জুনিয়ার এর সাথে প্রেম

জুনিয়ার এর সাথে প্রেম

আমার এক ছোট ভাই কইলো,,,

সোহানঃ প্রেম ভালোবাসা করলে জুনিয়ার দের সাথে করো না।

আমিঃ কেন তারা আবার কিতা করলো তা তাদের সাথে করা যাবে না, আর জুনিয়ার দের সাথে করবো না তো কার সাথে করবো, বড়দের সাথে।

সোহানঃ হুম, করলে তাদের সাথেই করেন, কারন তাদের সাথে করলে অন্তত আপনার দুঃখ কষ্টটা বুঝবে।

আমিঃ প্রেম ভালোবাসা করলে তো দুজন দুজনার দুঃখ কষ্ট বুজে, তাহলে তারা কেন বুঝবে না, এটার কোন মানে হয়।

সোহানঃ কারন তাদের সাথে করে কি লাভ যদি না আপনার জন্য খরচ করতে পারে। তাদের সাথে করলে সারা জিবন আপনাকেই ফুচকা, আইসক্রিম, বাদাম সবকিছুরর বিল আপনাকে দিতে হবে, ভুলেও তারা নিজে দিবে না, একটুও দয়া মায়া নাই। আর ভুলেও যদি কখনও দেয় তো ভাঙ্গা ক্যাসেটের মত বাজতে থাকবে।

আমিঃ ওওও তাহলে এই ব্যাপার, তো তোমার সাথে এমন হয়েছে তাই ভেবে সবাইকে কিন্তু দোষ দিতে পারনা তুমি, সবাই কিন্তু এক না।

সোহানঃ আচ্ছা দেখা যাবে, আগে একটা তো করেন, তারপর দেখা যাবে কেমন।

আমিঃ আচ্ছা তা দেখে নিও।

তাকে এ কথা বলে চলে আসলাম, আর কিছুদিন পর একজনের সাথে আমিও শুরু করে দিলাম। আমাদের কলেজেই পড়ে,। সপ্তাহে একবার দেখা করা, মাঝে মাঝে এসএমএম এ কথা বলা, খোজ খবর নেওয়া, সবকিছু বেশ চলতেছে, সে বাহিরে ঘুরতে তেমন পছন্দ করে না, তাই তাকে নিয়ে কোথাও যাওয়া হয় না, কলেজেই কিছুসময় পার করি একে আপরের সাথে, কোন কিছু খাওয়া কিনতে গেলে আমিই বিল দিতাম সে দেওয়ার আগেই, এমন করেই তিন বছর হয়ে গেল। হঠাৎ করে সোহানের সেই কথাটা মনে পড়ে গেল, তাই তাকে পরিক্ষা করার জন্য তার কাছে কিছু টাকা ধার চাইলাম,( কখনও তার কাছে কিছু চাইনি তাই চাইতেও কেমন লাগতেছে, তবুও পরিক্ষা করার জন্য ) বললাম

আমিঃ কেমনে যে বলি…

সেঃ কি বলবা বল, কোন সমস্যা…

আমিঃ সমস্যা তো বটেই… তাই…

সেঃ তাই কি বল….

আমিঃ আসলে বাড়ি থেকে আমাকে কিছুদিন পর টাকা দিবে, আর আমার কাছে যা ছিল ম্যাচের খরচ দিয়ে খাওয়ার টাকা নেই, তাই যদি তুমি কিছু টাকা দিতা খুব ভাল হত, বাড়ি থেকে দিলেই দিয়ে দিব। কিন্তু সে কাচুমাচু করতেছে বুঝাতে চাইতেছে তার কাছে টাকা নেই, তারপরও সে বললো,

সেঃ কত লাগবে, আমি চারদিনের হিসাব করে বললাম,

আমিঃ বেশি না ২০০/৩০০ হলে চলবে এ কয়দিন, ততদিন তো বাড়ি থেকে দিয়ে দিবে। সে বললো, সেঃ আচ্ছা দেখি কাল দিতে পারি কি না, বাড়িতে বলি আচ্ছা মনে বলতেছি,, সামান্য কয়টা টাকা দিবে সেটাও বাড়িতে ভাবা যায়…

অতঃপর সে পরের দিন ফোন দিয়ে বলতেছে কত দিব,,,

আমি বললাম তোমার যত ইচ্ছা আর কত লাগবে তা তো তোমাকে বলে দিয়েছি। ২০০ টাকা দিল আর বললো বাবার কাছে থেকে নিয়ে দিলাম।।। এসময় একটা কথাই ভাবতেছি, এ কি আসলেই সেই পদের নাকি আলাদা। অতশত আর ভাবলাম না, কিন্তু দুশত টাকা ধার নিছিলাম পরিক্ষা করার জন্য দেখি তাহার মন মানসিকতা কেমন, বিকাশে এমনই রয়েগেছে তার দুশত টাকা এখনও বাহির করিনি।

কিন্তু পরের দিন থেকে প্রতিদিন এসএমএস দিয়ে বলে লোড দিয়ে দাও তো আমার ফোনে ব্যালেন্স নেই, কি আর করার দিয়ে দিলাম, আবার পরের দিন, এসএমএস নিয়ে দাও তো এসএমএস শেষ, কি আর করার এটাও দিয়ে দিলাম , রাতে কথা বলতে বলতে কেটে গেল আবার এসএমএস দিয়ে বলে ব্যালেন্স নেই কল দাও তো,, কি আর হাজারও হলে খেয়ে না খেয়ে একটা মাত্র প্রেমিকা সহ্য না করে আর উপায় কি।

এমন করে হিসাব করলে ২০০ টাকার জায়গায় ১০০০ টাকারও বেশি সে নিয়ে নিছে এক সপ্তাহে, তাই নিয়ত করছি জিবনেও আর নিতাম না ভুলেও, এমনিতেই দিয়ে দিব লোড এসএমএস আগে যেমন দিতাম। আগে তো সে এমন ছিল না, না চাইতেই দিয়ে দিতাম কিন্তু ঐ ২০০ টাকা নেওয়ার পর থেকে যা শুরু করছে। এদিকে আমাদের সম্পর্কের ৪ বছরের হতে চলেছে সেই চার বছর পূর্ণ না হতেই সে আমার সাথে নিজে নিজেই ব্রেকআপ করে নিল,( কেন কি জন্য পরে সেটা পরে জানতে পারি, টাকা ওয়ালা ছেলে পেয়ে চার বছরের সম্পর্ক) তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম কিন্তু এখন নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছি।

সেই টাকা এখনোও বিকাশে রেখে দিছি, জিবনেও বার করমু না, ম্যাচে একসময় ২ দিন না খেয়ে ছিলাম তবুও হ্যার টাকা বাহির করিনি, যেদিন হ্যার বিয়ে হবে ও দুশতটাকা হ্যারে দিয়া দিমু, তবুও খরচ করমু না। (এমন করলে কি আর বাঁচা যায় তোমরাই বলো। প্রেম ভালোবাসা তো দুনিয়া থেকে উঠে গেছে রে খালা। আর প্রেম ভালোবাসা করমু না রে খালা, আল্লাহ চাইলে বাবা-মা দিলে সরাসরি বিয়া করেলাইমু রে খালা, নো প্রেম ভালোবাসা, নো ছ্যাকা খাওয়া খাওইয়ি।) এদিকে একদিন সোহানের সাথে দেখা সে কইলো,

সোহানঃ কি ভাই খবর কি??

আমিঃ খবর আর কি জানতে চাস, এই তো চলতেছে।

সোহানঃ তা জুনিয়ারদের সাথে প্রেম করে কেমন বুঝলেন??

আমিঃ সে কথা আর বলিস না, লাগে রে ভাই লাগে…..

সোহানঃ তো বুঝতে পারছেন কেন আপনারে ও কথা বলেছিলাম??

আমিঃ হ্যা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি, আর সেসব কথা মনে করায় দিস না রে ভাই।

সোহানঃ আচ্ছা তা আমি এখন যাই, আপনার ভারির লগে দেহা করন লাগবে।

আমিঃ কি বলিস, আবার শুরু করে দিছিস, তা আগের বারের মতত….( কথাটা শেষ করতে দিল না)

সোহানঃ পাগলন নাকি, এবার সিনিয়ার মাইয়ার লগে বুঝলেন, এখন আমারে টাকা দিতে হয়না, বরং সে আমার পকেট খরচের জন্য ও আমারে টাকা দেয়। আচ্ছা যাই কা পরে দেখা হবে, দেরি হলে আবার রাগ করবে আমি অহন কিতা করি, মোরে একটা এমন দাও….

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত