বিবাহ বিভ্রাট

বিবাহ বিভ্রাট

-হ্যালো, আরিফ বলছেন?
-জ্বী, কে বলছেন?

-আমি নিশা
-সরি, কোন নিশা?

-আপনি কয়টা নিশাকে চিনেন?
-আপাতত কোন নিশাকে চিনি বলে মনে হচ্ছেনা।কে আপনি?

-সিরিয়াসলি? আপনি আমাকে চিনছেননা?আপনার ফ্যামিলি থেকে আমাকে দেখতে আসছিল, আমি সেই নিশা।
-ওহ, আসলে একদম খেয়াল ছিলনা।খুব প্রেসারে আছি তো

-কিসের প্রেসার?
-আমার জিএফ ও নাই, বউ ও নাই।সো প্রেসারটা অফিসেরই!

-এক্সকিউজ মি,আপনি কি বলতে চাচ্ছেন?মেয়েরা ছেলেদের প্রেসার দেয়?সবাই বলছিল ছেলে খুব ভাল।ভালোর এই কথার নমুনা!
-আরেহ, আমি সবার সাথে যে বিহ্যাব করি, বউএর সাথেও সেইম বিহ্যাব করব নাকি?

-আমি আপনার বউ হলাম কবে?জাস্ট বিয়ের কথা চলছে, এখনই বউ বানায় দিলেন। আপনার কথা শুনে বিয়ের আগ্রহই চলে গিয়েছে।
-বাই দ্যা ওয়ে, কেনো কল দিয়েছিলেন?

-কেন আর। আপনি তো মহাব্যস্ত। আপনার সাথে তো দেখা হলনা।বাসা থেকে বলছে দেখা করার জন্য
-আমার অফিসে চলে আসেন!
-আরিফ, আপনি সিক, আমরা বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছি আর আপনি অফিসে আসতে বলছেন?

-তাহলে আমার বাসায়
-চুপ করেন। বুঝছি।বাসায় বলে দিতে হবে এখানেই ক্যান্সেল।আর আগানোর দরকার নাই।

-আরে রাগ করছেন কেন? মজা করছিলাম। আচ্ছা শুনেন। আমি অফিসে ব্যস্ত।আজ তো পারবনা।রাতে বাসায় গিয়ে কল দিচ্ছি।

(রাতে)
-হ্যালো, আপনার নামটা জানি কি???
-মি, আরিফ, আপনি আমার নাম জানতে চাচ্ছেন??
-আসলে দুপুরে অনেক কাজের মধ্যে ছিলাম।তাই কি নাম বলেছিলেন, খেয়াল ছিলনা!
-বাহ।খুবই ভাল। তা আপনার বাসায় তো আমার সিভি পাঠানো হয়েছে।সিভি দেখে নাম জেনে নেন

-সিভি দেখার সময় আছে নাকি আমার!
-হ্যা বুঝছি, আপনি তো দেশের প্রধানমন্ত্রী এসে গিয়েছেন।এগুলোর সময় কোথায় আপনার।তো বিয়ে করার সময় আছে আপনার?

-বিয়ের জন্য কি সময় লাগে নাকি? বিয়ের জন্য যেগুলো লাগে সেগুলো আছে আমার  যাইহোক আপনার নামটা বলেন না
-পারবনা।আপনার বাসায় জিজ্ঞেস করেন

-আমি ফ্যামিলিকে বলব, তোমরা যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছ, তার নামটা কি?এইটা কেমন দেখায়!
-যা ইচ্ছা বলেন। আপনি এত ইরেস্পন্সিবল। আপনার থেকে অনেক ভাল ছেলে আমার জন্য ঘুরতেছে।

-শুরুর কলটা তো আপনিই করেছেন নাকি?
-ভুল করেছি।মাফ করেন।বাসা থেকে বলছিল আপনি খুব ভাল,তাই।রাখলাম, বাই

-নিশাআআআআআআআ
-নাম জানলেন কিভাবে?

-আরে আপনি ফানও বুঝেননা নাকি? মহামুশকিল।আচ্ছা কাল সন্ধ্যা ৭টায় ‘এক্সওয়াইযেড’ রেস্টুরেন্ট এ চলে আসবেন।

(পরদিন ) অফিস শেষে ৫টায় আরিফ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল। যথাসময়ে নিশা রেস্টুরেন্টে আসল।আরিফকে কল দিতেই দেখে ওর মোবাইল অফ।কিছুটা রাগ হল।আরো কয়েকবার কল দিয়েও কোন লাভ হলনা।৩০ মিনিট পর আরিফের কোন হদিস না পেয়ে মেজাজ খারাপ করে নিশা রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করল। বাসায় আসতেই আরিফের কল পেল নিশা

-প্রব্লেম কি আপনার? এত ইরেস্পন্সিবল কেন আপনি?আসলেই কি বিয়ে করতে চাচ্ছেন? নাকি ফাইজলামি করতেছেন?ফোন অফ।আসার কোন খবর নাই।

-এক্সট্রেমলি স্যরি।অফিস শেষ হওয়ার একটু আগে জরুরি মিটিং পড়ল।তাই মোবাইল অফ ছিল।জানানোর সময়ও পাইনি।
-থাকেন আপনার অফিস নিয়ে।দেখা করা লাগবেনা আর।বাই
-স্যরি বললাম তো।আচ্ছা আপনার আর কষ্ট করা লাগবেনা।আপনার বাসার আশেপাশের কোন রেস্টুরেন্টের নাম বলেন।কাল তো শুক্রবার।ঠিক টাইম মত চলে আসব।

শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আরিফ হাজির।গাড়ি পার্ক করে রাস্তায় এদিক ওদিক হাঁটাহাঁটি করল।গরমে কিছুটা ঘেমেও গেল।ফোনে রিং বেজে উঠল।

-কোথায় আপনি?
-আমি রেস্টুরেন্টের কাছেই।৩/৪মিনিট লাগবে। রেস্টুরেন্টে ঢুকেই আরিফ বলে উঠল:
-ঢাকা শহরের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট গুলোর যে অবস্থা।সারাটা পথ দাঁড়িয়ে আসতে হল।

-আপনার না গাড়ি আছে? পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট কেন?
-গাড়ি! আমার? কে বলল?
-কেন ঘটকই তো বলছিল এমন কি জানি!
-ও আচ্ছা। ওইটা তো উবার ছিল! ঘটকরা তো এমনেই একটু বাড়িয়ে বলে।তাই মনে হয় ওইটাকে আমার গাড়ি বানিয়ে দিয়েছে আর কি। আচ্ছা কি খাবেন?
-না, না। কিছু খাবনা।

-আরে তা কি হয়? এখন কিছু খাবেননা আর বাসায় গিয়ে বলবেন ছেলে কিপ্টা, কিছু খাওয়ায় নাই!

-স্যরি! কি বললেন?দেখুন শুরুর থেকেই আপনি অনেক উলটা পালটা বিহ্যাব করতেছেন।আমাদের এখানেই থামা উচিত।বাই। বাসায় গিয়ে নিশা মাকে সব বললে নিশার মা, আরিফ আর ঘটককে বাসায় আসতে বলে ভালভাবে কথা বলার জন্য। (পরদিন আরিফ এবং ঘটকের বাসায় আগমনের পর)

আরিফ: কি খবর?

নিশা: আরে রাখেন আপনার খবর।কাল যা বলেছেন। সব ক্লিয়ার করেন এখন আর ঘটক সাহেব, আপনি আর কি কি মিথ্যা বলেছেন, বলেন

আরিফ: নিশা আপনার মনে হয় রাতে ভাল ঘুম হয়নি তাই এত রাগ হয়ে আছেন।যাইহোক আপনার বিএফ কেমন আছে? জ্বর কমেছে ওনার?

নিশা: কার বিএফ? কিসের বিএফ? কি যা তা বলছেন

আরিফ: ওহ, খেয়াল ছিলনা, ভুলে বলে ফেললাম।মাফ করে দেন প্লিজ

নিশার মা:কি বললে! নিশা, এই তাহলে আসল কাহিনী!কোন সে ছেলে যার জন্য তুই আরিফের নামে উল্টা পাল্টা কথা বলছিস?

নিশা: মা, উনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছে।

নিশার মা: মিথ্যা বলুক আর যাই বলুক।আরিফের সাথেই তোর বিয়া ফাইনাল।

(বিয়ের আগের দিন) সবাই ব্যস্ত বিয়ের কাজে।হঠাত আবিষ্কার হল, আরিফ নিখোঁজ। ফোনটাও অফ।চারদিক খোঁজ নিয়েও কোন খবর পাওয়া গেলনা।পাত্রীপক্ষ বলতে লাগল, বিয়ের আগে কনে পালিয়ে যাবার ঘটনা শুনেছি। বর পালিয়ে যাবার ঘটনা তো এই প্রথম। অনেক পরে আরিফের ফোন অন পাওয়া গেল।ফোন অন করতেই নিশার কল পেল।

নিশা:আপনি কি দুনিয়ায় আছেন না অন্য গ্রহে চলে গিয়েছেন?সবাই কেমন টেনশনে বুঝতেছেন?

আরিফ: কাল তো জীবনের সকল সুখ বিসর্জন দিতে যাচ্ছি।তাই আজ একটু ব্যাচেলর পার্টি দিচ্ছি।

নিশা:পার্টি দেন আর যাই করেন।বলেতো যাবেন

আরিফ:আমাকে বিয়ে করতে গেলে এগুলো একটু সহ্য করতেই হবে।

নিশা: কে চেয়েছে আপনাকে বিয়ে করতে।পুরোটাই তো জোর করে হচ্ছে।

আরিফ: এত কথা শুনে এখন সময় নষ্ট করতে চাইনা।এখনকার প্রতিটি সেকেন্ড আমার অতি মূল্যবান। (বাসায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ঠিকঠাক সব আয়োজন করতে। আরিফ যথাসময়ে কমিউনিটি সেন্টারে হাজির হবে!!!)

(বিয়ের দিন) সবাই রেডি।কমিউনিটি সেন্টারে কনেপক্ষ।ধীরে ধীরে বরপক্ষের লোকজন ও আসতে শুরু করল।কিন্তু বরের কোন খবর নাই।সবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। এমন সময় টিশার্ট আর জিন্স পরে আরিফের আগমন।এসেই সে বলে উঠল, ড্রেসিং রুম কোথায়???

সবাই হতবাক হয়ে গেল।তাও সবাই খুশি এটলিস্ট আসল তো! ড্রেসিং রুম থেকে বরের যাবতীয় পোশাক পরে স্টেজের কাছে গেল আরিফ। স্টেজে নিশা, তার বান্ধবী আর কাজিনরা বসা ছিল। আরিফ কাছে গিয়েই বলে উঠল,’ আপনাদের মধ্যে নিশা কে?’!!!! না মানে সবাই যে পরিমাণ মেকাপ করেছে, সবাইকে একই রকম লাগছে এবং অতিরিক্ত মেকাপের কারণে আমি নিশাকেও চিনতে পারছিনা। বলেই পকেট থেকে নিশার একটি ছবি বের করে মেলাতে লাগল।!!!

নিশা এবার আর চুপ থাকতে পারলনা। চিৎকার করে বলল:’ অনেক সহ্য করেছি।থামেন। এই বিয়ে হচ্ছেনা।স্টপ ইট! সাথে সাথে হইচই লেগে গেল।কে কি বলছে কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। ৪ ঘণ্টা পর।অবশেষে বিয়েটা হল। কিন্তু বাসরঘরে আরিফের পাশের মেয়েটি তো নিশার বোন ইশা। ৫ বছরের প্রেম বলে কথা!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত