মডার্ন থেকে আদর্শ নারী

মডার্ন থেকে আদর্শ নারী

স্ত্রী : বাসর ঘরে বসেছিলাম,ঠিক সেই মুহুর্তে একটি মানুষ বাসর ঘরে প্রবেশ করলেন।
স্বামী : আসসালামু আলাইকুম।
স্ত্রী : ওয়াইকুম আসসালামু।
আপনি ওখানেই থামুন, আমার কাছে আসবেন না।
স্বামী : কেন, আপনি তো আমার সহধর্মিণী এখন।
স্ত্রী : না! আমি আপনাকে মেনে নিতে পারব না, আমি আপনার সহধর্মিণী হতে চায় না।
স্বামী : কিন্তু কেন?
স্ত্রী :কারণ আমি একটি মডার্ন মেয়ে আমি ভেবেছিলাম আমার স্বামী ও আমার মত মডার্ন মানুস হবেন,কিন্তু আপনাকে বাসর ঘরে দেখেই আমার সব ইচ্ছে গুলা শেষ হইয়ে গেছে।
স্বামী : কি শেষ হইয়ে গেল?
স্ত্রী : আমি ভেবেছিলাম আপনি আমার মতই মডার্ন হবেন, কিন্তু আপনি তো মুখে দারি, গায়ে আলখেল্লার মত পোশাক আর, অনেক আদিম যুগের মানুস মনে হচ্ছে আপনার সাথে আমার যাই ই না কোন ভাবেই না।
স্বামী : তাহলে আপনি আপনাকে বিয়ের আগেই মানা করে দিতেন, বলতেন আমার এ বিয়েতে মত ছিলনা ।
স্ত্রী : আসলে আমার ইচ্ছে ছিল আমি আমার বঅর কে না দেখেই বিয়ে করব, কিন্তু বাবা যে আপনার মত এমন মুখে দাড়িওয়ালা ,uncultural মানুষ এর সাথে আমার বিয়ে দিবেন আমি ভাবতেই পারিনাই।
স্বামী : ঠিক আছে তাহলে আপনি যত দিন না আমাকে আপনার স্বামী হিসেবে মানছেন তত দিন আমি নাহলে এই মেঝেতেই ঘুমালাম।
স্ত্রী : জি, আপনি অখানেই ঘুমান আমার কাছেও আসবেন না।আর আমি মনে মনে বললাম,আমাকে আপনি বউ হিসেবে পাবেন ই না আমি কাল ই বাবার বাড়ি চলে যাব।
স্বামী : আচ্ছা, আমি আপনার কাছে একটা অনুরোধ করি রাখবেন?
স্ত্রী : রেগে, বলেন কি বলবেন আপনার মত জংলি মানুস কি বলবেন আবার?
স্বামী : না তেমন কিছুই না শুধু আমার সাথে দুই রাকআত সালাত আদায় করবেন এতটুকুই।
স্ত্রী : আমি কোন দিন নামাজ ই পড়িনাই আর আমি এই নামাজ পরব, পরব না।আচ্ছা ঠিক আছে পরব কিন্তু আমি এর আগে কখন ও সালাত আদায় করিনাই আমি জানিনা কিভাবে আদায় করে।
স্বামী : সমস্যা নেই আমি আপনাকে শেখায়ে দিচ্ছি আপনি শুধু সেভাবেই করবেন।
স্ত্রী : উনি আমাকে কিরাত আর কিভাবে সালাত আদায় করতে হয় শেখায়ে দিলেন এর পর দুইটা জায়নামাজ নিয়ে আসলেন উনি আগে দাঁড়ালেন আর আমাকে উনার পিছনে দাঁড়াতে বললেন।
স্বামী : আপনি কি নামাজ আর জন্য প্রস্তুত ?
স্ত্রী : জি আমি প্রস্তুত , যা করতে হবেন তাড়াতাড়ি করেন আমি ঘুমাব,
স্বামী : আল্লাহু একবার বলে, বুকের উপর হাত বাধলেন,
স্ত্রী : আর আমাকেও যেভাবে শেখালেন আমিও যেভাবেই করলাম। কিছুক্ষণ পর উনি কিরাত পাঠ করা শুরু করলেন, এত শুমুধুর কণ্ঠামি আগে কোন দিনও শুনি নাই, কিরাত শুনে মনে হচ্ছিল আমি অন্য কোন জগতে প্রবেশ করলাম। এমন শুমধুর গলা কিভাবে কারও হতে পারে।নামাজ টা শেষ করলাম।
স্বামী :আচ্ছা এবার হাত তুলুন আমরা দোয়া করব
স্ত্রী : না আপনি করেন আমি ঘুমাব বলে উঠে চলে আসলাম।আর উনি মোনাজাত করতে লাগলেন।
স্বামী: হে আল্লাহ, আপনার কাছ অনেক সুকরিয়া
পেস করছি, আপনি আমাকে এমন একটা বউ দান করেছেন, আপনি আমাদের মাঝে বোঝা পরার ক্ষমতা দান করুন, আপনি আমাদের মাঝে, জান্নাতের ভালাবাসা

দান করুন, আপনি আমাদের সবসময় শান্তিতে ও সুখে থাকার তাওফিক দান করুন, আমাদের দুইজন কে রাসুল (সা) ও আয়েশা (রা) এর মত পবিত্র ভালবাসার সংসার জীবন করার তাওফিক দান করুন, আল্লাহ আপনি আমার সহধর্মিণী কে হিদায়াত দান করুন। আমিন
স্ত্রী :চোখের পানি দারা এভাবে কান্না করে দোয়া করতে প্রথম দেখে কেমন জানি অন্য রকম লাগছিল,
স্বামী : আপনি এখনএই খাটে ঘুমিয়ে পড়ুন আমি না হলে নিচে ঘুমাইতেছি।
স্ত্রী : জি অখানেই ঘুমান আমার কাছে কখনই আসবেন না আপনি।
স্বামী : নিরভয়ে থাকুন, আল্লাহ কে সাক্ষি করে বলছি যত দিন আপনি আমাকে আপনার স্বামি হিসেবে মেনে না নিবেন ততদিন আমি আপনাকে কখন ও স্পর্শও করব না,
স্ত্রী : এ কথাটা বলেই উনি বিছানা ফেললেন আবার ঘুমানোর আগে কত কি করে আর মুখে বলে ঘুমাচ্ছিলেন আমি অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম, ঘুমানোর আগে এত কিছু কেউ বলে করে ঘুমায় নাকি, পাগল কথাকার বলেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
স্ত্রী : রাত তখন প্রায় ৩ টা ১৫ বাজে দেখলাম কি যেন গুন গুন শব্দ হচ্ছে , তাকিয়ে দেখি উনি নামাজ পরছেন আর অনেক সময় ধরে রুকু ও সিজদা দিচ্ছেন, নামাজ

শেষ করেই মনাজাত করছেন, আমি শুইয়ে থেকে ঘুম না ভাংগার ভান করে সব কিছু দেখছিলাম।আর শুনতেছিলাম, হঠাৎ খেয়াল করলাম উনি কান্না শুরু করর দিলেন, কান্তেছেন আর আল্লাহর কাছে চেয়ে যাচ্ছেন আমি শুধু অবাক হইয়ে বিছানাতে শুইয়ে ভাবচিলাম।
স্বামী : এই যে শুনছেন, ফজরের আজান হচ্ছে আমি নামাজ পড়তে যাব, আপনি নামাজ পরেন আমি মসজিদে গেলাম।
স্ত্রী : যা বেটা এটাই সুযোগ আমি চলে যাব।
স্বামী : আপনি থাকুন আমি নামাজ টা আদায় করে আসি।
স্ত্রী : উনি চলে গেছেন, আর আমি যাথে সাথেই বিছানা থেকে উঠে বাসা থেকে চুপিচাপি বের হইয়ে গেলাম। সেদিন আমি বাসায় যায়নি গেয়েছিলাম। আমার এক বান্ধবির বাসায়।

বান্ধবি: কিরে তুই এখানে কেন, কাল ই ত তর বিয়ে হল আর আজ তুই এখানে কেন?
মেয়েটি:(স্ত্রী) এত কথা শুনতে চাইনা তর বাসায় এসেছি আমাক রাখবি কিনা বল।
বান্ধবি : রাখব না কেন? কিন্তু তুই কারন টা ত বলবি আমাক কি হল শুনলাম অনেক ভাল,একটা মানুষ এর সাথে তর বিয়ে হল আর তুই আমার বাসায় চলে আসলি বুজতে পারছিনা!!!
মেয়েটি: ভাল কিনা জানিনা, জংলী মানুস,মুখে কত দারি, আর পুরোই আদিম যুগের মানুস, অর সাথে আমার কি করে যায় বল ত তুই আমি একটা মডার্ন মেয়ে আমি কি করে উনার সাথে থাকতে পারি তুই ই বল?
বান্ধবি: তুই ত অনেক ভাগ্যবতী এমন একটা মানুস এর স্ত্রী হতে পেরেছিস।
মেয়েটী: কী বলতেছিস এসব কথা আমার পর তুই সব চেয়ে মডার্ন আর তুই এসব কথা বলতেছিস।
বান্ধবি : তুই তো জানিস আমার আগে একটা বিয়ে হইছিল, আমার সেই স্বামি ত ছিল অনেক মডার্ন , কিন্তু জানিস সেই স্বামি কি করত আমাকে?
মেয়েটি : না, তর আবার দিভোর্স হল কবে?
বান্ধবি: কিছুদিন আগে।
মেয়েটি: কিন্তু কেন??
বান্ধবি: মানুস কত খারাপ হতে পারে তুই সেই মানুস টাকে না দেখলে বুজতে পারবিনা, আমার প্রতিটা কাজ ছিল তার কাছে খারাপ, আমাক উঠতে বসতে মার ধোর

করত, আমাকে প্রায় বেপর্দা ভাবে সব জায়গায় নিয়ে যেত, আমিও কিছু ভাবতাম না। শুরুতে, ভাবচিলাম মডার্ন যুগে এটা স্বাভাবিক কিন্তু জানিস এর মাত্রাটা দিন দিন

আরও বেড়েই যায়তেছিল। একদিন কি হই জানিস আমার পাশের বাসায় আমি যেখানে ছিলাম সেখানে একটা হুজুর সাহেব এর ফ্যামিলি নিয়ে থাকতেন, প্রথমে আমি

উনাদের চোখেই দেখতে পারতাম,না, কিন্তু উনাদের কোন কিছুই শুনা যায়ত না ফ্যামিলিতে, আর অনেক সুখে ছিল তারা। আমি একদিন উনাদের বাসায় যায়, যেতেই

হুজুর এর বউ, ভাবি আমাকে সালাম দিয়ে উনাদের ঘরে নিয়ে গেলেন,আমার সাথে অনেক ভাল ব্যবহার করলেন আর কত ভাবে আপ্পায়ন করলেন,।

আমি উনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করলাম আচ্ছা ভাবি, আপনি এভাবে বন্দি জীবন কাটান আপনার ভাল লাগে?
ভাবি : কিসের বন্দি জীবন ভাবি?
বান্ধবি: না এই যে আপনি সারাদিন ঘরে থাকেন কি সব আদম যুগের পোশাক পরেন, কথাও চলা ফেরা করতে পারেন না এগুলা তো আপনার স্বাধীনতা নষ্ট করছেন আপনি,।কিন্তু ভাবি আমাকে কি বলে জানিস?
মেয়েটি: কি বলছিল?
ভাবি : শুনেন ভাবি, এটা আমার কোন স্বাধীনতা নষ্ট হচ্ছে না বরং আমি স্বাধীনতার মধ্যেই আছি।
বান্ধবি: কি বলেন ভাবি আপনি কিভাবে স্বাধীনতায় আছেন।
ভাবি : আচ্ছা ভাবি, আমরা তো মুসলমান, আপনি কি জানেন ইসলামে নারিদের কত সম্মান – মর্যাদা দান করেছেন?
বান্দবি:না।
ভাবি:আচ্ছা আভাবি আপনাকে বলি শুনেন, এই দেখুন ইসলাম ধরম আসার আগে আমাদের জিবন্ত কবর দেয়া হত, আ
আদের সবচেয়ে, খারাপ ভাবা হত, আমাদের উলঙ্গ শরির নিয়ে রঙ তামাশা করা হত আমাদের কোন সম্মান ছিল না, কিন্তু ইসলাম ও আমাদের প্রিয় নবি সা: আমাদের

মর্যাদা দিয়েছেন, আল্লাহ আমাদের নারি পুরুষ এর সমান মর্যাদা দান করেছেন, আমাদের পর্দার ব্যাবস্থা করেছেন, আমাদের জান্নাত এর সর্দার বানাইছেন, আর

আমাদের সম্মান দান করার জন্য আমাদের জন্য মহান আল্লাহ নাজিল করেছেন আমাদের পবিত্র কোরআনুল কারিম এর একটা সুরা সুরাতুল নিসা, আর স্বামি স্ত্রী আদর্শ উদাহরণ হিসেবে আসছেন আমাদের রাসুল সা: আর জিবনী,।
বান্ধবি,: ভাবি আমি ত এত কিছুর কিছুই জানতাম না আমি শুধু মডার্ন যুগের পথেই চলেছি কেউ আমাক এত কিছু কন দিনও জানাইনি,। এর পর ভাবি আমাকে সুরানুর এত তাফসির ও নিসা এই দুই সুরার তাফসির করে শুনাইছিলেন,
আমি।ভাবতেই পারিনাই যে আমি এত খারাপ ছিলাম, আমি ওগুলা সব শুনার পর ভাব্লাম।আমি এত পাপ করেছি, আমি ভাল হতে চাই,এই বলে আমি প্রতিদিন ভাবির

কাছে যেতাম আর ভাবি আমাকে সংসার জিবনে ভাল করে থাকা আর কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায় তা আমাকে সেখাতেন। কিন্তু জানিস আমার সেই মডার্ন

হাওয়া তখন ও আমার পিছু ছাড়ে নাই, আমার স্বামি আমি পর্দা করতে চাইলে করতে দিতেন না, আমি আস্তে আস্তে পার্টি তে যেতে না চাইলে আমাকে জোর করেই

নিয়ে যেত, আর পর্দা করে আমাকে চলতে দিত না, আমি উনাকে নামাজ পরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম অনেক ভাবে, অনেক উপায় এ কিন্তু উনাকে নামাজ

এর কথা বললে আমাকে মারধোর করত, আমি উনাকে সব খারাপ কাজ গুলা বাদ দিতে বললে উনি আমাকে আরও মারধোর করত, আমি অনেক চেষ্টাটা করি উনাকে

ভাল করার জন্য কিন্তু উনি নিজেই আমাকে আরও খারাপ বানাই দিতে লাগলেন, আমি আর না। পেরে উনার থেকে ইসলামী পন্থায় আলাদা হইয়ে যায়, আর এখন অনেক ভাল আসি।
মেয়েটি : আমার বিশ্বাস ই হচ্ছে না তুই এত পরিবর্তিত হইছিস।
বান্ধবিঃ শোন, আমাদের পৃথিবীতে শুধু মাত্র আমাদের খেল তামাশা আর আনন্দ করার জন্য আল্লাহ আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠানো হহনি আল্লাহ আমাদের সকলকে

পরিক্ষা করার জন্যও পাঠিয়েছেন।আর আমাদের সকল কে জোড়া ও জোড়া ভাবেই পাঠিয়েছেন তাই আমাদের ভাগ্যে আল্লাহ এটা হইত আগে থেকেই লিখে রেখে ছিলেন।
মেয়েটি : কিন্তু আমার মত একটা মডার্ন মেয়ে একটা অই রকম খেত মারখা, জংলি আর আদিম যুগের মানুষ কে নিয়ে কিভাবে ভাল থাকবে। আমার সব আনন্দ আর

ইচ্ছে গুলা সব ই তো শেষ হইয়ে যাবে তাহলে, আমি তো তাহলে বেছে থেকেও মরে যাব। এই সব কথা গুলা বলতেই আমার বান্ধবি আমাকে ইশারা করে।
বান্ধবিঃএই শোন এই দিকে আয় আমি তোকে একটা জিনিস দেখায় আয় এদিকে।
মেয়েটিঃকি দেখে বলতেই একটা দম্পতী কে দেখিয়ে বল্ল দেখ প্রকৃত ভালবাসা কাকে বলে।
মেয়েটিঃ দেখি বলতেই দেখলাম একটা দারিওলামা মানুষ আমার যার সাথে বিয়ে হইছে উনার মত কি রকম আলখেল্লার মত পোশাক পরে তার বিবিকে নিয়ে রিক্সায়

যাচ্ছিলেন, দেখালাম উনার বউয়ের শরীরের একটা পশম পর্যন্তও দেখা যাচ্ছে না, লক্ষ করলাম উনারা অনেক ক্ষুন শুটি করছেন, উনার স্বামি উনাকে যা বলছেন তাই

উনি শুন্তেছেন, ice- cream ওয়ালা যাচ্চিলেন উনার বিবি খেতে চাউয়া মাত্র উনি অই ice- cream ওয়ালার থেকে তা কিনে উনার বিবি কে দিলেন আর ঠিক যেন মডার্ন

যুগের মত সব কিছুই করচিলেন কিন্তু সব ই পরদা বজায় রেখে আর সমস্ত ভালবাসায় শিক্ত হয়ে তাদের মাঝে যেন ধরা দিচ্ছিলেন আমি অই গুলা দেখে অবাক হইয়ে

গেছিলাম, ভাবতেই পারছিলাম।না এত কিছুই।কিন্তু আমার মাথায় একটা প্রশ্ন শুধু ঘুর পাক খাচ্চিল, তাই আমার বান্ধবিকে বললাম আচ্ছা উনাকে তো উনার স্বামি এত কিছু করছেন তাহলে কেন উনাকে অই ভাবে সবার থেকে আড়ালে করে রাখছেন কেন?
বান্ধবীঃ তুই তো অনেক বোকা, আচ্ছা ,শোন প্রথমত, আল্লাহ নারিদের কত মর্যাদা দিয়েছেন সেটাতো তোকে আগেই বলেছি আর আমাদের এই মর্যাদা আরও বেশি করার জন্যই আল্লাহ আমাদের পর্দা করে চলতে বলেছেন।
আচ্ছা বলত এই তোর কানের যে সোনার গহনাটা আছে এতা যদি এখন রাস্তাঘাট এ ফেলেরাখি তাহলে কি তুই সেটা ফিরে পাবি বা কেউ সেটা নিবে না??
মেয়েটিঃ না, তুই পাগল নাকি কেউ না নিয়ে চলে যাবে নাকি এটাতো আর ফিরেই পাওয়া যাবেনা,।
বান্ধবীঃঠিক আমরাও এমন সোনার মতই আমাদের ও আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন, আর একটা পরাদাশিল নারি তার স্বামীর কাছে পৃথিবীর সব কিছুর চেয়ে দামি।
মেয়েটিঃ সত্যি তো,??
বান্ধবীঃ এই দেখ কোরআন ও হাদিস এ আমি তোকে যা বললাম তার প্রমাণ দেখ, প্রথমে আমিও এগুলা বিশ্বাস করতাম না যখন, শুধু মাত্র জান্নাত এর শুবাস পেতে

লাগ্লাম যেদিন থেকে, সেদিন থেকে আমিও এগুলা বিশ্বাস কতে লাগ্লাম আর যতই পড়ি এগুলা মনে হই জান্নাতের শুবাতাস আমার গায়ে এসে লাগছে, আর আমাকে জান্নাত তার কাছে টেনে নিচ্ছে, আচ্ছা রাত অনেক হইয়ে গেল গল্প করতে করতে এখন ঘুমিয়ে পড়ি।
মেয়েটিঃ দেখলাম আমার বান্ধবী ও আমার যার সাথে আমার বিয়ে হইছে উনার মত করেই সব করে তার পর ঘুমালেন। আর আমি ভাবতেই থাকলাম, আল্লাহ আমার

মত একটা মডার্ন একটা মেয়ে কে আল্লাহ এত ভাল স্বামি দিয়েছেন আর আমি উনাকে ফেলেই চলে এসেছি। বলে সারা রাত আমি ভেবেই কাটিয়ে দেয়।
সকাল হতেই আমি বান্ধবিকে বলি আমি চলে যাচ্ছি রে!!
বান্ধবিঃ কেন? কথায় তর কি খুব খারাপ লাগছে আমার কাছে?
মেয়েটিঃ নারে বুদ্ধু আমার পাগলা স্বামিটার কাছে, দেখি সাহেব কি করছেন??
বান্ধবিঃ বাহরে স্বামি হিসেবে নাকি মানতে পারবিনা
আর এখন স্বামি বলা হচ্ছে!!!
মেয়েটি : হা রে, এই যুগের আর আশেপাশের মানুষ গুলার সব কাজ কার্ম দেখে আমিও ভুলেই গেছিলাম সব, ভুলে গেছিলাম আমিও একটা মেয়ে, ভাবা শুরু করে

ছিলাম আমি একটা মেয়ে না আমি পুরুষ মানুস, আর মত সব কিছুই করতে চেয়েছিলাম তাই ভুলেই গেছিলাম, অনেক পাপ করেছিলাম রে আর না এবার নিজেকে একটা ভাল মানুষ চমার জীবনে পেয়েছি তাই এই সুজোগ আমি আর হাত ছাড়া করতে চাইনা।
বান্ধবিঃ তুই আসলেই অনেক ভাগ্যবান, এমন একটা
স্বামি পাওয়া ভাগ্যের বেপার।
মেয়েটি : তাই তো আর কোন ভুল করতে চাইনা আমি এখন ই উনার কাছে যাচ্ছি , দোয়া করিস আমার জন্য।
বান্ধবিঃ কেন করব না অবশ্যই করব,আল্লাহ যেন তোকে অনেক শুকে রাখেন আর ভাল রাখেন সব সময় দোয়া করব ইনশাআল্লাহ।
আমি অখান থেকে চলে আসলাম আমার স্বামির বাসায়, উনি একায় থাকতে উনার কেউ ই ছিলা না পৃথিবীতে সবাই মরে গেছেন।

আমি যেতে দেখলাম ঘরের দরজাটা খোলা,আমি খুব ভোরে গেছিলাম তো, ফজর নামাজ পরেই দেখচিলাম উনি করান পরে আল্লাহর কাছে কেদে কেদে বলতেছিলেন

আল্লাহ আপনি আমার সাথে এমন করেন আমি যাকেই অনেক ভাল বাসতে চাই আপনি তাকেই আমার থেকে কেন দূরে নিয়ে যান, আমার কেউ ই নায়, একটা মানুস

কে ঘরে আনলাম সে মানুস টিও আমাকে ফেলে চলে গেছেন, জীবনের সব কিছুই আমি তাকে দিতে চেয়েছিলাম আর আমার কাছে থাকে অনেক যত্নে রাখতাম বলে

কেদেয় চলেছেন, আমি আর সহ্য করতে না পেরে পিছন থেকে উনাকে জড়িয়ে দরে বললাম।আপনাকে আর কান্না করতে হবে না আমি আপনার কাছে চলে এসেছি

আর কোন দিনও আপনাকে ফেলে আমি যাব আন আমার ভুল হইছে গেছে আপনি আমাকে ক্ষামা করে দেন আমি, আপনার কাছে অনাকে কিছুই শিখতে চায় আমাকে আপনি শেখাবেন,আমাকে আপনি আপনার মত করে বানিয়ে নিবেন।
স্বামি : আপনি এসেছেন, আমি তো দোয়া করছিলাম কাদিনায় তো।
স্ত্রীঃ( মেয়েটি) আমি সব দেখে নিয়েছি।
স্বামি ঃ আমাকে তাহলে আপনি স্বামি হিসেবে মেনে নিয়েছেন?.
স্ত্রী : না!!! আপনি এখন বাসা থেকে বের হইয়ে যাবেন আর ঠিক ইশার নামাজ আর আগে আর ঘরে আসবেন না।
স্বামি : জি আচ্ছা,
স্ত্রী : আপনি এত অবুজ কেন আমাকে আর এত বোকা কেন? আমকর একটুও বোকা দিলেন না কেন,?
স্বামি : কারন আমি আল্লাহ কাছে সব সময় দোয়া করেছি আল্লাহ যেন আপনাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন।
স্ত্রী : এই যে সাহেব আমাকে আপনি বলে কিন্তু আমি আবার চলে যাব আমাকে আপনি তুমি করে বলেবেন আর আমি আপনাকে আপনি করেই বলব।
স্বামিঃ জি আচ্ছা।
স্ত্রীঃ এখন যান আপনি ইশার নামাজ এর আগে আর আপনি এই ঘরের দিকেও আসবেন না।বলতেই উনি আমাকে সম্মতি জানালেন আর ঠিক এ ইশার নামাজ আর

আগে আর ঘরে আসেন নাই আর আমি বাজার থেকে ফুল আরও অনেক কিছু কিনে আনি ঘর টা কে সাজায়, ঠিক অনেক সুন্দর ভাবে আমার মন মত করে বাসর

ঘরটি সাজায়। উনি ঠিক ইশার নামাজ পরে ঘরে দুকেই অবাক হইয়ে গেলেন।আমি উনাকে সালাম দিয়ে ঘরে উনার হাত টি ধরে উনাকে ঘরে নিয়ে আসলাম আর

উনাকে খাটে নিয়ে বসালাম অনি শুধু অবাক হইয়ে আমাকে দেখছিলেন, আমি জায়নামাজ নিয়ে উনাকে সামনে আর উনার পিছনে দাড়ালাম,
এতক্ষন এ উনার ঘোরটা কাটল উনি আমাকে বললেন,
স্বামিঃতুমক সব পারবা তো?.
স্ত্রী ঃ আপনি আমাকে শেখালে আমি সব পারব ইনশাল্লাহ।
নামাজ শেষ করে মুনাজাত করে উনাকে খাটে নিয়ে বসালাম, আর আমি উনাকে বললাম, আমি এখন আপনার থেকে কিছু জিনিস চাইব আর আপনাকে সব মানতে হবে।
স্বামি ঃ আচ্ছা বল।
স্ত্রী ঃ আমাকে সব সময় পর্দার রাখতে হবে, আমাকে অনেক ভাল বাসতে হবে, আমাকে প্রতিদিন ice- creamকিনে দিতে হবে আমাকে কোরআন শেখাতে হবে,

আমাকে সব কিছু শেখাতে হবে, আমাকে লুকমা তুলে খাওয়াতে হবে,আমাকে মাঝে মাঝে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে, আমার চুলে তেল দিয়ে দিতে হবে, আমার সাথে

রান্না করতে হবে আমি রান্না পারিন।, আমার সব কাজে আমাকে সাহায্য করতে হবে, আর আমাক রাতে প্রতিফিন হাদিস ও গল্প শুনাইয়ে ঘুমাতে হবে, আর বুকে করে নিয়ে ঘুমাতে হবে, উনি শুনছিলেন আর হাসচিলেন। আমি উনাকে বললাম হাসছেন কেন?
স্বামি: আজ মনে হই আজ আমার দোয়া সত্যিকারেই কবুল করেছেন বলেই একটা কপালে চুপু একে দিলাম। আর বললাম আমি তমাকে আমি যা আজানি সব কিছুই শেখাব তুমিই তো আমার সব বলেই বুকে জড়িয়ে নিলাম।
স্ত্রী : এই যে সাহেব, আমি ঘুমাব আমাকে ছাড়েন, বলে মুস্কি হাসি দিয়ে শুইয়ে পড়লাম।
স্বামি ঃ আবার দুষ্টামি থাম।
বাকিটা আলহামদুলিল্লাহ্‌ 😍

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত