মায়াবিনীর ভালোবাসা

মায়াবিনীর ভালোবাসা
ওশি নিরবে হাটুতে মুখ গুজে কান্না করছে। মেয়েটার জ্বর এসছে আর আজকে মনটাও খারাপ। মন ভালো করার জন্য শুভ্রকে কল করছে কিন্তু বিকাল থেকেই শুভ্র ফোন ধরছে নাহ। শুভ্র আর ওশি একে অপরকে ভালোবাসে। ওশি ৫ মিনিট পর আবার শুভ্রকে কল দিলো। এইবার শুভ্র ফোনটা রিসিভ করল,,,,
— হ্যালো {ওশি}
– -হ্যা বলো (শুভ্র)
— শুভ্র!!
— হুম.. বলো কি হয়েছে..??
— আমার নাহ খুব খারাপ লাগছে
— কেন কি হইছে??
— আমার খুব মাথা ব্যাথা করছে
— তোহ আমি কি করবো?? ঘুমিয়ে পড় তাহলেই মাথা ব্যাথা ঠিক হয়ে যাবে।
— তোমাকে নাহ খুব দেখতে ইচ্ছা করছে আমার
— তোমার মোবাইলে নাহ আমার পিক আছে। ওইগুলা দেখো।।
— মোবাইলের পিক দেখে কি আর মন ভরবে
— তাহলে কি করতে হবে শুনি??
— তোমার বুকে মাথা রাখতে ইচ্ছা করছে অনেক
— এখন??
— হ্যা
— এখন রাত ১২টা বাজে। এইটা কোনো ভাবেই সম্ভব নাহ। ফোনটা রেখে এখন চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো।
— তুমি এসে আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিবে।।
— পাগল হলে নাকি!! এখন কোনো ভাবেই এটা সম্ভব নাহ। যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে। রাত অনেক হইছে তুমি এখন ঘুমাও তোহ।।
— আচ্ছা বাই
ওশি ফোন কেটে দিলো। শুভ্রের এরকম কথা শুনে ওশির সত্যিই অনেক কষ্ট পেলো। আবার হাটুতে মুখ গুজে কান্না করে দিলো। ওশি ভেবেছিলো শুভ্র যদি নাও আসতে পারে তবে ফোনে একবার ভালোবাসি কথাটা বলবে। তাহলেই মনটা ভালো হয়ে যাবে কিন্তু শুভ্র সেটাও করলো না। তাই অনেক কান্না করছে ওশি।ঘুমও আসছে নাহ ওশির তাই নাহ ঘুমিয়ে চুপচাপ কসে আছে।
প্রায় ২০মিনিট পরে ওশির ফোনে শুভ্রের ফোন থেকে একটা মেসেজ আসলো। “উফফফ তোমাদের ছাদে এত ঠান্ডা আগে কেনো বলো নি?? ভুল হয়ে গেছে আগে জানলে ফুল হাতা শার্ট পড়ে আসতাম” ওশি মেসেজটা দেখার সাথেসাথে এক দৌড়ে ছাদে চলে গেলো। ছাদে গিয়ে দেখে ছাদের কোণায় কেউ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু অন্ধকারে মুখটা দেখা যাচ্ছে নাহ। অন্ধাকারেও ওশি বুঝতে পারছে ওইখানে শুভ্র দাঁড়িয়ে আছে। ওশি শুধু একবার ‘শুভ্র’ বলেই এক দৌড়ে গিয়ে শুভ্রের গলা জড়িয়ে ধরলো। শুভ্রও বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো তার মায়াবিনীকে। কিছুক্ষণ পর ওশি শুভ্রের বুক থেকে মাথা তুলে বলে উঠলো,,,,
–আসবেই যখন তখন ওভাবে কথা বললে কেন?? জানো কত কষ্ট পেয়েছি আমি?? বুকে মুখ গুজে বাচ্চাদের মত হালকা কাঁদোকাঁদো গলায় শুভ্রকে কথাটা বলল ওশি। শুভ্র ওশির মাথায় একটা চুমু দিয়ে বলল,,,
— তুমি ভালো করেই জানো আমি একটা পাগল,,, আর তুমি জানো নাহ আমি সারপ্রাইজ দিতে খুব পছন্দ করি,,,,আর যখন ব্যাপারটা তোমাকে নিয়ে তাহলে তোহ কোনো কথাই নাই।।
— পাগল একটা ওশি চুমু দিয়ে আবার শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। শুভ্রও দুইহাত দিয়ে নিজের ভালোবাসাকে আগলে রেখেছে।
— অনেক রাত হয়েছে এখম তুমি রুমে যেয়ে ঘুমাও।
— আরও পরে আমায় একটু এভাবে থাকতে দাও,,,খুব ভালো লাগছে তোমার বুকে ওশি অনেক ধরে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে আছে। শুভ্রও ওশিকে দুইহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আছে।
— এইবার হয়েছে এখন রুমে যাও উম্মাহহ। রাত অনেক হয়েছে আল্লাহ্‌ বাচালে কালকে সকালে আবার করবো।।
–এভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছ কেন!! তোমার বুকটাতে আমার মাথাটা রাখতে কত যে ভালো লাগে তাহ কি তুমি জানো🤩🤩
— হায়রে পাগলীটা!! আমি তোমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছি নাহ!! আমি বলছি রাত অনেক হয়েছে এবার নাহ ঘুমালে তোমার শরীর খারাপ করবে তোহ।।
— উম
— ওই পাগলী
— উঁহু.. যাবো নাহ আমি
— আচ্ছা ওকে,,, আমিও তাহলে সারারাত এখানেই থাকি আর আমার ঠান্ডে লেগে বাকি কথা বলার আগেই ওশি শুভ্রের ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোট দিয়ে বন্ধ করে দিলো। ওশি কিছুহ্মন পরে শুভ্রের ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে,,,
— আস্তে আস্তে,, দেখে শুনে বাসায় যাবে। ঠিক আছে!”
— জো হুকুম মেরি রানী।
— ওইইইই পাগল
— কি পাগলী
— অনেক ভালোবাসি তোমাকে
— আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি মায়াবিনী

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত