রাগারাগি ও ভালোবাসা-বাসি

রাগারাগি ও ভালোবাসা-বাসি
আমি আবারো ডাকলাম,
-এই মিহিন?
মিহিন এবারেও এলো না৷ প্রথমবার তো সাড়া দিল। এবার তাও করলো না। আমি মেজাজ গরম করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার রাগ উঠতে থাকে৷ সারাবেলা অফিস করলাম। এই কাজ, সেই কাজ করে ক্লান্ত আমি৷ শেষ বেলা ঘরে এসে যদি একটুখানি শান্তি না পাই তাহলে কেমন লাগে? রাগ কী একটুও উঠে না? এমনিতেই সামান্য ব্যাপারেও আমি মাঝে মাঝে ভীষণ রেগে যাই৷ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না৷ আমার রাগটাই এমন। উঠে তো উঠেই৷ তারপর চট করেই পড়ে যায়৷ আমি এবার খানিকটা কড়া স্বরেই ডাকলাম,
-এই মিহিন? কই তুমি? এদিকে আসো বলছি? আমি তার সাড়া পাবার অপেক্ষা করলাম। পেলাম না। আমার রাগ বাড়ে আরো। আমি কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। হঠাৎই মিহিন চুল বাঁধতে বাঁধতে রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। এসেই কেমন একটা স্বরে বলে,
-কী ব্যাপার? এমন চেঁচাচ্ছো কেন? আমার ভ্রু কুচকে আসে৷ গা ঘেমে গিয়েছে এতোক্ষণে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে রাগি স্বরে বলি,
-আমি চেঁচাচ্ছি?
-তা নয়তো কী? চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে তো ঘর মাথায় তুলে নিচ্ছো৷ তা এতো চেঁচাচেচি কিসের? আমি অনেকটা সিরিয়াস ভঙ্গিতে বললাম,
-আমি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ঘর মাথায় তুলে নিচ্ছি?
-উফ! তুমি এতো প্যাঁচালো! কী বলবে সোজাসুজি বললেই তো পারো?
-আমি আবার কী প্যাঁচালাম এখন?
-এই যে কথা রিপিট করছো? এটা অসহ্য লাগে না? আমি বললাম,
-এখন অসহ্য লাগছে তাই না?
-উফ! তাসফি! ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছে না আমার। খুব ক্লান্ত আমি। কী বলবে বলো।
-কী আর বলবো আমি? আমি কথা প্যাঁচাই! চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ঘর মাথায় তুলি! আমার কথা শুনতে হবে না তোমার। যাও এখান থেকে। মিহিন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি গেঞ্জি খুঁজতে খুঁজতে বললাম,
-সারাদিন অফিস করে এসে ঘরেও একটু শান্তি পাই না৷ কোথায় তুমি আমাকে হেল্প করবে, না উল্টো রাগ দেখাচ্ছো। তুমি একাই যেন ক্লান্ত হও৷ আমাকে যেন ক্লান্তি ধরে না। মিহিন এবারেও কিছু বলল না৷ আমি আলমারির ভেতরে গেঞ্জিটা খুঁজতে থাকলাম৷ পেলাম না। জোরে একটা লাত্থি মারলাম আলমারিতে।
-শালার কপাল খারাপ হলে এমনই হয়৷ ধ্যাত! রাগে আমার সমস্ত শরীর জ্বলছিল। কী করছি না করছি কিচ্ছুর খেয়াল নেই৷ নিজেকে হঠাৎই কেমন উন্মাদ মনে হচ্ছিল। মিহিনের দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম সে কেমন ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে। আমি এবার খানিকটা জোরেই বললাম,
-এখনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লুক দেওয়ার দরকার নেই৷ তোমাকে যেতে বলছি এখান থেকে৷ যাও?
-আশ্চর্য ব্যাপার৷ তুমি এমন করছো কেন?
-যেমনই করি তাতে তোমার কী? তুমি যাও এখান থেকে৷ তোমাকে দেখলেও আমার রাগ উঠছে৷
-খুব বাড়াবাড়ি করছো বলে দিচ্ছি?
-হ্যাঁ৷ আমিই সব সময় বাড়াবাড়ি করি। তুমি তো কিছুই করো না৷ ধোয়া তুলশী পাতা তুমি৷
-আমি কী করলাম?
-কিছু করোনি? এতক্ষণ যে ডাকছি একবারও শুনোনি? শুনেছো৷ কিন্তু সাড়া দাওনি৷ দিবে কেন? দেওয়াটা তো প্রয়োজনবোধ করো না।
-দেখো অযথা রাগ দেখাবা না৷ তুমি অফিস করো৷ তাই বলে এটা ভেবো না যে আমি বাসায় বসে বসে আরাম করি। বাসাতেও আমাকে অনেক কাজ করতে হয়৷ তাই রাগ দেখালে একটু ভেবে চিন্তে দেখাবে৷
-তুমি যাও তো এখান থেকে? কী কাজ করো জানি তো! সারাদিন রান্নাঘরে পড়ে থাকো৷ কাজের কাজ তো কিছুই করো না৷
-তোমার কী মনে হয়? আমি সাধে পড়ে থাকি ওখানে? আম্মা আর আমি কি রান্নাঘরে বসে ঘাস কাটি?
-তোমরা ঘাসই কাটো।
-দেখো, এবার আমার মেজাজ গরম হচ্ছে কিন্তু?
-হলে? হলে কী হবে? কী করবে তুমি? যাও তো! রান্নাঘরে পড়ে থাকো৷ তোমাকে ওখানেই মানায়৷
এই বলে আমি রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। আকাশি কালারের টি-শার্টটা গায়ে দিয়ে একেবারে ঘর থেকেই বেরিয়ে গেলাম৷ আসার সময় দরজাটা খুব জোরেই বন্ধ করলাম।
বাজে একটা শব্দ হলো। আম্মার চেঁচামেচি কানে এলো৷ আমি গায়ে মাখলাম না৷ সিড়ি বেয়ে নেমে এলাম৷ আমার সমস্ত শরীরে, রক্তের প্রতিটি কনিকায়, প্রতিটি কোষে কোষে যেন রাগ ঘুরছে৷ আমি বাসা থেকে বেরিয়েই হাঁটা ধরলাম। কোন দিকে হাঁটছি খবর নেই৷ কিছুদূর হেঁটে আসতেই আমার মনে হলো আশ্চর্য ব্যাপার! আমি কেন রাগ করেছি এই ব্যাপারটা মিহিন জানে না৷ অথচ তাকে এটা জানানো উচিৎ ছিল৷ কারো সাথে রাগারাগি হলে অবশ্যই তাকে রাগারাগির কারণটা জানানো উচিৎ। না জানিয়ে রাগ করাটা বোকামি। অর্থহীন। পরবর্তীতে মেজাজ পড়ে গেলে একটা অর্থহীন অস্বস্তিকর মূহুর্তের তৈরী হবে৷ আমার রাগটা ওর কাছে হাস্যকর হয়ে দাঁড়াবে৷
এই ব্যাপারটা ঠিক হয়নি৷ ওকে অবশ্যই রাগের কারণটা জানানো উচিৎ ছিল৷ বাসায় ফিরে ওকে রাগের কারণটা বলে আসবো নাকি? যাবো? নাহ! গেলে সেটা আরো হাস্যকর হবে৷ আমি মোড়ের দোকানের সামনে গিয়ে বসলাম। রাগ এখন আমার নিজের উপরই হতে থাকলো৷ আমি চুপচাপ বসে থাকলাম ওখানে৷ মাথাটা কেমন জানি ভনভন করছে৷ পুরো ব্যাপারটাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এখন৷ কী করলাম, কেন রাগ করলাম, কেনইবা এখানে এলাম, এসব নিয়ে ভাবতে থাকলাম৷ দোকানটা বন্ধ। বাইরে সিড়ির মতো কিছু অংশ রাখা৷ আমি সেখানে বসে আছি। আমার মন খারাপ৷ এতোক্ষন রাগ ছিল। রাগটা এখন পানি হয়ে গিয়েছে৷ সেই রাগ এখন মন খারাপে পরিনত হয়েছে৷ হঠাৎই দেখলাম নিশাদ কী নিয়ে যেন যাচ্ছে৷ আমার সাথে চোখাচোখি হতেই এদিকে আসলো। বলল,
-কিরে? তোকে তো মনে হয় রোজা বেশ ভালো ভাবেই ধরেছে?
-অফিস করে ক্লান্ত আছি রে ভাই!
-ক্লান্ত থাকলে বাসাতেই না শুয়ে থাকবি৷ বাইরে কী?
-কিছু না৷ তুই কোথায় যাচ্ছিস?
-ঘরে লবণ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেটা আনতেই নিচে আসলাম।
-তোকে তো দেখাই যায় না৷ থাকিস কই?
-অফিস করি৷ বিকেলে বাসাতে এসে টুকটাক কাজ করি৷ রাতে বিশ্রাম এবং তারাবীতেই সময়টা পেরিয়ে যায়।
আমি খানিকটা ভ্রু কুচকে বললাম,
-বাসাতে কিসের কাজ করিস? ইফতার তৈরীতে বউকে সাহায্য করিস নাকি? ও হাসে। বলে,
-ওকে সাহায্য করবো কেন? কাজটা ওর একার নাকি? কাজটা আমাদের। তাই এক সাথেই করি। এতে ওরও কষ্ট কম হয়৷ কাজটাও দ্রুত শেষ হয়৷
-বাব্বাহ! বন্ধু আমার বউ পাগল! ও এবারেও হাসে৷ বলে,
-এসব তুই’ই তো বলতি৷ এখন আমাকে বলছিস বউ পাগল? আমার মনটা কেমন যেন আরো ভীষণ খারাপও হয়ে যায়। বলি,
-ইদানীং অফিসে বেশ কাজের ফ্রেশার৷ তাই ঘরের কাজে সাহায্য করতে পারি না৷ মেজাজটাও কেমন মাথায় চড়ে থাকে৷ নিশাদ কিছু সময় আমার দিকে চেয়ে থাকে৷ বলে,
-ভাবীর সাথে রাগারাগি হয়েছে? আমি অন্যদিকে তাকাই। চোখে মুখে রুক্ষতা। অথচ মন ভর্তি বেদনা, আপসোস কিংবা দলা পাকানো এক গুচ্ছ অর্থহীন অভিমান। নিশাদ বলে,
-রাগলি কেন? আমি একবার ওরদিকে তাকাই৷ আবার অন্যদিকে। বলি,
-জানিসই তো! হুটহাট আমার রাগ উঠে যায় খুব।
-এই জিনিসটা ছাড়তে পারিস না?
-চেষ্টা করছি৷ হয় না৷ নিশাদ কিছু সময় চুপচাপ আমার কাছে বসে থাকে৷ আমিও বসে থাকি৷ কিছুই যেন ভালো লাগে৷ অস্বস্তি হতে থাকে৷ মেয়েটা আজ সত্যিই রেগে গিয়েছে। আজ কী হবে ঘরে কে জানে৷ নিশাদ বলে,
-এক কাজ কর। এখানে বসে না থেকে ঘরে যা। পারলে কিছু কাজ করে দে৷ যদি ভাবীর রাগ কিছু পড়ে আরকি৷ এছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। আমি ফ্যাকাশে হাসি দেই৷ হাসতেও যেন মন চায় না৷ বলি,
-তুই যা৷ আমি আসছি৷ নিশাদ উঠে দাঁড়ায়৷ আমার হাত ধরে টান দেয়৷ বলে,
-আরে চল তো! এখানে বসে থেকে লাভ নেই। ওখানে কিছু করার চেষ্টা কর।
আমি কেমন অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে আসি৷ বাসার সামনে এসে দাঁড়াই৷ নিশাদ চলে গিয়েছে৷ তাদের বাসাটা অন্যদিকে। আমারটা এইখানে৷ আমি কিছু সময় নিচে দাঁড়িয়ে থাকলাম। উঠবো কি উঠবো না এমন চিন্তায় পড়ে গেলাম। কেমন জানি লজ্জা লাগছিল। কিংবা হঠাৎ রাগ পড়ে যাওয়ায় ঘরে যাচ্ছি বলে কেমন অস্বস্তি চেপে ধরছিল। আমি ধীরে ধীরে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকলাম। দরজার কাছে আসতেই দেখি দরজা বন্ধ৷ আমি কিছু সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকি। নক করবো কী করবো না এমন এক চিন্তায় আমার সমস্ত মস্তিষ্ক ব্যতিব্যস্ত। অথচ ঘরটা নিজেরই। একটু আগে অফিস থেকে এসে কী সাবলীল ভাবে নক করেছিলাম। ঘরে ঢুকে শাওয়ার নিয়েছিলাম। তখন অন্য রকম একটা স্বাচ্ছন্দ্য ছিল৷ এখন যেন সেটা নেই৷ মনের ভেতর একগাদা অপরাধবোধ চেপে আছে৷ চেপে আছে কিছু অর্থহীন অভিমান। মিহিন আজ কেমন রিয়েক্ট করবে সেই ভাবনাটা যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল আমায়৷ আমি কলিং বেল বাজালাম। প্রথমবার কেউ সাড়াদিল না৷ পরেরবার আম্মার গলার আওয়াজ পাই৷ তিনি ওপাশ থেকে বললেন,
-কে? আমি কোনো মতে বললাম,
-মা, দরজাটা খোলো তো! আম্মা দরজা তো খুললেনই না৷ উল্টো চেঁচিয়ে বললেন,
-এই ঘরে তোর জায়গা নেই৷ আজ সারাবেলা বাইরেই থাকবি৷ বাইরে ইফতার করবি৷ কতোবড় সাহস তোর! আমরা ঘাস কাটি রান্নাঘরে তাই না? দেখবো আজ কে রান্না করে খাওয়ায় তোকে৷ বেয়াদব কোথাকার৷ এক্কেবারে বাপের মতো বদমেজাজি হয়েছে এই ছেলে৷ আমি জিবে কামড় দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। হায় কপাল! মা’টাও রেগেছে এবার৷ আজ মনে হচ্ছে ঘরের খাবার কি, থাকার জায়গাটাও জুটবে না৷ আমি কিছু সময় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকি৷ মেজাজ মর্জি আবার খারাপ হতে থাকলো৷ এবার অবশ্য নিজের উপরই হচ্ছে৷ অযথাই তখন রাগ দেখালাম। রাগ দেখানোটা উচিৎ হয়নি৷ তারউপর কী না কী বলেছি কে জানে৷
এমনিতে রেখেছি রোজা৷ তারউপর অফিসের কাজের প্রেশারে দম বন্ধকর অবস্থা৷ সেসব পেরিয়ে ভাবলাম ঘরে এসে আরামদায়ক একটা ঘুম দেব। কিন্তু হলো কী? এখন ঘর ছাড়া হতে হচ্ছে। আমি ছাদের দিকে এগিয়ে যাই। ইফতারির এখনও এক ঘন্টার মতো সময় বাকি৷ শরীরটা যেন আর পারছিলাম না উপরের দিকে টেনে তুলতে। খুবই ক্লান্ত লাগছিল৷ মনে হচ্ছিল ছাদেও উঠতে পারবো না ঠিক মতো৷ কেমন অসাড় অসাড় লাগছিল৷ তবুও কোনো রকম ছাদে উঠে এলাম। উঠতেই দেখলাম সোমা নামের মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। সোমা, বাড়িওয়ালার বড় কন্যা৷ এই হলো আরেক মসিবত। এই মেয়ে এতো কথা বলে যা বলার মতো না৷ আমার আজকের দিনটাই খারাপ যাচ্ছে। কোথায় ভাবলাম ছাদে এসে একটু আরাম করে বসবো, প্রকৃতি দেখবো, মনটাও কিছুটা ভালো হবে। কিন্তু তা আর হলো কই? আমি ধীরে ধীরে উত্তর দিকের রেলিঙের কাছে গেলাম। রেলিঙের ধারেই বসার জায়গা আছে৷ আমি সেদিকে এগিয়ে যাই। আমাকে দেখতেই সোমা বলে উঠে,
-আরেহ! তাসফি ভাই। কী খবর? আমি বসতে বসতে বলি,
-এই তো ভালো৷ তোমার কী খবর সোমা?
-এই তো ভাইয়া ভালো।
-আঙ্কেল আন্টির কী খবর?
-আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছেন৷ সোমার এদিকে এগিয়ে এসে বলে,
-ভাইয়াকে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে যে?
-রোজা, অফিস দুটো মিলিয়ে বেশ ক্লান্ত লাগছে। তারউপর ভ্যাপসা গরম। বুঝোই তো!
-হুম৷ তা ঠিক। প্রথম রোজা গুলো খুব ভালো ভাবেই রাখা গিয়েছে৷ বৃষ্টি ছিল, পরিবেশটাও বেশ ঠান্ডা ছিল। ভালো লাগতো৷ এখন যা গরম পড়ছে! গরম পড়লে রোজা রাখতে কষ্ট হয় অনেক। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম,
-হুম। সোমা কিছু বলল না৷ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো৷ তারপর গিয়ে দোলনায় গিয়ে বসলো৷ দোলনাটা ঠিক আমার দিকে মুখ করে রাখা। সোমা সেখানে বসেই বলল,
-ভাইয়া?
-হু?
-আপনি আর মিহিন ভাবি প্রেম করে বিয়ে করেছেন তাই না?
-হ্যাঁ৷
-আপনাদের প্রেম হয় কখন থেকে৷ ইন্টার নাকি অনার্স লেবেল থেকে?
-মাস্টার্স থেকে৷
-এর আগে আপনি সিঙ্গেল ছিলেন?
-হ্যাঁ?
-আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ভাইয়া৷
-কেন?
-আপনার মতো একজন হ্যান্ডসাম ছেলে এতোদিন সিঙ্গেল ছিল সেটা মানা যায় না৷
-মানা যায় না কেন?
-কারণ এমন ছেলেরা প্রেম করে অনেক৷ তাই৷
-তোমার ধারণা আমি অনেক প্রেম করেছি?
-হ্যাঁ৷
-করতে পারলে তো হতোই৷ তা আর হলোই কই?
-মানে?
-মানে ভাইয়া জীবনে কেবল একটাই প্রেম করেছি৷
একজনকেই মনে প্রানে ভালোবেসেছি৷ এবং আলহামদুলিল্লাহ আমি তাকে নিজের করেও পেয়েছি৷ সোমা হাসে। বলে,
-আপনি ভাগ্যবান ভাইয়া৷ আমিও হাসি৷ আসলেই আমি ভাগ্যবান। বলি,
-তোমার কী খবর? সেদিন দেখলাম এক ছেলের সাথে কোথাও যাচ্ছো৷ কে সে? সোমা লজ্জা পায়৷ মাথা নিচু করে নেয়। বলে,
-এমনিই। ফ্রেন্ড।
-আসলেই?
-হ্যাঁ।
-বলতে চাচ্ছো তুমি সিঙ্গেল?
-হ্যাঁ।
-মজা করো না তো! তোমরা মেয়েরা বিয়ের পরেও সিঙ্গেল থাকো৷
সোমা হাসে৷ তার হাসি রহস্যময়। আমিও হাসি৷ আমার হাসি অস্বস্তিময়। আমাদের হাসাহাসির এমন পর্যায়ে দেখি মিহিন এসে দাঁড়িয়ে আছে৷ ঠিক সোমার পেছনে৷ আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে৷ যেন আস্ত গিলে খাবে। আমি একটু নড়েচড়ে বসি৷ হাসিটা মূহুর্তে বিলীন হয়৷ মিহিন পেছন থেকে বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলে,
-এই, এদিকে আসো তো! আহা! কী মধুমাখা কণ্ঠ৷ অথচ এর আড়ালেই আমার জন্যে রাগের পাহাড়, অভিমান ভর্তি দু’চোখ অপেক্ষা করছে৷ আমি জানি, আজ আমার সাথে বাজে কিছু হতে যাচ্ছে। খুব বাজে৷ আমি উঠে আসি ধীর পাঁয়ে। আসার সময় সোমাকে বলি,
-সোমা! থাকো তাহলে হ্যাঁ৷ ভাইয়া গেলাম। তোমার ভাবী ডাকছে। সোমা হাসি মুখে বিদায় দেয়৷ মিহিনের দিকে তাকাতেই দেখি তার চেহারা কালো হয়েছে। কেমন ফ্যাকাসে রুক্ষতা ভর্তি চেহারা তার৷ আমার কেমন জানি মায়া হলো। এই মেয়েটাকে কী করে রাগালাম আমি। আমি ওর কাছে আসি৷ ও দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
-ঘরে এসো।
এই বলে ও চলে যেতে থাকে৷ আমিও ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাই। ঘরের ভেতর ঢুকি। আম্মার রাগি স্বর শুনি না৷ আব্বা ঘুমিয়ে আছেন। আমি রান্নাঘরের কাছে যাই৷ আম্মা রান্নায় ব্যস্ত৷ মিহিন মাকে সাহায্য করছে৷ আমি কী করবো ভেবে পাই না৷ নিজের রুমে আসি। কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে উঠে যাই৷ রান্নাঘরে গিয়ে বলি,
-আমাকে কিছু করতে হবে মা? মা কিছু বলেন না৷ আমার দিকে তাকিয়েও দেখেন না৷ মিহিনকে বলি,
-দেখি, আমাকে দাও। আমি পেঁয়াজটা কেটে দেই৷ মিহিনও আমার দিকে তাকায় না৷ মুখ ভর্তি তার অভিমান। আমি কিছু সময় তাকিয়ে থাকি ওর দিকে৷ ও মাথা তুলে দেখে একবার আমায়৷ তারপর চোখ নামিয়ে নেয়৷ আমার কেমন জানি লাগতে থাকে৷ উপায় না পেয়ে নিজের রুমে এসে শুয়ে থাকি৷ চোখটা লেগে আসে যেন৷ ক্লান্তি চেপে ধরে ভীষণ ভাবে৷
ইফতারটা রোবটের মতো করতে হয়৷ আম্মা, আব্বা এবং মিহিন তারা ঠিকই হাসিমুখে কথা বলছে একজন অন্যজনের সাথে৷ এটা দিচ্ছে ওটা নিচ্ছে৷ অথচ কেউই আমার দিকে খেয়াল দিচ্ছে না৷ কথা বলছে না৷ আমার অস্বস্তি হতে থাকে৷ কেমন জানি লাগতে থাকে৷ আমি এভাবে খেতে পারি না৷ ইফতারি ঠিক ভাবে না করেই উঠে যাই৷ নামাজ পড়ে শুয়ে থাকি বসার ঘরে৷ অল্প সাউন্ডে টিভিটা ছেড়ে দেই৷ কিছু সময় পর আব্বা আসেন৷ তিনি খবর দেখবেন। আমি উঠে যাই৷ আমার রুমের দিকে যেতেই দেখি দরজা বন্ধ। এখন থেকেই দরজা বন্ধ করে রেখেছে? আমি আম্মার রুমে যাই৷ উনি তখনও নামাজ পড়ছিলেন৷ আমি চুপচাপ উনার বিছানার কাছে বসে থাকি৷ মুখ মলিন আমার। মা নামাজ শেষে বিছানায় উঠে বসেন৷ পান বানিয়ে মুখে দেন৷ কিছু সময় পর নিজ থেকেই বলেন,
-তোকে আজ ঘরে জায়গা দেওয়ার কোনো ইচ্ছেই ছিল না আমার৷ মিহিন অনুরোধ করলো বলেই তোকে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি দিলাম৷ আমি কিছু বলি না৷ মাথা নিচু করে রাখি৷ আম্মা বলেন,
-এমনিতেই গরম পড়ছে৷ তারউপর চুলার কাছে থাকলে এমনিতেই গরম লাগে৷ এমন অবস্থায় রান্না নামক ঘাস কাটাটা যে কতোটা আনন্দের সেটা একদিন রান্নাঘরে আসলেই টের পাবি৷ আমি এবারেও চুপ করে থাকলাম। কিছু বললাম না। আম্মা আবার বললেন,
-তোর কি মনে হয়? রান্না করাটা কি খুব সহজ কাজ? একদিন তরকারিতে লবন কম হলে তোরা বাপ বেটা দোষ ধরে বসিস৷ আমাদেরকে সেই লবণ ঠিক ভাবে দিয়ে রান্নাটা সুস্বাদু করে রাঁধতে হয়৷ তা না হলে তোদের কথার নিচে পড়ে থাকতে হয়৷ আমি বলি,
-মা, তুমি তো জানো! আমার রাগটা কেমন। হুট করেই কি হয়ে যায় সেটা আমি নিজেও জানি না৷
-নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখ৷ আমি কিছু সময় চুপ করে থাকি৷ তারপর বলি,
-সরি।
-তোদের এসবে অভ্যস্ত আমি৷
তাই আমাকে সরি বলে কোনো লাভ নেই৷ সরি তুই মিহিনকে গিয়ে বল৷ যা৷ আমি উঠে আসি৷ মিহিন রুমের দরজা বন্ধ করে আছে৷ আমি বাইরে বেরিয়ে যাই৷ চায়ের নেশা পেয়েছে ভীষণ। মোড়ের দোকানে চা খাই৷ একেবারে তারাবীর নামাজ পড়ে ঘরে আসি। কলিংবেলে বাজাতেই মা দরজা খুলে দেন৷ আমি কিছু সময় বসার ঘরে বসি৷ তারপর আমার রুমের দিকে যাই৷ ভাগ্য সুপ্রসন্ন। দরজা খোলা৷ আমি ভেতর ঢুকে দরজা আঁটকে দেই৷ মিহিন রুম অন্ধকার করে শুয়ে আছে৷ আমি লাইট জ্বালাই৷ মিহিন চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে৷ আমি ধীরে ধীরে তার কাছে যাই৷ তার দিকে তাকিয়ে থাকি কিছু সময়৷ সে আমার উপস্থিতি টের পায়৷ মুখ ফিরিয়ে নেয়৷ আমি তার মুখ ধরে তাকে আমার দিকে ফেরাই৷ সে বিরক্ত হয়৷ বলে,
-ছাড়ো তো৷ আমি বলি,
-সরি মিহিন। মিহিন কঠিন স্বরে বলে,
-আমাকে সরি বলার দরকার নেই৷ তুমি তোমার সোমাকে গিয়ে সরি বলো৷ আমি অবাক হই৷ আশ্চর্য! সোমা আসলো কোত্থেকে? বলি,
-কিহ? সোমাকে? কেন? মিহিন কিছু বলে না৷ শোয়া থেকে উঠে যায়৷ বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়৷ বারান্দা ভর্তি জোছনা৷ আশ্চর্য! আজ পূর্নিমা নাকি? মিহিন বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে৷ আমি ওর পাশে দাঁড়াই৷ ভালো করে দেখি তাকে৷ মেয়েটার চোখ ভর্তি মায়া৷ চাঁদের আলো তার সমস্ত চেহারাটাকে কেমন উজ্জ্বল করে তুলছে৷ তাকে কেমন অপরূপ সুন্দরী লাগছে৷ আমি ভালো করে দেখি তাকে৷ তার চোখ কেমন ফোলা৷ হঠাৎই কেমন চিকচিক করে উঠলো৷ আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠে৷ মিহিন কান্না করেছে? বলি,
-কান্না করেছো তুমি? মিহিন জবাব দেয় না। আমি আবারও বলি,
-মিহিন? তুমি কান্না করেছো? মিহিন কেমন ধরে আসা স্বরে বলে,
-কাঁদলে তোমার কী হু? তোমার কী? আমার হার্টবিট যেন বেড়ে যায়৷ বুকের ভেতর কেমন শিন শিন করে উঠে৷ বলি,
-আ’ম সরি মিহিন৷
-তোমার সরি লাগবে না আমার৷
-প্লীজ৷
-উহু৷ কোনো প্লীজ নয়৷ মিহিনের স্বর কঠিন শোনায়৷ আমি তার হাত ধরে ফেলি। বলি,
-প্লীজ মিহিন। মিহিন আমাকে মৃদু ধাক্কা দেয়৷ বারান্দার দেয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে আমায়৷ টি-শার্ট খামচে ধরে বলে,
-মেয়ে দেখলে মাথা ঠিক থাকে না তাই না? মেয়েটার চেহারা কঠিন হয়ে আছে মুহুর্তে। যেন কথাটা এখনই মনে পড়েছে৷ চোখেমুখে অপ্রতিরোধ্য রাগ। চেহারা কেমন লালচে হয়ে আছে। আমি বলি,
-এই কথা বলছো কেন?
-কেন বলছি জানিস না? সোমার সাথে এতো গল্প কিসের? এতো হাসাহাসি কিসের? আমি তাকে কিছু বলি না আর৷ কেবল দেখে যাই৷ মনে মনে হাসি৷ অদ্ভুত এক আনন্দ হয় আমার। সে কেমন মায়াময় একটা স্বরে বলে,
-আমি তোকে খুন করে ফেলবো কুত্তা। মেয়েদের কণ্ঠে গালিও কী অসাধারণ লাগে৷ বলি,
-এমন এক জোছনা রাতে এমন সুন্দরী নারীর হাতে খুন হওয়াটাও অনেকটা ভাগ্যের। মিহিন আমার গেঞ্জিটা আরো শক্ত করে ধরে বলে,
-তোকে আজ মেরে ফেলবো আমি৷ বেয়াদব ছেলে। আমাকে খালি কষ্ট দেয়৷ আমি হাসি৷ বলি,
-মারো। মিহিন কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,
-রাগারাগি আমার সাথে করবি৷ আর হাসাহাসি করবি অন্য মেয়ের সাথে? আমি তা কখনই হতে দিবো না৷
-আচ্ছা। হতে দিও না৷
-কোথায় আমার রাগ ভাঙ্গাবি, তা না করে অন্য মেয়ের সাথে টাংকি মারছিস? মিহিন আমাকে ছেড়ে দেয়৷ কিছুটা দূরে সরে যায়। আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কেবল। আমি ওর দিকে তাকাই। ওর চোখে চোখ রাখি। মেয়েটার চোখে জল খেলা করছে যেন৷ বলি,
-সরি মিহিন৷ প্লীজ আর রাগ করে থেকো না। মিহিন বারান্দার গ্রিলের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়৷ আমার দিকে তাকিয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে। আমিও তাকে দেখে যাই৷ সে বলে,
-রান্নাঘরে ঘাস কাটি আমরা৷ তাই না? আমি মাথা নিচু করে নেই৷ সে আবার বলে,
-আমাকে রান্না ঘরেই মানায়৷ তাই তো? আমি কিছু বলি না৷ মিহিনের স্বর ভেজা৷ সে কান্না করে দেয়৷ গা কাঁপিয়ে কান্না করে সে৷ আমি তার কাছে যাই৷ তাকে সামলেও নেই৷ চোখের জল মুছে দেই৷ বলি,
-সরি বলেছি তো!
-প্রিয় মানুষের মুখে এসব কথা মানায় না৷ তারা অল্প কিছু বললেও পাহাড় সমান মনে হয়৷ সেখানে তুমি আমায় যা নয় তা বলেছো৷
-প্লীজ৷ ফরগিভ মি৷ মিহিন আমার পাশ থেকে সরে দাঁড়ায়৷ বলে,
-আমাকে একদম ছুঁবে না তুমি৷ আমি তার দিকে তাকিয়ে থাকি৷ সে কান্না করে কেবল৷ আবারো তার ভেজা স্বর শোনা যায়,
-আমাকে দেখলে নাকি তোমার রাগ হয়৷ অথচ এক সময় আমাকে দেখেই তোমার মন ভালো হতো। প্রশান্তিতে ভরে যেত মন৷ কতো বলতে আমায়৷ আজ সেই কথা গুলোও যেন ফিকে লাগে৷ আমি ওর কাছে যাই৷ ও আরেকটু সরে যায়। আমি বলি,
-তুমি তো জানো, রেগে গেলে আমার মাথা ঠিক থাকে না৷ এই বলে আমি আরেকটু কাছে যাই ওর৷ মিহিন আরেকটু সরে দাঁড়ায়৷ মাথা নিচু করে বলে,
-তাই বলে এভাবে বলবে? আমি আরেকটু তার কাছে সরে যাই৷ তাকে জড়িয়ে ধরি চট করেই। সে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে৷ বারবার বলে,
-ছাড়ো আমায়৷ ছাড়ো বলছি৷ আমি তাকে ছাড়ি না৷ খুব শক্ত করে আকড়ে ধরে রাখি৷ সে এক সময় ক্লান্ত হয়৷ কান্নার স্বর ভারী হয়। কাঁদতে থাকে৷ আমি তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে রাখি৷ সে কাঁদতে কাঁদতে মাথা ফেলে আমার কাঁধে৷ বলে,
-আমি খুব কষ্ট পেয়েছি তাসফি৷ খুব কষ্ট পেয়েছি৷ আমি মেয়েটাকে আমার সাথে আরেকটু মিশিয়ে নিলাম। ভেজা স্বরে বললাম,
-আর একটা কথাও বলো না৷ জড়িয়ে ধরেছি না! এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখো। মিহিন আমাকে জড়িয়ে ধরে তখন৷ আমার মাথাটা চেপে ধিরে নিজের কাঁধের কাছে। চুলের উপর হাত বুলিয়ে দেয়৷ বলে,
-তুমি সব সময় আমার কাছে থাকবা৷ আমার সাথে যতো ঝগড়াই হোক, আমার কাছে কাছে থাকবা৷ ছাদে যাওয়ার দরকার নেই৷ কোনো মেয়ের সাথে কথা বলার প্রয়োজন নেই৷ জানো না! আমার সহ্য হয় না এসব!
-সরি৷
-সরি বললে হবে না৷
-তাহলে কী করতে হবে?
-প্রতিজ্ঞা করতে হবে৷
-আচ্ছা৷ প্রতিজ্ঞা করলাম।
-কী প্রতিজ্ঞা?
-তোমার সাথে ঝগড়া হলে তোমার কাছে কাছে থাকবো। বাইরে কোথাও যাবো না৷ মেয়েদের সাথেও কথা বলবো না৷
মিহিনের গলা দিয়ে দীর্ঘশ্বাস আসে৷ বলে,
-হুম। তুমি কথা দাও। কিন্তু রাখতে জানো না৷
-কে বলল?
-আমি বলেছি। আমি ওকে ছাড়িয়ে নিতে চাই৷ ওকে দেখব বলে। আমাকে নড়তে দেখেই বলে,
-খবরদার ছাড়বা না আমায়৷ আমার মন এখনও ভালো হয়নি৷ এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখো৷ মন ভালো হলে আমি নিজেই ছাড়িয়ে নিবো। তার আগ পর্যন্ত এভাবে থাকো। এটাই তোমার শাস্তি৷ আমি কিছু বলি না আর৷ জড়িয়ে ধরে রাখি ওকে৷ সে নিজেও আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখে৷ আমার চুলে হাত বলিয়ে দেয়৷ কিছু সময় পার হয় ভীষণ নীরবতায়৷ হঠাৎ করে সে বলে উঠে,
-আচ্ছা, তখন তুমি রাগছিলে কেন? সে আমার কাঁধ থেকে মাথা তুলে দাঁড়ায়৷ আমি লজ্জা পাই৷ হাসি আসে৷ বলি,
-বাদ দাও৷ শুনতে হবে না৷ এই বলে আমি ওকে দেয়ালের সাথে লেপ্টে ধরি৷ সে মিশে যায় দেয়ালের সাথে৷ আমার চোখে চোখ রাখে৷ বলে,
-দুষ্টামি করবা না৷ আগে বলো কেন রেগেছিলে?
-তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে মিহিন৷ মিহিন আমার দিকে চেয়ে থাকে কিছু সময়৷ চট করে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলে,
-উফ! এভাবে তাকিয়ে থেকো না৷ আমি পাগল হয়ে যাবো৷ বলো না কেন রেগেছিলে? আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি। বলি,
-নেবিব্লু কালারের গেঞ্জিটা পাচ্ছিলাম না৷ তাই। মিহিন কেমন করে যেন তাকায়৷ বলে,
-একটা গেঞ্জির জন্যে এমন করছিলে? আমি মাথা নিচু করেই নেই৷ মেয়েটা চট করেই হেসে উঠে। হঠাৎই ভীষণ হাসতে থাকে মেয়েটা৷ আমি মাথা নিচু করে রাখি৷ কারণ আমি জানতাম সে হাসবে৷ সে হাসুক৷ আমি বরং দেখি তাকে৷ আমি মাথা তুলে তাকাই। তার চোখে চোখ রাখি৷ মিহিনের হাসিটা হঠাৎই থেমে যায়৷ আমার টি-শার্ট ধরে টান দেয় নিজের দিকে৷ কেমন মিষ্টি এক স্বরে বলে,
-গাধা একটা৷ কথাটা বলেই বলে,
-এখন ওই কথাটা আবার বলো তো?
-কোন কথাটা?
-এই যে একটু আগে বললে? আমি ভাবনায় পড়ে যাই৷ কী বলেছিলাম একটু আগে? মিহিন আবার বলে,
-বললে না আমায় কেমন লাগছিল! আমি চট করেই হেসে দেই৷ মিহিনের মুখে কিঞ্চিৎ চাঁদের আলো পড়ছিল৷ সেই আলো তার কাজল চোখে মিশে যায়৷ মিশে যায় গোলাপি রঙের ঠোঁট দুটোয়৷ বলি,
-তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে মিহিন৷ মিহিন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কেমন করে৷ চেহারা ভর্তি তৃপ্তি তার৷ কেমন আনন্দে জ্বলজ্বল করছে৷ চট করেই সে নিজের মুখটা আমার দিকে এগিয়ে আনে। আমার ঠোঁট দুটোকে নিজের করে নেয়৷ আকড়ে ধরে আমায় শামুকের মতো৷ কি জানি! তা দেখে হয়তো হিংসে হয় চাঁদের৷ হিংসে হয় প্রকৃতির। তাই তো চট করেই রূপ বদলায় সে। চাঁদ ডুবে যায় অন্ধকার কালো মেঘের আড়ালে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত