একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

তারিন নদীর কিনারে বসে আছে। কিছুক্ষণ পর সে নদীতে নামবে। নদীর পানিতে গোসল করবে। তার বাসায় পানি সরবরাহ আছে। তারপরও হঠাৎ তারিন নদীতে গোসল করতে কেন যায়? সে রহস্য কেউ জানে না। এটা শুধু তারিনই জানে। নদীর কিনারে বসে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সে। নদীর ওপারের রাস্তা দিয়ে তার মনের মানুষটি হেঁটে হেঁটে স্কুলে আসে। তাকে মনভরে দেখে সে। দেখে তৃপ্তি অনুভব করে। মনে আনন্দ হয়। সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে শিরা-উপশিরায়।

নাহিদ যখন দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায় তখন সে নদীতে নামে। গোসল করে আর ভালোবাসার সেই মানুষটির কথা ভাবে। যদিও ক্লাসে তার সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু সেই দেখায় যেন মন ভরে না। প্রতিদিন তারিনের মনে কত কথা জমা হয়। কল্পনায় কত ছবি আঁকে। কিন্তু তা মনের মানুষটিকে বলতে পারে না। তাই সে নদীর পানিতে নেমে গলা ডুবিয়ে গান গায়, ‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল, সুধাইল না কেহ, সে তো এলো না, যারে সপিলাম এই প্রাণ মন দেহ আবার তারিন মনে মনে তার সেই কথাগুলো সে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেয়। জোয়ারের পানি যেন তার মনের কথাগুলো ভাসিয়ে নেবে তার প্রেমিকের কাছে।

তারিনের মা – বাবা উভয়েই সরকারি চাকরি করেন। কয়েক মাস আগে তারা বদলি হন বরিশালের হিজলা উপজেলায়। নদীর তীরবর্তী একটি বিল্ডিংয়ে তারিনদের বাসা। তারিন উপজেলা সদর হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। এখানে এসেই সে তার এক ক্লাসমেট নাহিদের প্রেমে পড়ে। বলা যায় একতরফা প্রেম। দিন দিন তার ভালোবাসা গভীর হয়। কিন্তু মনের মানুষটিকে তা বলা হয় না। সে মনে মনে বলে, আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তাহলে সে নিশ্চয়ই টের পাবে। আজ না হোক কাল, কাল না হোক পরশু। তারিনের মা বেগম আখতার জাহান মনে মনে ভাবেন, হঠাৎ নদীর পানিতে গোসল করার সখ কেন তারিনের! কিসের আকর্ষণে সে নদীতে যায়! তবে গোসল শেষে সে যখন বাসায় ফেরে তখন তাকে খুব উৎফুল্ল মনে হয়। আনন্দে সে লম্ফঝম্ফ করে। গুনগুনিয়ে গান গায়। ঘটনা কি ! হৃদয় ঘটিত কোনো ব্যাপার ঘটল কি না কে জানে!

বেগম আখতার জাহান মেয়ের দিকে আড়চোখে তাকান। মেয়েকে বোঝার চেষ্টা করেন। কাউকে তার মনে ধরেছে কি না কে জানে। মেয়ের কাছে কিছু জানতে চাইবেন কি না তা নিয়ে ভাবেন। আবার নিজে নিজেই বলেন, না থাক। এতে যদি হিতে বিপরীত হয়! সন্দেহের বীজ বড় খারাপ জিনিস। একবার মনের মধ্যে শেকড় গাড়লে তা আর উপড়ানো যায় না। তাতে মেয়েটার বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমার কারণে ওর জীবনে কেন আঁচড় লাগবে? বরং ওকে চোখে চোখে রাখি। দেখি কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে কি না। যদি সে রকম কিছু পাই তখন দেখা যাবে। তবে ওর বয়সটা খুব খারাপ। যদি কোনো কিছু ঘটেও থাকে সেটা ওর বয়সের দোষ। তারিনের পনের পেরিয়ে ষোলতে পড়েছে। এই সময়টা যে কোনো ছেলে মেয়ের জন্যই বিপজ্জনক। প্রজাপতির মতো মনটা কেবল উড়ে উড়ে বেড়ায়। কোমল মনের গহিনে ভালোবাসার এক আকুলতা তৈরি হয়। কাউকে মন দিলে তা যেন বন্দুকের গুলির মতো হৃদয় ভেদ করে। উথালপাতাল ভালোবাসার ঘোরের মধ্যে ডুবে থাকে। তারিনের মনে সেই ঘোর তৈরি হয়েছে কি না এখনো বুঝতে পারছেন না বেগম আখতার জাহান।

একদিন তারিন বিষয়টা নিয়ে ওর এক বান্ধবীর সঙ্গে আলাপ করে। বান্ধবীর বুদ্ধিতে তারিন সিদ্ধান্ত নেয়, মনের মানুষকে তার ভালোবাসার কথা জানাবে। না জানালে সে জানবে কি করে? বিষয়টা নিয়ে সে ভাবে। কয়েকদিন গভীর ভাবনায় ডুবে থাকে সে। আবার সে এও ভাবে, আমি যাকে এতো ভালোবাসি, সে কেন তা টের পাবে না। তার মানে আমার ভালোবাসায় কোনো খাঁদ আছে! নিশ্চয়ই খাঁদ আছে। নিশ্চয়ই আমার ভালোবাসার কোনো শক্তি নেই। এতোদিন পর এখন আমাকে বলতে হবে, আমি তাকে ভালোবাসি! না না! এটা হয় না। আমি তাকে কেন মুখ ফুটে বলব?

তারিনের সেই নিখাঁদ ভালোবাসাই বুঝি নাহিদকে মোহাবিষ্ট করেছে। সে বুঝতে পেরেছে তারিনের চোখের ভাষা। নাহিদও তারিনকে আকার ইঙ্গিতে তার ভালোবাসার কথা বোঝাতে চায়। কিন্তু মুখে কিছু বলে না। তারিন মনে মনে ভাবে, লজ্জা নারীর ভূষণ। অথচ নাহিদ কেন এতো লজ্জা পাচ্ছে। একটি বার সে যদি আমাকে বলতো, তারিন আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাহলে আমার জীবন ধন্য হয়ে যেত। কেন সে কিছু বলে না! অনেক চিন্তাভাবনার পর তারিন নাহিদের কাছে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই চিঠি বইয়ের মলাটের ভেতরে ঢুকিয়ে ছোট ভাইকে দিয়ে নাহিদকে দেয় সে।

বইটি হাতে পেয়ে নাহিদ কী করে যেন বুঝতে পারল, মলাটের ভেতরে তারিনের চিঠি আছে। দ্রুত সে বইয়ের মলাট খুলে চিঠি বের করল। চিঠিতে বারবার চুমু খায়। অদ্ভুত ধরনের একটা ভালো লাগা কাজ করে নাহিদের ভেতরে। আবার প্রথমবারের মতো প্রেমিকার চিঠি পাওয়ার উন্মাদনাও তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ দেখা যায় নাহিদ কাঁপছে। তার শিরা – উপশিরায় সঞ্চারিত হয় আবেগের দারুণ একটা অনুভূতি। সে চিঠির ভাঁজ খুলে তাকাতেই তার চোখের সামনে জ্বল জ্বল করে ওঠে লেখাগুলো। সে পড়তে শুরু করে।

প্রিয়তম,
আমার গভীর ভালোবাসা নিও। তোমাকে চিঠি লেখার শুরুতে আমার বারবার একটি গানের কলি মনে পড়ছে। কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো সে কথা তুমি যদি জানতে..। আমার ভালোবাসা কতটা গভীর তা বোঝাতে প্রথম চিঠিখানা নিজের রক্ত দিয়ে লিখলাম। তোমাকে যেদিন প্রথম দেখলাম সেদিনই নিজের অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছি। যতই দিন যাচ্ছে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা ততই গভীর হচ্ছে। এখন প্রতিদিন তোমার প্রতীক্ষায় পথচেয়ে বসে থাকি। আর মনে মনে তোমার কথা ভাবি। আমার সমস্ত সত্তাজুড়ে, ভাবনাজুড়ে তুমি।
তোমার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। ভালো থেকো।

ইতি তোমার প্রাণের প্রিয়তমা। চিঠি পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত নাহিদ। সে রীতিমত আনন্দের সাগরে ভাসছে। জীবনে প্রথম প্রেমপত্র পাওয়ার যে এতো আনন্দ তা সে কোনো কালেও ভাবেনি। কোনো মেয়ে ওকে ভালোবাসতে পারে তাও সে কল্পনা করেনি। নাহিদ ক্লাসের ফার্স্টবয় বটে। কিন্তু সেটাই কি সব! কেমন ভাঙাচোড়া চেহারা। পারিবারিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবার। কষ্ট করেই পড়ালেখা করতে হয়। মেধাটাই হচ্ছে তার একমাত্র সম্বল। তারপরও কেন একটা সুন্দরী মেয়ে তাকে এতো গভীরভাবে ভালোবাসে!

নাহিদ চিঠিটা ভাঁজ করে এবার পকেটে রাখে। আবার ভাঁজ খুলে তন্ময় হয়ে চিঠির দিকে তাকিয়ে থাকে। চিঠির প্রতিটি শব্দ তার চোখের সামনে জ্বল জ্বল করে। বারবার সে চিঠিটা পড়ে। আর তারিনের চেহারাটা হৃদয়পটে আঁকে। তারিনের কথা ভাবে। টানা কয়েক দিন সে তারিনকে নিয়ে ভাবে। আস্তে আস্তে তারিনের প্রতি তার ভালোবাসা গাঢ় হয়। অতঃপর সে তারিনকে এক লাইনের একটি চিঠি লেখে। ‘প্রিয়তমা তারিন, আমিও তোমাকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি।’

চিঠিটি একই প্রক্রিয়ায় পাঠিয়ে দেয় তারিনের কাছে। তারিন নাহিদের চিঠি পেল না যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেল। এতো আনন্দ সে জীবনে কোনোদিন পায়নি। সে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে যায়। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বলে, আমার আর কিছু চাই না। আমি পেয়ে গেছি। আমি সব পেয়ে গেছি! দীর্ঘ ছয় মাস অপেক্ষার পর আমার প্রাণের মানুষটি আমার দিকে তাকিয়েছে। সে বলেছে, সে আমাকে ভালোবাসে। এটাই আমার চাওয়ার ছিল।
বেগম আখতার জাহান অবাক বিস্ময়ে মেয়ের দিকে তাকায়। তাকে ভালো করে দেখেন। মেয়ের বদলে যাওয়া টের পান তিনি। মেয়েকে কাছে ডেকে শান্ত গলায় জিজ্ঞাসা করেন, কি হয়েছে তোর? একা একা এমন করে হাসছিস! আমাকে খুলে বল তো সমস্যা কি? কারো প্রেমে পড়িসনি তো! খবরদার! বয়সটা কিন্তু খুব খারাপ। এই বয়সে প্রেমে পড়া মানে এখানেই জীবনের ইতি ঘটে যাবে! তুই কি বুঝতে পারছিস বিপদটা কত বড়?

তারিন হাঁ করে তার মা’র দিকে তাকিয়ে থাকে। কিছু বলে না। বেগম আখতার জাহানের কথাগুলো তার মাথায় ঢুকছে না। এটা টের পেয়ে আখতার জাহান আবারও জানতে চান, কি রে আমি কি বলছি শুনতে পাচ্ছিস? তারিন হাসি হাসি মুখ করে বলে, মা, এখন তোমার কোনো কথা আমার মাথায় ঢুকবে না। আমি একটা ব্যাপার নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বেলিত। অদ্ভুত ধরনের একটা ভালো লাগা কাজ করছে। এই ভালোলাগাটাকে নষ্ট করে দিও না মা! নিশ্চয়ই সেটা খুশির খবর? সেই খবরটা মাকে দেয়া যায় না? না মা। যায় না। সবকিছু শেয়ার করা যায় না। প্রত্যেকটা মানুষেরই একান্ত ব্যক্তিগত কিছু বিষয় থাকে। যা সবাইকে বলা যায় না। স্যরি, তোমাকে আমি বলতে পারছি না। প্লিজ তুমি জানতে চেও না। আচ্ছা ঠিক আছে। আমি জানতে চাইব না। তবে এমন কিছু করিস না, যে কারণে ব্যক্তিজীবনে আঘাত আসতে পারে। তাহলে আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবো।

তারিন অপলক দৃষ্টিতে ওর মা’র দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আর কোনো কথা না বলে নিজের রুমে যায়। টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে নাহিদের চিঠিটা বের করে সে আবার পড়ে। পড়ে আর নাহিদের কথা ভাবে। ও এখন কি করছে? ও কি আমার কথা ভাবে? আমি যেমন করে ওকে নিয়ে ভাবি ওয়ো কি আমাকে নিয়ে তেমন করে ভাবে! নিশ্চয়ই ও আমাকে নিয়ে ভাবে। আমার কথা মনে করে। তা না হলে কি আমি এতো বেশি মনে করতাম! নিশ্চয়ই না।

তারিন টেবিলের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। সে ঘুমের ঘোরেও নাহিদকে দেখে। নাহিদের সঙ্গে ও ঘুরছে। গল্প করছে। দুজনের ভালোবাসায় তৈরি হয় এক নতুন জগৎ। সেই জগতে নাহিদ আর তারিন ছাড়া কেউ নেই। কেবল ওদের ভালোবাসার অভয়ারণ্য। হঠাৎ সে দেখে, নাহিদ দৌড়াচ্ছে। আর তার পেছনে পেছনে ছুটে যাচ্ছে আরো কয়েকজন যুবক। তারিনকে সে ভালোবাসে বলে নাহিদের বন্ধুরা ওকে তাড়া করছে। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখতে পায় তারিন। সে চিৎকার দিয়ে নাহিদকে ডাকে। তারিনের চিৎকার শুনে দৌড়ে আসেন বেগম আখতার জাহান। তিনি এতোটুকুতেই হাঁপিয়ে উঠলেন। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে বললেন, কি রে তারিন! কি হয়েছে?

তারিনের স্বপ্নের ঘোরটা তখনো কাটেনি। সে কিছু বলে না। স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। সে যে তার নিজের রুমে এটা টের পেয়েছে। তারপর থেকেই সে নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করছে। সে এখন নতুন কোনো গল্প বানাবে। তারপর সে মাকে সেই গল্প বলবে। নিশ্চয়ই সে গল্পের প্লট তৈরি করছে। আখতার জাহান মনে মনে ভাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তারিনকে আবার জিজ্ঞাসা করেন। কি রে! চুপ করে আছিস যে! কি হয়েছে বলবি তো!

না মা; কিছু হয়নি। স্বপ্ন দেখছিলাম। হুম। নাহিদ ছেলেটা কে? নাহিদ! হুম, নাহিদের নাম ধরেই তো তুই ডাকলি। ও তাই নাকি! ছেলেটা কে বল তো! আমার ক্লাসমেট মা। আমরা একই সঙ্গে পড়ি। আচ্ছা! কি স্বপ্ন দেখছিলি? ও কিছু না মা। তোমার স্বপ্নের কথা শুনতে হবে না। তারিন কথা শেষ করে হাঁটা শুরু করলে আখতার জাহান বলেন, কই যাস? স্কুলে যাব না? রেডি হতে যাই। আজ কিসের স্কুল। আজ শুক্রবার না? ও আচ্ছা। তোর কি হয়েছে রে তারিন? নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা হয়েছে। না মা। ঝামেলা আর কি হবে?

সেটাই তো জানতে চাচ্ছি। আমি তোর ভেতরে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। কিসের পরিবর্তন মা? আমি তো ঠিকই আছি। না, তুই ঠিক নেই। তুই আমার চোখকে ফাঁকি দিতে পারবি না তারিন। আখতার জাহান যে টের পেয়েছেন তা তারিনও বুঝতে পারছে। তাই সে কথা না বাড়িয়ে বাথরুমের নাম করে আখতার জাহানের কাছ থেকে চলে যায়। আখতার জাহান মেয়ের দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তিনি মনে মনে বলেন, আমি যা আশঙ্কা করেছি তাই সত্যি হলো! মেয়েটা কি কারো প্রেমে পড়ল? এই বয়সে প্রেমে পড়ার বিপদটা কি সে জানে?

বর্ষাকাল। চারদিকে ঘন কালো মেঘ। হঠাৎ ঠাণ্ডা বাতাস শুরু হয়েছে। ক্ষণে ক্ষণে বিদ্যুৎ চমকানি আর বজ্রপাতের বিকট আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। এসবের দিকে তারিনের কোনো খেয়াল নেই। সে বাড়ির ছাঁদে বসে কাঁদছে। অঝোরধারায় তার চোখের পানি পড়ছে। এরমধ্যেই শুরু হয়েছে ধুম বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির সঙ্গে চোখের পানি একাকার হয়ে যায়। মুছে যায় তার কষ্টের দাগ। কিন্তু তাতে কি তার বুকের জমাট কষ্টগুলো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়! কি জানি। হয়তো যায়, কিংবা পাথরের মতো কঠিন হয়ে বুকের ওপর চেপে বসে!

নাহিদ তারিনকে একটি মাত্র শর্ত দিয়েছিল। এসএসসিতে প্রথম বিভাগে পাস করতে হবে। তারিন প্রথম বিভাগেই পাস করে। নাহিদ অবশ্য তিন বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে পাস করে। তারপর নাহিদ উধাও! সে কাউকে কিছু না বলে ঢাকায় চলে যায়। সে কোথায় উঠেছে তা কেউ জানে না। ঠিকানা ছাড়া এতোবড় ঢাকা শহরে কে কাকে খুঁজে পায়! তারিন নাহিদের ঠিকানা সংগ্রহের জন্য অনেক দৌড়ঝাপ করল। কিন্তু কেউ তাকে সহায়তা করতে পারল না। তাই তারিনের ভালো ফলাফলে খবরটিও নাহিদকে দিতে পারল না। সেই কষ্ট সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছিল না।

তারিন মনে মনে ভাবে, নাহিদ কেন আমাকে এভাবে ফাঁকি দিল! আমাকে কি তার পছন্দ হয়নি? তাহলে কেন বলল, আমাকে সে ভালোবাসে? তাহলে কি সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে? না না! নাহিদ সে রকম ছেলেই না। এসবই আমার দুর্ভাবনা! সে নিশ্চয়ই বড় কোনো বিপদে পড়েছে। নাহিদ আসবে; নিশ্চয়ই ফিরে আসবে। নাহিদের জন্য তারিন অপেক্ষায় থাকল। মাস যায়, বছর পেরিয়ে বছর আসে। কিন্তু নাহিদ আর ফিরে আসে না। তারপরও তারিন আশায় বুক বাঁধে। মনে মনে সে বলে, আসবে, নাহিদ আসবে! শেষ পর্যন্ত তারিনের জীবনে কী ঘটেছিল তা আর জানা গেল না।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত