প্লেট ফুচকা দেন?
–না মামা, এক প্লেট দেন?(আনিকা)
–ট্রিট আমি দিচ্ছি বলে কি আমি খাব না?
–খাবেন,তবে এক প্লেটে।
–এটা কি করে সম্ভব?
–কেন সম্ভব নয়, না হলে খাবই না?
–ঠিক আছে!

এক প্লেট ফুচকা দুজনে ভাগ করে খাচ্ছি….
তখনই আনিকা বলে উঠল….
–ভার্সিটি তো প্রায় এক সেমিস্টার শেষের পথে?
–হ্যা,
–এখনও কি পাওনি?
–কি?
–কি আবার, ভালবাসার মত কাউকে?
–না
–কেন?
–ওসব আমাকে দিয়ে হবে না।
–কেন?
–আরে বন্ধু ভেবেই কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারিনা,তোতলামো শুরু হয়ে যায়, আর ওইটা ভেবে তো সামনে গেলে আমার হাত পায়ে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।
–কি?
–হ্যা।
–ভাল!আচ্ছা আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
–কল্পনার সাথে সংসার!
মুহূর্তেই আনিকার মুখটা মলিন হয়ে গেল!
–কল্পনা!
–হ্যা
–দেখতে কেমন?
–আমার স্বপ্নের মত, যেভাবে চাই!
–ওহ,উনার সাথে দেখা করাবেন না?
–না!
–কেন?
–কেননা আমার কল্পনার সাথে শুধু আমিই দেখা করতে পারি!
–বুঝলাম না?
–আসলে, আমরা কথাটার ঠিক মানে বুঝেননি?আমি কি বলেছিলাম…
–কল্পনার সাথে সংসার!
–হ্যা,কিন্তু আপনি মনে করেছেন সেটা কোনো মহিলা।
আসলে আমাদের ভাবনাটা সবসময় নেগেটিভ হয়ে থাকে!এখানে আমি আমার কল্পনার জগত মানে আমার মস্তিষ্কের ভিতরে যে কল্পনাটা সৃষ্টি হয়, সেটার কথাই বলছিলাম।
–ওহ, তা সেই সংসারে কি কি করেন?
–বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে বিভিন্নভাবে সাজাই!
–যেমন?
–যেমন,আমার কল্পনায় আমি সুখ, দুঃখ সবকিছুর চরিত্রে থাকি!তবে বেশি দুঃখটা কে পছন্দ করি!
–কেন?
–কেননা কষ্ট পেলে অভিমান বাড়ে, আর আমি এই অভিমানটাকেই ভালবাসি!
–আজ প্রথম শুনলাম যে কেউ কষ্ট পেতে ভালবাসে!

ফুচকা খাওয়া থেকে উঠে দুজনে হাটতে লাগলাম….
–আচ্ছা, আপনার কল্পনার জগতের কি কোনো নায়িকা আছে?
–না!
–কেন?
–কেননা, এখনও আমি নায়ক রুপে নিজেকে উপস্থাপন করিনি!
–কথাগুলা বলা ভালই শিখেছেন!
–শিখার তো বয়স নেই!
–একটা আবদার আছে,রাখতে হবে?
–যদি সামর্থ্য থাকে!
–আপনার কল্পনার জগতের নায়িকা হতে চাই?

আড়চোখে আনিকার দিকে চেয়ে দেখি,লজ্জায় মুখটা লাল করে ফেলেছে। মাথাটা নিচু করে হাটছে…..
–নিচের দিকে চেয়ে হাটছেন যে, পড়ে যেতে পারেন?
–আপনি আছেন তো।

রাস্তা দিয়ে দুজনে হেটে চলেছি……..
–আমার উত্তরটা পাইনি?
–নিশ্চুপতা হ্যা সূচক সম্মতির প্রতীক!
–সেটা তো মুখেও বলা যায়?
–সবকিছু তো আর মুখে বলা যায় না।
–কিছুকথা আছে, যা মুখেই শুনতে হয়!
–কিন্তু আমার যে নিশ্চুপতার ভিতরেই সব কথোপকথন,,,
–সেটা পরে দেখা যাবে, এবার চলুন……..

বাসায় এসে আমি ভাবছি,ওই মেয়ের কথা। কল্পনায় বারবার ওই মেয়েটাই এসেছিল।
ঠিক রাত ১১টা বাজে,,,,
রাতের আধারে পকেটে মোবাইল ভরে,চাদরটা গায়ে জড়িয়ে আমি হাটছি,আনিকাদের বাসার উদ্দেশ্যে, সাথে কিছু মোমবাতি নিয়ে।

আনিকাদের বাসার সামনে এসে সঙ্গে আনা মোমবাতি গুলা সাজিয়ে দিলাম আনিকাদের রাস্তার সামনে।সব কয়টায় আগুন জ্বালিয়ে দিলাম।
ঠিক সেই মুহূর্তে আনিকাকে একটা ছোট বার্তা দিলাম,
বেলকুনিতে আসার জন্য।
ঠিক তারপরই আনিকাকে বেলকুনিতে এসে হাজির.

অনেকটা অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।হাতে থাকা মোবাইলটা নিয়ে আমাকে ফোন দিল!
–এসব কি?
–ভালবাসি!!!!

………………………………………………..সমাপ্তি……………………………………………….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত