আমার তুমি

আমার তুমি
হুট করে বাহিরের একটা ছেলে এসে থাপ্পড় মেরে গেলো। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসে মেরে গেলো । গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বাড়ির ছাদে । কারো কথায় ধ্যান ভাঙল আমার চেয়ে দেখি পাশের বাসার বড় আপু টা যার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।
তৃধা আপু : কিরে তোর খেয়াল কোথায় থাকে ?
শাবনাম : দেখো না আপু হুট করে বলা নেই কওয়া নেই কই থেকে একটা ছেলে এসে আমাকে থাপ্পর মেরে গেলো।
তৃধা আপু : তোকে আবার কে মারবে কার এতো সাহস আমার শেরনিকে মারে তাকে আমি দেখে নিবো ।
শাবনাম : আচ্ছা আপু । তুমি কি বলতে এসেছিলে বললে না যে ?
তৃধা আপু : আরে হ্যা আমি বলতে এসেছিলাম আমার ফুফাতো ভাই ও এসেছে আজকে প্রথম আমাদের বাসায় ওকে নিয়ে আমি তুই ঘুরতে বের হব বিকেলে তুই তৈরি হয়ে থাকিস কিন্তু।
শাবনাম : আমি আবার কেনো যাবো ?
তৃধা আপু : তোকে যেতেই হবে নয়তো আমি যাবো না!
শাবনাম : আচ্ছা আচ্ছা যাবো আমি ।
তৃধা আপু : আচ্ছা তাহলে আমি আসি । তুইও নিচে যা ।
শাবনাম : আচ্ছা।
যেতে যেতে আমার পরিচয়টা দিয়ে দেই আমি শাবনাম আহমেদ। বাবার ৩মাত্র কন্যার মধ্যে আমি মেঝো । আপাতত এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বসে আছি । আর যার সাথে এতোক্ষণ কথা বললাম সে হলো আমার খুব কাছের মানুষ তৃধা আপু । এবার দেখি আমার আম্মাজান কি বলেন !
আম্মু : কি ছিলেন আম্মাজান ?
আমি : ছাদে ছিলাম আম্মু।
আম্মু : শুনো তৃধার ফুফাতো ভাই প্রত্যয় এসেছে ওকে নিয়ে বিকেলে বাহিরে যাবে শুনলাম ?
আমি : হ্যা আম্মু। কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে ?
আম্মু : আমি জানি যেভাবেই তোর কি। ভালো করে রেডি হয়ে যাস আমি আবার বিকেলে মার্কেট যাব ।
আমি : হঠাৎ মার্কেটে কেন যাবে আম্মু ?
আম্মু : দরকার আছে তুই যা। তৈরি হয়ে নে ।
আমি : আচ্ছা
তারপর আমি চলে গেলাম আমার রুমে। গিয়ে দেখি ছোটবোন আমাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে ওকে হাসতে দেখে আমি ভ্রু কুঁচকে জিগ্যেস করলাম
– কিরে হাসছিস কেন কি হয়েছে তোর বিয়ে ?
– আমার বিয়ে কেন হবে তোর বিয়ে তাও আবার ওই থাপ্পড়ওয়ালার সাথে ! (বলেই ও হাসতে হাসতে চলে গেল)
আর আমি বেকুব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলেই আমি একটা বেকুব তৃধা ঠিকই বলে । কতো ভেবে কাজ নেই যাই তৈরি হয়ে আসি । কালো একটি থ্রিপিস পরলাম কানে দুল হাতে রেশমি কালো চুড়ি তৈরি হয়ে আম্মুর কাছে গেলাম।
আমি : আম্মু আমি যাই তৃধা আপু ডাকছে ।
আম্মু : যা ঠিকমতো যাস । বিল্ডিং এর নিচে এসে দেখি তৃধা আপু একা দাঁড়িয়ে আছে।
তৃধা আপু : তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।
আমি : হয়েছে আর পাম দিতে হবে না। তোমার ভাই কোথায়?
তৃধা আপু : আর বলিস না ওর হঠাৎ করে একটা কল আসলো আর বললো যে যেতে পারবে না। তাই ভাবলাম আমি আর তুই ঘুরে আসি ।
আমি : আচ্ছা চলো ।
তারপর আমরা ওখান থেকে রিকশা নিয়ে অনেক জায়গা ঘুরে ফুসকা আইসক্রিম খেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাসায় আসি । রিকশা থেকে নেমে তৃধা আপু ও আমার সাথে আসে । বাসায় এসে দেখি পুরো বাসার নকশা পালটানো । আমার রুমে গিয়ে দেখি বড় আপু এসেছে আমি যেতেই তৃধা আপু কে বলছে ওকে তৈরি করে দিতে বলে চলে গেল কিছু বলার সুযোগ ও দিলো না।
-এগুলো কি হচ্ছে কেউ বলছো না কেন ?
-কিছুই হচ্ছে না তুই তৈরি হ
আমিও কিছু না বলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি হলাম । সাদা জামদানি, হালকা মেকআপ, চুলগুলো মাঝে সিঁথি করে খোঁপা করা, দুই হাতে ইয়া মোটা মোটা চুড়ি। আমাকে দেখেই মনে হচ্ছে আজকে আমার বিয়ে । তারপর আপু আর তৃধা এসে আমাকে নিয়ে গেল ডায়নিং রুমে। গিয়ে দেখি সেইখানে তৃধা আপুর বাবা মা আরো অচেনা মানুষ আছে । ততোক্ষণে আমি বুঝতে পারছিলাম কি হবে আজকে । বাবা মায়ের উপরে অভিমান হচ্ছিল খুব আমাকে বললে কি হতো । আমাকে নিয়ে বসানোর পর পরই কয়েকজন মহিলা এসে আমার সাথে কথা বলতে লাগলো ।
একটু পরেই একজন মধ্যবয়স্ক লোক এসে পাশে বসলো আর কিসব বলতে লাগলো। আপু আমার পাশে বসে কানে কানে বললো কবুল বলো । আমি কিছুই বলতে পারছিলাম না। একসময় আম্মু ও বললো কবুল বলতে আর আমি চোখে পানি নিয়ে মুখে মুচকি হাঁসি নিয়ে আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলে দিলাম কবুল আর হয়ে গেলাম অন্য কারো জীবনসঙ্গী। আমার রুমের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাহির টা দেখছি কয়েক ঘণ্টায় কি হয়ে গেল। হঠাৎ দরজা খুললাম শব্দ হলো । কেউ আমার পাশে এসে দাড়াতেই আমি ফিরে তাকালাম। তার দিকে তাকিয়েই আমি অবাক এতো সেই যে আমাকে থাপ্পর মারলো তখন আর ইনি তৃধা আপুর ও ভাই হয় আন্টি বলল।
-আপনি এখানে কেন ?
– বাহ যে আমি আসবো না তো কে আসবে আমার বউয়ের ঘরে ।
-তারমানে আপনার সাথেই আমার বিয়ে হয়েছে ইয়া আল্লাহ এই বজ্জাত ছেলের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে মানি না মানি না এই বিয়ে।
– না মানলেও কি করার নেই জানপাখি তুমি শুধুই “আমার তুমি”
-আপনি তখন আমাকে মারলেন কেনো (বলেই তার দিকে রাগি চাহনি দিলাম)
-তুমি বাচ্চাদের সাথে ওভাবে লাফালাফি করছিলে যার জন্য আমি রাগে তোমাকে থাপ্পর মেরে বসি।(বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো পিছন থেকে)
-কি করছেন কি ছাড়ুন
-কেন ছাড়বো বউ তুমি যে শুধুই “আমার তুমি”
আমার গল্পের নয়না তুমি  প্রথম নারী তুমি যাকে দেখে মন কেঁপে উঠে প্রথম নারী তুমি যার জন্য অদ্ভুত অনুভুতি কাজ করে তুমি যে আমার তুমি  বলেই আমার কপালে চুমু দিলো আর আমি আবেশে জড়িয়ে ধরলাম। বাহিরের চাঁদের আলোও যেন আমাদের পবিত্র ভালবাসার সাক্ষী।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত