কেন হঠাৎ তুমি এলে ?

কেন হঠাৎ তুমি এলে ?

কোচিং শেষে দাড়িয়ে আছি বাংলা কলেজের সামনে, বাসায় ফিরবো বলে আজ একটু দেরি হয়ে গেলো। এখন

বাজে ৮:৩৫অথচ বাস গুলো দাড়াতেই চাইছে না কোন মতে একটা বাসে উঠলাম কিন্তু কন্টাকটর এর জন্য

আরেকটু হলেই পরে যেতাম। এরা কাছের যাত্রী নিতেই চায় না, উঠার আগে জিজ্গাসা করে কোথায় যাবেন।

একটা মানুষের জীবনের মূল্য এদের কাছে নেই। বাসে উঠতেই একটা ছেলের চোখে চোখ পরলো। ছেলেটা

কৌতূহল চোখে চেয়ে আছে গেট এর দিকে। আমি অবশ্য বাসে উঠেই কন্টাকটার কে ঝাড়ি দিচ্ছিলাম আর

বলছিলাম আপনাদের কাছে মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই। কথা গুলো বলতে বলতে আমি ছেলেটার পাশের

সিট টায় বসলাম। আমি যেহেতু ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কথা বলছি, ছেলেটা উত্তরে বললো আসলে

এদের কমন সেন্স এর বড় অভাব। আমি বললাম দেখুন না আর একটু হলেই পরে যেতাম, এদের কাছে মানুষের

জীবনের কোন মূল্য নেই। ছেলেটা আবারও বললো এদের কমন সেন্স নেই। আমি ছেলে টা কে এক নজরে দেখে

নিলাম, দেখে মনে হচ্ছে গ্রাম থেকে ঢাকা ফিরলো মাত্র। সাথে কোলে ব্যাগ নিয়ে বসে আছে চুল গুলো

এলোমেলো, মুখটা তেলতেলে। চেহারায় ক্লান্তি ভাব মনে হচ্ছে অনেক বড় জার্নি করে ফিরছে হাতে টাচ

মোবাইল চ্যাটিং করছে মনে হয়। ছেলেটার ডান পাশের জানালার কাছে সিট টা ফাকা, আমি ছেলে টাকে

বললাম আপনি একটু ওই সিট টায় বসুন আমি এখানে বসবো। ছেলে টা জানালার পাশে চেপে বসলো আর

আমি তার পাশে বসলাম। ছেলেটা একে বারে গুটিশুটি মেরে বসেছে যাতে আমার শরীরের সাথে না লাগে।

অনেক মানুষ আছে পাশে মেয়ে মানুষ দেখলে এমন ভাবে বসে যেন কোলে উঠে বসবে। ছেলে টা মোবাইল টিপে

যাচ্ছে পাশে যে একটা মেয়ে বসে আছে তার কোন খেয়াল নেই। ছেলে টা কে প্রথম দেখাতেই ভালো

লেগেছে কিন্তু তার তো কোন পাত্তাই নেই। কোথায় একটু কথা বলে তা না সে পরে আছে মোবাইল নিয়ে কখন

যে নেমে যায়। বাধ্য হয়ে আমি কথা বললাম:
-এক্সকিউজ মি….
=জ্বি বলুন।
-একটা কথা জানতে চাচ্ছিলাম, বলতে পারবেন?
=জ্বি বলুন কি জানতে চান?
-আচ্ছা ইউটিউব থেকে যদি আমি গান,মুভি ডাউনলোড করি তবে কি মোবাইলের টাকা কাটবে?(ছেলেটা কিছুটা আবাক

হয়ে আমার দিকে তাকালো) =কাটবে যদি আপনার মোবাইলে এমবি না থাকে এমবি কিনে চালালে টাকা কাটবেনা।

-এমবি কিনার পর যদি ডাউনলোড দেই তখন কি টাকা কাটবে না?(আমার কথা শুনে মনে হলো ছেলেটায় বুঝতে

পারছে না আমি কি তার সাথে ফান করছি নাকি সিরিয়াস)

=না তখন আর কাটবে না তখন শুধু এমবি কাটবে।

-ওহ! আচ্ছা আমি যদি গান মুভি ডাউনলোড দিতে চাই

তবে কিভাবে দিবো একটু দেখাবেন?

=আসলে আপনি যদি মোবাইল দিয়ে ডাউনলোড দিতে চান তার জন্য আপনাকে আলাদা অ্যাপস ব্যবহার করতে

হবে, আপনি পারবেন না তবে আর একটা পথ আছে তা হলো অফলাইনে দেখা।

-সেটা কি ভাবে করে একটু দেখাবেন আপনার মোবাইলে?

ছেলেটা আমাকে তার মোবাইলে দেখালো কি ভাবে অফ লাইনে গান ডাউনলোড করতে হয়। আমি সব বুঝেও না

বুঝার ভান করলাম আর বললাম এতো কিছু একবারে মাথায় ঢুকছে না। এরি মাঝে গাড়ি মিরপুর-১১তে চলে

এসে পড়েছে ১২নাম্বার আমি নামবো বোকাটা এখন নাম্বারটাও চাইলো না কি আর করার আমি বললাম।

-আসলে এতো কিছু এতো তারাতারি বুঝা সম্ভব না সামনেই আমি নেমে যাবো আপানার নাম্বার টা যদি

দিতেন তবে পরে আমি কল দিয়ে ভালো করে শিখে নিতে পারতাম।

=ওকে! এই নিন আমার কার্ড এখানে আমার নাম্বার দেয়া আছে। আর আমি পাশেই থাকি।

-আপনার বাসা কোন এলাকায়?

=জি এই তো সাগুফতার ভিতর…

-ওহ আচ্ছা!!! আমরা তো প্রায়ই বিকালে ঘুড়তে যাই…

এরপর গেলে আপনাকে কল দিবো?

=ওকে!

-বাই….

আমি বাস থেকে নেমে পরলাম কার্ডটা দেখলাম নাম দেয়া আছে অর্নব তাহলে এই জনাবের নাম অর্নব।

৩-৪ দিন পর আমি অর্নব কে কল দিলাম প্রথমে চিনতে পারলোনা তারপর যখন বাসের কথা বললাম তখন চিনলো।

তো আমি অর্নব কে বললাম আমাকে কবে শিখাবেন সে বললো আপনি যে দিন চাইবেন। আমি বললাম কাল তো

শুক্রবার আমি কালকে আসি, সে বললো আসুন। সাগুফতার কেন্টিনে বসে আছি তার কোন খোঁজ নেই

অবশ্য আমি যে অনেকক্ষন এসেছি তাও না, ৪মিনিট হয়েছে আমাকে বললো আমি এখনি বের হচ্ছি।

অর্নব এলো, আজ অর্নব কে সেইরকম লাগছে ওই দিনের চাইতেও সুন্দর কিন্তু এটা আবার কেমন ছেলে রে বাবা।

একটা মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছে কই একটু ফিটফাট হয় আসবে তা না সে এসেছে থ্রী কোয়াটার

পরে গায়ে এ্যাস কালার এর ট্রি শার্ট, মাথার চুল গুলো এলো মেলো। চুল গুলো দেখে মন চাইছে অর্নব এর মাথা

টা আমার কোলে রেখে চুল গুলো নিয়ে খেলা করি। অর্নব এসে জিজ্গাসা করলো কোথায় বসবো আমি

বললাম চলুন কিছু ক্ষন হাটি তারপর না হয় বসবো। কিছু একটা বলতে যেয়েও থেমে গেলো অর্নব। আমরা দুজন

পাশাপাশি হাটছি কিন্তু অর্নব একটু দূরত্ব রেখেই হাটছে আমি যতো তার দিকে চেপে হাটি অর্নব ততো

দূরত্ব রেখে হাটছে। আমি অর্নবকে বললাম চলুন ওই ঘাস গুলোতে বসি। দু জন খোলা আকাশের নিচে ফাঁকা

মাঠের দিকে চেয়ে আছি হটাৎ অর্নব বললো বলুন কি কি শিখতে চান? আমি মনের অজান্তে বলে ফেললাম

‘ভালোবাসা’ অর্নব আমার দিকে তীক্ষ্ন চোখে তাকিয়ে বললো কি বললেন? আমি বললাম কিছু না

তারপরও অর্নব আমার দিকে চেয়ে আছে বুঝতে চেষ্টা করছে আসলে আমি কি চাইছি মনে হয় সে বুঝতে

পেরেছে। অর্নব বলতে লাগলো…

দুজনে পাশা পাশি বসে ছিলাম আমি নিরবতা ভেঙ্গে নীলাকে বলি তুমি এতো বদলে গেলে কেনো? আগের মতো কথা বলোনা,

দেখা তো করতে চাও না হটাৎ এমন হলে কেনো । নীলা কোন কথা বলে না আমি আবারও বলি এমন করছো কেন আমার সাথে

নীলা, আমার অপারাধ টা কি একবার বলো। আমার ভুল টা তুমি বলো। নীলা তবুও চুপ করে আছে আমার চোখে পানি আটকে

রাখতে পারিনি নীলার হাতটা ধরে আমি কেঁদে ফেলি। নীলা আমার হাত থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে যখন নিচ্ছিলো আমার মনে

হচ্ছিলো আমার দেহ থেকে আত্তা টা কেউ ছাড়িয়ে নিচ্ছে। নীলা হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললো আমি আর তোমার সাথে সম্পর্ক

রাখতে পারবো না অর্নব আমি এখন আর তোমাকে ভালোবাসি না। তোমার প্রতি আমার কোন ফিলংস নেই। আসলে তোমার

সাথে থেকে আমি আমার ভবিষৎ টা নষ্ট করতে পারি না তুমি আমাকে ভুলে যাও বলে নীলা উঠে হাঁটা দিলো আমি নীলা সামনে

হাত জোর করে কেঁদে কেঁদে বললাম নীলা আমাকে ছেড়ে জেও না নীলা আমি বাঁচতে পারবো না নীলা সে দিন আমার কথা রাখে

নি নিজের ভবিষৎ এর কথা ভেবে আমাকে ওখানে ফেলেরেখে চলে যায়। এরপর দু মাস আমার কি ভাবে পার হয়েছে আমি আজও

মনে করতে পারিনা। এরি মাঝে চাকরিটাও চলে যায়। নিজেকে গুছিয়ে উঠাতে এক বছর পার হয়ে যায়, সব কিছুই চলছে শুধু মনটা

তার কাছেই পরে আছে। কথা গুলো বলার মাঝে অর্নব বারবার চোখ মুছ ছিলো। গাড়ির আলোয় অর্নবের চোখের পানি চিকচিক

করছিলো হটাৎ মনে হলো আমার চোখেও পানি। কি বলবো বা কি বলা উচিত কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। দুজনি চুপ করে বসে আছি

কিছু ক্ষন পর অর্নব বললো অনেক রাত হয়ে গেছে আপনার এখন বাসায় চলে যাওয়া উচিত। আমি ঘড়ি দেখাম ৯:৪৭বাজে।

অর্নব উঠে দাড়ালো আর বললো আমায় ক্ষমা করবেন আমি পারবো না কাউকে এই জীবনে জরাতে। আমি কিছু বলতে যেও

থেমে গেলাম । অর্নব বললো চলুন আপনাকে এগিয়ে দেই বলে সে হাটতে লাগলো আমি অর্নব এর পিছে পিছে হাটছি আর ভাবছি

এমন ভালোবাসা পেয়ে যে মেয়ে তাকে ছেড়ে গেছে সে কখন সুখি হতে পারবে না। সে ভালো বাসতে জানে না যদি জানতো তবে

অর্নব এর জীবন এর গল্পটা ভিন্ন হতো। কিছু মানুষের জন্য যেমন আজও ভালোবাসা টিকে আছে তেমনি কিছু মানুষের কাছে

ভালোবাসার অপর নাম ঘৃনা নামে পরিচিত হয়ে আছে।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত