ভিষণ ভালোবাসিরে

ভিষণ ভালোবাসিরে

মায়া আমার পাশে কিছুক্ষণ মুখ ঘোমরা করে বসে থেকে বললো এই তানিম। আমি আমার মত করে উত্তর দিলাম বল কি বলবি।

-ঐ দিকে কি দেখিস? কোন দিকে কি দেখি? ঐযে ঐ মেয়েদের দেকি তাকিয়ে আছিস কেনো? তাদের দিকে তাকিয়ে কি দেখিস তুই?

-আমার বউদের দেখছি।দেখ তোর ভাবি গুলা কত কিউট নাহ?
-দেখ ভালো হবেনা কিন্তু।থাপড়ায়া তোর দাঁত ফেলো দিমু!
– ভালো না হলে নাই।আমার ভাল তোর ভাবা লাগতোনা।তুই তোকে নিয়ে ভাব।
-এদিকে তাকা! না হয় কিন্তু মাইর খাবি তুই! হাহাহাহা হাসছিস কেনো?

-আমার সাথে মনে হয় হাত নেই! যে তোকে মারতে পারবোনা আমি!
-কি তুই আমাকে মারবি?
-না! তোকে আদর করবোকাছে আয়।
-দেখ তুই কিন্তু আমার সাথে ইয়ার্কি মারছিস
-আমার বয়েই গেছে তর সাথে ইয়ার্কি মারতে। ভাব ধরতে আর জায়গা পাইলি না।তুই কি আমার শালি লাগস,না তোর বড় বোন বা তোর বংশের কাউকে আমি বিয়ে করছি। যার কারণে তর সাথে আমি ইয়ার্কি মারবো, যা ভাগ।

-সত্যিই তো,আমি চলেগেলে তুই খুশি হবি।
-হ্যা সত্যি খুশি হবো!আর তোরে কি আমি ধরে রাখছি নাকি। বরং তুই চলেগেলে মন ভরে দেখতে পারবো।

অতঃপর মায়া উঠে চলেগেলো। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, চোখের কোনে পানি। যে কোন সময় বারি বৃষ্টি আসতে পারে। এতক্ষণ যার সাথে কথা বলছিলাম ওহলো মায়া। আমার ভার্সিটির সবচেয়ে ভালো বেস্ট ফ্রেন্ড মেয়েদের মধ্যে। বেস্ট ফ্রেন্ড বললে ভূল হবে, তার চেয়েও বেশী কিছু।বলতে গেলে আমি তার প্রেমে মজনুদিওয়ানা। কিন্তু নিজের ভালোবাসা আমি প্রকাশ করি না। কিছু ভালোবাসা প্রকাশ হয়না।আমি জানি মায়াও আমাকে ভালোবাসে, তবে প্রকাশ করেনা। এটা আমার মনের ধারনা।তবে আমি চাই মায়া আমাকে বলোক সে আমাকে ভালোবাসে।মায়াকে এতক্ষণ আমি ইচ্ছে করেই রাগাচ্ছিলাম। ওকে রাগাতে আমার খুব ভালো লাগে। ওর রাগে লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখতে আমার ভিষণ পছন্দ। তাই ইচ্ছে করেই রাগেয়েছি।

মায়া আর আমি ক্যাম্পাসের এক কোনে বসে ছিলাম। তখন তাকে রাগানোর জন্যই দূরেবসে থাকা মেয়ে গুলোকে দেখছিলাম।আমি জানি আমাকে সে কোন মেয়ের সাথে মেশা দেখতে পারেনা।কোন মেয়েকে আমি একটু দেখলেই তার জ্বলে। তাই সে এমন করছিলো। জানি বেশিক্ষণ সে আমার উপর রাগ করে থাকতে পারবেনা। সবাই সবার উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা।যেমন মায়া আমার উপড় খুব একটা রাগেনা।রাগলে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা।কিছুক্ষণ পর এমনে এসেই কথা বলবে।আমি কথা বলতে না চাইলেও সে এমন এমন কথা বলবে।যে আমাকে তার সাথে কথা বলতেই হবে।আমার দিনের ভাল লাগাটা অনেকটা নির্ভর করে তার উপড়। মায়ার সাথে পরিচয় হওয়ার দিনটা আমার কখনোই ভূলার নই। ঐ দিন ছিলো আমার ভার্সিটির প্রথম দিন। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি আকাশ কিছুটা মেঘযুক্ত ।বৃষ্টি আসতে পারে আবার নাও আসতে পারে।

আমি ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তবে ছাতা নিলাম না।বাড়ি থেকে ভার্সিটি বিশ মিনিটের রাস্তা। ভাবলাম বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই চলে যাবো। বাড়ি থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত গেলাম, কোন বৃষ্টি নাই। গেইটের কাছাকাছি আসতেই ভারি বর্ষণ শুরু হলো। দৌড়ে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা নাই। তাই দৌড় দিলাম না। প্রায় অনেকটা ভিজে গেলাম।হঠাৎ অনুভব করলাম। মাথার উপর কেউ কিছু একটা ধরেছে। ঘার ঘুরিয়ে দেখি গোলাপি কালার ড্রেস পড়াহিত একটি মেয়ে ছাতা ধরে আছে। মেয়েটিকে কখনোই দেখিনি, বা চেনাও না আমার। যাই হোক সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মেয়েটি আমাকে একটি ছাদের তলায় দিয়ে গেলো। আমি হালকা ভেজা শরীর নিয়েই ক্লাস করতে গেলাম। ক্লাসে গিয়ে শেষমেশ সেই মেয়েটির সাথেই বসলাম। সেই ভার্সিটির প্রথম দেখা, প্রথম পাশে বসা।

ঠিক সেই ভাবে আজও তার পাশে বসে তাকে রাগানোর জন্য অন্য মেয়েদের দিকে তাকিয়ে ছিলেম আমি। এইসব ভাবছি হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠলো। স্কিনে দেখি মায়ার নাম্বার। রিসিভ করলাম। রিসিভ করতেই মায়ার মা যা বললো তা আমি কল্পনাই করতে পারিনি। মায়া হসপিটালে ভর্তি।মায়া নাকি অনেক গুলো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছে। মাথাটা তখন ঘুরে গেলো। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। আন্টির কাছ থেকে হসপিটালের ঠিকানা জেনে হসপিটালে গেলাম। মায়ার বেডের ভিতর আমাকে দেখেই সবাই বাহির হয়েগেলো। মায়ার অবস্থা অনেক ভালো। আমাকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তখন আমি একটু ভাব নিয়ে বললাম।

-দেখ মায়া তুই আমাকে ভালবাসিস! সেটা ভালো কথা। কিন্তু কখনোই কি বলেছিস ভালোবাসার কথা। মায়া মুখ না ঘুরিয়েই উত্তর দিলো

-আমার বয়েই গেছে তকে ভালোবাসতে।আমার আর খেয়ে ধেয়ে কাজ নেই।তোকে ভালবাসতে যাবো!
-সত্যি তো ভালোবাসিস না তুই আমাকে!
-হ্যা,সত্যিই বাসিনা।

তাহলে আমার সাথে রাগ করে এসে ঘুমের এতগুলা ট্যাবলেট খেলি কেনো।মেয়েদের দিকে আমি তাকালে তোর মন খারাপ হয় কেনো? তার মানে তুই আমাকে ভালোবাসিস

—-আমার বয়েই গেছে তকে ভালোবাসতে, আর আমি তর সাথে রাগ করে ঘুমের ট্যাবলেট খাইনি। যা ভাগ ।

-সত্যিই কি চলে যাবো?
-হ্যা, যা চলে যা।
-ঠিকাছে যাচ্ছি, মনে রাখিস, আর আমাকে পাবিনা। তোর থেকে দূরে চলে যাবো।একটু মনটা নরম আর খারাপ করে বললাম। এই বলে দরজার দিকে পা বাড়াতেই মায়া আমার হাতটি ধরে ফেললো। তারপর মায়া বললো

-যাস না তানিম, তুই চলেগেলে আমি বাঁচতে পারবোনা। তোকে যে আমি ভীষণ ভালোবাসি।তুই আমাকে কেনো বুঝিস না।জানিস না মেয়েরা কখনোই ভালোবাসার কথা বলতে পারেনা। জানিস তোর সাতে অন্য কোন মেয়েকে আমি দেখতে পারবোনা। আর তুই যখন ঐ মেয়েগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলি সেটা আমি মানতে পারিনি। প্লিজ তুই আমাকে ছেড়ে যাসনা তানিম তাহলে আমি মরেই যাবো রে। এই কথা বলতেই তার গালে শুধু একটা চড় দিয়েছিলাম। আর কিছুই বলতে পারিনি। বলার ভাষা নেই। বেশি আনন্দে মানুষ নির্বাক হয়ে যায়।

আমিও তাই হয়েছি। মায়ার ভালবাসার মায়া কাটিয়ে দূরে চলে যাবার শক্তি আমার নেই।কারণ আমাকে যতটা ভালবাসে সে, তারচেয়ে বেশি ভালো আমি তাকে বাসি।তবে প্রকাশ করতে পারিনা।সবাই নিজের ভালবাসা প্রকাশ করতেও পারেনা।আমি তাদের দলের একজন। শুধু বলেছি, মরার কথা কখনোই মুখে আনবি না।তোকেও যে আমি ভীষণ ভালবাসি। শুধু ভয় হতো যদি হারিয়ে যাস।তাই কখনোই বলিনি। আমিও তকে ভিষণ ভালোবাসিরে মায়া। অতঃপর নতুন করে শুরু হলো আমাদের প্রেম কাহিনী।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত