সাইকো প্রেম

সাইকো প্রেম

আমি একটা পার্কের ভিতরে সামান্য দূরে একটা পুকুরপাড়ে বসে আছি। হঠাৎ একটা মেয়ে আমার পাশে এসে বসে এই প্রশ্নটা আমাকে করলো। আমি মেয়েটার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকালাম। অদ্ভুত চোখে তাকালাম এই অর্থে যে পাশে এসে বসলোই যখন তাহলে অনুমতি নিলো কি জন্য! কোনো সাইকো মেয়ে নাতো! মুখে বিরক্তির রেখা স্পষ্ট।মনে হচ্ছে আমার তাকানোতে মেয়েটা আরো রেগে গেলো। কিছুটা অস্বস্তি আমি ফিল করছি।।মেয়েটা হয়তো সেটা বুঝতে বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছে না। শুধু শুধুই মেজাজ দেখাচ্ছে আমার উপর। কেনো!

–কি হলো বসবো নাকি?

মেয়েটা অনেকটা চিল্লাইয়া কথাটা বললো। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। ব্যাগ থেকে এয়ারফোন বের করে মোবাইলে লাগিয়ে গান শোনায় সাথে একটা গল্প বই পড়ায় মন দিলাম।

মেয়েটার থেকে একটু সরে বসলাম। হয়তো মেয়েটা উত্তর না পেয়ে আমার উপর অগ্নিদৃষ্টি বর্ষণ করছে। আমি তাকাচ্ছি না। তাকানোর প্রয়োজনবোধ করছিনা। সাইকোদের দিকে তাকানো ঠিক না। তাকালে আরো সাহস পাবে।আরো কথা বলবে জ্বালাতন করবে। বরং নীরব নির্লিপ্ত থাকলে বিরক্ত হয়ে চলে যাবে। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার দিকে একবার তাকালাম। আজব! আমার মতো এয়ারফোনে গান শুনছে আর ডায়েরীর সাদা পৃষ্টাতে মিছিমিছি চোখ ভুলাচ্ছে। আমার তাকানো দেখে বোকার মতো হাসার চেষ্টা করছে। আমাকে কি নকল করছে? বই না পেয়ে ডায়েরীর সাদা পাতা পড়ছে! আমি কান থেকে এয়ারফোন খুলে টান মেরে চিড়ে ফেললাম। মেয়েটা আমার দেখাদেখি তাই করলো। করে আমার দিকে তাকিয়ে আবার বোকা টাইপের হাসি দিলো। আমি নিশ্চিত এটার মাথায় সমস্যা। আজ সকালে কার মুখ দেখে যেন উঠলাম।

আমিতো কারো ক্ষতি করিনি তাহলে আমার পিছনে কেন এই পাগল! পাগল হলেও দেখতে বেশ সুন্দর! ঠোঁটের কিনারা ঘেঁষে কিঞ্চিৎ হাসি লেগে আছে।যতক্ষণ এই মেয়েকে দেখলাম ততক্ষণই হাসি আছে ঠোঁটের কিনারায়। এমনকি রেগে থাকার সময়ও! সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো মেয়েটার চোখ ও চুল।চুলের সামনের অংশ খুব সুন্দর করে উপর করে ভাঁজ করে রেখেছে। আর চোখ! সেটা তো বলা বাহুল্য। মেয়েদের দিকে তাকালে যেকারণে আমি ভীষণ নার্ভাস হয়ে যাই সেটা হলো চোখ।আমাকে টার্গেট করে কোনো মেয়ের চোখযুগল দৃষ্টি দিলে সেই দৃষ্টির উদ্দেশ্যে,ব্যাক রণ কিছুই ধরতে পারিনা।আর এই মেয়ের চোখের মণি তো ভীষণ কালো। পাগল করার উপদ্রব। আমি আর কিছুক্ষণ তাকালে নির্ঘাত পাগল হয়ে যাব। মেয়েটাকে সরাতে হবে।একটা সাইকোর প্রেমে কোনোভাবেই পড়তে চাইনা।আমি কাছে গিয়ে বললাম…..

—বোন আমি খুব সহজ সরল ছেলে।আমি কারো ক্ষতি কখনো করিনি।আমাকে ছেড়ে দিন প্লীজ।আপনি অন্যকোনো ছেলেকে নাস্তানাবুদ করেন।আমাকে ছেড়ে দিন! মেয়েটি আমার এমন কাছুমাছু মুখ দেখে হট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো। মেয়েটার এমন হাসি দেখে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হলো।কি সুন্দর হাসি!

ইশ সাইকো না হলে এই মেয়ের প্রেমে পড়তাম। নির্ঘাত! মেয়েটি হাসি থামিয়ে আমার দিকে এগুতে থাকলো। মেয়েটি এক পা এগুচ্ছে তো আমি এক পা পিছনে যাচ্ছি।পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক লাগছে না।মেয়েটার চোখের দৃষ্টি এখন আমার মোটেও ভালো লাগছে না।ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি আর নেশাভরা দৃষ্টি। এই দৃষ্টি শুধুমাত্র প্রেমিকা ও স্ত্রীর কাছ থেকে আশা করা যায়। অন্যকেউ নয়। অন্যকেউ হলেই নার্ভাসনেসের সৃষ্টি হয়। কি চায় সে দৃষ্টি! দৌড় দিব! দেই দৌড়। দৌড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিতেই শার্টের কলার ঝাপটা মেরে ধরলো। আমি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে অসহায়ের মতো হাসতে লাগলাম। মেয়েটি রাগীভাব ও সাথে অভিমানী কণ্ঠে বললো…

—আমি কি এতোই পঁচা,এতোই খারাপ। আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছ।তুমি চলে গেলে কে দেখবে আমাকে?কে ভালোবাসবে? কথাগুলো বলেই মেয়েটি আমার কলার ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে মুখ করে মাথা নিচু করে দূরে গিয়ে বসলো। মেয়েটি সাইকো হলেও খুব আবেগময় কথা বলতে পারে।আমাকে ভালোবাসার কথা বলছে!একটা সাইকো মেয়ে!সাইকোদেরও মন থাকে? থাকতেই পারে।বিষয়টা বুঝতে হবে।

চোখ দিয়ে কেমন করে যেন এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো। চোখ মুছে মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম। অনেক পাশে।একটা সাইকোর পাশে! আমি পাশে বসায় মেয়েটি আমার পাশ থেকে আরেকটু সরে গিয়ে বসলো। আমি আরেকটু পাশে গেলাম,অমনি মেয়েটা আরেকটু দূরে সরে গিয়ে বসলো।এরকমভাবে চুর-পুলিশ খেলা চলছে। এভাবে অনেকক্ষণ চলার পর আমি মেয়েটির হাত ধরলাম। মেয়েটি আমার দিকে অবাক বিস্ময় চোখে তাকালো।আমি বললাম সাইকো মেম আপনার হাত তো বেশ নরম ছাড়তে ইচ্ছে করছে না।খুব ভালো লাগছে।ইচ্ছে করছে সারাজীবন ধরে রাখি এই হাত।ছাড়বো না কোনোদিন। খুব আপন করে নেই।

–ছাড়ো। ছাড়ো বলছি।এহ তখন চলে যায়।আর এখন ভালোবাসা দেখাতে এসেছে।আমি কি ভুত, আমি কি পাগল? আমার দিকে একদৃষ্টিতে অবাকচোখে তাকিয়ে তারপর এই কথা বললো মেয়েটি। আমি বললাম….

—আপনি ভুত না আমার পেত্নী। পাগল না আমার পাগলী। তবে আমি আপনার ভুত।আমি আপনার পাগল।
—হাত ছাড়বে? ভালোবাসা দূরে গিয়ে দেখাও।আমার কাছে না।আমি পাগল।পাগলকে ভালোবাসতে নেই। পাগল কারো ভালোবাসা পাবার যোগ্য না।

—দূর আমার আর ভালো লাগছে না। প্লীজ আজকের এই দিনে আর অভিনয় নয়।
—কেনো ভালো লাগবে না?ওহ আরো জিএফদের টাইম দিতে হবে তাইতো আমার কাছে থেকে চলে যেতে চাইতেছো।যাও না।

আমি বলছি কি থাকতে।যাও।যাও। আমি মেয়েটির মুখ তুলে আমার দিকে করলাম তারপর চোখে চোখ রেখে খুব আস্তে আস্তে বললাম…..

—সত্যি তো!

এই বলে থেমে গেলাম আর বলতে পারলাম না কারণ মেয়েটির চোখের দিকে চোখ রাখায় মেয়েটি এমন এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে সেই দৃষ্টি আমার খুব চেনা সেই দৃষ্টিতে আমি ক্রাশ খেয়েছি দিনের পর দিন।মাসের পর মাস।বছরের পর বছর। মেয়েটি বললো..

— হুম। সত্যি।

আমি মেয়েটির পাশ থেকে উঠে গিয়ে কিছু দূর গিয়ে মেয়েটির বিপরীত দিকে বসলাম। সেখান থেকে মেয়েটির দিকে তাকাতে লাগলাম। মেয়েটিও আমার দিকে মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকাচ্ছে আর মোবাইল চালাচ্ছে।তবে রাগীভাব যায়নি। এই মেয়ের প্রেমে দুই বছর আগে পড়েছিলাম। এই মেয়ে কোনো সাইকো টাইকো নয়।এ হলো আমার পাগলী। এই পাগলীটার নাম সাথী।।আর আমি হলাম শুভ্র।সাথী আমার কলেজ ক্লাসমেট ছিল তারপর বান্ধবী তারপর প্রেমিকা।

আজ সাথীর সাথে আমার কেমিস্ট্রির দুই বছর পূর্ণ হলো।আর কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত যা হচ্ছিলো আমার সাথে তা ছিলো প্ল্যান করা।আমাদের দুই বছরের প্রেমের পূর্তি উপলক্ষে সাথীই এসব প্ল্যান করেছিলো গতকাল।প্ল্যানটা ঠিক এরকম ছিলো আমি পার্কে বসা থাকবো।তারপর সাথী আসবে। আমার পাশে বসবে।আমাকে বিরক্ত করার চেষ্টা করবে।আমি বিরক্ত হবো বাট কথা বলবো না সাথীর সাথে। সাথীকে সাইকো ভাববো। দূরে সরে সরে থাকবো।আমি একসময় সাথীর পাগলামি দেখে ভয় পেয়ে চলে আসতে চাইবো কিন্তু সাথী আটকিয়ে দিবে।তারপর আমার উপর রাগ করে থাকবে।আমি রাগ ভাঙ্গাবো।

অতঃপর অনেক ভালোবসার কথা বলে মন গলাবার চেষ্টা করবো।কিন্তু প্ল্যানমতো সব হলো কিন্তু সাথীর তো মন গললো না! কি করে গলাবো? সাথী কি সত্যি সত্যি আমার উপর রেগে গেলো নাকি! রাগার তো কথা ছিলো না।এতো আরেক জ্বালা দেখি! নিজেই মজা করার প্ল্যান করলো অথচ নিজেই সেটাকে বাস্তব ভেবে বসে আছে।কি পাগলি দেখো!

গল্পের বিষয়:
ভালবাসা
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত