ফিরে আসা

ফিরে আসা

আমার বরকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছে।আমাকে দেখেই মোবাইল টা ঘুরিয়ে রাখল।আমি কিছু বুঝতে দিলাম না।রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল পানি খাবো দেখলাম রায়হান সেই ভিডিও কল নিয়ে ব্যস্ত।আমি পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমন্ত ছোট্ট সোনামণি নওমির দিকে চোখ পড়ল।কি মায়া আমার সন্তানের মুখটি।ওর জন্য আমি সব কষ্ট সহ্য করতে পারি।আমি রায়হান আর আমার দেড় বছরের মেয়ে নওমি আমরা একটা ভাড়া বাসায় থাকি।লাভ মেরিজ করে বিয়ে করেছি।প্রথমে মেনে না নিলেও এখন মেনে নিয়েছে দুই পরিবার।

প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করি আমরা।রায়হান আমাকে খুব ভালোবাসতো।আর বলতো তুমি আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী।তখন মোহের কারনে বিশ্বাস করতাম আর অনেক খুশি হতাম বিয়ের পরেও অনেক ভালোবাসা ছিল।কিন্তু নওমি পেটে আসার পর থেকে ও কেমন যেন হয়ে গেছে।এখন আর আমার দিকে তাকানোর ও সময় পায় না।ভালো করে কথাও বলে না।খুব ব্যস্ততা দেখায়।আগে আমাকে ছাড়া ভাত খেতে পারত না আর এখন বলেও না তুমি খেয়েছো কিনা। একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুম ভেঙেছে, দেখলাম রায়হান পাশে নেই।পরে দেখলাম সোফায় শুয়ে শুয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছে কানে হেডফোন লাগিয়ে।আমি আর সহ্যকরতে পারলাম না টান দিয়ে ফোনটা নিয়ে দেখলাম একটা মেয়ে ভিডিও কলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে এমন ভাবে কথা বলছে যেন তার স্বামীর সাথে কথা বলছে।আমি বললাম

__ছি ছি রায়হান তুমি এত নিচে নেমে গেছ
__আরে ও আমার কলিগ
__কলিগ না,আমাকে কি বোঝাতে চাইছ এক কথায় দুই কথায় তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গেল।ও বলল

__তোর দিকে তাকানো যায় না।কত মোটা হয়ে গেছিস।আগে কত স্মার্ট ভাবে থাকতি।এখন আর তোকে আমার সহ্য হয় না।

আমার খুব কান্না পেল।আমি আর কোন কথাই বললাম না।সকালে ও ঘুমে থাকতেই ব্যাগ গুছিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসলাম।ঘুম থেকে উঠে না পেয়ে ফোনের উপরে ফোন।কয়েকবার ফোন দিল ধরলাম না।তারপর মায়ের ফোনে ফোন দিল।আমাকে মা ডাক দিয়ে বললো জামাই ফোন করেছে ধর।তারপর ধরলাম।

__হ্যালো
__হুম আমাকে না বলে গেলে কেন
__এমনি ইচ্ছে হয় নি তাই
__আমার মেয়েকে নিয়ে গেছো কেন এখন আর আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।বললাম
__এই সালা তোর মেয়ে তোর মেয়ে, এতদিন কই ছিল তোর মেয়ে আজ খুব বাবা হয়েছো তাই না।

তোমার কথায় চাকরি ছেড়ে দিছি।একটা সন্তান জন্ম দিতে কি যন্ত্রণা তুমি জানো।প্রথম তিন মাস কিছু মুখে দেয়া যায় না।শুধু বমি বমি ভাব লাগে।পরের তিন মাস আস্তে আস্তে শরীর ভারী হতে থাকে।পেট বড় হয়ে ফাটা দাগ পড়ে যায়।সাত মাস থেকে তো ঘুমই ঠিক মতো হয় না।আস্তে আস্তে ডেলিভারির সময় হয়ে যায়।প্রসব বেদনা সম্পর্কে ধারনা আছে তোমার।কিন্তু সব ভুলে যায় একটি মা তার অনাগত সন্তানের দিকে তাকিয়ে।

ভাবে তুই ছিলি এতদিন আমার শরীরের অংশ হয়ে আমার নারী ছেড়া ধন আদরের সন্তান কিন্তু তোমাদের মতো পুরুষরা তখন ব্যস্ত হয়ে যাও অন্য নারীর পেছনে।আর কোন নারী মা হতে না পারলেও বলো তুই বন্ধ্যা।আমার অন্য নারীর কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে আমি বাবা হতে পারব কিনা।আর বাচ্চা হলে বৌ তখন মা হয়ে যায় তার আগের সৌন্দর্য লোপ পায়।আরে পুরুষ তোর সন্তানকে জন্ম দিতে গিয়েই তো নারী তার সৌন্দর্য হারায়।এই সৌন্দর্য হারিয়ে ও তার কোন দুঃখ নেই কারন সে মা হতে পেরেছে। নওমি শুধু আমার মেয়ে।যাও আমি মোটা হয়ে গেছি দেখতে ভালো লাগে না তো ঐ কচি মেয়ের কাছে যাও।এটা বলে আমি ফোন রেখে দিলাম।

দুপুরে খেয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়লাম উঠে দেখি নওমি নেই।আমি ভয় পেয়ে ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখলাম রায়হান এর কোলে।আমি বললাম তুমি এখানে কেন তোমার তো এখানে থাকার কথা নয়।রায়হান আমার হাত ধরে বললো প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও কাল তোমার কথা শুনে আমার হুশ এলো ঠিকই তো বলেছো একটা মেয়ে তার সব সৌন্দর্য ত্যাগ করে সন্তান কে জন্ম দেয়।আর আমরা তার মূল্য না দিয়ে উল্টো নারীকেই দোষ দেই যে তোমাকে দেখতে ভালো লাগে না।তোমার দিকে তাকালে মনে প্রশান্তি আসে না। ভুল হয়ে গেছে।আসলে বাচ্চার মায়ের দিকে তাকাতে হবে প্রেম ভালোবাসা শ্রদ্ধা নিয়ে যে এই তো আমার সহধর্মিণী আমার সন্তানের মা যে আমার শরীরের একটা অংশ তার মাধ্যমে দুনিয়াতে এসেছে। আমি বললাম হয়েছে হয়েছে আর সাহিত্য চর্চা করতে হবে না।আর কখনো আমাকে রেখে অন্য মেয়ের সাথে প্রেমালাপ করবে।

__না না বাবু আর কোনদিন না।তুমি আর নওমি আমার সব,শিক্ষা হয়েছে আর কখনো ভুল হবে না। আমার কাছে এসে বললো,
__এখন চোখটা একটু বন্ধ করো তো।
_কেন? আমি চোখ বন্ধ করলাম ও আমার ঘারের চুলগুলো সরিয়ে একটা স্বর্নের চেইন পড়িয়ে দিল।আমি চোখ মেলে বললাম এটা আবার কি মাফ করার জন্য ঘুষ নাকি

__আরে না এটা আমাকে একটা সন্তান উপহার দেয়ার জন্য ছোট্ট একটি গিফট আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললাম
__আমার আর কিছুই চাই না। চাই শুধু তোমার ভালোবাসা এটা পেলেই হবে।তোমার ভাগ কাউকে দিতে পারব না।
__আরে পাগলী আমি তোমারি আছি আর থাকবো সবসময়।এই আজ কথা দিলাম।

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত