তিয়াসা ভালো আছে

তিয়াসা ভালো আছে

ভাতের ওপর মাছের ঝোল দিতে দিতে কথাটা সুমিতা পেড়েই ফেললেন মেয়ের কাছে

—-রাঙ্গামাসি একটা ভালো সম্বন্ধ এনেছে l

—–উফ্ফ মা , কতদিন পরে ইলিশ খাচ্ছি l মায়ের প্রশ্ন ইলিশের আড়ালে চাপা দিতে চায় তিয়াসা l

সে তো হবেই l বিদেশ বিভূঁয়ে একাএকা পড়ে থাকবি , সংসারধর্ম কিছুই করবি না ; তো ইলিশ কেন উচ্ছে করলা ও জুটবেনা এরপর l—কথা আবার ইলিশ টপকে উঁকি দিলো খাবার টেবিলেl
আচ্ছা , আর কতদিন এরকম ছন্নছাড়া জীবন কাটাবি বলতো ? তোর একটা ব্যবস্থা না হলে আমরা যে মরে ও শান্তি পাবো না l আমাদের অবর্তমানে তোর কি হবে ভেবে দেখেছিস কখনো ? অভিমান ঝরে পড়ে সুমিতার গলায় l

——সবসময় এরকম ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল কোরো না তো মা । বিরক্ত তিয়াসা তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে সোজা ছাদে চলে যায় । এখন এখানে থাকা মানে মায়ের এসব কথা শুনতে হবে ।

মার্চের দুপুর । কালো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে জ্বলন্ত সূর্য । বেশ গা ঠান্ডা করা একটা হওয়া বইছে । তিনতলার ছাদের রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে তিয়াসা ।

তার কানে মায়ের বলা কথাগুলোই ভাসছে । ঘরপোড়া গরুকে মা আবার ঘরের লোভ দেখাচ্ছে —-চিলতে হাসি খেলে যায় তার ঠোঁটের কোনে । আজ থেকে বারো বছর আগে আজকের থেকেও রঙ্গিন স্বপ্ন জাল বিস্তার করেছিল তার চোখের তারায় । সে স্বপ্নও এই রাঙ্গামাসির দৌলতে ।

রাঙ্গামাসি মায়ের ছোটবেলার বন্ধু । তাঁর ওপর মায়ের অগাধ আস্থা ।
তিয়াসা তখন সদ্য যুবতী । বি .এ ফাইনাল ইয়ার চলছে তার । হঠাৎ করে একদিন বিকালে কলেজ থেকে ফিরে বাড়ির বাসার ঘরে রাঙ্গামাসির সাথে আরও কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখে তিয়াসা । রঙ্গনকে সেই প্রথম দেখে সে ।
স্মার্ট , সুদর্শন রঙ্গনকে দেখে একটু থমকেছিলো তিয়াসার যুবতী মন । কিন্তু সে কয়েকমুহূর্তের জন্যই । রাঙ্গামাসি বরাবরই একটু বেশি কথা বলেন । এবারেও মায়ের আগে তিনিই মাঠে নামলেন ———

এই হলো তিয়াসা । খুব ভালো মেয়ে । রান্নাবান্না ঘরের কাজকর্ম সবকিছুতেই পটু । ….এটুকু বলেই ব্যস্ত হয়ে —-তিয়াসা প্রনাম কর এনাদের ।
বিষ্ময়ভরা চোখে আগুন্তুকদের প্রনাম করে রাঙ্গামাসির আদেশমতো তিয়াসা সেখানেই রাখা একটা চেয়ারে বসে পড়ে । মা , বাবা আর রাঙ্গামাসির গদগদ ভাব দেখে সে অচিরেই বুঝেফেলে যে এরা হলো পাত্রপক্ষ ;তিয়াসাকে দেখতে এসেছে । পাত্র এন আর আই , ফেরার তাড়া আছে তাই এমন হুটকরে পাত্রী দেখতে এসেছে ।

তিয়াসার মন্দ লাগছে না । বড়রা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছেন । সেই ফাঁকে চারচোখের মিলন ও হয়েছে বারকয় ।রঙ্গনের চোখদুটো বড় মায়াবী ।

প্রথম দেখাতেই রঙ্গনদের বাড়ির সবাই তিয়াসা কে পছন্দ করেছে । আর সব মিলিয়ে বিয়ের বাজারে রঙ্গনের মতো ছেলে বেশ দুষ্প্রাপ্য ;তাই তিয়াসার মা বাবার আপত্তি করার মতো কিছুই ছিলো না । তিয়াসার চোখেও স্বপ্নের ঘোর লেগেছিলো ।
এরপর মাত্র ছয়মাসের মধ্যে বিয়ে ও হয়ে গেলো । ঠিক যেন সিনেমা । অনেকটা ওই এলাম , দেখলাম আর জয় করলাম এর মতো । স্বামীর হাত ধরে একুশের তিয়াসা অচিরেই বিদেশ পাড়ি দিলো সুখস্বপ্নের আবেশে ।

*******
মাথার ওপর দিয়ে সশব্দে একটা উড়োজাহাজ উড়ে যাচ্ছে । সেই শব্দে চিন্তার রেশ কাটে তিয়াসার ।
তিয়াসা চৌধুরী , বয়েস 38 , সুন্দরী , নম্র স্বভাবের। ভিনরাজ্যের একটা কলেজে পড়ায় সে । যে যে গুন থাকলে মেয়ের কারনে বাপ মায়ের মাথা গর্বে উঁচু হয় সে সবই আছে তিয়াসার ঝুলিতে । কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এসব কিছুকে উপেক্ষা করে মাথাচাড়া দিয়েছে একটিই শব্দ ” ডিভোর্সী “।

হ্যাঁ , তিয়াসা ডিভোর্সী । যে রঙ্গিন জীবনের সুখস্বপ্নের রেশ নিয়ে সে রঙ্গনের হাত ধরে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিল, তাতে স্বপ্ন কম আর বাস্তব বেশি ছিলো ।

তিয়াসা তখন মাত্র একুশ । মধ্যবিও মানসিকতায় লালিতপালিত । ভারতীয় তথা
বাঙালী সংস্কৃতি তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে । রঙ্গন সেই রন্ধ্রদিয়েই চটজলদি তার মধ্যে ঢোকাতে চায় বিদেশী সংস্কৃতি । অভিযোজোনের ন্যূন্যতম সময়টুকুও সে তিয়াসা কে দিতে চায় না ।

রোজকার সান্ধ্য আউটিং , পার্টি , মদ আর প্রগতিশীল দেশের দ্রুতগতির প্রগতির সাথে কিছুতেই তিয়াসা তাল মেলাতে পারে না । ওদিকে রঙ্গন ও নাছোড়বান্দা । প্রথম প্রথম রাগারাগি , ঝগড়া শেষের দিকে শারীরিক নির্যাতনে পরিনত হয়েছিল ।

আজন্ম রুচিশীল মানসিকতায় বড় হওয়া তিয়াসার ক্রমশ দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে । মা ফোনে বোঝান —-একটু মানিয়ে নে ।
একটা বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস তরল হয়ে ঠেলে বেরিয়ে আসে চোখ বেয়ে ।

রাঙ্গামাসি বলেন সুমিতা , তোমার মেয়ে বড্ড সেকেলে , বিদেশে তো এসব জলভাত । শাশুড়ি আক্ষেপ করে বলেন —-ইসস , বাবু তো মেম বিয়ে করতে চেয়েছিল ;আমাদের জন্যই ….।

এভাবেই যে যার নিজের মতো ঘুঁটি সাজায় , ব্যস্ত থাকে তিয়াসার খুঁত ধরতে । একচরম মানসিক হতাশা তাকে জব্দ করে ফেলে কোনঠাসা বেড়ালের মতো । এমন সময় তিয়াসার আলাপ হয় পাশের বাংলোর অ্যানার সাথে ।
অ্যানা ডিভোর্সী । দুটি বাচ্ছা আছে । ওখানেই একটা রেস্তোরাঁ চালায় । আপন জীবনের গতিতে তাল মেলাতে না পারা তিয়াসা দেখতো অ্যানার জীবন সংগ্রাম । সক্কাল সক্কাল নিজের বাচ্ছা দুটিকে স্কুলে পাঠিয়ে সে কাজে বেরোত । আবার সন্ধ্যেবেলা ফিরে বাচ্ছাদুটিকে পড়ানো , তাদের খেতে দেওয়া , ঘুম পাড়ানো সবই করতো হাসিমুখে ।

সে হাসিতে তিয়াসা কখনো কোনো কষ্ট , ফেলে আসা জীবনের হতাশা , হিনমন্যতা বা দায়িত্বের বিরক্তি কিছুই দেখেনি । অ্যানার জীবনযুদ্ধ কখন যেন তিয়াসাকে ও একটু একটু করে শক্ত করতে শুরু করে ।

আসলে দুঃক্ষ কষ্ট গুলো মানুষের নিতান্তই আপন । তাকে ভাগ করতে চাইলে সে কমে না , বরং বাড়ে ;অন্য মানুষদের সমালোচনার রসদ জোগায় । অ্যানা যদি পারে তাহলে তিয়াসা ও নিশ্চয়ই পারবে ঘুরে দাঁড়াতে ।

আস্তে আস্তে দৃঢ় হতে থাকে তিয়াসার মনোবল । একটা ভুল বিয়ে কিছুতেই তার জীবনটাকে শেষ করে দিতে পারে না ।

******

ভাবছি মাস্টার্স টা শুরু করবো ।

করো । সারাদিন তো ঘরে বসে তোমার ওই প্যানপ্যানে নভেল পড়ো ;তার থেকে পড়াশুনা করা অনেক ভালো । —-অফিস ফেরতা রঙ্গন টাইয়ের নটটা আলগা করতে করতে বলে ।

রঙ্গনের খোঁচাটুকু গায়ে মাখেনা তিয়াসা । বরং মনে মনে ধন্যবাদ জানায় রঙ্গনকে তার এগিয়ে যাবার প্রথম পদক্ষেপে শরিক হবার জন্য । হয়তো না জেনেই , কিন্তু হয়েছে তো ।

এভাবেই শুরুহয় তিয়াসার প্রবাসজীবনের লক্ষ্যপূরনের প্রথম পথচলা ।
তিয়াসা বিশ্বাস করে রূপ , যৌবন বা অর্থ নয় ;একমাত্র শিক্ষাই মানুষের একান্ত আপন যা কখনো তাকে ছেড়ে যায় না ।

আর রঙ্গন ভাবে ইউনিভার্সিটিতে গেলে , এদেশের মানুষজনের সাথে মেলামেশা করলে তিয়াসা হয়তো একটু আধুনিক হবে । তিয়াসার এইসব বস্তাপচা টিপিক্যাল বাঙালি সেন্টিমেন্টে হাঁপিয়ে উঠেছে রঙ্গন ।

কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তেমন কিছুই হলোনা । যে আধুনিকতা কেবল ছোট জামাকাপড় , মদ আর হৈহুল্লোড় এ সীমাবদ্ধ তাকে তিয়াসা কোনদিনই আত্মস্থ করবে না …..এযেন তার অলিখিত পণ ।

দেখতে দেখতে কেটে যায় গোটা একটা বছর । প্রবাসজীবনে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে তিয়াসা ;কিন্ত রঙ্গন এর চোখে তার তেমন কোনো উত্তোরণ ঘটেনি । বরং তার বিলাসবহুল ঝাঁচকচকে বাংলোতে , সংসারে একটু ভালোবাসা , সহনশীলতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব প্রকট হয়ে সময়ে সময়ে ।

দুই অসম মানসিকতার মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে পরস্পরের সান্নিধ্যে । মুক্তির পথ খোঁজে দুজনেই । কথার পিঠে কথায় , যুক্তির পিঠে যুক্তিতে হারিয়ে যায় সম্পর্কের অবশিষ্ট উষ্ণতা । দুজনেই উপলব্ধি করে সন্ধি নয় , বিচ্ছেদই মুক্তির একমাত্র পথ ।

********

তোর ফোনটা কখন থেকে বেজে যাচ্ছে । মায়ের মুখে স্পস্ট বিরক্তি ।

সায়নের ফোন । মায়ের কথায় কান না দিয়ে ফোনটা রিসিভ করে তিয়াসা …..

বল
কি করছিস ?
ছাদে , হাওয়া খাচ্ছি । মেঘ করেছে ।
হুম , হাওয়া খা কিন্তু খবরদার বৃষ্টিতে ভিজিস না কিন্তু ।
যো হুকুম জাঁহাপনা । একটু হেসে বলে তিয়াসা । শোন এখন রাখছি । রাতে তোকে কল করবো ।

আরে তিয়াসা কবে এলি ? পাশের বাড়ির ছাদ থেকে সুতপা কাকিমা প্রশ্ন ছুড়ে দেন । এনাকে দেখেই তিয়াসা সায়নের ফোনটা তাড়াতাড়ি কেটে দিয়েছে ।

সব পাড়াতেই এরকম কিছু কাকিমা , মাসিমা, পিসিমা থাকেন যাদের অন্যের চিন্তায় রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়না । সুতপা কাকিমাও তেমন ।
তিয়াসার বিয়ে , ডিভোর্স , ভিনরাজ্যে চাকরি ;সর্বোপরি আবার কোনো বিয়ে না করে একলা থাকার সিদ্ধান্ত সুতপা কাকিমার কাছে তিয়াসাকে মেগাসিরিয়ালের থেকেও হাই টিআরপি তে রেখেছে ।

তিয়াসা একলা থাকে । যথেস্ট রোজগারও করে । বেশ কয়েকটা বিদেশী ডিগ্রি তার ঝুলিতে । ডক্টর তিয়াসা চৌধুরীকে একটা গোটা ডিপার্টমেন্ট কুর্নিশ করে ।

কিন্তু তিয়াসা এসব একদিনে পায়নি । দিনের পর দিন কঠিন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সে এগুলো অর্জন করেছে । নিজের খরচ চালাতে একটা সময় সে অ্যানার রেস্তোরাঁতে কাজ পর্যন্ত করেছে ।
কারন তার প্রতি যে মানুষটার বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই তার থেকে হাত পেতে টাকা নিতে আত্মসম্মানে বেঁধেছে তিয়াসা র ।
বাবা মা বারবার বলেছে দেশে ফিরে আসতে কিন্তু তিয়াসা সেসবে কান দেয়নি । বরং নিজের লক্ষ্য পূরনে আরও দৃঢ় সংকল্প হয়েছে , অবিচল থেকেছে নিজের লক্ষ্যে ।

তার সেই একলা লড়াইয়ের দিনগুলোতে এই সুতপা কাকিমা , রাঙ্গামাসি বা সেইসব আত্মীয় প্রতিবেশী , যারা রোজ তিয়াসাকে নিয়ে সমালোচনা করে ; তারা কেউই কিন্তু ছিলো না ।

বিয়ের দুবছরের মাথায় ডিভোর্স হয়ে যাওয়া তিয়াসা ডিভোর্সের ছয়মাসের মধ্যে দেখেছিল রঙ্গনের দ্বিতীয় বিয়ে । এবার আর রঙ্গন ভুল করে প্যানপ্যানে বাঙালি মেয়ে বিয়ে করেনি ;এক্কেবারে খোদ মেম বিয়ে করেছে ।

কিন্তু তিয়াসা পারেনি নিজের জীবনে অন্য কাউকে নিয়ে আসতে । সেটা প্রথম বিয়ের তিক্ততার কারনে নাকি দীর্ঘদিন একলা জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার জন্য তা সে নিজেই জানে না ।

তবে মায়ের পেড়াপেড়িতে এদেশে ফেরার পর বারদুই পাত্রপক্ষের সামনে বসেছিল সে । নতজানু হয়ে নয় , মাথা উঁচু করে ।
পাত্র কেউ বিপত্নীক , কেউ বা ডিভোর্সী । কিন্তু তাদের হাবভাব এমন ছিল যেন তারা বিয়ে করে তিয়াসাকে উদ্ধার করতে এসেছে ।
যে মেয়েটা পরবাসে দশ দশটা বছর একলা মাথা উঁচু করে সংঘর্ষ করে বেঁচেছে সেই মেয়ে কোনো সংকীর্ন মানুষের সাথে কখনোই বাঁধা পড়তে পারে না ।

কিন্তু তিয়াসার আশপাশের মানুষজন এটা মানতে পারেনি । তাইতো তিয়াসা নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে নিজের পরিচিত মহল থেকে । কলকাতা ছেড়ে চাকরি নিয়েছে ভিনরাজ্যে । পরিচিত সে সমস্ত জায়গা সে এড়িয়ে যায় যা তার মনের শান্তি নষ্ট করে ।

তিয়াসার এই একলা জীবন অনেকেরই অশান্তির কারন । তারা সুযোগ পেলেই তাকে বুঝিয়ে দিতে চায় “তুমি যত বড় শিক্ষিতাই হও না কেন আদপে তুমি মেয়ে । তোমার প্রয়োজন আছে একটি পুরুষ রুপি প্রভুর ।

যেমন এই মুহূর্তে সুতপা কাকিমা বলে বসেন ——-এবার একটা বিয়ে কর তিয়াসা । মা বাবা আর কদিন !
এ প্রশ্ন তিয়াসার কাছে ভীষন কমন । সে বিয়ে না করা অবধি পাড়া পড়শী আত্মীয়স্বজন কারুর রাতে ঘুম নেই ।

দুফোঁটা বৃষ্টির জল এসে পড়ে তিয়াসার গালে । তাকে বাঁচাতে আজ প্রকৃতিও রনাঙ্গনে নেমেছে । প্রশ্ন এড়িয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায় তিয়াসা ।

তিয়াসা ভালো আছে । তার একলা জীবনে কোনো হতাশা নেই , হীনমন্যতা নেই , নতুন সম্পর্কের দায়বদ্ধতা নেই , একাকীত্বের হাহাকার নেই , স্বামী সন্তান না থাকার মেকি দুঃখ নেই ;নেই নিজেকে একলা অবলা ট্রাজিক নায়িকা প্রমান করার মরিয়া প্রচেষ্টা ।
বরং আছে নিজের শর্তে নিজের মতো জীবন কাটাবার এক নীরব প্রতিশ্রুতি নিজের কাছেই ।

আর মাঝে মাঝে সে দুচোখ ভরে দেখতে চায় এই জগৎ প্রকৃতি কে । তার এ চাওয়ায় বন্ধু সায়ন শরিক হয় সবসময় । তাকে ভালোবাসলে ও হারাবার ভয়ে তাকে একদম নিজের করে পেতে চায়না তিয়াসা ।
বরং এই ভালো । সমান্তরাল রেখার মতো পাশাপাশি চলবে দুজনে । তিয়াসা কিন্তু ভালোই আছে ।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত