মেন্টাল

মেন্টাল

রূপা! রূপা,,,ও রূপা কই তুমি।। আমার অফিসের লেট হয়ে যাচ্ছে।.. রূপার ছায়া এসে টাই টা বেধেঁ দিলো। যার সবটাই শুভর কল্পনা।
হ্যাঁ উনি শুভ। আজ এক বছর ধরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি আছে। আর এই পর্যন্ত রূপার নাম ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাইনি।
শুভর পরিবার আত্নীয় স্বজন কাউকে কখনো আসতে দেখিনি ওর খবর নিতে। অর একমাত্র গার্ডিয়ান ওর বন্ধু সজীব।শুভ অন্য সব রোগীদের

থেকে আলাদা ছিলো। বাহিরের কোনো কিছুতে ওর চেতনা নেই। জেনারিলি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীরা অর্থাৎ পাগলেরা উশৃঙ্খল টাইপের হয়।

এ ওকে কামড়ে দেয়া এ অকে কামচে দেয়া মাত্রাতিরিক্ত ধরনের বেপরোয়া হয়।শুভ সম্পূর্ন এর বিপরীত অকে দেখলে বুঝাই যায় না যে অসুস্থ্য।

তবে রূপা ছাড়া ও যেন এই পৃথিবীর কাউকে কখনো দেখেনি বা চিনেও না।
…..
ওর চিকিৎসার সুবিধার্থেই আমরা তার বন্ধু সজীবের কাছে রূপার বিষয় টা জানতে পারি…
…….
শুভ সজীবের বন্ধু। বলতে গেলে একমাত্র বন্ধু। কারন শুভ আর পাঁচ টা মানুষের থেকে আলাদা। শুভ র অবস্থানের কারনে যে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে না।

কারন শুভ জন্ম থেকে এতিম ও জানে না কে তার বাবা মা।জানে না কি তার ধর্ম। শহরের এক টা এতিম খানায় ঈ শুভর বড় হয়ে ওঠা।আর সেখান থেকেই সে পড়ালেখাও চালিয়ে যায়। সব পরীক্ষায় ওর রেজাল্ট ও বরাবার ভাল ছিলো।
কলেজে গিয়েই সজীবের সাথে তার দেখা। এতিম হওয়াতে শুভ কখনো কারো সাথে নিজে থেকে মিশতে চায় নি। মিশতে গেলেও অনেকে অনেক ধরনের কথা বলে বিব্রত করতো
বড় হওয়ার সাথে সাথে সে এটা বুঝে যায় যে এই সমাজ এই সমাজের মানুষ গুলি কোনো পিতৃমাতৃহীনের জন্য নিরাপদ নয়। তাই সে সবার থেকে নিজেকে আড়াল রাখতো
কিন্তূ সজীবের নিজে থেকে ওর সাথে বন্ধুত্ব করা, অকে বিস্মিত করে যে মানুষ এমন আছে যারা এতিম কেও বন্ধু ভাবতে পারে।
সেদিন থেকেই শুভর জীবনে নতুন যাত্রা শুরু।
জন্ম থেকে এই পর্যন্ত ওর সকল কষ্ট যন্ত্রনা শুনার মত এক্টা কান পায় নি। এতদিনে সেটা পেল। হাসিখুশির ভাগাভাগি চলতে থাকে সজীবের সাথে।
সজীবের মত ই আরো এক্টি ভরসার বিশ্বাসের হাত ওর দিকে এগিয়ে আসে।
অস্বাভাবিক ভাবেই রূপা আর শুভর বন্ধুত্ব টা হয়ে যায়। তারপর ভালোবাসা। কারন প্রাপ্ত বয়স্ক দু টো ছেলে মেয়ে কখনোই শুধু বন্ধু থাকতে পারে না।
হয় একে অপরের, পরস্পরের প্রেমে পড়বেই।।। আর না হয় ত এক তরফা প্রেমের সূচনা হবে।
এদের বেলা রূপা ই প্রথম প্রেমে পড়ে শুভ নয়। শুভ রূপাকে অনেক বুঝিয়েছে এড়িয়ে গেছে কিন্তূ রূপা বুঝতে নারাজ ।
শুভ এক্টা পরিচয়হীন মানুষ যার জন্মের ঠিকানা নেই তবুও রূপা শুভ কে হারাতে চায় না।
শুভ যখন রূপাকে রিপিউজ করেছিলো তখন রূপা আত্মহত্যার ও চেষ্টা করেছিলো অল্পের জন্য সে যাত্রা বেঁচে যায়। আর এটাই রূপার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ঐদিন রূপার সোইসাইড এটেম্পটের পর ই শুভ ও রূপাকে বাধ্য হয়েই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলো। পরবর্তীতে শুভ ও রূপাকে ভালবাস তে শুরু করে আর

এতটাই ভালবেসে ফেলে যা ওর জীবনের চাইতেও বেশি। জন্ম থেকে শুভ ভালবাসা পায়নি। ও জানে না মা কেমন মায়ের ভালবাসা কেমন।

জানে না কোন উচ্চাবিলাসী পিতা মাতার ভোগের ফসল সে।
যাকে জন্ম দিয়েছে কিন্তূ পরিচয় দেয় নি।
ওর মৃত্যুর পর অকে কবর দেয়া হবে নাকি, শশ্মানে পুড়ানো হবে তার কিছুই সে জানে না। তবুও রূপা এইগুলোর চিন্তা করে নি। ওদের ভালবাসার প্রহর আস্তে আস্তে কেঁটে যাচ্ছে। দুজনের চোখেই কত স্বপ্ন ভর করে আছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কত চিন্তা তাদের।….
এদের ভালবাসা বাসি টা বেশিদিন কাটতে পারিনি।রূপার পরিবার শুভর ব্যাপারে জেনে যায়। রূপার পরিবার হলো তথাকথিত রক্ষন শীল হিন্দু পরিবার। কাজেই তারা কোনো জন্ম পরিচয় হীন ছেলেকে তাদের মেয়ের সাথে মেনে নিবে না। রূপার পরিবার ও মেনে নেয় নি।
অনেক চেষ্টা করেছে রূপা তাদের বুঝানোর।
ওরা বুঝে নি।
শেষ মেষ রূপা আর শুভ পালিয়ে যায়। পালিয়ে গিয়ে মন্দিরে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ে ও করে। কিন্তূ এত সুখ হয়তো তাদের কপালে ছিলো না। রূপার পরিবার তাদের খোঁজ পেয়ে যায়।
শুভ কে অনেক মারপিঠ করে। তার চোখের সামনেই রূপার শাঁখা ভেঙ্গে দেয় সিঁদুর মুছে দেয়। শুভ বাধা দেয়ার চেষ্ঠা করলে ওকে লোহার রড দিয়ে মাথা মাঝ বরাবরর আঘাত করে। ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছে। মুহূর্তেই শুভর পৃথিবী টা ঝাপ্সা হয়ে এলো। চির অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। ওখানেই সে আধমরা হয়ে পড়েছিলো। আর এদিকে রূপাকে তার পরিবারের মানুষ টানা হেঁচড়া করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
শুভর মাথায় দেয়া রডের বারি রূপা ধরেই নিয়েছে তার শুভ আর নেই। তাই সেও এই পৃথিবীতে আর থাকতে চায় না। তাই আবারো সেই পুরনো পথ বেঁচে নিয়েছে রূপা
হ্যাঁ রূপা বিষ খেয়েছে।
সাথে সাথে হাসপাতালে এডমিট করা হয়েছে। না!রূপাকে আর বাঁচানো যায়নি।কারন পূর্বেই একবার বিষ পানে ওর কিডনি পয়জন এটম্পেট ছিলো।
ভিতর থেকে পুরো বিষ বের করা সত্ত্বেও রূপাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঐদিকে শুভ ঐখানেই পড়ে ছিলো
শ্বাস টা এখনো আটকা আছে।জ্ঞান হওয়ার ছূটে যায় রূপাদের বাড়ি।।
অকে বাড়িতে ডুকতে দিচ্ছে না আবারো ঐ পাষন্ডদের আঘাত পাল্টা আঘাত সহ্য করে শুভ ভিতরে ডুকে।
শুভর কপাল থেকে এখনো রক্ত ঝররছে আর কত রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে জমে আছে মাথায়
দেহের ভার তুলতে পারছে না, শুধু চামড়ার কোলসটা অকে দাঁড় করিয়ে রেখেছে…
এইভাবেই ভিতরে ডুকে…
আর যা দেখে তা দেখে শুভ আর নিজেকে নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারেনি .
ওর চোখে দৃশ্যমান রূপার নিথর দেহ টা চির নির্মমতার সাক্ষী বহন করছে. ।
ও নিজের স্মৃতি হারিয়ে ফেলে
জন্ম থেকে ভালবাসা হীন একটা মানুষ জীবনে এক্টু ভালবাসা পাওয়ার জনা কতটা কাঙ্গাল হয় তা শুভ কে না দেখলে বুঝা যেত না।
শুভ সেই থেকেই আমাদের হাসপাতালে আছে…
নার্স:ম্যাডাম,ম্যাডাম ৩০৩নাম্বার কেবিনের শুভ নামের পেসেন্ট কেমন করছে
…..
শুভর অবস্থা খুব ই খারাপ।।।
ওকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে…
শুভ নিজের মাক্সটা খুলে দেয়ালে কি যেন লিখলো . সজীব শুভ র বন্ধুকে দেখালাম। কারন শুভ এক্টা তারিখ লিখেছে দেয়ালে।
পরে জানতে পারলাম ঐ তারিখ টা শুভ আর রুপার প্রথম দেখা হওয়ার দিন ছিলো..
কিছু ক্ষন পরেই শুভ আর রেসপন্স করছে না। ওর পার্লস চেক করলাম। নো! হি ইজ নো মোর। শুভ আর আমাদের মধ্যে নেই……
…..
……
ঐ পারে যেন শুভ আর রুপার মিলন হয় ওদের ভালবাসা স্বার্থক হোক.. এই দুনিয়ার মানুষ হয়ত মানুষ কে জন্মের পরিচয়েই ভালবাসে।।

উপরে যে বসে আছেন উনার কাছে ত কারো কোনো পার্থক্য নেই….
হ্যাঁ প্রভু ভালবাসা ই যখন দিবা কাউকে পরিচয় হীন করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়ো না…
পরিচয়হীন দেরকে এই পৃথিবী ভালবাস তে পারে না..
অকালে ঝরে যায় শুভ রূপাদের জীবন
আর যেন কোনো শুভ রূপার জীবনে এমন পরিনতি না হয়…..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত