কাবিনের টাকা

কাবিনের টাকা

আমি কেন সেটা দিবো? আমার তো কোন সমস্যা নেই।রাত্রি ই তো আমাকে চাইছে না? তা হলে টাকা টা আমি দিবো কেন?

আমি আপনাদের সংস্কার মানি না।ধিক্কার জানাই সমাজ টাকে।শত বেড়াজালে আটকে রেখে সমাজ টা।উকিল সাহেব আপনি ই বলুন।
আমি কি বলেছি রাত্রি কে আমি ডিবোর্স দিবো?সেই ই তো মুক্তি চায়।নিজের ইচ্ছায় আমাকে বাধ্য করছে ডিবোর্স পেপারে সাইন
করতে।ছেলেরা ডিবোর্স দিলে কাবিনের টাকা সাথে দিতে হয়!কিন্তু মেয়েরা যখন ডিবোর্স দেয় তখন?আপনি উকিল হয়ে এমন
অন্যায় টা কেমনে প্রশ্রয় দিলেন?আপনি তাহলে টাকা দিবেন না অন্তিম সাহেব?না দিবো না টাকা।কারন,আমি ডিবোর্স দিচ্ছি
না।আমাকে দেয়া হচ্ছে।আপনি হাইকোর্টে যেতে পারেন মিস রাত্রি।
.
রাত্রির বাবার অফিসে কাজ করতাম।উনার খুব বিশ্বস্ত ছিলাম।উনি মারা যাবার আগে তার জেদি মেয়েটাকে আমার উপর চাপিয়ে
দিয়ে গেছেন।বস বলে এতো টা মেনে নিয়েছি।সমস্যা সেটা না।সমস্যা হলো রাত্রি হলো আধুনিকা।খোলামেলা চলন তার।
যাকে বলে মুক্ত বিহঙ্গ। কি একটা কারনে সে বিয়ে করবে না।কিন্তু বাবা তার শপথ দিয়ে বিয়ে দিয়ে গেছেন।মানে ঝামেলা
আমার কাধে।পর্দা নেই,খোলা মেলা চাল চলন,রাত করে বাড়ি ফেরা,পার্টিতে যাওয়া কোন কিছুতেই বাধা দেই না।তবুও গত পরশু
বলতেছে সে ডিবোর্স চায়। দিলাম এক থাপ্পড়।আমার জন্য নাকি তার চিন্তা হয়।
একটু স্বাধীন থাকতে পারে না।তাই আজ উকিলের কাছে নিয়ে এসেছে ডিবোর্স দিবে।কাবিন কত?৬ লাখ টাকা। এতো টাকা
পাবো কোথায়?আর কেনই বা দিবো।যখন চিল্লায়ে বলে যে নারীদের বৈষম্য মানি না।সমান অধিকার চাই।সে অনুযায়ী পাত্র
ডিবোর্স দিলে কাবিনের টাকা দিতে হয়। কিন্তু মেয়েরা ইচ্ছা করে ছেলেদের ডিবোর্স দিলে তখন কেন উক্ত নিয়ম মানা
হয়না?না দিলে আরো বরং পাত্রের উপর নেমে আসে মামলার বোঝা।কেন ভাই?সব সুবিধা মেয়েদের কেন?গুনে ধরা সমাজের
মূলে কুড়ালের কোপ দিতে চাই।মানি না এসব সংস্কার।সুশীলদের মুখোশ খুলতে চাই। রাতে পতিতালয়ে আর দিনে বলে বেশ্যা।ঘৃণা
তোদের তরে।
.
শুনো রাত্রি, আমিও যাবো হাইকোর্টে। এখানকার মামলা ট্রান্সফার করে হাইকোর্টে তুলবো।তোমাকে দেখার বাকি
আছে।আমি আমার অধিকার ক্ষুন্নের ভর্তুকি চাইবো।তোমার অধিকারের দাম আছে,আমার কেন নেই?আর আমি তো তোমাকে ডিবোর্স
দিচ্ছি না।তুমিই নিজেই দিতে চাইছো। সো,কেন কাবিনের টাকা টা আমি দিবো? তোমার সামনে শর্ত আছে দুইটা।এক হয়তো
ভালো হয়ে পুরোপুরি বাঙালী স্ত্রীর মতো হও।নয়তো তো তোমাকে লিখে দিতে হবে যে আমি একজন পতিতা।তাহলেই কাবিনের
টাকা টা তুমি পাবে।নয়তো চলো হাইকোর্টে।দেখি কে জিতে।কারন,তোমার কোন অভাব রাখি নি।কিংবা কোন প্রকার
অধিকার ক্ষুন্ন আমি করি নি।দ্বিতীয় শর্ত টা রাত্রিকে ধাক্কার খাবার জন্য দিলাম। কোন কোন সময় ধাক্কা খাবার প্রয়োজন হয়।
নয়তো একজন শিখতে পারে না।এমন কথা টা সম্ভবত রাত্রি আমার মুখ থেকে আশা করে নি।চোখ দুটো বলে দিচ্ছে যে এখনি বৃষ্টি
নামবে।আমি সহ্য করতে পারবো না।তাই রাগ দেখিয়ে চলে এলাম।কিছু একটা করতে হবে।
.
বাসায় এসেই সব কাপড় গোছানো শুরু করলাম। অতিক্ষুদ্র জিনিসও বাকি থাকবে না।কাপড়
গোছানো কেন হচ্ছে অন্তিম?আর এই ছয়দিন ই কোথায় ছিলে?আমি কোন গুরুত্ব দিলাম না

কথা দুটো।যেন আমি শুনতেই পাই নি এমন একটা ভাব।এড়িয়ে গেলাম তাকে।চলো রাত্রি কোর্টে।তোমাকে ডিবোর্স দিবো।

সেজন্য কয়েকদিন ভেবে দেখলাম।আর কাবিনের টাকাটাও দিয়ে দিবো।আমি আর পারছি না।তোমাকে মুক্তি দিয়ে এ শহর
ছাড়বো। টিকিট কাটা হয়ে গেছে।এবারের ধাক্কা টাও সামলে নিতে পারে নি রাত্রি। ছয়দিন খু্ব দুরে ছিলাম। কোন প্রকার
যোগাযোগ করি নি।একা রেখে চলে গেছিলাম। যাতে বুঝতে পারে যে পেছনের কারো ছায়া থাকা কতটা জরুরি।চলো দেরি
হয়ে যাবে আমার।যখনি হাত টা ধরে টানতে গেলাম।তখনই এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো।আর আমার বুকে ঝাপিয়ে পরে কান্না
শুরু করে দিলো।অন্তিম প্লিজ আমি ডিবোর্স চাই না।আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি এই ছয় দিনে।প্লিজ আমি একদম তোমার কথা মত
চলবো।আমার সব কিছু পরিবর্তন করবো।তবুও প্লিজ ডিবোর্স দিয়ো না।এই কয়দিন বাসা হতে বের হওয়া তো দুরের কথা ভাত পর্যন্ত
পেটে দিতে পারি নি ভালো করে।প্লিজ ডিবোর্সির নারীর জীবন কেমন হয় আমি বুঝতে পেরেছি।।প্লিজ আমার ডিবোর্স চাই
না।যাক,আর না।এমনিতেই অনেক কষ্ট দিয়েছি মেয়ে টাকে।অনেক তো হলো।এবার না হয় একটু অন্য কিছু শুরু হোক।শক্ত করে
জড়িয়ে ধরলাম।অন্তিম তুমি কি আমাকে সত্যি ডিবোর্স দিতে?
.
ধুর পাগলি। ভালবেসেছি কি ডিবোর্স দিতে?
মানে কি?
আরে শোনো।যখন তোমাদের অফিসে আসলাম তখন তোমাকে দেখেছি যেদিন তোমাকে
তোমার বাবা ড্রপ করে দিলো।সেদিন ই তোমাকে ভালো লেগে যায়।তারপর অফিসে আসলে একদিন।সেদিন খুব কাছ থেকে
দেখলাম।আস্তে আস্তে ভালো লাগা শুরু হলো।একদিন সাহস করে স্যার কে মানে তোমার বাবাকে সব বলেই দিলাম।

মনে হলো চাকরিটা বুঝি গেলো।তিনি যেন আকাশ থেকে পরলেন আমার কথা শুনে।ভয় পেলাম খুব। কিন্তু পরে তিনি হেসে দিলেন।
বললেন,যে এমন সাহসি কাউকে খুজছিলেন তিনি।যে তার মেয়ে কে ত্যাড়া থেকে সোজা বানাতে পারবে।যেহেতু বিশ্বস্ত
ছিলাম,সেহেতু তিনি রাজি হয় গেলেন। ততোক্ষনে রাত্রি আমাকে ছেড়ে দিয়ে রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেছে।কে বলতে
পারবে এই মেয়ে একটু আগেও কান্না করছিলো।কি বললে তুমি?আমি ত্যাড়া মেয়ে। তা নয়তো কি?দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।অতপর
সারা ঘর জুড়ে দৌড়ানি শুরু করলো…..!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত