শুধু তোমায় ভালোবাসি

শুধু তোমায় ভালোবাসি

১৩০ কেজি ওজনের এক ছেলে তরিঘড়ি খেয়ে সামনে এসে বলে,ভালোবাসি। বিয়ে করবে আমায়? চোখ ততক্ষনে আমার কপালে।কোনোরকমে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে নিছিলাম কিন্তু ওই প্রশস্ত শরীর দিয়ে রাস্তা আটকিয়ে আবার বললো,” তোমাকে আমি গত ৩ বছর যাবত ভালোবাসি।কিন্তু যখনই ঠিক করি তোমায় প্রপোজ করবো তখনই কেউ না কেউ এসে আমায় প্রপোজ করে বসে।আমি আবার কোনো মেয়েকে কষ্ট দিতে পারি না।তাই জড়িয়ে যাই রিলেশনে।কিন্তু এখন আর ওদের কাউকেই ভালোলাগেনা।তাই ছেড়ে চলে আসছি।সে কি কন্না ওদের! মৌনি তো আমাকে পাওয়ার জন্য কয়েকবার সুইসাইড এটেম্প ও করেছে।কিন্তু আমি কাউকে পাত্তা দেইনি।কারন আমি তো শুধু তোমায় ভালোবাসি।

কথাগুলো শুনে মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমার মাথায় হাতুরিপেটা করছে।প্রথমে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেও এইবার চোখ বড় বড় করে লোকটার মাথা থেকে পা অবধি দেখলাম।গায়ের রং চাপা,চুলগুলো পিছনের দিকে নিয়ে ঝুটি করা,গলায় ৩/৪ টা ভাজ পড়েছে,একটা হাতের পরিমান আমার মিনিমাম ৩ টা হাতের মতো।আর পেটের ভুড়ি! পেট চুলকানোর জন্য বোধহয় লোক ভাড়া করা লাগে। এসব দেখে আর ওনার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছিল আমি কোনো পাগলাগারদে আছি।কেনোমতে নিজেকে সংযত করে বললাম,দেখুন আংকেল আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।এখন আর এসব বলে কোনো লাভ নেই।আমার ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাকে সাইড দিন।

~আরে বিয়ে ঠিক হয়েছে তো কোনো প্রবলেম নেই।আমি তোমাকেই বিয়ে করবো।আর তুমি আমাকে আংকেল বলছো কেনো? আমি তো তোমার জানু,বাবু, হবু স্বামী।লজ্জ্বা পাচ্ছো তাই এসব বলছো তাইতো? আচ্ছা কোনো সমস্যা নেই বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।এখন আসি কেমন? আমার শ্বশুরআব্বুর সাথে আবার কথা বলতে হবে।আচ্ছা তুমি যেতে পারবা তো? রাগ করো না প্লিজ,আমাদের বিয়েটা ঠিক করেই আমি তোমার সাথে দেখা করবো।ততক্ষন কষ্ট পেয়ো না প্লিজ।আসি এখন।টাটা।

~এতক্ষনে আমার কান দিয়ে ধোয়া বের হওয়া শুরু হয়ে গেছে।এসব কি বলে গেলো? আল্লাহ একটা মই দেও আমি তোমার কাছে উইট্টা যাই।হুশশ,,আমি এসব কি ভাবতাছি।এই ছেলের সাথে আব্বু কখনো আমার বিয়ে দেবে না।কিসব ফাল্তু জিনিস ভাবছি।

ক্লাস,টিউশনি শেষ করে বাসায় ডুকতেই বাবা ডাক দিলো মা ইরিনা এদিকে আসো।গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।বাবার কাছে যেতেই বাবা বললো,” কিরে মা? তোরা দুজন নাকি দুজনকে ভালোবাসিস।ওরা তো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসছে।আমরা তো প্রথমে রাজি হচ্ছিলাম না কিন্তু পরে ভাবলাম,তোর সুখেই তো আমাদের সুখ।তুই যদি ওকে পছন্দ করে থাকিস তাহলে আর আমরা কি বলবো? ওরা তো বলছে আজকেই বিয়ের ডেইট ফিক্সড করে যেতে।নেক্সট উইকে নাকি বিয়ে?তুই কি বলছ? আমার এতক্ষনে কানগুলো উবে আসছিলো।রাগে গা শিরশির করছিলো।নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে না পেরে বাবাকে বললাম,”বাবা আমি এই ছেলেকে পছন্দ করি না।আমি এই ছেলেকে বিয়ে করবো না।আর তোমরা কিভাবে এই ছেলের সাথে আমার বিয়ের কথা বলো? তোমাদের কি আক্কেলজ্ঞান নাই।

রাগের চোটে কি বলছি নিজেও জানিনা।নাকের পানি,চোখের পানি এক হয়ে যাচ্ছে আমার। ততক্ষনে ওই ১৩০ কেজি ওজনের লোকটা আর তার বাবা,মা ও উঠে দাড়িয়ে গেছে।ওনার মা আমার কাছে এসে মাথায় হাত রেখে বললো,”কি হয়েছে মা? এমন করছো কেনো? আমার ছেলের সাথে কি তোমার ঝগড়া হয়েছে নাকি? এসব তুচ্ছ ঝগড়ার জন্য সম্পর্ক ভেঙ্গে দিও না মা।

ততক্ষনে হিতাহিত জ্ঞান চলে গেছিলো।আবারো চিৎকার করে বললাম,” কিসের ঝগড়া? কিসের সম্পর্ক? আপনার ছেলের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।আজকে সকালেই প্রথম দেখলাম ওনাকে।আজব মানুষ তো সব। এতক্ষনে ভূড়িওয়ালা লোকটা মুখ খুললো।আমি তোমাকে পছন্দ করি তাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়া আসছি।আর তুমি আমাকে এভাবে অপমান করলা? কাজটা ঠিক করলা না? তুমি জানো? কত ক্যাটরিনার মতো মেয়ে আমার পিছনে ঘুরে? আলিয়া বাটের মতো মেয়ে আমাকে বিয়ের প্রপোজাল দেয়? শ্রদ্ধা কাপুরের মতো মেয়েরা আমার সাথে ডেইটে যাওয়ার জন্য কত মাস ওয়েট করে? আর সেখানে তুমি কিনা আমাকে এসব বলতাছো?

~তো জান না।ওদের কাছে জান।এখানে আসছেন কেন? যত্তসব।
~তুমি কিন্তু রীতিমতো আমাকে অপমান করলা।আমি ক্যারিনা কাপুরের মতো সুন্দুরী একটা মেয়েকে বিয়ে করবো।

আর হ্যা, তুমি আমাকে অপমান করলা তাই না? তোমার কাছে আমার চ্যালেন্জ রইলো,” যদি পারো আমার মতো একটা ভুড়িওয়ালা ছেলের সাথে প্রেম করে দেখাও।দেখি তোমার যোগ্যতা কতটুকু।এরকম ভুড়িওয়ালা ছেলে সবার কপালে জুটে না।তোমার ভাগ্য ভালো ছিলো তাই আমি আসছিলাম।বাট আমাকে ফিরিয়ে দিলা তাই না? এবার জুটাও দেখি একটা ভুড়িওয়ালা ছেলে।আমিও দেখি কার দৌড় করটুকু।

বলেই চোখে চশমা পড়ে পকেটে হাত গুজে বড় বড় কদমে পুরো ঘরে ভূমিকম্প এনে বেড়িয়ে গেলো।আর আমি সেই জায়গায়ই বসে গালে হাত দিয়ে ভেবে যাচ্ছি,” এখন কোথায় পাবো এমন ভুড়িওয়ালা ছেলে?

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত