দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের কাহিনী

দুষ্টু মিষ্টি প্রেমের কাহিনী

– টাকা দাও তো?(আমি)
– কেনো? টাকা কী করবে?(রুপন্তী)
– দরকার আছে।তুমি দাও….
– আমার কাছে কোন টাকা নাই।
– তুমি দিবে! নাকি চুরি করে নিবো?
– আমার টাকা চুরি করলে,তোমার হাত একদম
কেটে ফেলবো।
– ও মা সেটাই তো ভালো।প্রতি বেলা বউ
আমারে তখন নিজের হাতে খাওয়াবে।

রুপন্তী জানে,ও যদি এখন আমায় টাকা না
দেয়,তাহলে পরবর্তীতে তিনগুন বেশি চুরি
করে নিয়ে যাবো।তাই, বাধ্য হয়ে আমাকে
৩০০ টাকা দিয়ে দেয়।’ পড়াশোনাও করি
না;আবার কোথাও চাকরীও করি না।সারাদিন
টো টো করে ঘুরা আর বাপের হোটেলে
খাওয়া; এটাই আমার কাজ।বাপের ইচ্ছা বউমা
দেখবে,তাই বাবার ইচ্ছায় বিয়ে টা করা।
টাকা নিয়ে চলে গেলাম দোস্তদের কাছে।
আজ অনেক বড় একটা পার্টি আছে।দামি দামি
বোতল আসবে।আহা……..
– দোস্ত ধর ৩০০ টাকা নে।
– দোস্ত ৩০০ টাকা দিয়ে হবে না।(সোহান)
– তাহলে কত দিতে হবে?
– সবাই তো ৫০০ করে দিচ্ছে।
– বেডা!আমার কাছে আর নাই। এটাই নিলে
নে,,আর না নিলে না নে…;!
– ভাবী তোকে খুব দৌড়ের উপর রাখে,তাই না?
– দুর বেডা!! আমি তোর ভাবীকে সব সময়
দৌড়ের উপর রাখি।
– হু,,সেটা তো বুঝাই যায়,আর বলতে আসিস না।
– আমাকে নিয়ে আর একটা কথা বললে তোকে
কিন্তু এখন পানিতে চুবাবো।

এই দোষ গুলো সব বাবার।আমাকে টাকা না
দিয়ে তার বউমাকে দেয়।এখন তাঁর বৌমার
জন্য,আমার হ্রামি বন্ধু গুলো আমাকে কথা
শুনাচ্ছে! আগে বাবা আমাকে অনেক টাকা
দিতো।যেইদিন থেকে জানতে পারে, আমি
একটু একটু এইসব খাই; ঐ দিন থেকেই আমাকে
দেওয়া বন্ধ।আমার হাত খরচের যত টাকা সব
রুপন্তীকে দিয়ে যায়।।
~–
যাইহোক,বন্ধুদের সাথে রাত ১২ টা পর্যন্ত
পার্টি। অনেক অ্যালকোহল ঢুকছে পেটের
মধ্যে।
আজকে মনে হয়, অনেক বেশি খাওয়া হয়ে
গেছে। বমি বমি লাগতেছে। পায়ের হাঁটু গুলো
কাঁপা কাঁপি শুরু করে দিছে।মনে হচ্ছে, হাঁটু
গুলো প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে।
মাথাটাও ঝিম ঝিম করতেছে।এখন বাসায়
যাবো ক্যামনে,,সেটাই তো ভাবতেছি।রুপন্তী
ও অনেকবার ফোন দিয়েছে, সেটাও দেখি
নাই।আজ যে কী আছে আমার কপালে!!

কোন রকমে বাসার গেইট পর্যন্ত চলে আসলাম।
কলিং বেলে চাপ দিতেই রুপন্তী দরজা খুলে
দিল।।রুপন্তী আমার কাছে আসতেই দিলাম
ওয়াহহহ….
– এ ছিঃ ছিঃ। বমি করে দিলে কেনো??
– সরি।ভিতরে আটকে রাখতে পারি নি…
– তুমি আজকেও আবার ওইসব খেয়ে আসছো??
– না।সত্ত্যি বিশ্বাস করো আমি ওইসব কিছু খাই
নি।
– সেটা তো তোমার অবস্থা দেখেই বুঝা
যাচ্ছে!
~
– অ্যাই! রান্না ঘরের দিকে কই যাও?(রুপন্তী)
– আরেহ্…ঘুমাবো তো।
– বেড রুমে যাও..রান্না ঘরে কী?
[ এতো বেশি পড়েছে আজ!যে কোনটা রান্না
ঘর আর কোনটা বেডরুম সেটাই খুঁছে পাচ্ছি না]

রুমে গিয়ে দিলাম এক ঘুম। হঠাৎ রুপন্তী আমাকে
ধরে মারতেছে,,ও শুধু মারতেছে আর আমি
চুপচাপ
মাইর গুলো খেয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ,আযানের শব্দে
মাইর থেমে গেল।। এ কী!! আমি তো
পড়ে_পড়ে
স্বপ্ন দেখছিলাম।চোখ একটু খুলে আশে-পাশে
দেখতেছি,,না এইটা তো যোহরের আযান
দিচ্ছে। আমার মাথার পাশে দেখি রুপন্তী
রেগে চোখ গুলো লাল করে বসে আছে।
“এটাই ফাজলামি করার সুযোগ।মাথাটা ওর
কোলের উপর দিয়ে,ওকে শক্ত করে জড়িয়ে
ধরলাম,,এইটা আজ আর ছাড়বো না…..’
– ওই..আমাকে ছাড়।(রুপন্তী)
– না,,,ছাড়বো না।
– যা তোর বন্ধুদের কাছে যা…
– না,,ওইসবের টাইম নাই,আমার রুপন্তীর কাছে।
হি হি হি
– হাসবি না।তোর বন্ধু কয়টা?
– এই তো হবেই ৯ টার মতো।
– সবগুলোই তোর মতো?
– হু,,আমরা সবগুলোই একই টাইপের।
– কাল থেকে আর বন্ধুদের সাথে মিশবি না??
– এ কী!! তুমি আমাকে তুই তুই করতেছো
কেনো?
আমি কী তোমার ছোট ভাই লাগি!!
– শয়তান তোরে তুই কেনো, এর থেকে বড়
কিছু
বললেও আমার গায়ের জ্বালা মিটবে না।
– আমি কিন্তু এখন তোমার আম্মুকে গিয়ে বলে
দিবো?!
– আম্মু কেনো? আব্বুকে বলল্লেও লাভ হবে
না।
– আমাকে কাল থেকে আপনি করে বলবা,ঠিক
আছে?
– চুপ কর।যা বলল্লাম সেটা যেনো মনে থাকে?
– যদি ভুলে যায়??
– তোর একদম মাথা ফাটিয়ে ফেলবো।

কী ভয়ংকর মাইয়া রে বাবা!! রুপন্তীর ভয়ে আজ
চার দিন যাবৎ বন্ধুদের সাথে দেখা নাই। ওদের
জন্য মনটা কেমন জানি করতেছে; ধুর,,কে
শোনে
কার কথা! দোস্তদের আমি কখনোই ছাড়তে
পারবো না।চলে গেলাম দোস্তদের আড্ডায়;
– কী রে এই ৪ দিন তোরে দেখলাম না যে??
(সোহান)
– আর বলিস না দোস্ত,তোর ভাবী অসুস্থ ছিল।
তাই একটু সেবা-যত্ন করলাম।
– তুই যে এখন মিথ্যা কথা বলল্লি,,সেটাও তো
বুৃঝতে পারছি।
– বলিস কী! তোর ভাবী কে দেখে আমি
মোটেও ভয় পাই না।
– দোস্ত ইঁদুর মারতে হবে সব সময়,বুঝছিস? নিজে
কখনোই ভাবীর কাছে ইঁদুর হয়ে থাকবি না।
– হ..দোস্ত ইঁদুর মারতে মারতে ঘরের ইঁদুরই
শেষ!
– দোস্ত আজ মনে হয় তোর কপালে শনি উঠল!!
– কস কি! আবার কি হলো??
– দোস্ত ঐ দিকে একটু দেখ…….
– দোস্ত এই মেয়েকে কেমন জানি চিনা চিনা
লাগতেছে!
– আরে বেডা, এইডা তোর বউ।দোস্ত তুই
থাক,আমরা গেলাম।
– কই যাস?দাঁড়া…
– দোস্ত তোর হাঁটু কাঁপতেছে কেনো??
– আনন্দে হাঁটু কাঁপা শুরু করে দিছে দোস্ত।
– হ..দোস্ত। আমরা চাই না আমাদের হাঁটু গুলো
কাঁপা শুরু করে দিক!’
[ রুপন্তীকে দেখে বন্ধুগুলো সব দৌড় দিছে।
আমারও হাঁটু এখনও কাঁপতেছে।না জানি,এই
বাজারের সবার মধ্যে কি করে!! ]
– তোমাকে না কত্তো বার করে নিষেধ
করলাম?(রুপন্তী)
– সরি।আর ভুল হবে না।কান ধরছি তো!
– চলো আজ তোমাকে তোমার আব্বুর কাছে
নিয়ে যাবো।
রুপন্তী আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে
আসতেছে।আর বাজারের সবাই হা করে
আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।মনে
হচ্ছে,বাজারের মধ্যে চিড়িয়াখানা খোলা
হয়েছে! *
– হ্যালো,কাকু মুখটা একটু বন্ধ করেন,মশা ঢুকে
যাবে তো??
– কী ভিতু ছেলে রে বাবা! [ কাকুটা বলল ]
– কাকু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!
আমাকে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে এল
রুপন্তী। এবার রুমের মধ্যে ঢুকালো।[ কাজ
সারবে আজ]
– আমার কথা শুনতে তোমার ভাল লাগে না??
– না
– তাহলে,আমাকে বিয়ে করেছিলে কেনো?
– আব্বুর ইচ্চায়….
– ওহ তাই তো।তাহলে, আমি এখন বাবার বাড়ি
চলে যাই?
– তোমার ইচ্ছা..
[ কথাগুলো ভিতরের থেকে কখনোই
বলতেছিলাম না। মাঝে মাঝে রুপন্তীর উপর খুব
রাগ লাগে।এতো বেশি করার কী দরকার! ]

রুপন্তী কথা গুলো বলতে বলতে, হঠাৎ মাথায়
হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। ওর মাটিতে
পড়ে যাওয়া দেখে,আমি এত্তো জোরে
চিৎকার দিয়ে উঠেছি যে, পাশের রুম থেকে
আম্মু আমাদের রুমে চলে এসেছে….
— কী হয়েছে রে?(আম্মু)
— আম্মু দেখতো রুপন্তী হঠাৎ মাটিতে পড়ে
গেল….
— কী করেছিলি ওর সাথে? নিশ্চয় ঝগড়া
করেছিস?
— না আম্মু,, একটু…….
— মনে হয়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।
[ রুপন্তীকে কোলে করে নিয়ে খাটের উপর
শুয়ালাম। আম্মু রুমের ফ্যান দিতে বলল,তাই ফ্যান
টা দিলাম ]
— এই পাগল কাঁদছিস কেনো?কিচ্ছু হবে না
রুপন্তীর।
— ওর যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে আমি বাঁচবো
না আম্মু
— তুই বৌমার কাছে থাক।আমি একটু পানি
নিয়ে আসি….
~–
আম্মু রুম থেকে চলে গেল।এইদিকে আমি
এখনো
কাঁন্না করছি।আর,মুখ দিয়ে কী সব লুতুপুতু কথা
বের হয়ে যাচ্ছে।রুপন্তীর জন্য এতটা কষ্ট
কখোনই
পাই নি।। পাগলীটা কেনো বুঝে না,দুনিয়ার
সব থেকে বেশি ওকে ভালোবাসি। রুপন্তীর
জন্য বুকের মধ্যে খুব অস্থিরতা বোধ করছি।আর,
দুই
চোখের পানি তো অনবরত বের হইতেছেই…..
— কী ব্যাপার কে মারা গেছে?এতো কাঁন্না
কাঁটি কিসের?[কার জানি আওয়াজে চোখটা
টান টান করে তাকালাম,,দেখি রুপন্তী আমার
দিকে তাকিয়ে হাসছে ]
— তারমানে, তুমি এতোক্ষণ অভিনয় করলে??
— হু..দেখলাম,জামাইটা আমাকে কত্তো
ভালোবাসে!
— যাও তোমার সাথে কথা নাই,,আড়ি;
— এত্তো ভালোবাসো আমায়??
— হু…অনেক।
মেয়েটা আমাকে টান দিয়ে, বুকের মধ্যে
জড়িয়ে নিয়ে কাঁন্না শুরু করে দিছে। দুইজনই
কাঁন্না করতেছি।এইটা তো দুঃখের কাঁন্না নয়;
সুখের কাঁন্না। হঠাৎ,আমি বলে উঠলাম,আম্মু চলে
আসবে তো,এখন ছেড়ে দাও…..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত