ঝড়গুটে মেয়েটি

ঝড়গুটে মেয়েটি

বড় মামার বিয়ে। মেয়ে দেখা সহ সব কিছু ঠিকঠাক। বিয়ের বাকী আর মাত্র পাচঁ দিন। আমাকে এই নিয়ে কমপক্ষে ১০০ বার ফোন করলো মামা। হাজার হলেও আমি তার একমাত্র বোনের বড় ছেলে। বড় মামা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি হৃদয়,,,,, বাবা মায়ের একমাত্র ভদ্য ছেলে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স শেষ করে,,, বর্তমানে ঢাকার যাএাবাড়ী থানার শনিরআখঁরার

দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হিসাব বিজ্ঞান পড়াচ্ছি। তবুও ছাএ/ ছাএীর মায়া ত্যাগ করে মামার বিয়েতে আমাকে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।

-অনেক কষ্টে করে প্রিন্সিপাল স্যার এর কাছ থেকে সাত দিনের ছুটি নিতে সফল হলাম। তাই সময় নষ্ট না করে বিকালেই বাড়ির উদ্দেস্য যাত্রা শুরু করলাম।

-স্টেশনে গিয়ে দেখি ট্রেন মিস করে ফেলেছি। তাই বাধ্য হয়ে বাসের টিকিট কাটতে হলো। ওমা একি আমার সিটে একটা মেয়ে বসে আছে।

-আপু আমার সিটে যদি দয়া করে বসতে দিতেন। তবে এই নিরীহ ছেলেটা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতো।

-আপনি কোথাকার নবাব। এই সিটে কি আপনার নাম লেখা আছে নাকি। এই সিটে আপনাকে বসতে দিবো না। ভদ্র ছেলের মতো রাস্তা মাপুন।

-বাবা গুরু বলেছেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে। আঙ্গুল বাকিয়ে কাজ শেষ করতে হয়। আমিও সেই রাস্তায় চলতে বাধ্য হবো এখন।

-ঔই মিয়া কি করবেন। আমি একটা মেয়ে। আমার সাথে বেশি তর্ক করলে, পুলিশ ডাকবো, থানায় মামলা করবো তোর নামে।

(বাসের সব যাত্রি আমাদের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে, যেনো আমরা দুই জন চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণি)

-ঔই মাইয়া আমি কি তোর খালাতো, মামাতো,ফুফাতু ভাই লাগি নাকি, যে আমাকে তুই তুকারি করছিস।

-ওই হেল্পার মজা লও,আমার সিট খালি করতে বলো। কেউ কুত্তী হলে আমি তো আর কুত্তার মতো স্বভাব করতে পারি না।

-কি আমি কুত্তী, তুই কুত্তা, তোর চৌদ্দ গুষ্টি কুত্তা।

-অতঃপর হেল্পারের কথায় মেয়েটি সিট ছাড়তে বাধ্য হলো। কারন সিটের প্রকৃত মালিক আমি। যদিও অস্থায়ী সময়ের জন্য। মেয়েটির সিট ছিলো আমার পাশেই। ব্যস্ত শহরের সবাই ব্যাস্ত যার যার মতো। রাস্তায় এখনো অনেক জ্যাম। তবুও চলছে আমাদের বাস।

-অনেকটা পথ পার করেছি। এখন রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই। রাত ও প্রায় এগারো টা বাজে।

________বাসের প্রায়
সকলে ঘুমাচ্ছে। হয়তো অনেক দিন শান্তিতে ঘুমায় না সবাই। কারন ব্যস্ত শহরের ব্যস্ততায় একটু শান্তিতে ঘুমানো কঠিন।

-ইয়ারফোনে ডা:জাকির নায়েকের বক্তিতা শুনতেছি আর এসব ভাবতেছি। ওমা হঠ্যৎ আমার কাধে কারো শরীরের স্পর্শ অনুভব করলাম। সেই ঝড়গুটে মেয়েটাকে। এখন আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে।

-না একটা কিছু করতে হবে। সবাই তো ঘুমিয়ে। কেউ দেখবে না। আমিতো আর ফেসবুকের গল্পের কোনো নায়ক নয়। আমি তো বাস্তবিক একজন। আর যা হবে বাস্তবিক কিছু একটা করতে হবে।

-তাই সাত পাচঁ না ভেবে,,,
কসে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম মেয়েটার গালে। চরের শব্দে সবাই জেগে উঠছে। মেয়েটাও জেগে উঠছে এবং ভয়ে চিৎকার ও দিয়েছে। আমি ততখনে অভিনয়ের ঘুমে বিভোর। সবাই আবার ঘুমিয়ে পড়লো। মেয়েটা তখনো গাল ডলছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

-তাকিয়ে থেকে কি আর করবা চান্দু। এই হৃদয়কে মনে না থাকলেও,আমার থাপ্পড়ের কথা সারা জীবন মনে থাকবে। সকাল ছয় টায় হেল্পারের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। ভাইয়া আপনি আপনার গন্তব্য স্থলে চলে এসেছেন।

-ওমা একি মেয়েটা কোথায়। হেল্পার ছেলেটাকে জিঙ্গাসা করলাম। মেয়েটা কখন বাস থেকে নেমেছে???

-ভাইয়া মেয়েটা বিশ পচিঁশ মিনিট আগে নামছে। ওহহহ। না মেয়েটার জন্য এখন খারাপই লাগছে। হয়তো আমার থাপ্পড় দেয়াতে অনেক ব্যথা মেয়েছে মেয়েটা” সত্যি অনেক খারাপ লাগতেছে। বাসের অনেকে নেমে গেছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে সিট থেকে উঠতেছি হঠাৎ খেয়াল করলাম মেয়েটার সিটে একটা মোবাইল পড়ে আছে। বুঝতে আর অসুবিধা হলো না মোবাইলটা কার।

-হুম, মোবাইলটা ওই মেয়েটারই। যাক ভালোই হলো ফোনটার ওছিলায় মেয়েটার সাথে ফোনে কথা বলা যাবে। মেয়েটার সাথে এত ঝগড়া করলাম বাট নামটাই তো জানা হলো না।

– ফোনটা প্যান্টের পকেটে রেখে। বাড়িতে আসলাম। আনুমানিক ৩০ মিনিট পরে মেয়েটার মোবাইলে একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসলো।

01863★★★★★1
ফোন বেজেই যাচ্ছে । আমি একটা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাই ইচ্ছে থাকা শর্তেই কল রিসিভ করতে পারিনি। আম্মু অনেক তরিঘরি করছে আমাকে নিয়ে। অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছিস। এখন বার্থরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে আয়। আম্মু যাবার পরে কল রিসিভ করলাম:

-কল রিসিভ করেই সালাম দিলাম, আসলামু আলাইকুম

-ওপাশ থেকে, ভাইয়া এই ফোনটা আমার, ফোনটা আমি হারিয়ে ফেলেছি। প্লিজ আমার ফোনটা ফিরিয়ে দিন না।

-এই ফোনে তো আপনার নাম লেখা নেই। তাছাড়া আপনি চাইলেন আর আমি এক ডিলে আপনার কাছে ফোন পাঠিয়ে দিবো।(আমি)

-আপনি কে বলুন তো। আপনার কন্ঠ কেনো জানি চেনা চেনা লাগছে। কোথাও কি আপনার সাথে আমার কথা য়েছে কখনো। (মেয়ে)

-জ্বী দেখাও হয়েছে, কথাও হয়েছে।(আমি)

-কোথায় দেখা হয়েছে আপনার সাথে। (মেয়ে)

-মঙ্গল গ্রহে দেখা হয়েছিলো। মঙ্গল গ্রহে আমি বাসের মালিক ছিলাম। আপনি ছিলেন। সেই বাসের মেয়ে হেল্পার।(আমি)

-ওহহহ মনে পড়ছে, আপনি বাসের সেই ছেলেটা, যে আমার পাশে বসেছিলেন। রাতের অন্ধকারে একটা চড়ও মেরেছিলেন। আবার আমার ফোনটাও চুরি করলেন শেষমেশ। আপনি আসলেই একটা চোর, ডাকাত……

না না না না না….. সরি সরি আপনি অনেক ভালো একটা ছেলে। প্লিজ আমার ফোনটা দিননা। (মেয়ে)

-আমি চোর, আমি চোর, রাখেন ফোন। আর এই ফোনে কল দিবেন না। বাসে অনেক অপমান করেছেন। বেশি কিছু বলি নাই। আপনার ফোন আমি আপনার সিট
থেকে পেয়েছি। আমি আপনার ফোন চুরি করি নাই। সবার সামনে আমার সাথে ঝগড়া করার জন্য রাতে একটা চর দিয়েছিলাম। তার ফল সরুপ আপনার ফোন
আমি ফিরিয়ে দিতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনার ব্যবহার এবং মন মানসিকতা সত্যি অনেক নিচু। তাই আমি ফোনটা ফিরিয়ে দিবো না। (আমি)

-অতঃপর কল কেটে দিলাম।

-হৃদয় তুই এখনো ফ্রেস হসনাই। কার সাথে এত ঝগড়া করিস ফোনে। তোর মামার সাথে তোরও ব্যবস্থা করতে হবে নাকি। (আম্মু)

-আমি আম্মু তুমি কি যে বলনা।বিয়ে টিয়ে আমার দ্বারা হবে না। আমি এখনো দশ বছর পরে বিয়ে করবো। (আমি)

-ওহহ আল্লাহ এই ছেলে বলে কি। আমি আর তোর বাবা মনে হয় না, তোর বিয়ে দেখে যেতে পারবো। এখন কথা বাদ দিয়ে খাবার টেবিলে আয়।

-কিছু সময় পরে বড় মামা আমাদের বাসায়। আপু চল আমাদের বাড়ি। মামা বাবা তোর আর ভাগিনার জন্য অপেক্ষা করছে। হৃদয় কেমন আছিস।

-জ্বী মামা ভালো আছি। মামা এসো একসাথে খাওয়া দাওয়া করি। তার পর যাবো।

-অতঃপর মামা আর আমি মা যাত্রা শুরু করলাম। বাবা আগেই গেছে নানা বাড়ি। মা আমার জন্য বাসায় ছিলো।

-বিয়ে বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম। নানা নানী আমাকে দেখেই বুকে জরিয়ে নিলো। মামার বিয়ের শপিং শুরু হলো পরের দিন থেকে। অনেক কিছু শপিং করলাম মামার বিয়ের জন্য।

-এত কিছুর মাঝেও ওই মেয়েটার ফোনে মাঝে মাঝেই বিরক্ত কর কল আসতেছে।

-ওই মেয়ে এত কল দাও কেনো। আমি কি তোমার বর লাগি নাকি। যে ঘন্টায় ঘন্টায় কল দিতে হবে। তোমার ফোন আমি দিবো না বলেছি দিবো না। তোমার ফোন দিয়ে আমি মটকা খেয়েছি। (আমি)

-তুমি আমাকে যতই অপমান করো। আমি কিছুই মনে করবো না। প্লিজ আমার ফোনটা ফিরিয়ে দাও না। (মেয়ে)

-কি ব্যাপার একবার তুমি বলছো, আরেক বার আপনি বলছো, ব্যাপার টা কি, সত্যি সত্যি আমার বউ হবার স্বপ্ন দেখছো নাকি। (আমি)

-তুমি যে কি বলো না। তোমার সাথে অনেক কথাই হয়েছে। তাই তুমি করেই বললাম। প্লিজ ফোনটা দাও না। ফোনে আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার রয়েছে। (মেয়ে)

-তোমার এত প্যাচাল শুনার টাইম আমার নেই। ফোন রাখলাম এখন। নিজের রাস্তা মাপো। আমি ফোন ফিরিয়ে দিতে পারবো না বলেই ফোন কেটে দিলাম।

-আজ মামার বিয়ের দিন। সবাই যে যার মতো রেডি হচ্ছে আমিও তারাতারি রেডি হলাম।

-বিয়ের সব প্রস্তুতি শেষ। আল্লাহর নাম নিয়ে সবাই গাড়িতে উঠলাম। আমি মামা একই গাড়িতেই উঠলাম। ৩ ঘন্টা পর বিয়ে বাড়িতে পৌছালাম। কনে পক্ষের সবাই এসে মামাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গেলো। আমি সবার থেকে একটু দূরে হাঁটাহাঁটি করছি। পকেট থেকে সেই মেয়েটার ফোন বের করে দেখলাম। আজ মেয়েটা একবারো কল দেইনাই। এখন নিজের মাঝেই খারাপ লাগতেছে। একটু বেশি কষ্ট দিয়ে ফেললাম মেয়েটাকে। নাহ, এবার কল দিলে বলবো, ফোনটা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবো।

-এসব কথা ভাবতেছি আর একাকী হাঁটতেছি। সবাই বর কে নিয়ে আনন্দ করছে। হঠাৎ দূরে একটা মেয়েকে দেখে বুকের মধ্যে বিদ্যুৎ চমকিয়ে গেলো।
*
আরে এতো সেই ঝড়গুটে মেয়েটা। যার সাথে বাসে ঝগড়া হয়েছিলো আমার। এই কাম সারছে। এই মেয়ের সামনা সামনি হলে নির্ঘাত টর্নেডো হয়ে যাবে।

-হৃদয় ওই হৃদয় ওখানে একা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো। সবাই বাড়ির মধ্যে যাচ্ছে। তুই কি বাইরে একা দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি। তারাতারি আমার সাথে আয়। (আম্মু)

-বর পক্ষের সবার সাথে আমিও কনের বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করছি। এই কাম সারছে। ওই বজ্জাত মেয়েটা আমার সামনে। সবার পিছনে ছিলাম। তবুও কেনো জানি। মেয়েটা আমাকে দেখে ফেলেছে। আমাকে দেখে থা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমার সাথে আবার তার দেখা হবে। এটা হয়তো মেয়েটা ভাবেনি। আমার তো ভয়ে চোখ মুখ শুকিয়ে আসতেছে। কি করি কি করি ভাবতেছি। হঠ্যাৎ সবার শেষে আমার হাত টেনে ধরলো।

-পিছন থেকে আমার হাত ধরে নিয়ে একটু সবার আড়ালে নিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা। একটু নির্জনতায় নিয়ে এলো আমাকে।

-আমার মোবাইল কোথায়। আমার মোবাইল দিন। রাতে চর মারছেন কিছু বলি নাই। আবার আমার মোবাইল টাও চুরি করছেন। (মেয়ে)

-কে আপনার মোবাইল চুরি করছে। আর আর আর আর….. তার আগে বলুন আপনি এই বিয়ে বাড়ি কেনো।

-আমার নানা বাড়ি আর আমি থাকবো না তো আপনি থাকবেন। আজ আমার বড় খালা মনির বিয়ে। কিন্তু আপনি এই বিয়ে বাড়িতে কেনো। (মেয়ে)

-আজ আমার বড় মামার বিয়ে। এই বাড়ির মেয়ের সাথেই আমার বড় মারার বিয়ে। ওহহহ তার মানে আপনার খালার সাথেই আমার মামার বিয়ে। যাক ভালো।

*ভালো খারাপ পরে দেখবো। আগে আমার মোবাইল দিন। তার পর আপনার সাথে আমার কথা। (মেয়ে)

-এই নিন আপনার মোবাইল, এই মোবাইলের জন্য কত কথাই না শুনলাম আপনার কাছে। বাস মোবাইলটা ফেলে চলে আসাই ভালো ছিলো। এবার আমি আসি আপনার সাথে আমার আর কোনো কথা নেই। সো গুড বাই।

-এই মিস্টার কোথায় যাবেন। আপনাকে যেতে দিলে তো। হাজার হলেও এখন আপনি আমার আত্মীয়। আপনার নাম্বারটা দিয়ে তার পরে যাবেন। (মেয়ে)

-আপনার মতো ডাইনির কাছে আমার নাম্বার দিবো না। আপনি আমাকে সেই প্রথম থেকে অনেক জ্বালিয়েছেন, দয়াকরে এবার একটু মুক্তি দিন। (আমি)

-মুক্ত হতে চাইলেই কি মুক্ত হওয়া যায়। নাম্বার না দিলে এখন কিন্তু চিৎকার করবো। সবাইকে বলবো আপনি আমার সর্বনাস করার জন্য এই নির্জনতায় নিয়ে এসেছেন। তাই ভদ্র ছেলের মতো নাম্বার দিনো। (মেয়ে)

-এই নাম্বারের জন্যও এত কিছু। নাম্বার তুলুন আপনার ফোনে ০১*******★★★। এখন কি আমি যেতে পারি। আম্মু বার বার কল দিছে আমাকে। এই দেখুন,

-যেতে পারবেন, তবে নামটা বলে যেতে হবে। বাসায় গেলে আমি কল করবো। যদি রিসিভ করেন তবেই যেতে পারবেন। (মেয়ে)

-আমি হৃদয়। কল রিসিভ করতে চেষ্টা করবো। এখন আমি আসি মিস ডাইনি। (আমি)

-থ্যাংকস, আপনি আসলেই একটা ফাজিল। বাসায় যাওয়ার পর আমি কল দিবো। (মেয়ে)

-অতঃপর মায়ের কাছে আসলাম। আমার সু-পুত্র কোথায় ছিলেন। আপনার মামার বিয়েতে এসেছেন। সেটা কি আপনার মাথায় আছে।

-মায়ের অনেক বকুনি খেলাম। মেয়েটার উপর এখন প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। বজ্জাত মেয়েটার জন্য বিয়ে বাড়িতে এসেও মায়ের বকুনি খেতে হলো।

-অবশেষে মামার বিয়ে সম্পূর্ণ হলো। পুরো অনুষ্ঠান জুরেই মেয়েটা আমাকে ফলো করতেছিলো। বিয়ের সব কাজ শেষে মামিকে নিয়ে। আমরা বিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় নিলাম।

-মামা ও নতুন মামিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি আর ভাবতেছি বাড়ি গেলেই হয়তো মেয়েটার গরম গরম ঝালটক কথা শুনতে হবে। এসব কথা ভাবতেছি গাড়িতে বসে, এমন সময় আমার মোবাইলে আননোন নাম্বার থেকে মেসেজের শব্দে ভাবনার ঘোর ভাঙ্গলো।
*
মেসেজ ওপেন করলাম। দেখি কিছুই লেখা নেই। তাই মেসেজ দেয়া নাম্বারে কল দিলাম বাড়ি পৌছানোর পরে। রিং হবার সাথে সাথে কল রিসিভ হলো।

-হ্যালো, কে বলছেন।

-দুলা ভাই আমি নিশী, আপার একটা ছেলে হয়েছে। বাড়ির সবাইকে বলো।

-আমি তো টেনশনে পড়ে গেলাম, বিয়ে করলাম না বউ পেলাম, সাথে বোনাস হিসেবে একটা ছেলে ও পেলাম। আজব এক প্যারায় পড়লাম। মনে মনে ভাবতেছি এসব। (আমি)

-দুলা ভাই কথা বলছেন না কেনো। ছেলেটা আপনার মতোই দেখতে হয়েছে।

-হায় আল্লাহ এই মেয়ে বলে কি (মনে মনে)। আমি তোমার দুলা ভাই নয়। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।

-এই প্যারার মধ্যে আবার কে কল দিচ্ছে বার বার। ফোনে কথা বলছি এই অপরিচিত মেয়ের সাথে, এর মাঝে আবার আরেক নাম্বার থেকে বার বার,

-হ্যালো, আসলামু আলাইকুম….!!

-ওলাইকুম সালাম, তা মিস্টার এত সময় কার সাথে কথা বললেন। প্রেমিকা বুঝি ওই মেয়েটা।

-এই আপনি,না প্রেমিকা নয়, অপরিচিত এক মেয়ে ফোন দিয়ে তার দুলা ভাই খুঁজতেছে। তার বোনের নাকি ছেলে হয়েছে। সেই খবর তার দুলা ভাইকে দিতে গিয়ে, কল রঙ নাম্বারে আমার কাছে এসেছে।

-বিয়ে না করেই বউ ছেলে এক সাথে। আপনি বউ বাচ্চা নিয়ে সুখি হন।

-আপনি কথা প্যাঁচাচ্ছেন কেনো। বললাম তো রঙ নাম্বার,আমি অনেক ক্লান্ত কথা বলতে পারবো না। ফোন রাখি। (আমি)

-অকে আজ আর জ্বালাতন করছি না। কালকে আপনাদের ওখানে আসতেছি। কথা হবে অনেক। ভালো থাকেন।

-বিছানায় শুবার পরে আবার সেই প্রথম আননোন নাম্বার থেকে কল। না আজ মনে হয় ফোনের জ্বালায় শান্তিতে একটু ঘুমাতেও পারবো না। কল রিসিভ করলাম,

-হ্যালো, সাথে সাথে ওপাশ থেকে….

-সরি ভাইয়া, তখন একটা নাম্বার মিস হয়ে আপনার নাম্বারে মেসেজ যায়। আমি ভাবছিলাম দুলা ভাই কল দিয়েছে। দুলাই ভাইয়ের নাম্বারের সাথে আপনার নাম্বার প্রায় সবই মিলে যায় শুধু শেষের সংখ্যা বাদে। অনেক ডিস্টার্ব করছি সরি।

-ইট’স ওকে আপু, ফোন রাখলাম। পরের দিন মেয়ে পক্ষ থেকে সবাই আসলো। আমি কাজ নিয়ে বিজি, ওই তো সেই মেয়েটাও এসেছে।

-খাওয়া দাওয়া শেষে আমি মেয়েটাকে নির্জন এক জায়গায় নিয়ে গেলাম। আসলে আমার এত কেয়ার শেয়ার অর্থ কি। তাছারা আমি আপনার নাম ও জানি না। (আমি)

-আমি সাবরিনা অর্পা ঢাকাতে অনার্স করছি ফিন্যাস বিষয়ে, আমি কথা বেশি বাড়াতে চাই না।

হৃদয়
আমাদের পরিচয় হয়তো হঠাৎ করেই হয়েছে। আমাদের মাঝে অনেক ঝগড়া তর্ক হয়েছে। কিন্তু আগামিকাল তোমাকে আবার দেখার পর থেকে আমি কাল সারা রাত ঘুমাতে পারি নাই।

-এখন বলো আমাকে ভালোবাসো কি না। (মেয়ে)

-আমাকে একটু সময় দাও। (আমি)

-ওকে, কত দিন। (মেয়ে)

-দেখতে দেখতে মামার বিয়েও শেষ আমার ছুটিও শেষ। কালকে আবার ঢাকা যাবো, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না। তাই ভাবলাম ঢাকা গিয়েই জানাবো অর্পাকে আমার সিদ্ধান্ত।

-এই কয়েক দিনের মধ্যে আমরা কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করিনি।

-ভাবলাম এবার ট্রেনে যাবো। তাই ট্রেনের টিকিট কাটলাম। ট্রেনে উঠলাম, ট্রেন ছাড়লো নিজের সিট খুঁজতেছি।

-আমার সিট পড়েছে জানালার পাশে কিন্তু আজো আমার সিটে একটা মেয়ে বসা। আপু এই সিট আমার। মেয়েটা আমার দিকে তাকাতেই, আমার শরীরের মধ্যে ৪২০ ভোল্টেজ এর বিদ্যুৎ চুমকিয়ে গেলো। কারন মেয়েটা আর কেউ ছিলো না মেয়েটা ছিলো অর্পা

-আজো তুমি আমার সিটে। কিন্তু তুমিও আজ ঢাকা যাচ্ছো। তা ট্রেন দিয়ে কেনো। (আমি)

-এত কয়েক দিন হয়ে গেলো তুমি একটি বারো কল দিলে না। কলেজ ও খুলবে কাল। বাসে যাইনি ঝগড়া করার মানুষটি নাই। তাই ভাবলাম একাকী ট্রেনে যাই।

-কিন্তু সেই তোমার সাথে দেখা হয়েই গেলো। আজ আর ঝগড়া করবো না। তোমার সিটে তুমি বসো। (অর্পা )

-আরে না তুমি ওখানেই বসো। আমি আজ তোমার সিটে বসি।

-অনেকটা সময় চুপচাপ দুজনে, নিরবতা ভেঙ্গে অর্পা বলছে, তার পর আমার কথার কি ভাবলে।

-আমি অর্পার চোখের দিকে চেয়ে আছি।

-না এই চোখে যে ভালোবাসার খোঁজ পেয়েছি। তা এত সহজে হাত ছাড়া করা যাবে না। ভাবলাম আর কি,

-ঝগড়া , মারামারি বা আমার পা টেপার জন্য হলেও তো একজন দরকার। তাই তোমাকে না হয় সেই পোস্টের চাকরিটাই দিলাম।

-ওমনি বুকের উপর মিষ্টি ভালোবাসার নরম হাতের কিল, হৃদয় তুমি এখনো শোধরালে না। যাই আজ থেকে আমিও তোমার অফিসের সেই পোস্টের চাকরির ভার নিলাম।

-এভাবেই নতুন করে পথ চলা শুরু হলো আমাদের। হয়তো মৃত্যু ব্যতিতো আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না কেউ। কারন

আল্লাহ ও আমাদের এই সত্যি কারের ভালবাসার পাশে আছেন,

অনেক বেশি ভালো বেসে ফেলেছি এই ঝড়গুটে মেয়েটাকে। তার সাথে এখন আমার নতুন পথ চলা,,,,

আসলে সত্যিকারের ভালবাসা গুলো এমনই হয়,, মিষ্টি, রাগ অভিমান, ঝগড়া,,লেগেই থাকে,,,,,

‘বেচেঁ থাকুক এমন সত্যিকারের হাজারো ভালবাসা’

………………………………………………………….সমাপ্ত…………………………………………………..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত