গোধূলির বৃষ্টি

গোধূলির বৃষ্টি

বুকের বাম পাশটা হটাৎ করে ব্যাথা করতে লাগলো, তাকিয়ে দেখলাম, রক্ত বের হচ্ছে, তার মানে গুলি লেগেছে,

চার পাশ টা আবছা দেখছি, আতিয়ার কথা খুব মনে পড়ছে, মেয়েটাকে সত্যি টা বলা হলো না, কিন্তু আমার মরার পর সব জানতে পারবে।
আর কিছু মনে নাই,
।।
৬ মাস আগের কথা, একদিন বিকেলে, আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, একটা মেয়ে, রিক্সা ওয়ালার সাথে ঝগড়া করছে,

আমি ঘটনা টা দেখে একটু দাঁড়ালাম, যা বুঝতে পারলাম, ভাড়া নিয়ে সমস্যা, মেয়েটা ১০ টাকা ভাড়া দিবে,

আর রিক্সাওয়ালা ১৫ টাকা চাচ্ছে, মেয়েটাকে দেখে মনে হলো সে কোন পার্টিতে যাচ্ছে, কারণ খুব সুন্দর করে সেজেছে,

কিন্তু হটাৎ মেয়েটা রিক্সাওয়ালাকে চড় মেরে বসলো,
যা দেখে আমি সহ, আরও কিছু মানুষ অবাক হয়ে গেলাম!
।।
লোকটির চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে পানি পড়তে লাগলো, এটা যে গালের ব্যাথাতে না সেটা সহজেই বুঝা যায়,

মেয়ের বয়সের একটা মেয়ের কাছে এভাবে অপমান হয়তো উনি স্বপ্নেও কল্পনা করে নি,
আমি আর থেমে থাকতে পারলাম না!
একটু সামনে গেলাম তারপর মেয়েটাকে ডাক দিলাম,
আমি- এই যে শুনছেন!
তারপর একটা চড়!
পরিবেশটা থম থমে হয়ে গেছে,
।।
মেয়েটি- আপনার সাহস তো কম না? আমার গায়ে হাত তুলছেন? আপনি আমাকে চিনেন?
আমি- কে আপনি? যেভাবে একজন রিক্সাওয়ালার সাথে ৫ টাকার জন্য ঝগড়া করলেন, টা দেখে মনে হলো, আপনি অর্থের ফকির না,

স্বভাবের ফকির, কারণ যে ভাবে সেজেছেন বুঝায় যাচ্ছে, আপনার বাবা ফকির না, ৫ টাকার জন্য বাবার বয়সি একটা মানুষের গায়ে হাত তুললেন,

ওনারা গরীব বলে কোন দাম নাই?
।।
মেয়েটি- আমি আপনাকে ছাড়বো না,
আমি- এই নেন আমার কার্ড!
মেয়েটি- এটা আবার কোন ধরণের কার্ড!
আমি- আমি কখন কোথায় থাকি নিজেও জানি না, এখানে আমার ফোন নাম্বার, আমার ফেসবুক আইডি,

আমার ইমেইল নাম্বার দেওয়া আছে, কোন সময় আসতে হবে ডাক দিয়েন। আর চাচা,(রিক্সাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে)

আপনি বাবার বয়সী, আপনার বড় মন নিয়ে এই ছোট মনের মেয়েকে মাফ করে দিবেন, এরা তো বাপের খাই আর অন্য বাপের ছেলেদের ধ্বংস করে,

এরা কষ্ট বুঝবে না।
।।
মেয়েটি- এই যে আপনার কিন্তু অনেক বেশি কথা, আপনাকে দেখে নিবো।
আমি- কি বার বার দেখে নিবো দেখে নিবো বলছেন, দেখতে পাচ্ছেন না? এর বেশি কিছু দেখার অধিকার আপনার নাই, ওটা আমার বউয়ের অধিকার।
মেয়েটি- তোমাকে…।।
আমি-চুপ! কিছু পারলে করবেন।
।।
এরপর আমি হাঁটা দিলাম!
তখন আমাকে পিছন থেকে ডাক দিলো। আমি পিছন ঘুরে তাকালাম, দেখলাম একটা মেয়ে
আমি- জি আমাকে বলছেন?
মেয়েটি- জি আপনাকে, আপনার নাম কি?
আমি- আমি নিলয়!
মেয়েটি- আমি আতিয়া, আপনার সাথে ৫ মিনিট কথা বলতে পারি?
এতো সুন্দরী একটা মেয়ে যদি আমার মতো ছেলের কাছে ৫ মিনিট সময় চাই তাহলে কি না বলতে পারি?
।।
আমি-হ্যাঁ অবশ্যই।
আতিয়া- চলেন ঐ দিকে যায়!
আমি- ঠিক আছে।
আতিয়া- আপনি কি করেন?
আমি- এই তো আকাশের তারা গুণী।
আতিয়া- আজব তো,
আমি- মানে বেকার ছেলে।
আতিয়া- ইস! তাহলে তো সমস্যা।
।।
আমি- কেন চাকুরী করলে কি হতো? আমাকে বিয়ে করতেন নাকি?(একটু মনের কথা বের করার চেষ্টা)
আতিয়া- হয়তো। আচ্ছা মেয়েটাকে চড় মারতে ভয় লাগলো না আপনার?
আমি- ভয়! আমি ভয় কে ভয় করি, আর অন্য কিছু না, আর আমার কিছু হয়ে গেলে কাদার কেউ নাই।
আতিয়া- কেন আপনার প্রেমিকা নাই?
আমি- প্রেম করার সময় নাই। আর বেকার টেনশানে আমি নিলয় ১০০ হাত দূরে।
আতিয়া- কেন? ভালোবাসা কি খারাপ জিনিস?
।।
আমি- না খারাপ না, কিন্তু এই ধরেন, আপনি আমার প্রেমিকা,
আতিয়া- অন্য মেয়ে দিয়ে কি উদাহারণ টা দেওয়া যেত না?
আমি- দেওয়া যেত, কিন্তু আপনি অনুভব করতে পারতেন না?
আতিয়া- ঠিক আছে বলেন,
আমি- আপনি আমাকে ফোন করলেন, নাম্বার অফ! এরপর আমি যখন ফোন করবো আপনি প্রথমে এক গাদা কথা শুনাবেন,

অথচ আমার কি হয়েছিলো, আপনি প্রশ্ন করবেন না,
আতিয়া- আচ্ছা তারপর,
।।
আমি- ধরেন আপনি আমাকে বিকেল ৪ টায় দেখা করার জন্য ডাক দিলেন, আমি আসতে ১০ মিনিট লেট করলাম,

শুরু হয়ে গেলো আপনার কাহিনী… আধা ঘণ্টার মিটিং এ আপনার রাগ ভাঙ্গাতেই আমার ২৫ মিনিট শেষ,

আর বেকার ছেলের পকেটের যে বারোটা বাজবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।
আতিয়া- আর কিছু?
আমি- আরও অনেক আছে, যেমন ধরেন, আমি নীল শার্ট পছন্দ করি, আপনি একটা লাল টি-শার্ট নিয়ে বললেন এটা পরতে,

আমি আপনার পছন্দ সম্মান করি, কিন্তু এটাও তো বুঝতে হবে, কাকে কীভাবে ভালো লাগে।
।।
আতিয়া- ঠিক কথা, কিন্তু ওটা তো মেয়ের ব্যাপারেও হতে পারে।
আমি- আপনার কথায় লজিক আছে, আচ্ছা ধরেন, মেয়েটা বোরখা পরে না, আমি চাই আমার বউ বোরখা পরুক, তখন এক ঝামেলা,

বিয়ে করা বউ হলে না হয়, বকে পরিয়ে দিবো, কিন্তু প্রেমিকাকে বকলে পরের দিক থেকে ব্রেকআপ। তাহলে এতো ঝামেলা নিয়ে প্রেম করার কি দরকার?
আতিয়া- বুঝেছি, আপনার দারা প্রেম করা হবে না, আচ্ছা ঐ দিকে চলেন, কফি খেতে খেতে কথা বলি।
।।
আমি- আমি কফি পছন্দ করি না।
আতিয়া- কি পছন্দ করেন?
আমি- রাস্তার ধারে এই তো চা।
আতিয়া- ধরেন যে আপনার প্রেমিকা সাথে আছে, তাহলে কি তাকে ঐ রাস্তার ধারে নিয়েই চা খাবেন?
আমি- আমি তো প্রেম করবো না, প্রেমিকা আসবে কোথায় থেকে?
আতিয়া- আচ্ছা যদি বউ হয়।
আমি- চা খাবো না।
।।
আতিয়া- হা হা হা, সত্যি আপনি অদ্ভুত।
আমি- প্রয়োজন আবিষ্কারের মূল মন্ত্র। মানে যখন বউ হবে তখন ভেবে দেখবো, এখন চলেন কফি খেতে যায়।
আতিয়া- আপনি না বললেন, খাবেন না।
আমি- আমি বলেছি, পছন্দ করি না, খাবো না এটা তো বলি নি।
আতিয়া- সত্যি আপনি আজব মানুষ, আর কফি খাবো না। চটপটি পছন্দ করেন?
আমি- ফুচকা।
আতিয়া- উফফ! ঠিক আছে চলেন,
।।
এরপর পাশের এক দোকানে আমারা ২ প্লেট ফুচকা খেলাম, বিলটা আমি দিতে যাচ্ছিলাম কিন্তু আতিয়া দিতে দিলো না,
আমি- আমি বিল দেয়, আপনি মেয়ে মানুষ, বিল দিবেন খারাপ দেখায়।
আতিয়া- আপনি বেকার, আর আমি একটা কোচিং করায়, মাস গেলে হাত খরচের কিছু টাকা পেয়ে যায়।
আমি- ঠিক আছে দেন।

আতিয়া- আপনি চাকুরীর চেষ্টা করছেন না?
আমি- কয়েকটা সরকারী চাকুরীর পরীক্ষা দিয়েছি, ঐ দিকেই চেষ্টা আছে।
আতিয়া- বেসরকারি শুরু করছেন না কেন?
আমি- এখন বিয়ে করবো না তাই
আতিয়া- আপনাকে এক প্রশ্ন করলে, সোজা ভাবে উত্তর দেন না কেন? যে মেয়ে আপনাকে বিয়ে করবে, সে তো সারা জীবন কাঁদবে।
আমি- মেয়েটাকে বলবো, সে যেন ইতিহাস নিয়ে পড়ে।
আতিয়া- কেন?
।।
আমি- আমি এক রহস্য, সারা জীবন পাশে থাকেলেও আমাকে চিনতে পারবে না তাই।
আতিয়া- সেটাই তো দেখছি। আচ্ছা আপনার ফোন নাম্বার টা দিবেন।
আমি- এই নেন, আমার কার্ড।
আতিয়া- বেকার ছেলে, আবার ভিজিটিং কার্ড! অদ্ভুত!
আমি- মানুষ ছোট থেকেই বড় হয়, আর মানুষ বেকার হতে পারি, স্বপ্ন তো বেকার না। আর ১০০০ কার্ড ছাপাতে মাত্র ৩০০ টাকা লাগে।

তাও আমি আবার ২৮০ টাকা দিয়েছি।
আতিয়া- হা হা হা।
আমি- আচ্ছা আজ আসি।
।।
আতিয়া- এখন কোথায় যাবেন?
আমি- বাড়ী,
আতিয়া- আপনার বাড়ী কি এই শহরেই?
আমি- হ্যাঁ তবে দূরে।
আতিয়া- ঠিক আছে যান, ভালো থাকবেন।

বেশ কয়েক দিন পর!
একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলো,
আমি- আসসালামু…। কে বলছেন?
মেয়েটা- আমি আতিয়া!
আমি-ওহ, কেমন আছেন? তা কি মনে করে?
.
আতিয়া- আপনার সাথে জরুরী দরকার ছিল, যদি একবার আমাদের বাসায় আসতেন।
আমি- সরাসরি বাসা? মতলব তো ভালো লাগছে না, ধরে বেঁধে আবার বিয়ে দিবেন না তো? আচ্ছা পাত্রীটা কে?
আতিয়া- ধরুন আমি।
আমি- এখন কিন্তু বেকার, কিছু কিনে দিতে পারবো না, আর মহরানাও বাকী।
আতিয়া- মহরানা তো বাকী চলবে না,
.
আমি- টাকা কোথায় পাবো?
আতিয়া- কেন? আপনি হাদিস পড়েন না?
আমি- পড়ি, এখন সব তো মনে থাকে না?
.
আতিয়া- একদিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বসে আছে, এক মেয়ে আসলো, উনি বলল, উনি বিয়ের উপযুক্ত,

বিয়ে করতে ইচ্ছুক, তখন এক সাহাবী বললেন, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে আমি এই মেয়েকে বিয়ে করতে চাই,

আমাদের মহানবী বললেন, তুমি মহরনা বাবদ কি দিতে পারবা? সাহাবী বললেন, আল্লাহ্‌ কসম! আমার কাছে একটা দীনার ও নাই,

এই বলে সাহাবী মন খারাপ করে বসে গেলো। তখন মহানবী (সঃ) বললেন, তুমি কি কি সূরা জানো? সাহাবী বললেন, আমি এই এই সূরা জানি।
মহানবী (সঃ) বললেন, তাহলে তুমি এগুলো বিয়ের পর তোমার বউ কে শিখিয়ে দিবে, আর এটাই তোমার মহরনা,
এরপর তাদের বিয়ে হয়ে গেলো……।
.
আমি- জি, বুঝলাম, কিন্তু এখনকার বাস্তবে, টাকা জিনিসটা অনেক মূল্যবান।
আতিয়া- এর চাইতেও মূল্যবান, হলো, বিশ্বাস, ভালোবাসা, আর সম্মান।
আমি- আমি তো আপনার থেকে কম হাদিস জানি, আর কি দিবো ওটাই ভাবছি।
আতিয়া- আপনি সিগারেট খান? বা কোন নেশা করেন?
.
আমি- না কোন নেশা করি না, তবে সিগারেট খাই।
আতিয়া- আমার বিয়ের মহরানা হবে, আপনি আর জীবনেও সিগারেট খাবেন না, কোন নেশা করবেন না।
আমি- আপনি কি সিরিয়াস?
আতিয়া- হ্যাঁ, দুপুরের আগেই চলে আসেন। আব্বু আপনার সাথে কথা বলবে।
।।
আমি আতিয়াদের বাড়ী যাবার জন্য রেডি হচ্ছি, আজ শুক্রবার, এজন্য পাঞ্জাবীটা বের করে পড়লাম!
।।
আম্মু- কিরে এতো সকালে, পাঞ্জাবী পরে কোথায়?
আমি- একটু শহরে যাবো,
আম্মু- এভাবে আর কতো দিন? কবে চাকুরী পাবি? আর কবে তোর বিয়ে দিবো?
আমি- হবে হবে, সব হবে।
আম্মু- তোর জন্য একটা মেয়ে খুজি?
আমি- বেকার ছেলেকে কে বিয়ে করবে?
আম্মু- আমার সোনার টুকরা ছেলে, কতো মেয়ে করবে?
.
আমি- সোনার দাম কমে গেছে…।
আম্মু- অন্য কোথাও খুজা আছে নাকি?
আমি- এখন ও ঠিক নাই, তখন হয়ে যেতে পারে।
আম্মু- শোন, কালো হলেও মেনে নিবো, কিন্তু যেন ভদ্র বাড়ীর মেয়ে হয়!
আমি- আচ্ছা,
আম্মু- কখন আসবি?
আমি- বিকেলে।
আম্মু- আচ্ছা ভালো যা,
।।
শহরে গিয়ে আগে নামায পড়লাম! মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখলাম, ৩ টা মিসকল, আর ২ তা ম্যাসেজ!
আমি আতিয়া কে কল দিলাম।
আমি- এই তো আসছি, নামায পড়ছিলাম।
আতিয়া- ঠিক আছে আসেন।
।।
১০ মিনিট পর আমি তাদের বাসায় গেলাম, দেখলাম একজন ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছে, আতিয়া আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো।

আমি- আসসালামু…।
আতিয়ার আব্বু- অলাইকুম… বসো!
আমি- জি, ধন্যবাদ।
।।
তারপর আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করেই গেলো, আর আমি উত্তর দিয়েই গেলাম, জানি এই রকম হবে,

এজন্য বাসা আসার আগে, এক পিচ কেক, আর একটা 7up খেয়ে তার পর বাসায় ঢুকেছি।
আতিয়ার আব্বু- সবই তো বুঝলাম, কিন্তু আতিয়া বলল, তুমি নাকি এখন ও কিছু করো না, তো বাবা হিসাবে বেকার ছেলের সাথে কীভাবে বিয়ে দেয়?

সামনে আমি হজে যেতে চাই, তাই মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে তারপর হজে যাবো ভাবছি,
.
আমি- আমি যে এক বারেই বেকার তা না, একটা বিদেশী সংস্থাতে চাকুরী করি, কিন্তু ওদের কাজ যে ১২ মাস হয় সেটা না, এজন্য বলি যে আমি বেকার।
আতিয়ার আব্বু- যদিও কতো আয় করো, প্রশ্ন তা ঠিক না তারপর ও মেয়ের জীবন বলে কথা, তাই জিজ্ঞেস করছি।
আমি- যখন কাজ করি, প্রায় ১৫ হাজার টাকা চলে আসে।
আতিয়ার আব্বু- ঠিক আছে, তোমার বাবা কে বলো আমাদের বাড়ী আসতে, আমরা কথা বলবো। এখন চলো, খেয়ে নাও।
আমি- জি আচ্ছা।
।।
আমি কোন, বিদেশী সংস্থাতে চাকুরী করি না, তবে আমি বেকার ও না, কিন্তু আমি যা করি সেটা বলা যাবে না।

আর ওটা আমি আমার পরিবার ও জানে না আমি কি করি।
আতিয়ার আব্বু- কি ভাবছো চলো।
আমি- চলেন।
।।
সে দিন বিকেলে চলে আসার পর, আমার মাথায় একটা জিনিস ই ঘুরতে লাগলো, আমার কি এই মেয়েকে বিয়ে করা ঠিক হবে,

যে আমাকে এতো বিশ্বাস করে, এতো ভালোবাসে আমাকে? কিন্তু আমার ও তো নিজের জীবন আছে, আছে বেঁচে থাকার অধিকার,

আছে একটু স্বপ্ন দেখার, তবে কেন না? আমি কেন পারবো না।

আজ আমার আর আতিয়ার বিয়ে,
আর মহরানা হিসাবে, ৩ ভরি সোনা, এগুলো অবশ্য আম্মুর পুরনো মালা ছিল, ঐ গুলো। আর আতিয়ার সাথে আমার যে মহরানা,

ঠিক হয়েছে সেটা ও আছে, তবে ওটা অলিখিতি ভাবে, ওটা বিশ্বাসের ওপর।
।।
সন্ধার পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি,
একজন- কিরে শালা, বিড়ি ধরা!
আমি- না রে, আর খাবো না।
অন্যজন- যা, বাবা! প্রথম দিন থেকেই এতো ভালো হয়ে গেলি, ভাবি পা কই?
আমি- কাল সকালে এসে পা ধরিস।
অন্যজন- আরে ভাবি তো এখন এখানে নাই, খেয়ে নিয়ে চকলেট খেয়ে নিবি।
।।
আমি- তাহলে তো তাকে ধোঁকা দেওয়া হয়ে যাবে, আর সামান্য একটা সিগারেটের জন্য ঐ মানুষকে ধোঁকা দিবো?

যে সামান্য বিশ্বাসের ওপর একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে করলো।
অন্যজন- আচ্ছা তুই মাঝে মাঝে ঢাকা যাস, করিস কি? কোম্পানি তে চাকুরী করলে ভালো করে কর, কি যে করিস বুঝি না

আমি- করবো, এখন বিয়ে হয়ে গেছে না?
অন্যজন- তুই চাইলে আমার এক বড় ভাই, ঢাকায় থাকে, আমি তার সাথে কথা বলবো।
আমি- না, বন্ধু এখন থাক, আচ্ছা আমি যায়।
অন্যজন- হ্যাঁ, যা, আর শোন, ভাবীকে আমাদের তরফ থেকে সালাম দিস, আমারাও বেকার, ইচ্ছা থাকলেও স্পেশাল ভাবে কিছু দিতে পারলাম না।
।।
রাত ১১ টা!
আমি ঘরে গেলাম!
।।
আতিয়া- আজ সিগারেট খেয়েছেন?
আমি- কিছুটা চমকে গিয়ে, না খায় নি, বলেছি না যে আর খাবো না।
আতিয়া- খুশী হলাম।
আমি- এখন বেশি টাকা নাই, তাই দামী কিছু দিতে পারলাম না, এই নাও
আতিয়া- আমি তো আপনার কাছে দামী কিছু চাই নি।

।।
আমি- তারপর ও কিছু দেওয়া আমার দায়িত্ব।
আতিয়া- কি আছে, এই প্যাকেটে?
আমি- দেখো!
।।
আতিয়া, প্যাকেট টা খুলল,
আতিয়া-ওয়াও! নীল শাড়ি,
জানি না, আতিয়া শাড়ি সত্যি পছন্দ করেছে নাকি আমাকে খুশী করার জন্য বলছে,
আমি- তোমার পছন্দ হয়েছে?
আতিয়া- হ্যাঁ অনেক, এই শাড়ি আমার ভালো লাগে নি, তার ওপর অনেক ভারি, আর রং টাও পছন্দ না,
আমি- হয়েছে, থাক! এতো খুশী হবার কিছু নাই।
আতিয়া- এই শাড়ি টা এখন পরি?
।।
আমি- না থাক, কাল সকালে পরো।
আতিয়া- ঠিক আছে, আপনার পছন্দ গুলো অনেক দামী, যেমন ধরুন আমাকে পছন্দ করেছেন।
আমি- হা হা হা হা………।।
আতিয়া- হাঁসার কি হলো?
আমি- আমি তোমাকে পছন্দ করেছি নাকি তুমি আমাকে?
আতিয়া- বিয়ে তো করেছেন। তাহলে আপনিও আমাকে পছন্দ করেন।
আমি- জি না।
আতিয়া- তাই নাকি? দেখা যাবে।
আমি- হম, দেখো।
।।
আতিয়া- আচ্ছা আপনার নীল রং পছন্দ?
আমি- না, দোকানে এই একটাই ভালো শাড়ি ছিল। তাই নিয়ে আসলাম।
আতিয়া- আপনাকে নিয়ে আর পারলাম না। আচ্ছা আপনার প্রেমিকা ছিল না?
আমি- হ্যাঁ ছিল তো।
আতিয়া- কি হয়েছে ওর?
।।
আমি- ওকে বলেছি, তোমার সাথে সংসার করতে ভালো না লাগলে ওকে বিয়ে করে নিবো।
আতিয়া- ইস্ম শখ কতো, মেরে হাড্ডি ভেঙ্গে দিবো। আমার স্বামীর ওপর আর কারো কোন অধিকার নাই,
আমি- ও তাই বুঝি? এতো ভালোবাসা কবে থেকে?
আতিয়া- যে দিন প্রথম দেখেছি, ঐ মেয়েকে চড় মারতে।
আমি- আচ্ছা! আমি দেখেছি, ছেলেরা মেয়েদের কোন উপকার করলে মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে, ছবি বা নাটকেও সেটা ই দেখায়,

কিন্তু তুমি তো দেখছি উলটো।
।।
আতিয়া- দেখেন, একটা মেয়ে বিপদে পড়লে, অনেক ছেলেই সাহায্য করে, কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষ বিপদে পড়লে কতো জন আসে,

তার ওপর যদি সেটা একটা সুন্দরী মেয়ের বিরুদ্ধে হয়, ওখানে অনেক জন তো ছিল, কেউ আসলো না কেন?

কিন্তু যদি ওখানে ঐ মেয়ে বিপদে পড়তো অনেক ছেলে আসতো।
।।
তাহলে এখন আপনি বলেন, আমি কি মানুষ চিনতে ভুল করেছি?
আমি- আর কি বলবো, কিন্তু ভালো মানুষ দিয়ে, পেটের ভাত হয় না।
আতিয়া- আবার সেই একি কথা? আমি কি আপনার কাছে খুব বেশি কিছু চেয়েছি? একজন মানুষের যেসব মৌলিক প্রয়োজন,

ওগুলো দিতে পারলেই আমি খুশী।
আমি- ঠিক আছে।
।।
পরের দিন সকালে আতিয়ার ডাকে আমার ঘুম ভাংলো, দেখি নীল শাড়ি পড়ে একেবারেই রেডি, এবার মেয়েটাকে সত্যি খুব সুন্দর লাগছে…।
আতিয়া- এই, কি দেখছেন? উঠেন, নাস্তা হয়ে গেছে।
আমি- তোমাকে একটু দেখছি।
আতিয়া- কেন, আমাকে নাকি পছন্দ না,
আমি- আরে ওটা তো লাল শাড়ি পড়া একটা মেয়েকে বলেছিলাম।
।।
আতিয়া- এখন?
আমি- একটা নীল পরীকে দেখেছি, আর এই পরীর প্রেমে না পড়ে কি থাকা যায়?
আতিয়া- থাক, আর ঢং দেখাতে হবে না। এখন উঠেন, নাস্তা খেয়ে বাজার করে নিয়ে আসেন।
।।
আমি নাস্তা করে বাজার করতে গেলাম।। বাজার শেষ করে অনেক খুশী হয়েই বাড়ীর দিকে আসছিলাম,
হটাৎ একটা ফোন আসলো!
আমি- আসসালামু…।
ফোন ভয়েস- বাসর রাত কেমন কাটলো?
আমি- আপনি কীভাবে জানলেন যে আমি বিয়ে করেছি?
।।
ফোন ভয়েস- তুমি কখন কি করো, সব খবর রাখি, এখন বাজার করে বাড়ী যাচ্ছ, যাক ওটা কথা না, আজ সোমবার,

বুধবারের মধ্যে তুমি ঢাকা আসবে, তোমাকে এতো দিন যে জন্য ট্রেনিং করলাম, এখন তার পরীক্ষা, আর এখানে ফেল করলে চলবে না।
আমি- আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও আমি আপনাদের ভরসা নষ্ট করবো না।
ফোন ভয়েস- তোমাকে অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি, এটা তুমি ভালো করেই জানো।
আমি- জি স্যার! আমি জানি।
ফোন ভয়েস- ঠিক আছে, এই দুই দিন আতিয়ার সাথে সময় কাটাও, মেয়েটা অনেক ভালো। এখন রাখি।
আমি- জি স্যার! আসসালামু…।

দুই দিন, আতিয়ার সাথে খুব ভালো সময় পার করে, আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম, যাবার সময় মেয়েটা কাঁদতে শুরু করে দিলো,

কষ্ট আমার ও হচ্ছিলো, হয়তো এটাকেই ভালোবাসা বলে।
।।
আমি ঢাকা গেলাম,
আমি- স্যার আমাকে কোথায় যেতে হবে?
স্যার- খাগড়াছড়ি!
আমি- প্রথমেই এতো দূরে?
স্যার- ভয় পাচ্ছো?
আমি- স্যার আমি ভয়কে ভয় করি।
স্যার- ঠিক আছে, আজকে তোমার ৪ টা ক্লাশ আছে, কাল সকালেই তুমি রওনা হবা, আর একটা কথা ওখানে তুমি ফোন কথা বলতে পারবা না।
আমি- কোন সময় না?
স্যার- শুধু সকালে আর রাতে বলবা।
আমি- ওকে স্যার। আমি কিভাবে যাবো?
স্যার- একটা হাইস্কুলের ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে।
আমি- ইংরেজি?
স্যার- হ্যাঁ কোন সমস্যা?
আমি- স্যার, স্কুল জীবনে আমি ইংরেজিতে খুব কাঁচা ছিলাম।
স্যার- এটা স্কুল জীবন না। মনে রাখবা,
আমি- ওকে স্যার।
স্যার- প্রতিদিনের কাজ তুমি আমাকে রাতে রিপোর্ট করবা। আমি- ওকে স্যার।
স্যার-কোন প্রশ্ন?
আমি- না থাক,
স্যার- ঠিক আছে এখন যাও।
।।
রাতে একটুও ঘুমাতে পারিনি!
ভোর ৪ টায় উঠতে হলো!
স্যার বলল, অনেক কাজ শুধু রাতের অন্ধকারেই ভালো হয়, হয়তো উনি সত্যি কথা বললেন।
৫ টার পর আযান দিলো, নামায পড়লাম, আর সাথে কিছু নাস্তা।
তারপর রওনা!
এর আগে কোন দিন খাগড়াছড়ি যায় নি, তবে এভাবে যে যাবো কোন দিন ভাবিনি।
।।
১৫ দিন পরের কথা!
আমি দশম শ্রেণীর একটা ক্লাশ নিচ্ছি!
একটা মেয়ে বলল, স্যার আমার একটা প্রশ্ন আছে।
আমি- কি বলো!
মেয়েটা- আপনার ভাষা শুনে মনে হয় না যে আপনার বাড়ী আমাদের আশেপাশে।
আমি- ওহ তাই বুঝি!
মেয়েটা- হ্যাঁ। আপনি ফেসবুক চালান?
আমি- না!
মেয়েটা- কেন?
আমি- এমনি ভালো লাগে না।
মেয়েটা- আপনি বিয়ে করেছেন?
।।
আমি-যেহেতু আমার ব্যাক্তিগত কোন খবর কাউকে বলা নিষিদ্ধ ছিল) না, করি নি।
মেয়েটা- আপনি আমাদের বাসায় প্রাইভেট পড়াবেন? আমি ইংরেজিতে খুব কাঁচা।
আমি- মনে মনে আমি বললাম, আমিও কাঁচা!
মেয়েটা- জি স্যার যাবেন?
আমি- পরে দেখা যাবে।
মেয়েটা- জি আচ্ছা!
।।
সে দিন আমি ঐ মেয়ের খোঁজ নিলাম, মেয়েটার নাম নীলা, নাম টা সুন্দর, বাবা একজন বড় ব্যাবসাদার,

আমি রাতে স্যারকে পুরো ঘটনা বললাম, স্যার নাম শুনে বলল, তুমি পড়াও। আর আসল উদ্দেশ্য ভুলে যেও না।
।।
আমি নীলা নামের সেই মেয়েটাকে পড়াতে শুরু করলাম, একটা জিনিস আমার ভালো হলো, রাতে আমাকে ঠাণ্ডা ভাত খেতে হয় না,

নীলার আম্মু আমাকে না খাইয়ে পাঠায় না।
এভাবে মাস দুয়েক পার হয়ে গেলো!
একদিন আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসলো!
।।
স্কুলের ডান পাশের রাস্তা ৫ কি।মি। দূরে, একটা ভাংগা বাড়ী।
।।
তখন রাত ৩ টা!
স্যার বলেছিল, যে কাজ রাতে হয় সেটা সকালে সম্ভব না।
যখন পোঁছালাম, তখন রাত ৪ টা।
যতো দূর বুঝলাম, ঘটনা সত্যি। আমি ফোন করে স্যারকে জানালাম, উনি বললেন, উনি লোক পাঠাচ্ছেন,
কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই, দেখলাম ওরা গাড়ী করে বের হবার জন্য তৈরি হচ্ছে, কিন্তু আমি একা আর ওরা ১০-১২ জন।
।।
ছোট বেলায় একজন বলেছিল, আসল হার হলো তুমি যখন মেনে নিলা যে তুমি হেরে যাচ্ছো।
।।
আমি আবার স্যার কে ফোন করলাম,
আমি- স্যার, ওরা মনে হয়, এখন বের হয়ে যাবে।
স্যার- কতো জন আছে,
আমি- স্যার, ১০-১২ জন হবে।
স্যার-কোন অস্ত্র দেখতে পাচ্ছো?
আমি- জি স্যার, কিছু দেশি অস্ত্র, আর ৩ জনের কাছে , AK47।
স্যার- আমার লোক যেতে তো আরও মনে হয় ২-৩ ঘণ্টা লেগে যাবে।
আমি- ওরা আর হয়তো ১৫ মিনিটের মধ্যেই বের হয়ে যাবে, স্যার আপনি যাদের আজ ৪ বছর থেকে খুঁজছেন তাদের এভাবে চলে যেতে দিবেন?
স্যার- কিন্তু কি করবো? তুমি একা পারবা না। আবেগ নিয়ে না, বুদ্ধি দিয়ে যুদ্ধ করতে হয়। এটা ভালোবাসা না।
আমি- স্যার আমি ভালবাসাতেও আবেগ দেয় না। কিন্তু আমাকে কি জন্য এতো কষ্ট করে ২ বছর থেকে তৈরি করলেন? আজ তদের চলে যেতে দেখার জন্য?
স্যার- কিন্তু তুমি আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান।
।।
আমি- স্যার, আমার যদি কিছু হয়, আমার পরিবার কে বলবেন যে তাদের ছেলে বেকার ছিল না।
স্যার- কিন্তু,
আমি- কোন কিন্তু না, আমাকে অনুমতি দেন।
স্যার- ঠিক আছে তবে সাবধানে। আর আমি এদিকে দেখছি, জরুরী হেলিকাপ্টারে কিছু ফোর্স পাঠানো যায় কি না।
আমি- ধন্যবাদ! আজ নিজের দেশের জন্য কিছু করার সময় এসেছে।
স্যার- সাবধানে থেকো।
আমি- জি স্যার।
।।
ফোনটা কেটে, আতিয়ার ছবিটা ভেসে উঠলো। এখন হয়তো ঘুমাচ্ছে, তাকে আর বিরক্ত করা ঠিক হবে না।

হয়তো সে একটা ভালো স্বপ্ন দেখছে, তাকে একটা ম্যাসেজ লিখি।
।।
আমার প্রিয়তমা!
তুমি আমার জীবনের জন্য একটা ভালো সপ্নের মতো, মাত্র ৩ দিন তোমার সাথে পার করেছি, কিন্তু এই ৩ দিন আমার জীবনের জন্য যথেষ্ট!

তোমাকে অনেক ভালোবাসি। যদি তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকি আমাকে ক্ষমা করো, আর হ্যাঁ।

আমি কিন্তু বেকার না, তবে আমি কি করি, সেটা বলা যাবে না। তবে যায় করি, সেটা ভালো কিছু করি।

যদি বেঁচে থাকি দেখা হবে, আর যদি আমি আর ফিরে না আসি, তবে আরেকটা বিয়ে করে নিও। সুখে থেকো।
।।
এরপর ফোনটা অফ করে দিলাম।
।।
ব্যাগ টা বের করলাম,
দেখলাম কি কি আছে, ৫ টা রিমোট বোমা, ৩ টা হাত বোমা, ২ টা শট গান, ak47 2 ta, আর ছোট রাইফেলস ২ টা।
।।
বোমা গুলো বাড়ীর উলটো পাশে রাখলাম, আর রাইফেলস গুলো একটা বৃত্ত কার ঘর করে যার মধ্যবিন্দু ঐ ভাঙ্গা বাড়ী,

এর ছয়টা ভাগ করে এক পাশের ভাগে ৩ টা রিমোট বোমা সেট করলাম, উলটো পাশে ৩ টা বিন্দুতে ১ শটগান, রাখলাম,

আর ঐ দুই বিন্দুর মাঝে আমি একটা ak47 নিয়ে দাঁড়ালাম, এরপর অপারেশন শুরু অপেক্ষা। শেষ বারের মতো আতিয়ার ছবিটা দেখলাম।

অপারেশন শুরু হলো, প্রথমে আমি একটা বিন্দু থেকে কয়েকটা গুলি চালায়, তারপর অন্য বিন্দু থেকে আরেকটা,

তারপর একটা হাত বোমা, এতে যেন ওরা মনে করে, আমারা একটা দল তাদের আক্রমন করেছি,

এরপর বাড়ীর পিছনের ৩ টা বোমের মধ্যে একটার সুইচ টিপ দিলাম।
।।
এরপর তারা যখন ভাবল যে তারা চার দিক থেকে বন্দী, তখন তারা এলো-পাথারি গুলি শুরু করে দিলো,
আমি কোন গুলি করলাম না!
তারপর কিছুক্ষণ সব চুপ!
আমি আরেকটা রিমোট বোমা ফাটালাম,
তখন ওরা ঐ দিকে গুলি করা শুরু করলো, আর আমি অন্য গাছের নীচে গেলাম, যে খানে শর্ট গান রাখা ছিল, ওখান থেকে দুই জনকে গুলি করলাম।
এভাবেই থেমে থেমে প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি আমারদের গোলা গুলি চলতে লাগলো।
।।
দূর থেকে একটা শব্দ আসছে!
বুঝতে পারলাম, হেলিকাপ্টার আসছে, আমি একটা সিগন্যাল দিলাম, আমাদের ফোর্সদের।
দেখলাম তারা আসছে।
।।
কিন্তু তখন ই আমার বুকে কিছু এসে লাগলো।
হাত দিলাম, রক্ত বের হচ্ছে, আবছা হয়ে যাচ্ছে চার দিক! আতিয়ার কথা খুব মনে হচ্ছে, মেয়েটাকে যদি এক বার দেখতে পারতাম।
আর কিছু মনে নাই…।
।।
স্যার! শুনতে পাচ্ছেন! আমারা চলে এসেছি, আপনার কিছু হবে না, আমরা এখুনি আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি!
।।
কয়েক মাস পর!
।।
চোখ খুললাম!
একটা বড় ঘর! জানালার পর্দা গুলো সাদা, বিছানার পাশে একটা বড় মেশিন। তার মানে আমি বেঁচে আছি!
আতিয়া!
।।
তখন একজন বলল, আমি আছি, তোমার পাশে! তুমি কেমন আছো?
ডাক্তার সাহেব আসলেন, আমাকে কিছু চেকআপ করলেন, বললেন আর ভয় নাই, কয়েক দিনেই সুস্থ হয়ে যাবেন।
।।
মাস খানিক পরের ঘটনা!
আমি হাসাপাতাল থেকে রিলিজ হলাম,
তারপর আমাকে একটা মাইক্রো করে বাড়ী পাঠানো হলো।
।।
আমি আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম,
একদিন রিক্সাতে করে আমার স্যার আসলো, আমি দেখে চমকে গেলাম, এতো বড় অফিসার যার আশে পাশে এতো

ফোর্স থাকে সে শুধু একজন কে নিয়ে আমার বাড়ী।
।।
আমি- স্যার, আপনি? তাও রিক্সা তে?
স্যার- সরকারী গাড়ীতে আসলে সবাই সন্দেহ করতো, আমার নিয়ে চিন্তা নাই আমি চাই না যে তোমাকে কেউ চিনুক,

তোমার বাড়ীর মানুষ জেনে গেছে ওটায় অনেক বেশি। তুমি এখন কেমন আছো?
আমি- জি স্যার ভালো।
স্যার- শোন, তুমি হয়তো ভাবছো, যে তুমি এতো বড় একটা কাজ করলা, অথচ, তোমার নাম খবর বা পেপারে আসলো না?
আমি- জি স্যার! আমি অবাক হয়েছি।
স্যার- তোমার প্রথম দিনের ভাইবা বোর্ডে তোমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো যে তুমি কেন এই চাকুরী করতে চাও?
আমি- জি স্যার আমার মনে আছে, আমি বলেছিলাম, আমি দেশের জন্য কিছু করতে চাই।
..
স্যার- আর তোমার মাঝে সেই ক্ষমতা আছে, তাই আমারা সবাই তোমাকে আড়াল করে রাখবো বলে সিরধান্ত নিয়েছি,
আমি- জি স্যার! আপনারা যা ভালো বুঝেন।
স্যার- এই নাও এখানে একটা চেক আছে।
আমি- কিসের?
স্যার- যে কাজ করেছো, ওর পুরষ্কার! আর ব্যাংক থেকে বেতন টাও উঠিয়ে নিও।
আমি- জি স্যার!
স্যার- এখন যায়। ভালো থেকো। আর কখন ও একা ভেবো না, আমার তিন জন লোক সব সময় তোমার পাশে থাকবে।
।।
ঘটনার কয়েক দিনের পর!
আমি এখন মোটা মোটি সুস্থ।

আতিয়া- এই ঔষধ খেয়ে নাও না, কি পিচ্চি ছেলের মতো করো।
আমি- খাচ্ছি, আজ বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে, একটু দেখি ।
আতিয়া- হ্যাঁ, এখন তো ওইগুলোর তোমার সব, বাইরে কতো সুন্দর চাঁদনী পড়েছে তোমার খেয়াল নাই।
আমি- ওহ।
।।
খেলা শেষ করে দেখি, আতিয়া চুপ করে বসে আছে, মেয়েটার দোষ নাই, আমি সত্যি ওর কোন খোঁজ রাখতে পারি না।
।।
আমি- চলো,
আতিয়া- কোথায়?
আমি- বাইরে?
আতিয়া- পাগল তুমি? এতো রাতে বাইরে?
আমি- ভয় করে?
আতিয়া- আমি ভুত দেখে খুব ভয় পায়, সত্যি…।।
আমি- আরে চলো তো।
।।
আমি আর আতিয়া, হাঁটতে বাইরে গেলাম!
সত্যি অনেক সুন্দর পরিবেশ, আমরা কিছুক্ষণ একটা বড় রাস্তার ধারে বসে গল্প করলাম, হটাৎ একটা গাড়ী এসে থামলো।
।।
এই কে ওখানে?
আমি- আমার নাম নিলয়, এই পাশেই বাড়ী। বুঝলাম, ওটা পুলিশের গাড়ী।
একজন- কি হচ্ছে এতো রাতে এখানে?
আমি- কিছু না, আমরা বসে গল্প করছি,
পুলিশ(অন্যজন)- আমি জিজ্ঞেস করেছি কি করছিস?
আমি- না।
পুলিশ- যতো টুকু প্রশ্ন করবো, ওটাই উত্তর দিবি, কি করিস?
আমি- কিছু না, বেকার!
পুলিশ- এতো রাতে একটা মেয়ের সাথে নষ্টামি করছিস?
আমি- এটা আমার বউ!
পুলিশ- ধরা পড়লে সবাই বউ বানিয়ে নেয়। শোন তুই ৫০০০ টাকা দে, না হলে তোদের থানাই নিয়ে যাবো।
..
আমি- এটা আমার সত্যি বউ, চলেন আমাদের বাড়ী।
পুলিশ- তুই বেশি কথা বলিস, এই ওকে গাড়ীতে উঠা,
আমি- আপনার কি পদবী?
পুলিশ- হা হা হা, আমি এই থানার নতুন ওসি। নজরুল ইসলাম, কেন তুই কি করবি? নেতার ছেলে তুই? ঐ মেয়েকে ধরে গাড়ীতে তুল, দেখচ্ছি মজা।
আমি- এই পোশাকের কসম, আমার বউয়ের গায়ে কেউ হাত দিলে, ওদের পোশাক আমি রাখবো না।
পুলিশ- কি এতো বড় কথা, দেখি তুই কি করতে পারিস?
আমি- ঠিক আছে চলেন থানাই,
।।
আমি আতিয়াকে বললাম, ভয় পাবার কারণ নাই।
।।
আমি থানাই বসে আছি, ওসি কে বললাম, আমি কি একটা ফোন করতে পারি।
পুলিশ- হ্যাঁ, অবশ্যই আমিও তো দেখতে চাই।
।।
আমি স্যার কে ফোন করলাম, স্যার বললেন, শান্ত থাকতে।
।।
রাত ৩ টা! দূর থেকে একটা সাইরন ভেসে আসছে, আসতে আসতে সেটা জোরে হচ্ছে।
।।
৫-৭ পর, পুলিশের ৪ টা গাড়ী থানায় আসলো। গাড়ী দেখে বুঝতে পারলাম, এসপি সাহেব এসেছে।
এসপি সাহেব- কি হচ্ছে এসব?
ওসি- স্যার আপনি এতো রাতে?
এসপি সাহেব- নিলয় কোথায়?
ওসি- কে হয় আপনার?
এসপি সাহেব- আমার বাপ হয়? কি দোষে তুমি ওকে ধরেছো?
ওসি- ও একটা মেয়ের সাথে নষ্টামি করছিলো, আর আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।
..
এসপি সাহেব- নিলয়, বাবা! কি হয়েছিলো একটু বলবা?
আমি- স্যার, আমি আমার বউ কে নিয়ে রাস্তার পাশে বসে ছিলাম, ওরা আসলো,

আমি বললাম আমার বউ কিন্তু আমার কাছে ৫০০০ টাকা চাইলো, না হলে এই তো থানায়।
ওসি- না স্যার।
এসপি সাহেব- নজরুল সাহেব, এই মুহূর্তে আমি তোমাকে ১ মাসের জন্য বরখাস্ত করলাম, আর যদি নিলয় বাবার কথা পুরো সত্যি হয়,

তবে তোমার চাকুরী থাকবে কি না বলতে পারছি না কারণ, ডিআইজি সাহেব নিজে আমাকে আদেশ দিয়েছে।
ওসি- কিন্তু স্যার এই ছেলে কে?
এসপি সাহেব- আমার বাপ, তাহলে বুঝে নাও তোমার কে। নিলয় বাবা, চলো আমার গাড়ীতে, আমি বাড়ী পোঁছে দেয়।
আমি- ঠিক আছে চলেন স্যার।
।।
এক মাস পরের ঘটনা!
আমি আতিয়াকে নিয়ে নৌকা ভ্রমন করছি, ও খুব খুশী, আর আমিও।
কারণ আজ জানতে পারলাম, যে আমি বাবা হতে চলেছি।
।।
তখন একটা ম্যাসেজ আসলো।
।।
নৌকা ভ্রমণ শেষ হলো? কাল রাত ৮ টার মধ্যে রিপোর্ট করো। বউ নিয়ে ঘুরছো তাই ফোন করলাম না!
।।
আমি একটা হাঁসি দিলাম, আমার জন্য দেশ আবার অপেক্ষা করছে।

…………………………………..সমাপ্ত …………………………………..

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত