মধ্যবিত্তের প্রেম

মধ্যবিত্তের প্রেম

– ভাইয়া ?
: জ্বি, আমাকে বলছেন?
– হ্যা।
: জ্বি, বলুন ।
– আমার নাম ইতি, ১ম বর্ষ।
: আমি আপনার নাম জিজ্ঞাসা করি নাই। কিছু বলার থাকলে বলুন।
– ভাইয়া,আপনি কি ব্যস্ত ?
: মোটামুটি ।
– ভাইয়া আপনার কাছে গত বছরের প্রশ্ন আছে?
: সামনের ফটোকপি’র দোকানে পাবেন। ধন্যবাদ।
– ভাইয়া,ভাইয়া….
: আবার কি ?
– যদি কিছু মনে না করেন আপনার নোট গুলা দিবেন?
: আচ্ছা।
– ভাইয়া আপনাকে নীল টিশার্টে খুব মানিয়েছে।
: ধন্যবাদ।
২ দিন পর।
: হ্যালো..
-ভাইয়া,আসসালামু আলাইকুম।
: ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
– ভাইয়া কেমন আছেন?
: আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো। কে?
– ভাইয়া আমি ইতি।
: কোন ইতি?
– ১ম বর্ষ, আপনার কাছ থেকে যে নোট নিলাম।
: এত রাতে কি ব্যাপার, আর আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়….?
– আপনার নাম্বার সংগ্রহ করা খুব বেশি কষ্টের না।ভাইয়া আমি আপনার চেয়ে ছোট, আপনি আমাকে তুমি করে ডাকলে খুব খুশি হতাম।
: আচ্ছা দেখা যাবে।
– না, এখন একবার ডাকেন।
: তোমার কল করার কারন টা কি?
– কালকে কি আপনি ক্যাম্পাসে আসবেন?
: তার জন্য আপনি আমাকে কল করেছেন !
– আবার আপনি 🙁 ! ভাইয়া আমি Blood Circulation of Heart কিছুতেই বুঝতেছি না।
: কেন তুমি ক্লাস করো নাই, আর নোটে তো খুব সুন্দর করে দেওয়া আছে।
– না ভাইয়া আমি এই ক্লাসটা মিস করেছি। নোটে দেওয়া আছে কিন্তুু কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।
: আমি কি করতে পারি?
– কালকে যদি একটু বুঝিয়ে দিতেন।
: আচ্ছা।
পরদিন সকালে →
– ভাইয়া। কেমন আছেন।
: জ্বি, ভাল । তুমি?
– অনেক অনেক ভাল আছি। ভাইয়া আমরা লাইব্রেরিতে বসি?
: হ্যা। চলো।
[ ইতি কে Blood Circulation of Heart বুঝচ্ছি ]
: ইতি
– জ্বি ভাইয়া।
[ মনে হলো কল্পনার জগত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসলাম ]
: বইয়ের দিকে লক্ষ
– আচ্ছা ভাইয়া আপনি কি চোখের ভাষা বুঝেন।
: এটা আবার কেমন প্রশ্ন। চোখের আবার ভাষা আছে নাকি? 😀 😀
– আপনি হাসলে খুব সুন্দর লাগে।
: ধন্যবাদ
– ভাইয়া আমার চোখ কি বলছে?
: দুঃখিত। আমি চোখের ভাষা বুঝি না।
– আমি বলবো।
: হ্যা বলতো শুনি। [ আমি খুব আগ্রহ দেখালাম ]
– ভাইয়া আমি একজন কে খুব পছন্দ করি। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলে আমার কি অন্যায় হবে?
: মোটেও না। প্রতিটা মানুষের স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আর তুমি যে কল্পনায় বিবর ছিলে এইটা বুঝতে পারছি।
– কিভাবে?
: পড়ার সময় আনমনা ছিলে । তা ছেলেটা কে?
– আমাদের ক্যাম্পাসের
: ইয়ারমেট নাকি?
– না।
: তাহলে ?
– এক সিনিয়র ভাই
: তাকে বলছো, তোমার স্বপ্নের কথা?
– না ভয় হয়।
: কেন।
– যদি আমার স্বপ্ন ভেঙে দেয়!
: কেন ভেঙে দিবে। তোমাকে নিয়ে কতজন স্বপ্ন দেখে তুমি জানো।
– হুম জানি, কিন্তু আমি যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি সে আমাকে নিয়ে ভাবে না।
: কি করে বুাঝলে।
– তার চোখ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে।
: আচ্ছা ছেলেটার নাম কি?
– আবির আহমেদ
: সিনিয়রদের মধ্যে আবির আহমেদ টা আবার কে?
– আপনি
: কি?
– হ্যা ভাইয়া। আপনি। আপনাকে আমি ১ ম যেদিন দেখেছি, সেদিন থেকে আপনাকে নিয়ে ভাবা শুরু করেছি। আর কখন যে ভালবাসায় রূপ নিয়েছে আমি জানি না। আপনাকে নিয়ে আমার দেখা স্বপ্ন গুলা মিথ্যা না। প্লিজ দয়া করে স্বপ্ন দেখা কেড়ে নিবেন না।
: দেখ ইতি। তোমার বয়স কম। বাস্তবতা বোঝার মত বয়স তোমার হয় নাই। আবেগেটাই বেশি। আর তুমি আবেগে ভাসছো। দু দিন পর সব আবেগ কেটে যাবে।
– আপনি আমাকে না ভালবাসেন কোন দুঃখ নাই। কিন্তু আমার স্বপ্নগুলাকে ছোট করে দেখবেন না।
[ ইতি কেঁদে ফেললো। তার চোখ দিয়ে অঝরে অশ্রু ঝরে Blood Circulation এর পৃষ্ঠা ভিজে গেল ]
: দেখ ইতি । আমি চোখের ভাষা না বুঝলেও, চোখের জলের ভাষা ঠিকই বুঝি। যেকোনো ছেলেই তোমাকে পাওয়া স্বপ্ন দেখে। কিন্তু আমি আর ১০ টা ছেলের মত না। আমাকে প্রতিটা মূহুর্তে সংগ্রাম করতে হয়। আর আমি আমার ক্যারিয়ার ছাড়া অন্য কিছুই ভাবি না।
– আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো।
: হাহাহাহা। এই নেও টিস্যু কান্না থামাবে না। কাঁদো দরকার হলে চিৎকার করে কাঁদো। কান্না থামালে মনের সাথে অবিচার করা হয়। কান্না শেষ হলে চোখের জলের সাথে সাথে চোখ দিয়ে স্বপ্ন গুলা মুছে ফেলবে। অনুরোধ রইলো।
[ একবারের জন্য পিছনে তাকালাম না , ইতিকে সুযোগ দিলাম না আর একটা কথা বলার। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসলাম। মামার দোকান থেকে চায়ের সাথে সিগারেট নিয়ে ভাবছি ইতি মেয়েটা সত্যিই আমাকে ভালবাসে..? মেয়েটা সত্যিই অনেক সুন্দর ছিল। ছি মেয়েটাকে আমি কাঁদালাম! আচ্ছা আমি মেয়েটার প্রতি দূর্বল হয়ে যাচ্ছি না তো। কই না তো। কাঁদুক বেশি বেশি কাঁদুক। কাঁদতে কাঁদতে হয়তো ঘৃনা জন্মে যাক আমার উপর। যাকে ভালবাসে তাকে সত্যিই ঘৃনা করা যায়। এমন সময় দোকানদার মামা ডাকলেন ]
: আবির মামা
– জ্বি মামা।
: অনেক বাকি হয়েছে। এবার টাকা গুলা দিয়ে দিন।
– জ্বি মামা। আজকেই দিয়ে দিবো।
এমন সময় বাবার ফোন
– বাবা আবির
: আসসালামু আলাইকুম বাবা
– ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
: বাবা আপনি কেমন আছেন।
– শরীর টা বেশি ভাল না। তোমার টাকা টা জোগাড় করতে পারি নায়। দু দিন পড়ে দিলে সমেস্যা আছে।
: আচ্ছা বাবা।
– ঠিক আছে রাখছি।
: আসসালামু আলাইকুম বাবা।
– ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
[ কয়েকদিন পর বাবার চাকুরী শেষ হয়ে যাবে, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, বোনটা বড় হচ্ছে বোনের বিয়ে দিতে হবে। নিজেকে বড় হতে হবে চাকুরী করে সংসারের হাল ধরতে হবে। অন্যর হাত ধরার সময় কোথায়।]
একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের নিজের পায়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হতে, স্বপ্নগুলো জলন্ত সিগারেটের মত শেষ হয়ে যায়।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত