প্রেমিকা যখন সিনিয়র

প্রেমিকা যখন সিনিয়র

ইশ একটু আগে রুমু ফেসবুক থেকে চলে গিয়েছে আর একটু আগে আসলেই কথা বলা যেত বেশ কিছু টা সময়।
ওর সাথে কথা বলতে পারলে কেন জানি না খুব ভালো লাগে। বেশি দিন হয়নি পরিচয় কিন্তু অল্পদিনের পরিচয় আমাদের ঘনিষ্ঠতা অনেক বেশি। দুজন দুজনকে এত মিস করি যে একদিন কথা না বলা তো দুরে থাক এক ঘন্টা কথা না বলে থাকতে পারি না। কিভাবে জানি না অল্প সময়ে দুজন দুজনকে এত ভালোবাসে ফেললাম যখন fb তে গিয়ে রুমু কে পায় না মন টা খারাপ হয়ে যায় তখন ফোন গ্যালারীতে গিয়ে রুমুর ছবিগুলো বারবার দেখতে থাকি। কেন জানি না এতে করে মনের মধ্যে প্রশান্তি মেলে। হয়তো রুমুও আমাকে fb তে না পেলে আমার ছবিগুলো দেখে এভাবে। আজ রুমুকে একটা কথা জানতে মনটা বড়ই উংসুক হয়ে উঠছে আমার।

আম্মু আজই জানালেন আমার মামা তো বোনের বিয়ে এই মাসের ২২ তারিখে। সেখানে আমাদের যেতে হবে। আমার নানার বাড়ি চট্টগ্রাম। কিন্তু আমার ২১ বছর বয়সে কখনো আমি চট্টগ্রাম নানার বাড়ি যায় নি। না যাওয়ার যথেষ্ঠ কারন আছে। আমার আম্মু আব্বু দুজন দুজনকে ভালোবেসে বিয়ে করে ছিলো দুই পরিবারের অমতে। বিয়ের পর আব্বু আম্মু কে নিয়ে ঢাকা চলে আসে। তারপর আব্বু অবশ্য নানার বাড়ির সাথে যোগাযোগ করতে অনেক চেষ্টা করে। নানার বাড়ি থেকে তাদের এই বিয়ে মেনে নেয়নি কখনো। কেন জানি না আজ ২২ বছর পর হঠাৎ মামাতো বোনের বিয়েতে আমাদের দাওয়াত করেছে। আম্মু কিন্তু বেশ খুশি হয়েছে কেননা আজ ২২ বছির পর মা-বাবা ভাইদের সাথে কথা বলতে পেরেছে। হয়তো কদিন বাদে তাদের দেখতেও পাবে। এই খুশিতে আম্মু অতি আনন্দিত।

নানা বাড়িতে যেতে আব্বু যে অমত করবে না তা আম্মু বেশ ভালো করেই জানে। কেননা আম্মু আব্বুর ভালোবাসা এখনো ঠিক বিয়ের আগের মতোই আছে। ২২ বছর পর আম্মুর এইটুকু খুশি ধরে রাখতে আব্বু নানা বাড়ি কেন, যে কোনো জায়গাতে যেতে প্রস্তুত। মা বাবার একমাত্র সন্তান আমি। মা বাবার খুশিতে সবই পারি। অতএব কাল যে আমরা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে রওনা দিচ্ছি এটা কনফার্ম। আব্বু অফিসে আছেন। আম্মু নিশ্চই এতক্ষনে ফোন করে আব্বুকে টিকেট কাটার কথা বলে দিয়েছেন আর আব্বুও অফিস থেকে ফেরার পথে নিশ্চই তিন টা টিকেট নিয়েই ফিরবেন। সবই ঠিক আছে কিন্তু এই খবর টা রুমুকে যতোক্ষন না দিতে পারি শান্তি নেই। ঐ তো রুমু ফেসবুকে এক্টিভ হয়েছে।

–কই ছিলা এতোক্ষন?

-তুমি ছিলে না মনটা খারাপ ছিল তাই ছাদে একা বসে ছিলাম।

-শোন তোমায় একটা কথা বলার ছিল ২২ বছর পর আমার আব্বু আম্মু আমাকে নিয়ে আমার নানা বাড়িতে যাবে আমার মামাতো বোনের বিয়েতে।

–ওমা তাই বেশ ভালো কথা।কিন্তু বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আবার তোমার রুমুকে ভুলে যেও না যেন। তোমার নানা বাড়ি কোথায়?

–চট্টগ্রাম

–চট্টগ্রাম! (রুমু চমকে গেল)

–এতো চমকে উঠলে কেন রুমু?

–না মানে আমার বাসাও তো চট্টগ্রাম তাই আর কি।

–কি বল তোমার বাসাও চট্টগ্রাম।বেশ তো তাহলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে।

–মানে কী বুঝলাম না

আরে বোকা মানেটা হলো চট্টগ্রাম যাচ্ছি বিয়েতে আর তোমার বাড়িতো ওখানে সো তোমার সাথে দেখা করাটাও হয়ে যাবে এই আরকি। হয়ে গেলনা এক ঢিলে দুই পাখি ?

-ও আচ্ছা ঠিক আছে আসো দেখা হবে, তখন বাই এই কথা বলেই রুমু চলে গেল। মনটা খুসি খুসি। বাবা ঠিকই রাতে টিকেট নিয়ে ফিরলেন। সকালে আমাদের রওনা দিতে হবে তাই রাতেই ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে হবে। সকাল সকাল রওনা দিয়ে আমরা সন্ধা ৬ টা নাগাদ চট্টগ্রাম পৌছায়।

নানা বাড়িতে এই প্রথম আমি বাড়িটা বেশ বড়ই। অনেক মানুষজন জমেছে বিয়ে বাড়ি বলে কথা। আমরাই মনে হচ্ছে এই বিয়ে বাড়ির প্রধান অতিথি। কেননা আত্মীয় স্বজন সবাই জানে দীর্ঘ ২২ বছর পর আম্মু এই বাড়িতে আসছে। আর তার ছেলে মানে আমাকে কেউ দেখেনি আজো। আমরা পৌছাতে সবাই আমাদের আমন্ত্রণ করে নিলেন। কত আদর যত্ন এই যেন এক নতুন পৃথিবী। আমাকে যেন সবাই মাথায় করে রাখবে। অনেক খুসি আমি যতটা না এই আদর যত্নে তার চেয়েও অধিক বেশি চট্টগ্রামে আছি খুব শিগগিরই রুমুকে দেখতে পাব বলে। আম্মু সবার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, বেস ভালই লাগছে।

আম্মু আমাকে মামনির সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। মামনি আমাকে পেয়ে বেশ খুশি খুশিতে তো তিনি কেদে দিয়েছেন আমাকে জড়িয়ে ধরে। কেননা তার কোন ছেলে নেই দুইটাই মেয়ে। এরপর মামনি আমাকে নিয়ে গেল রিয়া আপুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। রিয়া আপুর রুমের মধ্যে আরেকজন মেয়ে মনে হচ্ছে ও আমার পরিচিত। আমিতো অবাক চোখে দেখছি এ তো রুমু!!!! তাইতো মেয়েটাও আমাকে অবাক চোখে দেখছে। তবে কি রুমু আমার সাথে ছলনা করেছে ? ঐ কি আমার রিয়া আপু ? মামনি আমায় পরিচয় করিয়ে দিলেন “এই হচ্ছে রাজ তোমাদের ফুপুর ছেলে, ঢাকা বুয়েট প্রথম বর্ষে পরে খুব ভাল ছাএ।” আর রাজ এ হচ্ছে আমার বড় মেয়ে রিয়া ও ছোট রুমু। রিয়ারত বিয়ে আর রুমু পরাশুনা শেষ করে আপাতত যমুনা ব্যাংকে জব করছে। তোমরা কথা বলো আমি আসছি।

মামনি এ আমাকে কি শুনিয়ে দিয়ে গেলেন ? যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখলাম সেই কিনা আমার মামাতো বোন তাও আমার থেকে বড়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আর আমার মন নেই। রুমুকে fb তে পাচ্ছিনা আর বাসাতেও কোথাও পাচ্ছি যে একটু কথা বলব। এখানে আসা ২ দিন হয়ে গেল রুমুকে একবার মাত্র দেখলাম। ২ দিনে কথা না বলে কত কস্টে আছি রুমু পারছে কি করে কথা না বলে থাকতে ?

রুমু কি আমাকে এড়িয়ে চলতে চাচ্ছে। আজ রিয়া আপার বিয়ে আজকে যে করেই হোক রুমুর সাথে কথা বলতেই হবে। ও এমনটা করছে কেন ? রাত্রে রুমুকে একটু পেলাম, অনুরোধ করলাম একটু কথা বলার জন্য, অতপর রুমু জানালো, ” আমাদের মধ্যে অনেক বৈষম্য আছে। বয়সে সে আমার চাইতে বড়। সমাজে এটা ভাল দেখায় না। সবদিক বিবেচনা করে আমাদের এখনি আলাদা হয়ে যাওয়া ভাল। আমাকে ভুলে যাও রাজ।”

এই বলেই রুমু চলে গেল। আমি জানি ও কথা গুলো মন থেকে বলেনি। আমি ওর চোখের দিকে দেখেছিলাম ওর চোখ ছলছল করছিল আমি জানি ও আমাকে ভীষন ভালবাসে এখনো। কিন্তু সমাজ আর পরিবারের কথা ভেবে ও এরকমটা করছে আমার সাথে। শুধুমাত্র বয়স বেশির কারনে রুমুকে কাছে পেতে পেতেও হারিয়ে ফেললাম আমি।

শুনেছি প্রেম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, চেহারা আধিপত্য ধনী বড়লোক বয়স সম্পর্ক দিয়ে হয়না। কখন কে কার প্রেমে পড়ে যায় হয়তো সে নিজেও জানেনা। প্রেম হয় দুটি মনের মিলন তবে কেনই বা বয়সে ছোট হবার দোষে তাকে হারালাম আমি? যদি আমি বড় হতাম তাহলে হয়ত আজ রুমুকে হারাতে হতোনা।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত