ভালোবাসার শেষ দিন

ভালোবাসার শেষ দিন

আজকের গল্পটা লেখকের জীবন থেকে কিছুটা নেওয়া যারা ইন্টার লেখকের সাথে পড়ছে তারা বলতে পারবে। যদিও এই কাটপোড়া রৌদে হাঁটতে ভাল লাগে না,একটুতেই ঘেমে যাওয়ার অভ্যাস কালো শরীরটার। ফোনে ব্যালেন্স ছিল না তাই রিচার্জ করতে যেতেই হবে।

-ভাইয়া একটা নাম্বার লিখুন তো?

-হ্যাঁ বলুন।

-01 820…..

-কত টাকা?

-৩৯টাকা দিন। তাহলে অফার চালু থাকবে, এমবিও ফ্রি অাসবে। বেকাররা একটু বেশীই সুবিধা খোজায় অভ্যস্ত।

-অাচ্ছা।

রিচার্জের কাটপোড়া রোদেই রাস্তা দিয়ে অানমনে হেটে বাসায় ফিরছিলাম। তখনই ফোনে একটা মেসেজ অাসল। ফোনের মেসেজের রিংটোন টা হচ্ছে Pixie Dust নামের রিংটোনটা। খুব ভাল লাগে এই রিংটোনটা। এই টিউনের শব্দটা যখন হয় তখনই খুব ভাল লাগা কাজ করে। যাইহোক মেসেজটা চেক করলাম। ভাবেছিলাম হয়ত রিচার্জ করছি সেই মেসেজটাই এসেছে। কিন্তু,মেসেজটা ছিল,অামার সবচেয়ে কাছের মানুষটার।

-আজ ছেলে পক্ষ আমাকে দেখতে আসবে। আচ্ছা,তুমিই বলো দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয়ে যায়? আমি কি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো নাকি..! এখন ফোন বা মেসেজ করো না,বাড়িতে লোকজনে পূর্ণ। পরে কথা হবে.. যেই মেসেজের শব্দটা সবসময় খুব ভাল ভাল খবর দিত।সেই শব্দটাই অাজ সবচেয়ে খারাপ খবরটাও দিল..! কিছুক্ষন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। হয়ত ঠোঁটে মুচকি হাসি ফোটেছে..! এখন আর রোদটাকে কাটপোড়া মনে হচ্ছে না। ঘামগুলো শুষে নিচ্ছে কালো শরীরটা।

মনে মনে বললাম বিয়ে তো পরের কথা।অাজ দেখতে অাসবে,এখনই কথা বলার নিষেধাজ্ঞা।জানি না পরে কি হবে। বাসায় চলে অাসলাম।কেন জানি কিছুই ভাল লাগছে না। ফোনের সাউন ও নোটিফিকেশন অপশনে গিয়ে Pixie dust টিউনটা বারবার শুনছিলাম।ওকে বেশি মিস করলেই এমনটা করি। অার ভাবি,এই বুঝি মেসেজ দিল। তখনও এক প্রকার ভাল লাগা কাজ করে।কিন্তু অাজ অার ভাল লাগছে না,একদমই ভাল লাগছে না। দম বন্ধ হয়ে অাসছে।

কি দরকার এই বাচ্চা মেয়েটাকে এখনই বিয়ে দেয়ার?যদিও ও অার বাচ্চা নেই।বড় হয়ে গেছে অনেক। কিন্তু বিয়ে দেয়ার জন্য এত তাড়া কিসের? ওর অাম্মুর সাথে দেখা হলে বলতাম.. অান্টি অাপনার মেয়ে কি অাপনাদের খুব চাউল নষ্ট করতেছে? যে,ওকে খাওয়াতে পারছেন না।তাই এখনই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন? অাচ্ছা,চাউলের টাকাগুলো অামি দিব। ওকে এখন বিয়ে দিয়েন না প্লিজ। কিন্ত এটা তো সম্ভব নয়। তবুও মনকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা অার কি। রাত্রে নয়টার দিকে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি। অাবার Pixie Dust টোনটা বেজে উঠলো।

-এই খেয়েছো?

-না খাইনি। তুমি?

-হুম খেয়েছি,না খেলে খেয়ে নিও।নয়ত শরীর খারাপ করবে।

-কি বললো ছেলে পক্ষ?

-আমাকে পছন্দ হয়েছে।

আচ্ছা,শুভ রাত্রি অার কোন মেসেজ দিলাম না।সেও অার কোন মেসেজ দিল না। হয়ত ঘুমিয়ে গেছে।না, না ঘুমায়নি ও এখন সবার অাড়ালে কান্না করতেছে। অার এটাও ভাল করে জানি এখন থেকে অামায় খুব এভয়েড করবে।যেন অামার পরে কষ্ট কম হয়। অার এর জন্যই তো ও অামার কাছে সবার থেকে অালাদা। একদম অামার মনের মত একটা মেয়ে।অাগেও শুনছিলাম,এটা নাকি খুব ভাল ঘরের একটা ফ্যামিলী (ছেলেপক্ষ)।

যেহেতু মেয়ে পছন্দ হয়েছে।অার পছন্দ না হওয়ার তো কোন কারণই নেই।এত ভাল একটা মেয়ে। পছন্দ করবেই। হয়ত বিয়েটাও এখানে হয়ে যাবে। অার অামিও তো কোন চাকরি করি না যে ওকে বিয়ে করব। অার ফ্যামিলির কাউকে কষ্ট দিয়ে কখনও অামরা পালিয়ে যাব না,এটা অনেক অাগেই দুজন প্রতিজ্ঞা করে রেখেছি। আসলে ভালো ছেলেমেয়েদের ভালো বাসতে নাই ।কিন্তু তারা ভালোবাসে না কেমনে যেন তাদের মাঝে ভালোবাসা হয়ে যায়। আসলে কিভাবে হয় কেউ জানে না। পরদিন সকালে ও ফোন দিল..

-কেমন অাছ?

-হ্যাঁ ভাল তুমি কেমন অাছ?

-কাল রাত চারটায় তোমাকে অনলাইনে দেখলাম,কি করছিলে এত রাত্রে।ঘুমাওনি একটুও?

-না ঘুমায়নি। অামাদের অাগের কার মেসেজগুলো পড়ছিলাম ।তুমি দেখলে কি করে?

-অামিও তখন অনলাইনে ছিলাম। অার অামিও তখন অাগের মেসেজগুলো পড়ছিলাম।

-দেখছো অামাদের দুজনের কত মিল? প্রায় সব কিছুই কেমন করে মিলে যায়।

-হ্যাঁ কিন্তু এবার হয়ত অামাদের সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।

-বিয়েটা না করলে হয় না?

-অামি কি করব বল? অাব্বু-অাম্মু’র বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস যে অামার নেই।

-পারবা মাঝপথ থেকে অারেকজনের হাত ধরে নতুন জীবন শুরু করতে?

-হয়ত পারব,হয়ত পারব না..!

মেয়েদের জীবনটা এত অদ্ভুত কেন বলতে পারো? অামি ভালবাসি তোমাকে,তোমাকে নিয়েই অামার কত স্বপ্ন।
অথচ,দেখ সব ভুলে,সব সব স্বপ্ন ভেঙে,অপরিচিত একটা লোকের সাথে সংসার করতে হবে।

-(এই কথাগুলোর কোন উত্তর আমার জানা নেই) তাই চুপ করে থাকলাম।

-শুনলাম, এই মাসেই নাকি অামার বিয়ে।

-স্বাগতম..

-তোমার কণ্ঠটা এমন শুনাচ্ছে কেন?কান্না করতেছ ?

-অারে ধুর,না সর্দি লাগছে।

-সর্দি কি এখন হঠাৎ করেই লাগল?

-বাদ দাওনা এসব।

জানো,অামি কখনও রিলেশন করতে চায়নি। রিলেশনে খুব কষ্ট তাই না? কিন্তু তোমাকে প্রথমবার দেখার পর থেকেই কি যে হয়েছিল নিজেও জানি না। কেমন অদ্ভুত ভাল লাগত তোমাকে। রাস্তায় বের হলে অনেক মেয়েই তো চোখের সামনে পড়ত। কিন্তু যখন তোমার সাথে দেখা করতাম। তখনই কেমন জানি খুব ভাল লাগত। নি:শ্বাস নিতে কষ্ট হত।কিন্তু এটাই সবচেয়ে ভাল লাগত অামার কাছে। কেন জানো? কারণ,কোন মেয়েকে দেখে এরকম লাগত না।কিন্তু তোমাকে দেখলেই অামার এমন হত। তখন বুঝতাম অামি হয়ত সত্যিই ভালবাসি তোমাকে। অামি এই জীবনে কোন স্বপ্নই দেখিনি তোমাকে ছাড়া। শুধু তোমাকে নিয়েই সব স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু দেখ,সব কেমন শেষ হয়ে গেল।

-( বাচ্চাদের মত করে কাঁদছে পাগলীটা)

-ভাল থেকো..

ফোনটা কেটে দিলাম। ফোনটা অফও করে দিলাম।হয়ত ও অনেকবার ট্রাই করবে। রুমে দরজা বন্ধ করে ফেসবুকে ওকে ব্লক করে অাগের মেসেজগুলো পড়ছিলাম।এখন অার মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই।তাহলে ওর অারো বেশি কষ্ট হবে।তাইতো ব্লক করে দিয়েছি। ইশ..!! কত সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। সেই দিনগুলো কি! দুইদিন অাগের দিনগুলোও। সারারাত জেগে অামরা চ্যাট করতাম। কত স্বপ্ন দেখতাম..! ও অামাকে একদিন খাইয়ে দিবে,একদিন অামি ওকে খাইয়ে দিব।

ওহ হো..!অামাদের বাচ্চার নামও তো ঠিক করে ফেলছিলাম। ফেসবুকে অনেককেই দেখি নিকনেমে। সুন্দর করে লিখে রাখে। ছেলে হলে লিখে, ওর(বাচ্চার নাম) অাব্বু। অার মেয়ে হলে লিখে, ওর(বাচ্চার) অাম্মু। অথচ তাদের কিন্তু বিয়েও হয়নি। এর মানে অামার মত প্রায় সবাই ওদের বাচ্চার নামটা পর্যন্ত ঠিক করে রাখে। যারা তাদের মনের মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য পায়।তারা হয়ত তাদের বাচ্চার নামটা অাকিকা দিয়ে সুন্দর করে অনুষ্ঠান করে রাখতে পারে। কিন্তু যারা তাদের মনের মানুষটাকে পায় না। তখন এই বাচ্চাটা এতিম হয়ে যায়,তাই না? বাচ্চাটাকে নিয়েও তো কত প্ল্যান থাকে। কিন্তু একটা সময় বাচ্চার মা-বাবাই থাকে না। বাচ্চা তো এতিম হবেই।

দুইদিন যাবত কোন কিছুতেই মন বসছে না। সারাক্ষণ শুধু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। অনেক চেষ্টা করছিলাম যেন চোখ দিয়ে পানি না অাসে। কিন্তু সব চেষ্টাই তো ব্যর্থ।শুনছি ছেলেদের নাকি কাদতে হয় লুকিয়ে।তা না হলে তো চিৎকার করেই কাদতাম! এভাবেই অার দুইদিন চলে গেল।পরে শুনলাম ওর নাকি পরশু’ই বিয়ে..! এত তারাতারি বিয়ে হয়ে যাবে? ছেলের নাকি অাবার চাকরিতে চলে যেতে হবে। তাই তো এত দ্রুত সব কিছু! সকালেই দোকান থেকে কাপরটা ইস্ত্রি করে এনেছি। বিয়েতে যাব একটু পরিপাটি হয়ে তো যেতে হবে নাকি..! অাম্মুর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিলাম। অার একটা মাটির ব্যাংক ছিল।

অামি এই ব্যাংকে টাকা জমিয়ে রাখতাম শুধুই অামাদের ফিউচারের জন্য। ভাবতাম বিয়ের সময় কাজে লাগবে। তবে খুবই অল্প অল্প করে টাকা জমাইতাম। প্রবলেম কি? এখনও তো অনেক সময় বাকী। ততদিনে অনেক টাকা হয়ে যাবে। কিন্তু এই ব্যাংকটাই অাজ ভাঙতে হল। প্রায় ২৫০০ টাকার মত হয়ে গেছে। এখানে ২৫০০ অার অাম্মুর দেয়া ৫০০। সব মিলিয়ে ৩০০০! পরিচিত একটা কাপরের দোকানে গেলাম। দেখি একটা সুন্দরী অাপু বসে রইছে দোকানের দেয়া চেয়ারে। হয়ত তিনিও কেনাকাটা করতে এসেছেন।

-অাপু একটু হেল্প করবেন?

-কি হেল্প?

-অামি একটা শাড়ী কিনব।অাপনি একটু পছন্দ করে দিবেন?

-হ্যাঁ নিশ্চয়ই। অনেক খুজে একটা নীল রংয়ের শাড়ী পছন্দ করলাম।যদিও অাপু কয়েকটা শাড়ী পছন্দ করে দিছিল। কিন্তু ভাল লাগেনি!

-এইটাই নিব।

-এটা খুব সুন্দর।কার জন্য নিচ্ছেন?

-অামার ভালবাসার মানুষটার জন্য।

-গার্লফ্রেন্ড?

-হাহা হুমম।

-পছন্দ করবে খুব।

-অামি ১ টাকার জিনিস দিলেও খুব পছন্দ করবে।অার এটা তো অবশ্যই পছন্দ করবে।

(একবার কমদামী একটা শো পিছ দিয়েছিলাম। মাঝখানে একটা মেয়ে একটা ছেলের কাছে মাথা রেখে পরম নিশ্চিতে চোখ বুঝে আছে। এটা দেখে বলেছিলো এভাবে নিশ্চিতে সারা জীবন আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাতে পারবে।সেই আধিকারটুকু কবে দিবো?) চল্লিশ টাকা রিক্সা ভাড়া লাগবে ওদের ওখানে যেতে।অন্যদিন হলে ভ্যান বা অটো দিয়ে যাইতাম। পনেরো টাকা লাগত।কিন্তু অাজ রিক্সা দিয়েই যাচ্ছি। কিছুক্ষন পর..

-মামা তুমি কি বিয়ে করছ?

-হ মামা।

-বউরে ভালবাস খুব?

-হাহাহাহাহ কি যে কও মামা! (লজ্জায় নববধূর মত গারো লাল রং ধারণ করেছে রিক্সাওলা মামার মুখ।)

-অাচ্ছা দাড়াও এসে পড়ছি। এই নাও চল্লিশ টাকা তোমার ভাড়া।

অার তোমায় অামি একশ টাকা দিলাম।ষাট টাকা থাকবে। এটা দিয়া কিন্তু অন্য কিছু করবা না। বউয়ের জন্য কিছু কিনে নিয়ে যাবা। তিনি যে হা করছেন..! মনেহয় এরকম অবাক অাগে অার হননি। বিয়ে বাড়িতে চলে গেলাম। চারদিকে খুব অায়োজন। বুঝতে হবে খুব খরচ করছেন বিয়েতে। অামি একটা দেরী করেই মনে হয় এসেছি। ততক্ষণে বিয়ের পর্ব শেষ। ভিতরে গিয়ে দেখি.. ছেলে অার মেয়ের একসাথে ছবি তুলা হচ্ছে। অামি কি মনে করে দৌড়ে ওখানে চলে গেলাম।

-ভাইয়া ভাল অাছেন? অামি অাপনার বউয়ের বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলাম।

-ওহ অাচ্ছা, হ্যাঁ ভাল। তুমি ভাল অাছ?

-অামি?হ্যাঁ হ্যাঁ ভাল অাছি। ও শুনেন অাপনাদের সাথে একটা সেলফি তুলার খুব ইচ্ছে ছিল।

-হ্যাঁ তুলো।

পরপর কয়েকটা সেলফি তুললাম। ভাল থেকো ( ভালবাসা ) ভালবাসা শব্দটা খুব অাস্তে করে বলছিলাম। হয়ত শুনতে পেয়েছিল হয়ত না। ও হয়ত খুব অবাক হয়ে গেছিল অামার এরকম কর্মকান্ড দেখে। কারণ,যখন সেলফি গুলো দেখছিলাম তখন দেখি ক্যামেরার দিকে নয় অামার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অাছে। অাসার সময় খুব কান্না করতেছিল। অামি তো জানি ও কেন এত কান্না করতেছে। যদি সমাজের নিয়মের বেড়াজালে ও অাটকে না থাকত। তাহলে হয়ত চিৎকার করে বলত..

-এই ছেলেটাকে অামি ভালবাসি।অার বিয়ে করলে ওকেই করব।

কিন্তু তা অার সম্ভব না। অসহায় দৃষ্টিতে মেয়েটা সবকিছু দেখে যাচ্ছে। অামি বলছিলাম সবাইকে..যে, ও তো ওর অাম্মু-অাব্বু কে ছাড়া কোথাও যায় না।এখন একবারে চলে যাচ্ছে। হয়ত তাই এত কাদছে। কিন্তু অামি জানি ও শুধু অামার জন্যই কাদছে। হয়ত কান্না অাটকে রাখতে পারেনি। পারবেই বা কি ভাবে? ও হ্যাঁ অাসার সময় ওর হাজবেন্ড অামায় একলা করে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করেছিল..

-তোমার ফ্রেন্ড কি কি পছন্দ করে একটু বল?

-ভাইয়া,ও অন্ধকার খুব ভয় পায়। অার বৃষ্টিতে ভিজতে ভালবাসে।অামাকে বলত বিয়ের পর নাকি ওর হাজবেন্ডের সাথে বৃষ্টিতে খুব ভিজবে।অার শীতের সকালে দুজন খালি পায়ে শিশিরের উপর দিয়ে হাটবে। অাপনি ওর এই ইচ্ছাগুলো পূরণ করলেই হবে? প্লিজ করবেন?

-চেষ্টা করব।

-অার একটা কথা রাখবেন? ওয়াদা করেন?

-কি কথা বল?

-ও খুব ভাল সহজসরল একটা মেয়ে। প্লিজ ওকে কখনও কষ্ট দিয়েন না? বলেন খুব ভাল রাখবেন ওকে?

-চেষ্টা করব।

-থ্যাংকস। ভাল থাকবেন দুজনই। শুভ বিবাহিত জীবন। বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছিলাম। তখন পিছন থেকে একটা মেয়ে ডাকছিল।

-ভাইয়া?

-জ্বী, বলুন।

-অারে অাপনার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছে? তখন দেখি সেই কাপড়ের দোকানে যে মেয়েটাকে নিয়ে শাড়ীটা কিনেছিলাম,এই মেয়েটাই ও। চোখ তো পানিতে ঝাপসা ছিল।তাই অাগে স্পষ্ট দেখিনি।

-অাপনি এখানে কেন?

-বিয়ে খেতে এসেছি,মানে বিয়ের দাওয়াত।

-ও অাচ্ছা,হ্যাঁ দেখা হয়েছে। ওই যে,দেখছেন দাড়িয়ে বরের সাথে (হাত দিয়ে ইশারা করে) ছবি তুলছে? ও ই অামার ভালবাসার মানুষ।

অার কিছু না বলে চলে অাসলাম। এই মেয়েটাও খুব অবাক হয়ে গেছে। কাউকে চমকে দিতে ভালই লাগে। অার এই মেয়েটা কাউকে বলবে না। যে,অামি অাজ যার বিয়ে হচ্ছে তার বয়ফ্রেন্ড ছিলাম। ওর চোখ দেখেই তা বুঝেছি।

বাসায় চলে যাচ্ছি। হঠাৎ একটু ফেসবুকে ডুকলাম। দেখি হোমপেইজে প্রথম ষ্ট্যাটাসটায় একটা ফ্রেন্ডের। তিন শব্দে একটা কষ্টের গল্প লিখুন সবাই অনেক কিছুই লিখছে। অামিও লিখলাম.. অাজ তার বিয়ে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কারণ,এখন রোজ সকালে কেউ তো অার বলবে না। “শুভ সকাল, উঠো,আর কত ঘুমাবা? বা রাত্রে ”শুভ রাত্রি,এখনই ঘুমিয়ে পড়ো,ফেসবুকে যেন না দেখি” না খাইলেও বলবে না “ওই হাদারাম,এখনই খেয়ে নাও।না খেলে শরীর খারাপ করবে” কোথাও গেলে কেউ বলবে না “সাবধানে যেও” এরকম মেসেজগুলো অার অাসবে না। সব রুটিন পরিবর্তন হয়ে যাবে। সব কিছু নিজেকেই সময় মত করতে হবে।

হয়ত অাজ রাতে খুব কাঁদবো,অবশ্যই কাঁদবো? কেনই বা কাঁদব না? অামি তো এমন একটা দিন চায়নি।
ও কোন ছেলের সাথে কথা বললেও অামার খুব কষ্ট হত। বলতে দিতাম না। ভাবতাম যদি কেউ কেড়ে নেয় অামার কাছ থেকে? অথচ অাজ,ও অপরিচিত একটা মানুষের হয়ে গেল সারা জীবনের জন্য। অার অামিও হাসি মুখে তা দেখে অাসলাম। বড্ড মানিয়েছে ওদের দুজনকে। এখন দুজন সারা জীবন সুখে থাকলেই হয়। ভালবাসলেই পেতে হবে এমন তো কোন কথা নেই। ভালবেসে,ভালবাসার মানুষটাকে সুখে দেখার নামই হল ভালবাসা।সুখে থাকুক ওরা। একদিন ওর মেমরিটা নিছিলাম।ওর পিক নেয়ার জন্য। তখন পি.সি. থেকে কয়েকটা মুভি,নাটক লোড করে দিছিলাম। এর মাঝে কাছে অাসার গল্প,নিলয় অার শখের ( পেন্সিলে অাকা ভালবাসা) । অার,তাহসানের নাটকও দিছিলাম।

সব গুলো নাটকের গল্পই কি চমৎকার..! কি ভালবাসা!কিন্তু রিয়েল লাইফে নিলয় ভাইয়া অার শখ অাপুর নাকি ডিবোর্স হয়ে গেছে..! তাহসান-মিথিলার কথা তো সবাই জানি।তবে কি অামি ধরে নিব? এসব এত প্রেম-ভালবাসা,ভালবাসার মানুষটার সাথে ক্যান্ডেললাইট ডিনার,কুয়াশার মাঝে দুজন হারিয়ে যাওয়া,সব কল্পনাতেই সুন্দর? তাহলে ঠিকাছে অামি ওকে এখন থেকে অারও বেশি ভালবাসব হোক না সেটা কল্পনায়। ওর সাথে অার কখনও কথা হলে এই কথাটাই বলতাম।

অাগে কোন স্বপ্নই দেখতাম না তোমাকে ছাড়া। অার এখন সব স্বপ্ন দেখতে হবে শুধু তোমাকে ছাড়া! আমি তার বান্ধবী কে বলছিলাম সে যদি আমার সাথে কোনো দিন যোগাযোগ করে তাহলে আমি সেদিন মরে যাবো।। হয়তো সে কারনে আর যোগাযোগ করেনি। তাকে ছাড়া বাছা কষ্টকর।আচ্ছা এত মানুষ মরে আমার কেন মৃত্যু হয়না?

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত