ভালোবাসা

ভালোবাসা
কিরে ইভা সামনে তো ভ্যালেন্টাইন ডে। ভাইয়া তোর জন্য কি কোনো সারপ্রাইজ রাখছে নাকি? জানিস তো জিসানকে বলেছি এবার ভ্যালেন্টাইন ডে তে আমায় একটা হীরের আংটি গিফট করতে। ও বলেছে করবে। দেখনা গত মাসে ইন্ডিয়া তে গেছিল এই কানের দুল টা এনেছে আমার জন্য। সুন্দর না?
-হুম সুন্দর। আচ্ছা নিরা তুই বস আমি তোর জন্য নাস্তা বানিয়ে নিয়ে আসি।
– নারে আজকে আর বসব না। এখান থেকে একটু মার্কেটে যাবো কিছু শপিং করার আছে।
-আচ্ছা তাহলে সময় করে একদিন আসিস আবার।
– তা আবার বলতে! আমি তো আসবোই। তুই তো যাস না। আচ্ছা যাই রে এখন।
এই বলে চলে গেলো নিরা। ও আমার কলেজ লাইফের ফ্রেন্ড। অনেক টা ঘনিষ্ঠ। তবে এখন শুধু বন্ধুত্বের খাতিরে ও এখানে আসেনা। আসে আমায় জেলাসি করাতে। মনে মনে চাই ও যেন না আসে আর হুট করে সেদিনই ও চলে আসবে। বাসার কাজ করছি আর নিরার কথা গুলো ভাবছি। কত হ্যাপি ও। আর আমি! সবই ভাগ্য। আজ আমার কোথায় থাকার কথা আমি কোথায় আছি। দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আবির এখুনি চলে আসবে। রান্না শেষ করতে হবে। আর আসা মাত্রই তো উনার আবার ক্ষুধা পায়। আচ্ছা সবাই কত সুন্দর ভাবে জীবন কাটাচ্ছে আর আমার ভাগ্য টাই এমন কেন! সারাদিন বাসার কাজ করো, স্বামীর সেবা করো আর বসে বসে অন্যের গল্প শোনো। আচ্ছা আমার নিজের কেন কোনো গল্প নেই?
গল্প!! কি বা গল্প বলব ওদের। আবির কে নিয়ে! তাহলেই হয়েছে। ওকে নিয়ে আর যায় হোক কারো কাছে কিছু বলার মত নয়। সেই একঘেয়ে। এই তো কিছুদিন আগেই নিরা ওর হাজবেন্ডের সাথে মালয়েশিয়া ঘুরে আসল। আবির কে কত করে বললাম চলোনা কোথাও ঘুরে আসি। দেশের বাহিরে না পারলে অন্তত দেশের ভিতরে তো কোথাও নিয়ে যেতে পারো। কে শোনে কার কথা। আবিরের সে একঘেয়েমি উত্তর। কিছুদিন পর নিয়ে যাবো ইভা। সেই কিছুদিন পর টা যে কবে আসবে কে জানে! আবির অনেক টা হিসেবি। তাই চাইলেই আমি নিরার মত শপিং এ যেতে পারিনা। আর ওর সামর্থ্যই বা কি আছে! হুহ বাবা যে এ আমাকে কার সাথে বিয়ে দিলো। না পারি ছাড়তে না পারি নিজের ইচ্ছা টাকে পূরন করতে।
ছোট বেলা থেকে কত স্বপ্ন দেখে এসেছি। কলেজে কত ফেমাস ছিলাম আমি। কত ছেলে পাগল ছিল আমার জন্য। আর বাবা দেখে শুনে এই হাবা আবির টার সাথেই আমায় বিয়ে দিলো। বলেছিল সরকারি চাকরি করে, অনেক সৎ আমায় অনেক সুখে রাখবে। হুহ এই সুখ তার নমুনা। কলেজে থাকাকালীন কত ছেলে আমার পিছনে ঘুরত, আমি কাউকে পাত্তাই দিতাম না। এ নিয়ে আমার বান্ধবীরাও অনেক জেলাসি ছিল আমার প্রতি। তাই এখন সুযোগ বুঝে নিরা তার শোধ তুলছে। নিরা খুব ভালো করেই জানে জিসানের মত আবিরের অতো সামর্থ্য নেই তারপরেও যেচে আসে ওর কিত্তিকলাপ আমায় শোনাতে। যেদিন যেদিন নিরা আমাদের বাসায় আসে ঠিক সেদিনই আমি আবিরের সাথে ঝগড়া বাধাই। অবশ্য তাতে আবিরের তেমন দোষ নেই তারপরেও মনের রাগ মিটাতে বাধ্য হয়ে তা করি।
কতদিন তো রাগের মাথায় আবিরকে বলেছিলাম আমি তোমার সাথে সংসার করতে পারবনা। আরো কত অপমান করেছি আবিরকে। কিন্তু ও বেচারা কখনো কোনো প্রতিবাদ করেনি। শুধু একদিন বলেছিল ইভা আমার যা সাধ্য তার মাঝে চলতে শেখো। এতেই জীবনের সুখ নিহিত। হুহ পারো তো খালি জ্ঞান দিতে। কে আছে তোমার মত বলো! স্ত্রী চাহিদা পূরন করতে পারোনা তাহলে বিয়ে করেছ কেন? তারমধ্যে আবার বাচ্চা চাও। তোমার মুখে এসব মানায় না। সেদিনও আবির কিছু বলেনি। কদিন ধরে মাথা টা ঘুরাচ্ছে। ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। কালকেই যাবো। সকাল বেলা আবির অফিসে যাওয়ার পর ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার চেক আপ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানালো আমি প্রেগন্যান্ট।
শুনে আমার একটুও খুশি লাগলো না। একে তো আবির নিজেই পারেনা আমাকে ভালো রাখতে তার উপর আবার বাচ্চা। আবিরের খুব ইচ্ছা ছিল একটা বেবির। অনেক বারই বলেছে আমায় ইভা একটা বেবি নাও। আমি পাত্তা দেইনি। আচ্ছা এখন কি করব? আবিরকে কি জানাবো? না জানাবো না। ও তো খুশিতে ঢ্যাং ঢ্যাং করে নাচবে। না আমি এখুনি বাচ্চা নেবো না। আমি এবোরশন করাব। এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসলাম। মন টা খুব খারাপ। কি করব ভেবে পাচ্ছিনা। আচ্ছা এত ভাবারই বা কি আছে, একে তো ভাড়া বাসায় থাকি, জিনিসপত্রের যা দাম। আমাদের চলতেই হিমসিম খেতে হয়, বাচ্চা হলে তো আরো খরচ বেশি।
-রাতে খেতে বসে আবিরকে বলছি এভাবে আর কতদিন আবির!
– কেন কি হয়েছে? বেশ তো আছি। তবে একটা শূন্যতা আছে একটা বেবি হলে তাও পূর্ণতা পাবে।
– নিজেরা চলতে পারো না বাচ্চার কথা ভাবো কিভাবে। তোমার মুখে এসব মানায় না। সেইমলেস একটা।
– ইভা তুমি এভাবে বলতে পারলে? তুমি কি সত্যি সুখি নও আমার সাথে?
– সেটা কি তোমায় মুখে বলে বেড়াতে হবে? কি দিতে পেরেছ তুমি আমায়? না পারো আমায় ভালো রাখতে না পারো নিজে ভালো থাকতে।
রাগের মাথায় অনেক গুলো কথা শুনিয়ে দিলাম আবিরকে। আবির আর একটা কথা না বলে খাবার ছেড়ে উঠে গেলো। যাক গে আমার কি! অনেক রাত হয়েছে ঘুম আসছে না। মাথায় আবোলতাবোল চিন্তা ঘুরছে। আবির টাও বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। আজকে হয়ত একটু বেশিই বলে ফেলেছি। সকাল সকাল আবির বেড়িয়ে পড়ল নাস্তা না খেয়ে। আমিও কিছুই বললাম না। আজকে আমার এবোরশনের ডেট আমাকেও বের হতে হবে। কিন্তু খুব ভয় হচ্ছে। আমি যা করতে যাচ্ছি তা কি আদৌ ঠিক করছি। দু মনামনি তে পড়ে গেছি। সিএনজি তে উঠেছি পাশেই এক মহিলা ফোনে কথা বলছে।
আজকে একটা বাচ্চার খোঁজ পেয়েছি দেখি এডোপ্ট নেয়া যায় কিনা। আমি তো কোনোদিন মা হতে পারব না, অন্তত স্বামীকে তো একটু বাচ্চার সুখ দিতে পারি। আল্লাহ আমার ভাগ্যে সন্তান দেয়নি। মহিলার কথা শুনে পরোক্ষণে বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে উঠলো। মানুষ আল্লাহর কাছে বাচ্চা চেয়ে পাচ্ছেনা আর আমি কিনা পেটের সন্তান পেয়ে তাকে হত্যা করতে যাচ্ছি। এ কি পাপ কাজ করতে যাচ্ছিলাম আমি। এই মহিলা যেন ফেরেস্তার মত এসে আমার চোখ খুলে দিলো। সিএনজি থামিয়ে অন্য গাড়িতে উঠে বাসায় রওনা দিলাম। আবিরকে আজকেই বলব ও বাবা হতে চলেছে। শুনে খুব খুশি হবে। বাসায় এসে অপেক্ষা করছি কখন আবির আসবে! বাসায় যেয়ে দেখি বুয়া কাজ শেষ করে চলে যাচ্ছে।
– কিরে তুই আজকে এত তাড়াতাড়ি যাচ্ছিস যে?
– আফা আমার জামাইয়ের শরীর ডা খুব খারাপ। হের লগে কেউ নাই আমার জলদি বাড়িতে যাওন লাগব।
– তোর জামাই কে খুব ভালোবাসিস তাইনা?
– কি যে কন না আফা জামাইরে আবার কে না ভালোবাসে। জানেন আফা হেই ও আমারে অনেক ভালোবাসে। আমার লেইগা মেলা কিছু করতে চায় তয় লাগন পাইনা। যে টুকু পারে করনের চেষ্টা করে।
– ভালো। আচ্ছা শোন টাকা লাগলে বলিস। তাই বলে ওর হাতে কিছু টাকা দিয়ে দিলাম। ও চলে গেলো। আচ্ছা প্রতিটা বিবাহিত স্ত্রী তার স্বামীকে কত ভালোবাসে তাইনা! স্বামীর যা আছে তাতেই খুশি হয়ে যায়। তবে আমি কেন পারিনি। আবির তো তার সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করে আমি তো তা নেই না রাগ করে। খুব খারাপ লাগছে। কত ভুল করে এসেছি। আর না আমি আর আবিরকে দূরে সরিয়ে রাখব না। আমার ভুল ভেঙে গেছে। আচ্ছা আবির কি আমায় ক্ষমা করবে?
অনেক তো বাজে আবির এখনো আসছে না কেন? আজকে আমি নিজ হাতে ওর পছন্দের খাবার রান্না করেছি।
অপেক্ষা করতে করতে রাত হয়ে গেলো, আবিরের আসার কোনো নাম নেই। ফোন দিলাম অফ বলছে। আচ্ছা কোথায় গেলো ও এখনো আসছে না কেন! খুব চিন্তা হচ্ছে। এই প্রথম ওর জন্য আমার এত বেশি চিন্তা হচ্ছে। মানুষটা তো আমারই। রাত ১ টা বেজে যাচ্ছে। ওর বন্ধুদের কাছে ফোন দিলাম বলল সন্ধার আগেই নাকি অফিস থেকে বের হয়ে গেছে। তাহলে এখনো আসছে না কেন? কোনো বিপদ হয়নি তো! নানা চিন্তা মাথায় ঘুরছে। অপেক্ষা করতে করতে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়ালই ছিল না। সকাল হয়ে গেছে, কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। দৌড়ে গেলাম হয়ত আবির এসেছে। কিন্তু না। দরজা খুলে দেখি কেউ নেই। নিচে একটা কাগজ পড়ে আছে।
ওইটা তে লেখা ছিল আবিরকে সুস্থ ভাবে ফিরে পেতে চাইলে এই ঠিকানাই এখুনি চলে আসুন। আমি তখনি হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে গেলাম। ঠিকানা অনুযায়ী একটা বাসায় পৌছালাম। খুব ভয় করছে সাথে তো কাউকে নিয়েও আসিনি। যাক সাহস করে দোতালায় উঠে কলিংবেল দিতেই দেখি দরজা খোলা। সুন্দর সাজানো গোছানো একটা বাসা। কিন্তু ভিতরে কেউ নেই কেন? আর আমার চিঠি টা পাঠালোই বা কে? কই এখানে তো আবির নেই। সব গুলো ঘর খুঁজে দেখি কোথাও কেউ নেই। বিছানায় আরেকটা কাগজ রাখা সাথে একটা প্যাকেট। কাগজে লেখা প্যাকেটে একটা শাড়ি আছে ওই টা পড়ে পিছনের বারান্দায় চলে এসো। তারমানে এসব আবিরের কাজ। পাজি ছেলে একটা। শাড়ি টা পরে একটু সেজে নিলাম। তারপর বারান্দায় গিয়ে দেখি আবির দাঁড়িয়ে আছে। আমি গিয়েই ওকে বকতে লাগলাম।
-সারারাত বাসায় যাওনি কেন! জানো আমি অপেক্ষা করছিলাম। আমার চিন্তা হয়না বুঝি!
– আমার জন্য তোমার আবার চিন্তা হয় নাকি! আর কে বলেছে আমি বাসায় যাইনি? আমি তো গিয়েছিলাম দেখি তুমি সোফায় ঘুমিয়ে পড়েছ। তাই আর ডাকিনি। আসার সময় তো দরজায় চিঠি রেখে আসলাম।
-আমি সরি আবির। আমায় ক্ষমা করে দাও। আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভুল গুলো। আর কখনো এমন হবেনা। আমি আর কিচ্ছু চাইনা শুধু তুমি আমায় আগের মত ভালোবেসো তাহলেই হবে। এই বলে কেঁদে ফেললাম। আবির কাছে টেনে নিয়ে বলল –
-আচ্ছা বাবা আর ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে হবেনা। আমি জানতাম তুমি একদিন ঠিক তোমার ভুল বুঝতে পারবে। আর শোনো আমার ভালোবাসা কিন্তু বিন্দুমাত্র কমেনি। আমি তোমায় আগে যেমন ভালোবাসতাম এখনো তেমনি বাসি। পাগলি একটা।
– হুম তা একটু বটেই। আচ্ছা আবির এটা কার বাসা? চলো অনেক বাজে আমরা এখন বাসায় ফিরি।
– আমরা তো বাসাতেই আছি ইভা।
– মানে?
– হুম এটা আমাদের নতুন বাসা।
– আমরা কি এখন এই বাসায় শিফট করব? কিন্তু কেন? ওটাই তো ভালো ছিল। আর এই বাসার ভাড়াও বেশি হবে। দরকার নেই তার চেয়ে আমরা আগের বাসাতেই বেশ সুখে দিন কাটাতে পারব।
– কে বলেছে এটা ভাড়া বাসা। আর আমাদের নতুন অতিথি আসছে তাকে কি অন্যের বাসায় রাখা যায় বলো?
– কি বলছ এসব? মজা করছ তাইনা আবির?
– আরে বাবা মজা করব কেন? তোমায় বলেছিলাম না আমি অনেক বছর আগে একটা ডিপোজিট করেছিলাম, সেই টাকা টা পেয়ে গেছি আর সাথে আমাদের সাংসারিক খরচ বাঁচিয়ে কিছু সেভ করেছিলাম, তাই ভাবলাম এবার নিজেদের একটা ফ্লাট কিনে নেই। আর আমাদের বাবু সোনা যেন আমাদের বাসাতেই প্রথম পা রাখে তাই তার আসার খবর টা পেয়েই এটা দ্রুত কেনা। ইভা তোমার পছন্দ হয়েছে তো? আমি আবিরের কথা শুনে নির্বাক । এই ছেলে টা আমার জন্য এত কিছু ভাবে আর আমি তাকে এত অবহেলা করতাম।
– পছন্দ হয়েছে মানে, খুব পছন্দ হয়েছে।
– এই পাগলি টা কাঁদছ কেন? আমার সব তো তোমার জন্যই। আমি আবিরকে জড়িয়ে ধরে বলছি আমার কিছু লাগবেনা বিশ্বাস করো তুমি পাশে থাকলেই হবে। আচ্ছা তুমি যে বাবা হতে চললেছ সেটা জানলে কিভাবে?
– আমি প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট টা পেয়েই। বাসা থেকে বের হয়েছি। ভাবলাম এই আনন্দের খবর টা তুমি আমায় দেবে আর আমি তোমায় কোনো সারপ্রাইজ দেবো না তা হয় নাকি! আর শোনো আমরা সামনে মাসে ট্যুরে যাবো তোমার পছন্দের জায়গায়, আমি কিছুদিন আগে সব এরেঞ্জমেন্ট করে রেখেছিলাম, ভাব্লাম সময় হলে তোমায় জানাবো।
নিজেকে বড্ড ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। আমি খুঁজে পেয়েছি প্রকৃত সুখের মানে। সবসময় পাওয়ার মাঝেই সুখ থাকেনা। অপরের জন্য কিছু করার মাঝেই প্রকৃত সুখ। আমি এখন খুবই সুখি। আমি এখন গর্ববোধ করে অন্যের কাছে স্বামীর কথা বলতে পারি। তবে সে কি দিয়েছে তা নয়। সে আমাকে ভালো রাখতে, ভালোবাসতে কি কি ত্যাগ করতে পারে, কতটা ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারে সেটা বলতে পারি। সেদিনের পর থেকে আমাদের মাঝে আর ঝগড়া হয়না। আবির আমার খুবই খেয়াল রাখে আমিও আবিরকে ভালোবাসার শিকলে বেধে রাখতে পারি। আর কটা দিন পরেই আমাদের বেবি আসবে পৃথিবী তে। আমরা তো এখন সেই দিন টার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।
আর আমার ওই বান্ধবী নিরা। এখন কিছু বলতে আসলে ওর কথাতে ওকেই জব্দ করি তাই এখন আর তেমন আসেনা। আর ওর কথাতে আমার তেমন কিছু মনেও হয়না। শুনেছি ওর হাজবেন্ডের সাথে নাকি ওর প্রায়ই ঝগড়া হয়। ওর হাজবেন্ড নাকি পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা পরেছে। ওকে দেখে এখন মনে হয় টাকা পয়সা বিলাসিতায় প্রকৃত সুখ থাকে না। এক বেলা না খেয়ে থাকলেও স্বামীর সুখ পেলে আজীবন কাটিয়ে দেয়া সম্ভব। কারন ভালোবাসার সম্পর্কে কখনো কোনো কিছু দিয়ে বিচার করা যায় না। আর যে ভালোবাসায় খাদ থাকে তা কখনো টিকেও থাকেনা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত