পরিবর্তন

পরিবর্তন

–এই !! শরীরে হাত দিবে না আমার,,

এই কথা শুনে ফাহিমের চোখ কপালে উঠে গেলো ।এই মেয়ে বলে কি ?সদ্য বিয়ে করা বউ যদি এই কথা বলে তাহলে কিভাবে এখানে থাকবো ?আশে পাশের মানুষ শুনলে তো বেধেঁ মারবে ।তবুও ফাহিম বললো,,

–কি এমন অপরাধ যে তোমাকে একটু ছুয়েও দেখতে পাবো না ?
–না পাবে না,,তোমার অপরাধ অনেক বড় তাই,,(প্রীতি)
–সিগেরেট খাওয়া অপরাধ ?আচ্ছা ঠিক আছে,এটাই শেষ ছিলো ।জীবনে সখ করে তো এই একটা সিগেলরেট ই  কিনেছিলাম তাও খেতে দিলে না,,(ফাহিম)
–এটা একদম বাজে অভ্যাস,তাই এটা একদম বাদ দিতে হবে,,
–ঠিক আছে,,

এবার পরিচয়ের বিষয়ে বলি ।ফাহিম প্রীতির বিয়ে দুজনেরই প্রেম করে হয়েছে ।সুখের সংসার বটেই ।তবে ইদানিং প্রীতি একটু অন্যরকম আচরন করছে ।এ বিষয়ে ফাহিম বুজতে পারছে ঠিক ই কিন্তু কোনো কিছু বলতে পারছে না ।হয়তো অন্য কিছু ভাববে তাই ।প্রীতির মতো সেই এক ই কথা তা হলো,,

–তুমি আমাকে শাকিল এর মতো ভালোবাসো না ।আর ক্ষেত এর মতো থাকো ।তোমার যা চেহারা !আমি ভালো না বাসলে তোমার কপালে কাজের মেয়েও জুটতো না,,।শাকিল এর মতো স্মার্ট হও ভালো দেখাবে তোমাকে,,,
ফাহিম এসব কথা শুনে তার মন খারাপ হলেও সে কিছু ই বলে না চুপ করে থাকে ।কিন্তু ইদানিং ঝগড়া অনেক বেড়ে গেছে ।ফাহিম কোনো কথার ই জবাব দেয় না ।ফাহিম বুঝে না কি করতে হবে এখন ।একদিন দুপুর বেলা,,

–ফাহিম,তোমাকে যে এতো বলি কথা কি কানে যায় না ?(প্রীতি)
–কান যখন আছে শুনি সব ই,,(ফাহিম)
–তাহলে বুঝ না কেনো ?বাইরে বের হলেই বান্ধুবিরা বলে তোর বর এমন কেন ?দাতঁ বাকা ,হাসলে বাজে লাগে ,মুখটা কেমন জানি ক্ষেত এসব শুনতে আমার একদম ই ভালো লাগে না ।
–তাহলে ঘরে বসে থাকো,,তাহলেই তো হয় ।এতো কথা শোনার দরকার নেই,, প্রীতি কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে উঠলো,”আমার ডিভোর্স চাই” ।ফাহিম দ্রুত খাচ্ছিলো হাঠৎ গলায় কাটা বাধলে যেমন মানুষ থেমে যায় সেও এই কথা শুনে তেমনটা ই থেমে গেছে ।ফাহিম কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,,

–তুমি কি এতেই খুশি হবে ?
–তুমি আমাকে অন্য কিছু ভাবতে পারো ।তবে দেখো তোমার জন্য আমার কত কথা শুনতে হয় ।এগুলো আমার একদম ভালো লাগে না ।আমি একটু শান্তি চাই,,আমাকে ক্ষমা করে দিও,,,,
ফাহিম স্বাভাবিক ভাবেই বলে দিলো,,

–ঠিক আছে,,,কয়েকদিন অপেক্ষা করো ,আমি ডিভোর্স এর ব্যাবস্থা করছি,,।

এভাবেই দিন কাটতে থাকে তাদের ।তবে ফাহিম সকালে অফিসের জন্য বের হয় রাতে আসে ।প্রীতির সাথে সামান্য কথাটুকুও বলে না ।একদম আলাদা হয়ে গেছে তারা ।দরকার ছাড়া কেউ কোনো কথা ই বলে না ।তাদের এভাবেই কেটে যায় প্রায় এক মাস ।এরপর তারা উকিল এর সাথে কথা বলে ।তাদের ডিভোর্স এর জন্য দুজনের ই সাইন লাগবে ।সেদিন ডিভোর্স হয়েও হলো না ।প্রীতিও একা একা ই থাকে ।সবাই যেনো ব্যাস্ত তাদের আলাদা প্রকৃতি নিয়ে ।একদিন ফাহিম এস বললো,,

–আজকে একটা অফিস পার্টি আছে ।সেখানে তোমাকে যেতে হবে ,এটাই শেষ যাওয়া আর কোনো দিনতো আর একসাথে কোনো জায়গায় যেতে পারবো না তাই না ? প্রীতি চুপ করেই রইলো ।সন্ধায় তারা বের হলো, ।ঠিক যখন তারা মাঝ পথে তখন ই শুরু হলো অনেক বৃষ্টি শুরু হলো ।অফিসটা ছিলো একটু দূরেই ।তবে ফাহিমের নিজস্ব গাড়ি না থাকায় তারা বাসে যাচ্ছিলো ।আর এখানেই বৃষ্টি ,তবে এমন বৃষ্টি শুরু হলো যেনো সাড়া রাতেও থামবে না মনে হয় ।কি করবে তারা এটা ভেবে না পেয়ে একটা বাড়ির সামনে গেলো ।কোনো ব্যাবস্থা না থাকায় তারা সেই বাসার দড়জায় কড়া নাড়লো ।দরজা খুললো,এক কুচ কুচে কালো লোক ।ফাহিম সব কিছু ই তাদের খুলে বললো ।সেই লোক ফাহিমের মাধ্যমে ভিতরে যেতে বললো ।আমি ভিতরে যেয়ে দেখলাম একটা ছেলে আর একটা মেয়ে সুন্দর করে নামায পড়ছে ।প্রীতি মোটেও এমন কিছু দেখবে তার জন্য প্রস্তুত ছিলো না ।বাচ্চা গুলোর নামায দেখছিলো হঠাৎ একটা বাচ্চার নামায শেষ ।ঠিক তখন ই বাচ্চাটা বলে উঠলো,,

–আসসালা মুআলাইকুম,, প্রীতি এখন আরো অবাক ।সে সালাম এর উওর দিয়ে সেই বাচ্চার সাথে ভিতরে গেলো ।ভিতরে গিয়ে দেখলো এক অপূর্ব সুন্দর মেয়ে বসে হাদিস পড়ছে ।প্রীতি কাছে গিয়ে বসলো তাদের সমস্যার কথা বললো ।এই একটা রাত থেকেই তারা সকালে চলে যাবে ।মহিলা কোনো কিছু আপওি করেননি ।টুক টাক কথা হচ্ছিলো তাদের ।হঠাৎ কথা প্রসংগে প্রীতি বললো,,

–ঐ কালো লোকটি কি আপনার ভাই ? মহিলা একটু মুচকি হেসে বললো,,
–উনি আমার স্বামী ।
–কিছু মনে করবেন না ।আপনি এতো সুন্দর আর উনি এতো,মানে যায় না একদম ই,,, সেই মহিলা স্বাভাবিক ভাবেই উওর দেয় ।
–আপনি যখন বাসায় প্রবেশ করলেন উনি কি আপনার দিকে তাকিয়ে ছিলো ?কিংবা আপনার সাথে কোনো বিষয়েকথা বলেছে?
–না তো,,,,
–উনি পাচঁ ওয়াক্ত নামায পড়ে ।

কোনো মহিলার সাথে কথা বলেন না ।ইসলামে যে সকল মহিলাদের সাথে কথা বলা হারাম তাদের সাথে সে কখনোই কথা বলে না ।সে কালো ?আমি এতো সুন্দর এই তো নাকি ।আমি একেই অনেক পছন্দ করি ।যে এমন পাচঁ ওয়াক্ত নামায পড়ে সে কখনো খারাপ হতে পারে না ।তবে প্রথমে কিছু কথা শুনেছি যে বাজে দেখায় একসাথে ।এখন এটা আর কেউ বলে না ।তারা জানে এটা সত্যি একটা ভালো কাজ ।আর রুপ দিয়ে কি হবে ?পরকালে কোনটা কাজে লাগবে ?আর উনি কালো তাতে আমার কিছু ই যায় আসে না ।আর আমার বাচ্চাদের আমি আল্লাহর দেখানো পথে চলার শিক্ষা ই দিচ্ছি ।অনেক তো বললাম ।এবার আপনার স্বামীর ব্যাপারে আপনি সচেতন হোন,,, প্রীতি কি বলবে একদম ই বুজতে পারছিলো না ।সে একবার কালকের কথা ভাবছিলো ,যে বিয়ে তারা করেছিলো সেটা কাল ই সমাপ্তি হবে ।সে একবার ডানে তাকায় দেখে পিচ্চি মেয়েটা কি সুন্দর কোরআন পড়ছে ।সে ভয়ে ভয়ে বললো,,,,

–কালকেই আমাদের ডিভোর্স ,,
–কেনো ?
–সমাজে চলতে হলে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় ।বিয়ে করেছি এমন একজনকে যার সাথে আমাকে মানায় ই না ।বান্ধুবিরা খারাপ বলে,,,

–একটা কথা বলি কিছু মনে করো না তো ।তুমি যখন মারা যাবে তখন এই সমাজের মানুষ গুলো কি তোমার কোনো কাজে আসবে ?এই যে এতো সাজ ,রুপ কার জন্য ?স্বামীর জন্য নাকি অন্য পুরুষের জন্য ?

–অন্য পুরুষ মানে ?এমন বাজে কথা বলবেন কেনো ?
–তাহলে স্বামীকেই যখন দেখাবেন তো সেটা ঘরেই দেখান ।

বাইরে রুপ দেখিয়ে আপনি সমাজের সাথে তাল মেলাবেন ?আপনি নামায পড়ুন পর্দা করুন ।দেখুন জীবনটা কতটা সুন্দর হয় ।প্রথমে এমন সমস্যা হবে যেনো সব কিছু ফেলে রেখে চলে যাই পরে সব ঠিক। হয়ে যাবে ।জীবনে চলতে স্বামীর ভালোবাসাই যথেষ্ট ।নিজে নামায পড়ুন এবং তাকেও পড়তে বলুন । প্রীতি এই কথা গুলো ভুলতেই পরেনি ।সে দেখেছিলো ছোট মেয়ের নামায পড়া এবং তার মধুর কন্ঠে কোরআন তিলওয়াত ।সেই রাতে সে এই মহিলার কাছ থেকে অনেক কিছু ই যেনেছে । সকাল হতেই তারা সেই বাসা হতে বের হয় ।ফাহিম তখন ই বলে উঠে,,

–এখান থেকেই চলো উকিল এর কাছে চলো যাই আর ডিভোর্স এর কাগজে সাইন করে শেষ করি সব কিছু ।
–না ,বাসায় চলো এখন ই,,,,প্রীতি বাসায় এসেই ফাহিমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে ।ফাহিম যেনো কিছুই বুঝতে পারে না ।সে একটু সামলে নিয়ে বলো ,,

–কি হয়েছে বলবে তো নাকি ?
–আমি তোমাকে ছাড়া কোথাও যাবো না ।

তুমি শুধু ই আমার ।তুমি হয়তো ভাবছো শাকিলকে নিয়ে তোমাকে কথা কেন শোনাতাম ?আমি তোমাকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসি আর কেউ ভালোবাসবে না ।আমি শুধু তোমাকেই চাই অন্য কেউ না বিশ্বাস করো ।আমি অন্ধ ছিলাম এতো দিন ।হয়তো আল্লাহ আমার দিকে তাকিয়েছেন আমি চাই শুধু তোমাকেই ফাহিম,, দুই বছর পর ফাহিম আর প্রীতির একটা মেয়ে হয় ।দেখতে অনেক সুন্দর ।প্রীতি সব সময় পর্দা করে ।কোনো অন্য পুরুষকে দেখেও না কথাও বলে না ।ফাহিম ই তার সব এখন ।আর মেয়ে আয়েশা ই তাদের স্বপ্ন ।একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফাহিম দেখে তার বউ সেজে বসে আছে ।এটা দেখেই ফাহিম বললো,,,

–এই তুমি সেজে কোথায় যাও?
–কোথাও না অফস তো তোমার বন্ধ তাই ভাবলাম তোমার জন্য একটু সাজি ,,আর তুমি তো ফজর এর নামায পড়েই মরার মতো ঘুমাচ্ছো,, ফাহিম কোনো কথা না বলেই প্রীতিকে জড়িয়ে ধরে ।তখন ই প্রীতি বলে উঠে,,

–এই ছাড়ো আয়েশা দেখছে,,
–আয়েশা ঘুমাচ্ছে আর এই জড়িয়ে ধরাতেও সওয়াব আছে ,,
–ওলে আমার সোয়ামি,,

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত